স্বাস্থ্যসাথী: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

শুভার্থ মুখার্জ্জী

 


চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র, ছাত্র আন্দোলনের কর্মী

 

 

 

স্বাস্থ্যসাথী ও রাজ্যসরকারের আরও কয়েকটা স্কিম নিয়ে যেভাবে ‘দুয়ারে’ এসে সরকার দাঁড়াচ্ছে বিগত কয়েক সপ্তাহ, তার বেশকটি উদ্যোগ যথার্থই জনমুখী, একইসঙ্গে বর্তমান শাসকদলের নির্বাচনী বৈতরণী পেরোনোর হাতিয়ারও বটে। দুর্নীতি, বেসরকারি সেক্টরের সরকারি হাসপাতালে অনুপ্রবেশ সব স্বীকার করেও ‘নিরপেক্ষভাবে’ বলতে গেলে সরকারি স্বাস্থ্যপরিষেবার হাল পশ্চিমবঙ্গে শেষবার সরকার বদলের পর অনেকটাই উন্নত হয়েছে একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই। বিশেষত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রাজ্যের মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। স্বাস্থ্যসাথী কী, তার সুবিধা ঠিক কীভাবে পাওয়া যায় এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দরকার।

স্বাস্থ্যসাথী এককথায় একটি বিমাব্যবস্থা। জটিল রোগ-অসুখের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে নিঃস্ব হয়ে না পড়তে হয়, সেই উদ্দেশ্যে সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি। বিশেষ তালিকাভুক্ত পরিবারপিছু বাৎসরিক পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা। অর্থাৎ পরিবারের কেউ যদি চিকিৎসা করাতে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাহলে যে বিপুল খরচের ভার বহন করতে হয়, তাতে আর্থিক সাহায্য জোগাবে এই স্বাস্থ্যবিমা। বিমাসংস্থা এইক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী, যার হাতে সরকার টাকা তুলে দেবে। চিকিৎসার জন্য রোগীর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে সেই টাকার একটা অংশ দেবে উক্ত সংস্থা।

স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেতে গেলে একটি স্মার্ট কার্ড লাগে। সরকারি ক্যাম্পে বা অফিসে আবেদন করার পর মোবাইলে একটি মেসেজ আসে সিরিয়াল নম্বরসহ। অতঃপর রেজিস্ট্রেশন নম্বর জেনারেট হওয়ার সাত দিনের মাথায় বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছে যায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। কার্ড ইস্যু হয় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠা স্ত্রীলোকের নামে। গোটা প্রক্রিয়াটিতে উপভোক্তার কোনও খরচ নেই, কার্ড বানানো বিনামূল্যে। প্রিমিয়ামের সমস্ত খরচা বহন করে রাজ্য সরকার, গ্রাহককে কিছুই জমা করতে হয় না।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, আর পাঁচটা স্বাস্থ্যবিমার মতো এক্ষেত্রেও বিমা কভারেজের আওতায় থাকা হাসপাতালেই স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাওয়া যায়, এমনকি তাও কেবল তালিকাভুক্ত রোগেসমূহের চিকিৎসাতেই। বর্তমানে রাজ্যে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৫৯০টি হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথীর তালিকায় রয়েছে।

২০১৬ সালে যখন সরকার প্রথম স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প ঘোষণা করে, তখন সুবিধা পেতেন স্বনির্ভরগোষ্ঠী, আশা ও আইসিডিএস কর্মী, ঠিকা ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী, সিভিক ভলেন্টিয়ার, ঝুঁকিপূর্ণ জীবিকার লোকজন, পূর্বতন আরএসবিওয়াই কার্ডভুক্ত রাজ্যবাসী প্রভৃতিরা। অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় সাড়ে সাত কোটি জনতা। এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতও লেগেছে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত (PMJAY) প্রকল্প এই রাজ্যে লাগু করতে দেওয়া হয়নি, কারণ তার চল্লিশ শতাংশ টাকা, অর্থাৎ রীতিমতো একটা বড় অংশের খরচ রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হত। কেন্দ্র থেকে অর্থসাহায্য যথেষ্টই অপ্রতুল। তাই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পই এই রাজ্যে বহাল আছে। শেষ ২৬ নভেম্বরের ঘোষণা অনুযায়ী এই রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হবে। এই ঘোষণা আপাতভাবে খুবই স্বস্তিদায়ক, অন্তত এই অতিমারির পর অর্থিক সঙ্কটের পরিস্থিতিতে। এই প্রকল্পে বার্ষিক খরচের লক্ষ্যমাত্রা ২০০০ কোটি, বর্তমানে যদিও ৯২৫ কোটি খরচ করা হবে।

