চতুর্থ স্তম্ভে সর্বগ্রাসী আঘাত

প্রদীপ দত্ত

 


এই আমলে হিটলারের মতো ক্রমাগত মিথ্যা বলা হচ্ছে। সরকার জিডিপি, বেকারি ইত্যাদির কোনও তথ্যই দেয় না। এটাকে শুধু কপটতা বললে হবে না। এমন সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা চলছে যেখানে মিথ্যা বলার ধারণাই মিথ্যা। তারা যেভাবে চিন্তা করে সেখানে সবই সত্যি। তাই গণতন্ত্রের কবর খোঁড়ার কাজ চালিয়ে যেতে যেতেও নেতা বলতে পারে ‘ইন্ডিয়া ইজ দ্য মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি’। জরুরি অবস্থার সময় যে সেন্সরশিপ চালু হয়েছিল তা ইন্দিরা গান্ধির দুর্বলতার প্রকাশ। তিনি প্রেসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলেই তা করেছিলেন। এখন সংবাদমাধ্যম কিনে নেওয়া হচ্ছে, তাই সেন্সর করার দরকার হচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপেই কাজ হচ্ছে

 

 

 

 

আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ পর্যন্ত কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, যা আগে কখনও হয়নি। তাঁর এই আচরণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার— তিনি যাবতীয় অস্বস্তিকর প্রশ্ন সংবাদমাধ্যমের চৌহদ্দির বাইরে রাখতে চান। শাসকের ইচ্ছাতেই এখন শাসকঘনিষ্ঠ দু-তিনজন বড় ব্যবসায়ী দেশের প্রায় সব সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু সত্য না-বলা, না-দেখানোই নয়, সরকার বা শাসকের হয়ে মিথ্যা প্রচারের সাংবাদিকতা চলছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির খবর বা সমাজমাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি সেলকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার তো রয়েইছে। 

সংবিধান অনুযায়ী সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। সাংবাদিকতার কাজই হল শাসকের সামনে বাস্তব অবস্থাটাকে হাজির করা, ভোট দিয়ে জনতা যাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে সেই সরকারের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা। নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের কাজ হল শাসক ঠিক পথে আছে কি না তা দেখা এবং তাকে প্রশ্ন করা, সঙ্গে নাগরিককে ভাল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করা।

অথচ সরকারকে প্রশ্ন করলে তার ওপর আজ সন্ত্রাসবাদী, শহুরে নকশাল ছাপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। যাদের কিনে নেওয়া যায়নি তাদের চূড়ান্ত হেনস্থা করা হয়। ইউএপিএ-সহ (আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট), রাষ্ট্রদ্রোহ-সহ নানা দানবীয় আইনে মামলা এবং গ্রেফতার করা হয়। অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ছাত্র ও সমাজকর্মী-সহ দেশের প্রায় দশ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ইউএপিএ মামলায় জেলবন্দি হয়ে রয়েছেন। পার্কিনসনস রোগে আক্রান্ত, নিজের হাতে জলও না-খেতে-পারা অবস্থায়, শত আবেদনেও উপযুক্ত চিকিৎসা এবং জামিন না-পাওয়া সমাজসেবী ৮৪ বছরের সমাজসেবী ফাদার স্ট্যান স্বামী দুবছর আগে এইভাবেই জেলের মধ্যে মারা গেলেন। সরকারের কোনও তাপ-উত্তাপ নেই। কেন্দ্রের এই মনোভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, পশ্চিমবঙ্গ[1]-সহ কয়েকটি রাজ্য সরকার কমবেশি একইরকম নিষ্পেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

