সুন্দরবন: যেমন ছিল আমফানের আগে, যেমন হয়ে উঠবে আবার

সুন্দরবন: যেমন ছিল আমফানের আগে, যেমন হয়ে উঠবে আবার

আত্রেয়ী কর

 

সুন্দরবনের প্রেমে ঠিক কবে, কখন, কীভাবে পড়েছিলাম, সে কথা আমার দিব্যি মনে আছে। সালটা ছিল ২০১৫। তারিখ ৩ ডিসেম্বর। দলে ছিলাম আমরা পাঁচজন। তিন-চারদিনের ছোট্ট বেড়ানোর প্রোগ্রাম। সেই বেড়াতে গিয়েই প্রথম দেখা মাতলা নদীর সঙ্গে। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ। এবং প্রথম দেখাতেই প্রেম। আমার জীবনে প্রথমবারও বটে।

সেবারের বেড়ানোর প্রধান চমকটাই ছিল নদীর বুকে দিনের অনেকটা সময় কাটানো। একটা স্পট থেকে আর একটা স্পটে যেতে নদীপথই ছিল ভরসা। মনে আছে, দলের মধ্যে থেকেও, অনেকটা সময় স্রেফ চুপ করেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম। সত্যি বলতে কী, কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না। কথা বলব কী, নদীর দিক থেকে চোখই ফেরাতে পারছিলাম না। নাহ, চেষ্টাও খুব একটা করিনি তার।

দেখার তো কত কিছুই ছিল। গাছের সবুজ, বহু-আলোচিত ম্যানগ্রোভ, হরেক জন্তু-জানোয়ার, পাখি, খেটে-খাওয়া মানুষ, ছোট-ছোট নৌকোগুলো, নীল-সবুজ জলরাশি।

গত ২০ মে-র ঝড়ে যখন লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন, তখন আমার ছবিগুলোর কথা মনে পড়ছিল খুব।

সেবার সুন্দরবনকে যেভাবে দেখেছিলাম, সেই ছবি ফিরে আসতে আবার কত বছর লেগে যাবে, কে জানে! মনে রাখতে হবে, ২০০৯-এর আয়লা-র পর গত একদশকে নিজেকে ফের ধীরে-ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছিল সেখানকার মানুষ-ম্যানগ্রোভ-নদীনালা— ধ্বংসের দাগ মুছে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার। এবারের আমফান-এর পর তাদের সেই লড়াই আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে।

গত সাত-দশদিন ধরে টিভি-তে, খবরের কাগজে বারবার কেবল ধ্বংসের ছবি দেখছি। মনে হল, সেই ধ্বংসের উলটোপিঠে আমার ক্যামেরায় তোলা সেই স্মৃতিগুলোও থাক। থাক– একটা রেফারেন্স হিসেবে। যা আমাদের মনে করিয়ে দেবে, কোথায় আবার ফিরতে হবে।

জানি, আপনারা অনেকেই চেষ্টা করছেন সুন্দরবনের মানুষদের হাতে বেঁচে থাকার রসদ পৌঁছে দিতে। পৌঁছে দিতে ত্রাণের সামগ্রী। ফের গড়ে তুলতে তাঁদের ঘরবাড়ি— কিংবা হয়তো গোটা জীবনটাই। করুন, যতটা পারেন। যাঁদের চেনেন, ভরসা করেন, তাঁদের হাতেই তুলে দিন আপনার সাহায্য।

মনে রাখবেন, সুন্দরবনের মানুষদের আজ খুব দরকার আপনাকে, আপনাদের। ওঁদের সঙ্গে থাকুন…

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4726 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...