অর্থাৎ স্বাস্থ্যসাথীতে খরচের লক্ষ্যমাত্রাও বেশ আশাব্যঞ্জক। যেখানে মোদি সরকারের আয়ুষ্মান ভারতের মতো সর্বভারতীয় প্রকল্পে খরচের লক্ষ্য ১২০০০ কোটি, সেখানে কেবল একটি রাজ্যই এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, PMJAY দেশের মাত্র চল্লিশ কোটি পরিবারকে বিমা কভারেজের আওতায় আনার কথা বলে।

রাজ্যের সমস্ত জনগণকে স্বাস্থ্যসাথীর আওতাভুক্ত করার ঘোষণার প্রতিক্রিয়া এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলির থেকে। স্বাস্থ্যসাথী প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার খরচের সর্বোচ্চ মাত্রা বেঁধে দিয়েছে, যা ‘স্বাস্থ্যব্যবসায়ী’দের মতে চিকিৎসার খরচের এক তৃতীয়াংশেরও কম। নর্মাল ডেলিভারিতে ৩০-৪০ হাজার, সিজারিয়ান ডেলিভারিতে ৬০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা, করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি ৯০০০ টাকা, হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা ১৮০০০, থাইরয়েড ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ৩০০০ টাকা ইত্যাদি ‘ক্যাপ’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের স্বার্থে, যদিও সেটুকু টাকাও আসবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে।

যথারীতি এই বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে কর্পোরেট হাসপাতালের বড়বাবুদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হসপিটালস ইন ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (AHEI)। সকলের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা থাকলে তাঁরা ‘ব্যবসা’য় লক্ষ্মীলাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। মেডিকা, আমরির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা রীতিমতো প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন, খরচের পরিমাণ না বাড়ালে ‘পেশেন্ট রিফিউজাল’ বাড়বে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে চাইলে পেশেন্টকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে হাসপাতাল থেকে। মুখ্যমন্ত্রীও এদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়ে উঠছেন। পাল্টা হুমকি এসেছে রোগী ফেরালে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার। এই চাপানউতোর কতদূর চলে সেটাই দেখার।

তাহলে এই ‘সর্বাঙ্গসুন্দর’ প্রকল্প কি সবরকমভাবেই জনহিতকর? ডাক্তারদের সংগঠনগুলি যে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ মডেলের কথা বলে, ইউনিভার্সাল হেলথকেয়ার কভারেজের দাবী জানায়, এই প্রকল্প কি পুরোটাই তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

উত্তরটা পরিষ্কার ‘না’। বুঝতে গেলে খানিক পর্যালোচনা দরকার বিমাভিত্তিক স্বাস্থ্যপরিষেবার সামগ্রিক মডেলটিকে নিয়েই।

১. প্রথমেই খুব পরিষ্কারভাবে একটা কথা বলে রাখা, স্বাস্থ্যবিমা প্রাথমিক চিকিৎসা, আউটডোর চিকিৎসার খরচ বহন করে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে আউটডোর খরচ, অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ডাক্তার দেখানো, ওষুধের খরচ, চিকিৎসা পরিষেবায় জনগণের মোট খরচের প্রায় ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ চিকিৎসায় রোগীর প্রধান খরচের ভাগ এই স্বাস্থ্যসাথী জাতীয় বিমা বহন করে না। ফলে আর্থিক বোঝা বহন করে চলতেই হবে রোগীর পরিবারকে।

২. স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাওয়া যায় কেবল তখনই যখন রোগী হাসপাতালে ইনডোরে ভর্তি হয়। অর্থাৎ সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি লেভেলের পরিষেবায়। উপযুক্ত পরিকাঠামো উপস্থিত না থাকলে স্বাস্থ্যসাথী অবান্তর। পাশাপাশি কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে কেবল তালিকাভুক্ত হাসপাতালে, তার মধ্যেও রয়েছে রোগের তালিকা যেখানে সাহায্য পাওয়া যাবে। এইসকল শর্ত অতিক্রম করলে তবেই মিলবে সরকারি সুবিধা।

৩. অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষ ইনডোর পরিষেবা একান্ত নিরুপায় হয়ে না পড়লে নিতে চান না, অন্যথায় এড়িয়ে যান। মূলত জীবিকার অনিশ্চয়তা, আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার চালানোর সমস্যার কথা ভেবে তাঁরা যথাসম্ভব আউটডোর চিকিৎসার দিকেই ঝোঁকেন। ফলে আর্থিক ক্ষতিও হবে, আবার বরাদ্দ বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকা প্রায় পুরোটাই যাবে প্রাইভেট বিমা কোম্পানির পকেটে।