কোভিড ১৯ লকডাউনের সময় গরিবরা যে অবস্থায় বেঁচেছিল তা নিয়ে খবর করার জন্য দিল্লিতে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নানা ধারায় মামলা করা হয়েছিল। কাশ্মিরের অনেক সাংবাদিক ও সংবাদসংস্থাকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উৎপাতে কাজ এবং ঝাঁপ বন্ধ করতে হয়েছে। ভিন্ন মত বা সরকারের কাজের বিরোধিতাকে অপরাধী বানানো আজ স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। সত্যি কথা বলা যাবে না, কেননা তাতে সরকার বিড়ম্বনায় পড়বে। অর্থাৎ সাংবাদিককে তার ধর্মচ্যূত হতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ খবর এড়িয়ে চলতে হবে।

সংবাদ পরিবেশনে যে সামান্য স্বাধীন পরিসর এখনও রয়েছে সেই সংবাদ ওয়েবসাইট বা নিউজ পোর্টালে নানা ঘটনা সঠিকভাবে তুলে ধরাকে ওইভাবে দাগিয়ে দিয়ে মোদি সরকার ওইসব সংস্থায় তালা ঝোলাতে চায়। আগে এই ভাবে কাশ্মিরে কয়েকটি পত্রিকার ঝাঁপ তারা বন্ধ করেছে। গণতন্ত্র হত্যার এমন অভিযান ১৯৭৫ সালে ‘ইমার্জেন্সি’-কালেও হয়নি। তখন সরকারের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ হয়েছিল, এবং ‘মিসা’ চালু হয়েছিল ঠিকই, তবে বড় ব্যবসায়ীদের দিয়ে প্রায় সব সংবাদমাধ্যম কিনে ফেলে সাংবাদিকদের মিথ্যা ইউএপিএ মামলায় জড়িয়ে ‘অবাধ্য’ সংবাদমাধ্যমে তালা ঝোলানোর ভয়ঙ্কর সর্বগ্রাসী অভিযান ছিল না। অবশ্য তখন ‘ইন্ডিয়া ইজ দ্য মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি’ হয়ে ওঠেনি।

গণতন্ত্র হত্যার কাজ ন-বছর ধরে চললেও এ-বছরটা সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। ২০২৩ সালের শুরুর থেকেই ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দেশবিদেশে সোরগোল পড়ে যায়। আমেরিকার এক রিপাবলিকান সেনেটে মোদির গণতন্ত্র হত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আমেরিকা ও জার্মান সরকার জানায় তারা ভারতের বিষয়ে নজর রাখছে।

জানুয়ারি মাসের ১৭ এবং ২৪ তারিখে বিবিসির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘দ্য মোদি কোয়েশ্চেন’ প্রচারিত হয়। (ওই ২৪ তারিখেই আদানি গোষ্ঠীর বিপুল জালিয়াতি নিয়ে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ আদানি গোষ্ঠীর ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যাবসা নিয়ে ওই রিপোর্ট কর্পোরেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস করে।)[2] বিষয় ছিল ২০০২ সালে গুজরাটের গণহত্যা। ব্রিটেনের নাগরিকদের জন্যই দেখানো হয়েছিল। কেউ কেউ তা ইউটিউবে আপলোড করে টুইটারে লিঙ্ক পোস্ট করেন। আগেই ২০২১ সালের আইটি আইনের সংশোধনের দৌলতে ঘটনার দু-দিনের মধ্যে ভারত সরকার টুইটার ও ইউটিউবকে সমস্ত লিঙ্ক এবং আপলোড মুছে ফেলতে বলে (এর আগে ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় যারা মোদি সরকারের সমালোচনা করে টুইট করেছিলেন সরকারের কথাতে ‘টুইটার’ সেসব তথ্য মুছে দিয়েছিল)। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামেও তা দেখা বন্ধ করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের তা ডাউনলোড করতে বা দেখতে নিষেধ করা হয়। তার আগে দিল্লির জেএনইউ ক্যাম্পাসে একসঙ্গে সবাই তা দেখবে বলে ঠিক করলে ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তথ্যচিত্র দেখা বন্ধ করতে দিল্লির রায়ট পুলিশের বিরাট বাহিনী এসে দশ-বারোজনকে আটক করে।

