মেহরৌলি এবং এক আশ্চর্য ভ্রমণ

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

 

সে এক অদ্ভুত শহর। শহরের ভেতর শহর। এবং সেই শহরের ঔরস থেকে জন্ম নেওয়া গান, লেখা, কথকতা। মনে পড়ছে অরুন্ধতী রায়। “The city as a novel— the novel as a city. And I don’t just mean the physical landscape of both cities and novels. I mean it more in the manner of how something is designed, and then that design is subverted, ambushed, enveloped, and turned into something else, and then all of that becomes a part of another design, and on it goes …” যে কথা বলছিলাম, শহরের ভেতর আরেক শহর। মেহরৌলি। পুরনো দিল্লির ভেতরেও আরেক দিল্লি। বলা হয় দিল্লির ভেতর সাত সাতটা সময়, যুগ লুকিয়ে আছে। ডালরিমপ্লের কথায়— “Whoever has built a new city in Delhi has always lost it; The Pandava brethren, Prithviraj Chauhan, Feroz Shah Tughluk and they all lost them. We were no exception …”

‘Statues are not the ruins; we are the ruins’ – George Seferis

এই হারিয়ে ফেলার ক্রনোলজির মধ্যেই আমাদের আশ্চর্য ভ্রমণ। গাইডবুকের রাজধানী শহরের কুতুব মিনারের বাইরে পড়ে থাকা এক আশ্চর্য শহর। পাশ দিয়েই হেঁটে যাওয়া পর্যটক সংস্কৃতি তাকে ফিরেও দেখে না। তারা জানে না তারা কী হারাচ্ছে।

মেহরৌলি শহর এবং তার প্রেক্ষিতেই গড়ে ওঠা মেহরৌলি আর্কিওলজিকাল পার্ক। পার্কের বাইরে মেহরৌলির ব্যস্ত, হাঁটা যায় না এমন এক তস্য অলিগলি পেরিয়ে আরও অনেক আশ্চর্যের খোঁজ। হঠাৎ করেই দেখতে পাওয়া জাফর মহল। স্থানীয়দের কথায় শিস মহল। মুঘল আমলের সম্ভবত শেষ ম্যাজিক। দ্বিতীয় আকবরের সময়কালে যার নির্মাণ। ১৮২০-র একটু পরে। ছেলে বাহাদুর শাহ জাফরের হাত ধরে সম্পূর্ণতা পায়। তারই বিশাল এক দরজার ভেতর দিয়ে ঢোকা আমাদের।

জাফর মহল

ডিজলভ এফেক্ট। চারপাশে আধুনিক অথচ কুৎসিত কংক্রিটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হেরিটেজ। অন্ধকার পথ, প্রকোষ্ঠ। একের সঙ্গে অন্যের নিবিড় যোগাযোগ। সিঁড়িগুলোয় সাবধানে পা ফেলছিলাম। সরীসৃপ, আগাছা আর পিচ্ছিলতা— এইসব সামলেই। প্রশস্ত এক কোর্টইয়ার্ডে তাস নিয়ে বসা পুরনো দিল্লিওয়ালারা। গুলিডান্ডার দল। আর্চের পর আর্চে অনবদ্য সিমেট্রি। বাইরের দেওয়াল খসে পড়া পাথরের শরীর। মহল-লাগোয়া মোতি মসজিদ, মুঘল আমলের বেশ কিছু বরিষ্ঠ সদস্যের সমাধি। শুনলাম জাফরও ভেতর থেকে চেয়েছিলেন তাঁরও শেষ শোওয়া এখানেই হোক। হল না। রেঙ্গুন থেকে দিল্লি কদ্দূর? কান্নার শব্দ— ‘রোজ মামারা-ই-দুনিয়া মে খারাবি হ্যায় জাফর/আয়সি বস্তি কো বিরানা বানায়া হোতা…’

জাফর মহলের ভেতরের সিঁড়ি, গোপন প্রকোষ্ঠ, খিলানের সিমেট্রি

জাফর মহলে সমাধি, ধ্বংসচিহ্ন এবং ভেতরের ঝারোখা থেকে বাইরের আধুনিক দিল্লিদর্শন, টাইম ট্রাভেল

অবশ্য জাফর মহলের এত দৈন্যর মধ্যেই কাছেই ইলতুৎমিসের সময়কালের ট্যাঙ্ক হজ-ই-সামসি এবং তার পূর্বপ্রান্তের জাহাজ মহলের এক অন্য ছবি। লোদি আমলে নির্মিত বাদশার সামার রিট্রিট, নাকি পুরনো কোনও সরাইখানা, এই স্থাপত্যের নির্মাণ ইতিহাস যথেষ্ট নয়। যদিও আজকের অতিমারির সময়ে একে ঘিরে জমজমাট পুরনো স্থানীয় দিল্লি। সবজি বাজার। আড্ডার ঠেক। প্লাস্টিক, পানপরাগ। অক্টোবর নাগাদ বার্ষিক ‘ফুলওয়ালো কি শায়ের’। ইতিহাস ছাড়া বাদবাকি সবকিছুই নির্বিকার। দক্ষিণের দেয়াল ধ্বংসপ্রাপ্ত। কাছেই এককালীন হ্রদ শুকিয়ে অসম্ভব রিক্ত এক জলাশয়ের আকার। সেখানে কি আদৌ জাহাজ মহলের ছায়া পড়বে আজ? জল যে অনেক সরে গেছে। ইতিহাসও…