৪. যেকোনও বিমা ব্যবস্থাতেই আশঙ্কা থাকে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃক যেনতেন প্রকারেণ বিমার টাকা তুলে নেওয়ার। এজন্যে ইচ্ছাকৃত ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত টেস্ট করানো, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসার ঘটনাও আকছার শোনা যায়। এই সম্ভাবনা থাকেই যেকোনও বিমাব্যবস্থায়।

৫. বিমার এই বিপুল খরচ আসে সরকারের ‘ক্ষুদ্র’ স্বাস্থ্যবাজেট থেকেই। যে অর্থ খরচ করার কথা ছিল নিখরচায় উন্নত সরকারি স্বাস্থ্যপরিষেবার জন্য, সেই টাকা সরাসরি তুলে দেওয়া হবে বিমা কোম্পানির মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালে।

অর্থাৎ আপাতভাবে স্বাস্থ্যসাথীর মতো উদ্যোগ অত্যন্ত জনকল্যাণকর হলেও কার্যত এই ব্যবস্থা জনগণের চিকিৎসার ভার দেয় বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে। বিনামূল্যে সরকারি স্বাস্থ্যপরিষেবার দায়বদ্ধতাকে এড়িয়েই।

সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থার যে সাধারণ ছবি জনমানসে আছে, সেটার উন্নতির থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে চিকিৎসার দায় বেসরকারি ক্ষেত্রের— এই ন্যায্যতা তৈরি করতে চাইছে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্যপরিষেবা দেওয়ার জন্য সরকারের দায় ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার আশঙ্কাও পুরোমাত্রায় বিদ্যমান।

কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো আরও অনেক রাজ্যই এরকম বিমাব্যবস্থা চালু রেখেছে। এতে অত্যন্ত জটিল রোগের চিকিৎসা, যাতে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ইনডোর কেয়ারের প্রয়োজন হয়, তাতে মানুষ লাভবান হয় নিঃসন্দেহে। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা, আউটডোর ফি, টেস্ট ও ওষুধের খরচ বহন করে না বলে দেশের বৃহত্তর জনতা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতেই থাকেন। এমনকি এখনও প্রতিবছর ভারতের ৬.৫ কোটি মানুষ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যান।

আর এই বেসরকারি হাসপাতালনির্ভর স্বাস্থ্যসাথীদের উল্টোদিকে রয়েছে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র দাবী। সবার জন্য স্বাস্থ্য হল সেই লক্ষ্যমাত্রা, যেখানে সরকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক থেকে টার্শিয়ারি অব্দি সমস্ত স্তরের উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে। কোনও নাগরিককে চিকিৎসার জন্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না।

শুধু কি তাই? স্বাস্থ্য বলতে মোটেও শুধু ওষুধ-ইঞ্জেকশন-স্যালাইন-টেস্ট বোঝায় না! স্বাস্থ্যর সঙ্গে যুক্ত আছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে খাদ্য, বাসস্থান, পরিশ্রুত পানীয় জলের উপলভ্যতা, উন্নত সাংষ্কৃতিক পরিবেশ, স্থায়ী জীবিকার উপলভ্যতা, সামাজিক ন্যায়বিচার। মেডিকেল শিক্ষায় এখনও ‘স্বাস্থ্য’কে সংজ্ঞায়িত করা হয় এইসব সূচক দিয়েই, কখনওই শুধুমাত্র রোগের অনুপস্থিতি দিয়ে নয়।

এইসমস্ত সূচকের দেশজুড়ে যে হাল, তা সহজেই অনুমেয়। কোনও স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান ভারত এই চাহিদা মেটাতে পারে না।

১৯৭০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আলমা আটা কনভেনশনে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল ২০০০ সালের মধ্যে ভারতে ‘হেলথ ফর অল’ বাস্তবায়িত করার। বাস্তবে হেঁটেছে উল্টোপথে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার আরও বেসরকারিকরণ হয়েছে। স্থায়ী জীবিকার অভাব আরও প্রকট হচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পরিবর্তিত শ্রমকোডের কারণে, যার প্রভাবও কিন্তু স্বাস্থ্যের উপর পড়ে ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিটি সামাজিক পরিস্থিতি-ঘাতপ্রতিঘাত স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। তাই এটি কখনওই ‘ব্যক্তিগত’ কোনও দায়িত্বের বিষয় নয়। স্বাস্থ্যসুরক্ষা একটি সামাজিক বিষয়, যা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সরকারের প্রত্যক্ষ দায়িত্বগ্রহণ ছাড়া অধরা।

দেশের ভবিষ্যৎ হোক শঙ্কর গুহনিয়োগীর আদর্শে ‘স্বাস্থ্যের জন্য সংগ্রাম’। কখনওই বেসরকারি হাসপাতালকে জনগণের স্বাস্থ্যের বরাত দেওয়া বিমাব্যবস্থা নয়।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3049 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...