এ নিয়ে খবর যখন থিতিয়ে এসেছে, দু-সপ্তাহ পর আয়কর দপ্তরের পঞ্চাশজন আধিকারিক বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই অফিসে একযোগে হানা দেয়। অফিসে ঢুকেই তারা সাংবাদিক-কর্মীদের কম্পিউটারের কাছ থেকে সরে যেতে এবং তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিতে বলে। তিনদিন ধরে লাগাতার তল্লাশি চলে। হানাদাররা সবার মোবাইল ফোন ক্লোন করে, বিবিসি-র পাঁচজন সিনিয়রকে একনাগাড়ে তিনদিন অফিসেই আটকে রাখে। তা নিয়ে দেশবিদেশে ছি-ছি পড়ে যায়। সরকার পরে জানায়, তদন্ত নয়, আয়কর বাহিনি সেখানে ‘সার্ভে’ করতে গিয়েছিল।

‘দ্য মোদি কোয়েশ্চেন’ এবং বিবিসির উপর হামলা নিয়ে আলোচনা থিতিয়ে পড়লেও আদানিদের হাজার হাজার কোটি টাকার কারচুপি নিয়ে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট এবং মোদি সরকারের তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে কথা চলতে থাকে। এরই মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভুল নীতির জন্য মণিপুরে আগুন জ্বলতে শুরু করে, যা আজও নেভেনি। কয়েক মাস আগে কাশ্মিরের প্রাক্তন রাজ্যপাল, বিজেপির ভূতপূর্ব সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সত্যপাল মালিক ‘দ্য ওয়ার’-এ এক সাক্ষাৎকারে কাশ্মিরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হানায় ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যুর জন্য মোদি সরকারকেই দায়ী করেন এবং বলেন, প্রাইম মিনিস্টারের অফিসে বসেই তাঁর ঘনিষ্ঠরা চূড়ান্ত দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

জনমনে এইসব নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা উঠছে। তাই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পায়ের নিচের মাটি কিছুটা সরছে মনে করে মোদি সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল পরিসরেও কেউ যেন সরকারের সমালোচনা না করে তা নিশ্চিত করতে চায়। এ বছর ৫ অগস্ট ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর খবরে প্রকাশিত হয়েছিল যে, চিনের সংস্থা ‘নিউজক্লিক’-এ লগ্নি করেছে। সেই টাকায় তারা ভারত-বিরোধী প্রচার চালিয়েছে। তার ভিত্তিতে ওই মাসের ১৭ তারিখে দিল্লি পুলিশ নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মামলা দায়ের করেছিল। এরপর আমেরিকাভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ওয়াইড মিডিয়া হোল্ডিংস-এর বিনিয়োগে, চিনের টাকায় ভারত-বিরোধী প্রচারের খবরের অজুহাতে চিনের সঙ্গে নিউজক্লিকের যোগ রয়েছে অভিযোগ তুলে অক্টোবরের ৩ তারিখে দপ্তর বন্ধ করে দেওয়া হল, প্রামাণ্য তথ্য ছাড়াই।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ৩ অক্টোবর নিউজক্লিকের অফিস, সাংবাদিক ও কর্মীদের বাড়িসহ অন্তত ৫০টি জায়গায় এক যোগে তল্লাশি চালায়। সংস্থার অফিস ও বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের পর উপযুক্ত প্রক্রিয়া না সেরেই মোবাইল, ল্যাপটপ ও নথি-বইপত্র বাজেয়াপ্ত করে। কাউকেই বাজেয়াপ্ত জিনিসপত্রের তালিকা তারা দেয়নি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী তাও বলেনি। মোবাইল এবং ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়া সাংবাদিকদের চরম শাস্তি দেওয়ার সামিল। সেসব কেড়ে নিলে সাংবাদিকেরা একেবারে কর্মহীন হয়ে পড়ে, চাকরি বা রোজগারও বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারণেই পরের দিন সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন কারও কাছে অতিরিক্ত ল্যাপটপ, মোবাইল থাকলে তা নিউজক্লিকের সাংবাদিকদের দেওয়ার আবেদন জানায়।