জাহাজ মহল

অরুন্ধতীর কথা মনে পড়ছিল। সিটি অ্যাজ আ নভেল। মনে পড়ছিল মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস। তৃতীয় লিঙ্গের জন্ম। মৃত্যু। এবং সেই প্রসঙ্গেই মেহরৌলির গলির ভেতর, চারপাশের ক্যাকোফনির ভেতর অসম্ভব এক শান্তি। হিজরো কি খানকা। পঞ্চদশ এবং ষষ্ঠদশ শতকের মাঝে লোদি বংশের আমলে নির্মিত। শাহজানাবাদের তুর্কম্যান গেটের কাছে কিন্নার হিজরা বাসিন্দাদের মালিকানায় এবং রক্ষণাবেক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এক রিক্লিউস। ৪৯টি সমাধির মাঝে সুফি কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির বোন মিয়া সাহিবের স্বতন্ত্র এক সমাধি। শয়নযান। গাছের ছায়া কিয়ারোস্কিউরো, দেয়ালের জাফরি, স্থানীয় রক্ষীর স্নেহময়তায় মনে হল আরেকটু বসি। বাইরের ভারতবর্ষ, শহর, মহানগর, রিরংসা ক্লান্তি দেয় বড়। এই ঘরে সেই ক্লান্তি নাই…

হিজরো কি খানকার আলো আঁধারি এবং স্বতন্ত্রভাবে চোখে পড়া মিয়া সাহিবের সমাধি

গলি থেকে রাজপথ। মেহরৌলি আর্কিওলজিকাল পার্ক বলতে যেটুকু বোঝায় তার দিকনির্দেশ পেতে সমস্যা হয় বৈকি। স্থানীয় মানুষ, অটোচালক, দোকানিরা আর্কিওলজিকাল পার্ক শুনলে আকাশ থেকে পড়েন। কোথাও একটা সমস্যা থেকে যায়। মেট্রো থেকে নামার পর পর্যাপ্ত দিকনির্দেশ নেই। এসব জুয়েল, এসব ঐশ্বর্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না মানুষ। লস অফ এন্টিটি। আইডেন্টিটি। জামালি কামালির কথাই ধরা যাক। মেহরৌলি পার্কের ভেতর মুঘল আমলের প্রথম দিককার অন্যতম এক সৌধ। পরে এই আর্চ, এই ঘরানা অনেক স্থাপত্যে এলেও জামালি কামালি বিস্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করছে।

সামনে থেকে জামালি কামালি মসজিদ, অধিকাংশ সময়েই পর্যটকশূন্য

১৫২৮-২৯ সালে নির্মিত জামালি কামালি মসজিদ এবং সমাধি। সত্য এবং লুকোনো রহস্যের জাল। সিকন্দর লোদির আমলে ভারতে আসা সুফি কবি শেখ হামিদ বিন ফজলুল্লাহ— ওরফে জামালি। সিকন্দর লোদির নিজের লেখার দখল চমৎকার হলেও খোদ সম্রাটকেও লেখা শুধরে দিতেন জামালি। আর তাই এই সৌধ। কিন্তু কামালি? অন্য কোনও সুফি সাধক, যার ততটা নাম ছিল না? জামালির দূরসম্পর্কের ভাই? ক্যারেন চেজ তাঁর ‘জামালি কামালি — এ টেল অফ প্যাশন ইন মুঘল ইন্ডিয়া’ বইতে দুজনের মধ্যে এক সমকামী সম্পর্কের উল্লেখ করেছেন। এইসব মিথ, ইতিহাসের বাইরে আর কী আছে? পাঁচটা খিলান, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় খিলানের উপর নির্মিত এক ডোম, দুটি সমাধি, প্রায় ভূতের মতো সময় কাটানো একা রক্ষী, পিছন দিকে প্রায় আড়ালে চলে যাওয়া হন্টিং কিছু ঝরোখা— মুঘল আমল স্থাপত্যশৈলীর সংজ্ঞা দেওয়া সুবিশাল জামালি কামালি মসজিদ। ‘অতি দূরে নহবতের আলাপ, বাতাসে দোদুল্যমান ঝাড়ের স্ফটিকদোলকগুলির ঠুনঠুন ধ্বনি, বারান্দা হইতে খাঁচার বুলবুলের গান বা বাগান হইতে পোষা সারসের ডাক।’ সন্ধে হয়। আমরা সরে আসি। দুজন রহস্য মানুষ কোথাও কি আদরে নিমগ্ন হন? ঘাড়ের কাছে হাওয়া আসে। ছায়া। চুলের গন্ধ। শরদিন্দুর ‘প্রতিধ্বনি’ গল্প মনে পড়ে। ‘আছে, আছে, আছে…’