ওদিকে ওই পোর্টালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ, দুজন সম্পাদক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ও সুবোধ বর্মা-সহ অভিসার শর্মা, উর্মিলেশ, ভাষা সিংকে স্পেশাল সেলের দপ্তরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলির প্রাক্তন সম্পাদক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা একজন হুইসেল ব্লোয়ার। ৪০ বছর ধরে তিনি শিল্পপতিদের জালিয়াতি এবং আদানি গোষ্ঠীর আর্থিক প্রতারণা নিয়ে প্রচুর লিখেছেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়েছেন, হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টে একমাত্র ভারতীয় সাংবাদিক হিসাবে তার নাম রয়েছে। রবি বর্মা টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সম্পাদক। টেলিভিশন অ্যাঙ্কর অভিসার শর্মা নামী সাংবাদিক। উর্মিলেশ দিল্লির সম্মানিত বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও টেলিভিশন অ্যাঙ্কর। ৪০ বছর ধরে তিনি নানা কাজে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরছেন, মোদি সরকারের স্বৈরাচারী নীতি ও পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন। সাংবাদিক ভাষা সিং জাতবিরোধী সমাজকর্মী। তিনি ধাঙড়ের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কথা বলে সাড়া ফেলেছেন, অনেক রাজ্যে তা বন্ধ হয়েছে।

শুধু সাংবাদিকই নয়, নিউজক্লিকের সঙ্গে কোনওভাবে সম্পর্ক রয়েছে এমন সবার বাড়িতেই পুলিশ যায়। যারা সেই পোর্টালে দু’একবার লিখেছেন তাদের এবং নিউজক্লিকের অন্য কর্মীদের বাড়িতেও পুলিশ হানা দিয়েছে। এক কার্টুনিস্ট, ইতিহাসবিদ সোহেল শর্মা, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক তিস্তা শেতলওয়াড়ের বাড়িতেও পুলিশ হানা দিয়েছে। ঘর সার্চ করার পর বেশিরভাগকেই নিয়ে যাওয়া হয় লোদি কলোনি পুলিশ স্টেশনে। দশ ঘন্টার উপর বসিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্ধ্যার সময়ে বাকি সবাই ছাড়া পেলেও নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ৭৩ বছরের প্রবীর পুরকায়স্থ এবং সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান প্রতিবন্ধী অমিত চক্রবর্তী ছাড়া পাননি। পুলিশ জানায় যে, প্রবীর ও অমিতকে ইউএপিএ-তে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউএপিএ-এর ক্ষেত্রে চার্জশিট তৈরি করার জন্য পুলিশ অনেক বেশি সময় পাবে, জামিন পাওয়াও কঠিন। প্রবীর ও তার সহযোগীরা নাকি দুই চিনা মোবাইল কোম্পানি জিওমি ও ভিভোকে[3] আইনি সাহায্য দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

জেরার পর পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া সাংবাদিকরা একের পর এক জানিয়েছেন, স্পেশাল সেল তাঁদের জিজ্ঞেস করেছে, মুসলমান-বিরোধী দিল্লি দাঙ্গা, বছরব্যাপী কৃষক বিক্ষোভ, সিএএ-বিরোধী আন্দোলন এবং কোভিড-১৯ সঙ্কট নিয়ে তাঁরা লিখেছেন কিনা। পুলিশ এও বলেছে যে, যে বিষয় নিয়ে লিখলে দেশের ভাবমূর্তি খারাপ হয় তা নিয়ে লেখেন কেন? ওইসব জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন থেকেই তাদের আসল উদ্দেশ্য ধরা পড়ে। নিউজক্লিক যাঁরা পড়েন তাঁরা জানেন, পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারির ঘটনা আসলে দেশের প্রকৃত ছবি তুলে ধরার জন্যেই। তার মানে সরকারের কোনও ভুল, বেঠিক কাজ বা অন্যায় নিয়ে কথা বলা বারণ।

ওই ঘটনার তিনদিন পর, ৭ আক্টোবর দিল্লি পুলিশ ফের ওই সংস্থার প্রাক্তন সাংবাদিক অনুশা পালের বাড়িতে, কেরলে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর ল্যাপটপ ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ আধিকারিকরা জানতে চায়, সিপিএম-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, সিপিএম-এর দিল্লির রাজ্য সম্পাদককে তিনি চেনেন কি না, সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ, কৃষকদের আন্দোলন, করোনার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ করেছেন কি না।

সন্দেহের বশে নিউজক্লিকের উপর পুলিশি হামলা শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাই ক্ষুণ্ণ করে না, গণতন্ত্রের মৃত্যুর ইঙ্গিত। এর আগে কয়েকটি নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকদের উপর পুলিশের হামলা হলেও দেশে কোনও সংবাদমাধ্যমে এত বড় হামলা এই প্রথম। একমাত্র চরম স্বৈরতন্ত্রেই যা সম্ভব। অথচ দুই বছর ধরে ইডি, আয়কর দফতর বার বার নিউজক্লিক দপ্তরে এসেছে। ইডি কোনও অভিযোগ পেশ করেনি, আয়কর দপ্তরের মামলা দিল্লির নিম্ন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার করা হয়েছে এমন একটি প্রবন্ধের কথাও পুলিশ বলেনি।

স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের কলম ও মুখ বন্ধ করার জন্য ভয় ধরাতেই এই পুলিশি অভিযান। মাথা-উঁচু সাংবাদিকদের আজ তার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ৪ তারিখে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া-সহ সাংবাদিকদের ষোলোটি মিডিয়া সংস্থা সাংবাদিকদের উপর পুলিশের হামলা, ইচ্ছেমতো অভিযুক্ত করা, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ আটক করার বিরুদ্ধে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছে। তারা লিখেছে, দেশের বড় সংখ্যক সাংবাদিক শাস্তির ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, সাংবাদিকতাকে সন্ত্রাসবাদ বলে কাঠগড়ায় তোলা যায় না। সংবিধানের কাছে সবাই দায়বদ্ধ, তাই বিচারবিভাগকেই ক্ষমতা-র (পাওয়ার) মোকাবিলা করতে হবে। তারা পুলিশের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি আটক করার গাইডলাইন জানতে চেয়েছে।

হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট অনুযায়ী জানুয়ারি মাসেই জানা গিয়েছিল, আদানি গোষ্ঠী বড় রকমের প্রতারণা, বেআইনি লেনদেন ও শেয়ারদরে কারচুপির সঙ্গে যুক্ত। আদানি গোষ্ঠীর টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে, ঘুরপথে সেই টাকা ফিরিয়ে এনে নিজেদের শেয়ারে লগ্নি করে তার দাম বাড়ানোর সঙ্গে চিনা সংস্থার যোগ রয়েছে। ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে চিনের নাগরিকও যুক্ত। দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরও আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সিবিআই, ইডি, আয়কর দপ্তরের দেখা মেলেনি। হিটলারকে যেমন শিল্পপতিরা ক্ষমতায় এনেছিল, মোদিকেও তারাই এনেছে। বোঝা যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে মোদি কখনওই কথা বলবেন না। তাই লোকসভায় সংসদীয় কমিটির তদন্তের দাবিও সরকার মানেনি। বরং আদানির বিরুদ্ধে কথা বলায় সাংসদ রাহুল গান্ধি এবং মহুয়া মৈত্রকে নানা ভাবে হেনস্থা করার ষড়যন্ত্র চলছে। 

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ভারত ১৮০টি দেশের মধ্যে পিছোতে পিছোতে ১৬১ নম্বরে পৌঁছেছে। রয়েছে শেষ ২০টি দেশের মধ্যে। ২০১৩ সালের পর থেকে ২৫টি দেশের পিছনে চলে গেছে। তবে শুধু এইসব পরিসংখ্যান দিয়ে দেশের বর্তমান চেহারা সঠিকভাবে বোঝা যায় না। কিছুদিন আগে প্রকাশিত ‘ইমার্জেন্সি ক্রনিকেলস: ইন্দিরা গান্ধি অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি’স টার্নিং পয়েন্ট’-এর লেখক অধ্যাপক জ্ঞানপ্রকাশ ‘দ্য ওয়ার’-এর সম্পাদক সীমা চিস্তির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অনেকে এই অবস্থাকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলেন, কিন্তু আসল পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

তাঁর মতে, এ হল বেআইনিভাবে আইনকে স্থগিত রাখা। কাউকে গ্রেফতার করতে আইনের বইয়ে যা লিখিত আছে তা বেআইনিভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। নজর রাখা হচ্ছে জনপরিসরে কোনও বিরোধিতা যেন না থাকে। টেলিভিশন অন্য সংবাদমাধ্যমকে তারা বদলে নিতে পেরেছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটে বিরোধিতা বন্ধ করতে চাইছে, এক সর্বগ্রাসী সমাজ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকারিভাবে বলা কথার বাইরে যে-কোনও সমালোচনা বা চিন্তা এখন সন্দেহজনক। শুধু চিন্তাশীল মানুষই নয়, প্রতিটি মানুষেরই যেহেতু চিন্তা করার ক্ষমতা রয়েছে তাই সে সন্দেহভাজন। এই আমলে মানুষ চিন্তা করার ক্ষমতা এবং সমালোচনার জন্যই সন্দেহভাজন। ভীমা-কোরেগাঁও মামলার ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। এর আরও উদাহরণ রয়েছে।

জরুরি অবস্থার চেয়ে যা আরও আলাদা এবং মারাত্মক তা হল মানুষ বা নাগরিকের মধ্যে যে বিচারিক ব্যাক্তি বা জুরিডিকাল পারসোনা থাকে, স্বাভাবিক দণ্ডবিধির বাইরে আইনি ব্যবস্থা চালু করে তাকে হত্যা করে সর্বাত্মক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তাই এফআইআর দায়ের না করে ইউএপিএ-তে অভিযোগ আনা হচ্ছে— যা সম্পূর্ণ আলাদা চক্র। ইউএপিএ-তে গ্রেফতার হলে আইনের কোনও সুরক্ষা থাকে না। নাগরিকের জন্য বিচারব্যবস্থার যাবতীয় সুরক্ষাকে অকেজো করে এদেশে ‘অপরাধী’, ‘সন্ত্রাসী’ তৈরি করা হচ্ছে। স্বাভাবিক বিচারব্যবস্থার বাইরে আইনি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে এই অবস্থা তুলনীয়। সেখানে বন্দি মানুষের কোনও অধিকার, আইনের কোনও সুরক্ষা ছিল না। তারা ছিল সবরকম বিচারব্যবস্থার বাইরে। এদেশে এখন তাই চলছে। জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধি মোটেই তা করেননি বা করতে পারেননি। এখন যেন কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে রিপোর্টিং করলেই জেলে যেতে হবে।

সমাজে সর্বগ্রাসীর নিয়ন্ত্রণে থাকে না এমন উপাদান সবসময়ই থাকে। শাসকরা জানে, কিছু ব্যাপার তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই ভয়ে থাকে। তাই, রাহুল গান্ধির ভারত জোড়ো যাত্রার খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয় না। ইউরোপ, আমেরিকার সংবাদমাধ্যম বরং তা নিয়ে ভাল কাভারেজ দেয়। সর্বগ্রাসীর আমলে এই ধরনের মস্তিস্কবিকৃতি থাকে। তারা সবকিছুর প্রভুত্ব করতে চায়, আবার ভয়েও থাকে, তাদের নিয়ন্ত্রণ সর্বময় নয়। তাই আরও, আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

হিটলারের আমলের মতো এই আমলে ক্রমাগত মিথ্যা বলা হচ্ছে। সরকার জিডিপি, বেকারি ইত্যাদির কোনও কিছুরই তথ্য দেয় না। এমন সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা চলছে যেখানে মিথ্যা বলার ধারণাই মিথ্যা। তারা যে ভাবে চিন্তা করে সেখানে সবই সত্যি। তোমরা কী বলেছিলে আর দেখো কী করছ— এই কথা বলে এই আমলে শাসক বা তার সমর্থকদের লজ্জায় ফেলা যায় না, বলে কোনও কাজ হয় না। তাই গণতন্ত্রের কবর খোঁড়ার কাজ চালিয়ে যেতে যেতেও নেতা বলতে পারে ‘ইন্ডিয়া ইজ দ্য মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি’। আমেরিকার ট্রাম্পের সমর্থকদের ক্ষেত্রেও সে কথা খাটে। মনের মধ্যে এমন সরকারের মডেল বসে আছে যা অগণতান্ত্রিক। নেতাকে পুজো করা হয় এবং নেতা যা বলে তাইই সত্যি। তাই তারা লজ্জা পায় না, কারণ তাদের চিন্তার ধরণই আলাদা।

জরুরি অবস্থার সময় যে সেন্সরশিপ চালু হয়েছিল তা ইন্দিরা গান্ধির দুর্বলতার প্রকাশ। তিনি প্রেসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলেই তা করেছিলেন। এখন সংবাদমাধ্যম কিনে নেওয়া হচ্ছে, তাই সেন্সর করার দরকার হচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপেই কাজ হচ্ছে। তার উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: কিছুদিন আগে কাশ্মিরি মহিলা সাংবাদিক সাফিনা নবিকে ‘হাফ উইডো’ নিয়ে অসামান্য প্রতিবেদনের জন্য পুনে ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট জার্নালিজম বিভাগের মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে পুরস্কৃত করবে ঠিক করেছিল। তারা জানিয়েছিল যে, তাঁর সাংবাদিকতা “প্রোমোটেড এমপ্যাথি, আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড ইনক্লুসিভিটি ইন সোসাইট”। কিন্তু অনুষ্ঠানের ঠিক আগে কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে।[4] বাতিলের কারণ হিসাবে তাঁকে জানানো হয় ওই পুরস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কিন্তু ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদিতে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর উঠলে কী হবে? তাই আইনের স্বাভাবিক সুরক্ষার বাইরে ইউএপিএ প্রয়োগ চলছে। কিন্তু একে অঘোষিত জরুরি অবস্থা বললে যা চলছে তা অনেক কম করে বলা হয়।


[1] কিছদিন আগে চোলাই মদের রমরমা নিয়ে খবর করার জন্য চোলাই কারবারির আত্মীয়ের এফআইআর-এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দেবমাল্য বাগচী ও অভিযোগকারিণী বাসন্তী দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। বছর দুয়েক আগে অন্য পরিপ্রক্ষিতে প্রতিবাদী ছাত্রনেতা আনিস খানকে পুলিশ ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ।


[2]  কিন্তু কেন সরকারের এত তৎপর হয়ে উঠেছিল? সে কথা বুঝতে হলে তথ্যচিত্রে কি ছিল তা বলা দরকার। ‘দ্য মোদি কোশ্চেন’-এ দেখানো হয়েছে নরেন্দ্র মোদি কীভাবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে উঠে এলেন। ২০০২ সালে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখে গুজরাটের গোধরায় সবরমতি এক্সপ্রেসে আগুনে পুড়ে ৫৯ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যুর পর সেই ঘটনার জন্য মুসলমানদের দায়ী করে নরমেধ যজ্ঞ চলে। ৪৮ ঘন্টা ধরে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে একের পর এক মুসলিম মহল্লায় আক্রমণ করা হয়। বিষয় শুধু গণহত্যাই ছিল না, পরের কুড়ি বছরে বেশ কয়েকজন ভিকটিম আইনব্যাবস্থায় বিশ্বাস রেখে, বিচার চেয়ে, কেমন গোলকধাঁধায় ঘুরেছেন সেই কথা, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যও রয়েছে।

তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন যে বিভাজন ও বিদ্বেষের চাষ করছেন সেই বিষয় নিয়ে। তবে সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে ব্রিটিশ ফরেন অফিসের রিপোর্ট। ভারত সরকারের সবচেয়ে বেশি আপত্তি হল এতদিন পর্যন্ত অপ্রকাশিত ২০০২ সালের এপ্রিলে তৈরি ব্রিটিশ বিদেশ অফিসের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ইন্টারনাল রিপোর্টের প্রকাশ নিয়ে। বলা হয়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে এই পূর্বপরিকল্পিত গণহত্যার কর্মসূচিতে জাতিহত্যার যাবতীয় লক্ষণ ছিল, পুলিশকে নির্লিপ্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্টে মুসলমানদের গণহত্যার জন্য মোদিকে সরাসরি দায়ী করা হয়। কারণ তাঁর নির্দেশেই ওই ভয়ানক হিংস্রতার পরও কেউ যেন শাস্তি না পায় তা দেখা হয়েছিল। গণহত্যার আগের রাতে পুলিশের সঙ্গে মিটিং-এ মোদি সে কথা বলেছিলেন। এসবের জন্য রিপোর্টে সুস্পষ্ট ভাবে মোদিকে দায়ী করা হয়। উঁচু পদের দুই পুলিশ অফিসার সঞ্জীব ভাট (এসপি) ও শ্রীকুমার (ডিআইজি) সেই মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ওই রাতের মিটিং-এ পুলিশের হাত বেঁধে রাখতে মোদির নির্দেশের সাক্ষ্য দিতে তৈরি ছিলেন। সঞ্জীব মিথ্যা মামলায় আজও জেলে বন্দি। শ্রীকুমার জেল থেকে বেরোলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। 

[3] ভারতে জিওমি এবং ভিভোর বিপুল উপস্থিতি রয়েছে। নানা মোবাইল ফোনের বিক্রেতা এবং উৎপাদক কোম্পানিতেও তাদের বিনিয়োগ রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তিন বছর ধরে সেসব নিয়ে তদন্ত করছে, তাদের কয়েকশো কোটি টাকা ভারতীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আটকে রাখা হয়েছে। তারপরও তারা ভারতে বিপুল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে। কেন্দ্রিয় মন্ত্রীরা তাদের স্বাগত জানাচ্ছে, উৎসাহ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলেও তারা বিপুল টাকা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আজ বলছে ওইসব কোম্পানি যে ভারতকে অশান্ত করে তুলতে অবৈধভাবে টাকা ঢালছে তার প্রমাণ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকার তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি করতে দিচ্ছে কেন?

[4] কাশ্মিরের অশান্তির জেরে নিখোঁজ কয়েক হাজার পুরুষ। স্ত্রীরা জানেন না তাঁদের স্বামীরা বেঁচে আছেন কি না। স্বামীর সম্পত্তির অধিকার এবং ফের বিয়ে করা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও অপরাধবোধে ভোগেন অধিকাংশ স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে সাবিনা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর এই অসামান্য কাজ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়। পুণে ইন্সটিটিউটের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনজন জুরি সদস্য পুরস্কার বিতরণী সভা বয়কট করেন।


*মতামত ব্যক্তিগত

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4710 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকের ওপর দমন ও আক্রমণ নিয়ে অত্যন্ত সু্লিখিত এই প্রবন্ধটির বহুল প্রচার দরকার। কীভাবে এটা করা সম্ভব সবাইকে ভাবতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

    সামনে বই মেলা আসছে। অনেক পত্র-পত্রিকাই বইমেলা উপলক্ষ্যে পত্রিকা প্রকাশ করে থাকেন। সবাইকেই বলে দেওয়া যায় যে তারা চাইলে এই প্রবন্ধটি তাদের পত্রিকায় ছাপতে পারেন। এছাড়া যদি কেউ চান এটি লিফলেট আকারে ছাপিয়ে বিলি করতে পারেন।

আপনার মতামত...