জামালি কামালি মসজিদ ও সমাধির ভেতরের খিলান, ঝরোখা এবং পেছনের এককালীন মূল প্রবেশদ্বার

পুরনো দিল্লির বাউলি। আকাশচুম্বী কংক্রিট, এলিটিজম বাঁচিয়ে দিব্যি বেঁচেবর্তে থাকে এসব, কিভাবে অ্যাজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারি না। রাজন কি বাউলি। ১৫০৬ সালে লোদি আমলের প্রশাসক দৌলত খানের নির্দেশে তৈরি। পূর্ব পশ্চিমে বারোটা স্তম্ভ এবং তার মধ্যবর্তী খিলানের ভেতর যার অবস্থান। নিচে নামার আহ্বান। অথবা অন্ধকার কিছু সিঁড়ি বেয়ে ছাদের আলো। সেখানেও অক্টাগোনাল এক ছত্রী, ভেতরে কার্ভ, ফুলেল নকশা। অদ্ভুত শান্ত এক মেহরৌলি পার্কের রাস্তায় একদিকে রাজন কি বাউলি অন্যদিকে ওয়াল্ড মস্ক, পাশ দিয়ে অসংখ্য টিয়ার ডাক, খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া চিল মিলিয়ে কেমন এক হাতছানি— মনে হল কিছু কথা বললে মেহরৌলি উত্তর দেবে, দেবেই…

মেহরৌলি পার্কের ভেতর রাজন কি বাউলি যাওয়ার রাস্তা

 

রাজন কি বাউলি

 

রাজন কি বাউলির একটি অক্টাগোনাল ছত্রী সংলগ্ন সমাধির ভেতরের দেওয়ালের অলঙ্করণ

শহর নির্মাণ করে সে শহর হারিয়ে ফেলার গল্প মেহরৌলিতে। কুতুব মিনারের উত্তরে মেহরৌলি বাসস্ট্যান্ড, যাকে ঘিরে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে থাকা অক্টাগোনাল আধম খান টম্ব। আকবরের বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর ধাত্রী মা মহাম আঙ্গার ছেলে আধম একটা সময়ে আকবরের স্নেহধন্য হলেও থ্রোন অফ ব্লাডের লেগ্যাসিতে বিষের পাত্র উপুড় হয় একসময়। ১৫৬১ সালে আকবরের প্রিয় জেনারেল আতাগা খানকে হত্যা করেন আধম। সম্রাটের বীভৎস এক রাগে আগ্রা ফোর্ট থেকে ছুড়ে ফেলা হয় আধমকে। প্রথমবার শরীরে তবু প্রাণ ছিল। সেই শরীরকে দ্বিতীয়বার টেনে এনে আরেকবার ফেলা হল। ১৫৬২। সমাধি নির্মাণ। মুঘল আমলের অক্টাগোনাল শেপ বিশ্বাসঘাতকদের জন্য বরাদ্দ ছিল। আর তাই এই সমাধি। নাহ, কিছু অতীত বেশিক্ষণ নেওয়া যায় না। ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে একসময়ে অবহেলিত হলেও পরে ফিরিয়ে আনা হয় আধমের সমাধিকে। পাশে এককালে থাকা শোকে ভেঙে পড়ে প্রয়াত মা মাহাম আঙ্গার সমাধি এখন কোথায়? ছেলে আধম তো একাই শুয়ে। প্রতিধ্বনি, ভুলভুলাইয়া আর বিশালাকার এক ডোমের মাঝে অসম্ভব একা শয্যা, বিষাক্ত ইতিহাসের ট্রেল— স্মৃতি সততই সুখের হয় না…

আধম খানের সমাধি, একা …

আধম বলতেই কুলি খান মনে পড়ে। আধমের ভাই কুলি খানের সমাধি মূল মেহরৌলি পার্কের ভেতরেই। আর এই কুলি খান টম্বেই ইসলামিক এবং ইউরোপিয়ান স্থাপত্যরীতির ক্ল্যাশ, মিশেল। জাফর মহলে থাকা বাহাদুর শাহ জাফরের উপর নজর রাখতে গভর্নর জেনারেলের হয়ে স্যার টমাস মেটক্যাফে কুলি খান টম্বকে ইউরোপীয় ঘরানায় বদলালেন ১৮৩০-এর কয়েক বছর পর। কখনও তিনি নিজে থাকতেন আবার, স্থানীয় একটি প্লেক বলছে, মধুচন্দ্রিমার জন্য ইউরোপীয় নবদম্পতিদের নাকি ভাড়াও দেওয়া হত এই ‘দিলখুশা’, পরবর্তীকালের ‘মেটক্যাফে হাউস’। টমাসের কথায় সেসবের প্যাশন, প্রতিধ্বনি— ‘… The palaces crumbling into dust … the myriads of vast mausoleums, every one of which was intended to convey to futurity the deathless fame of its cold inhabitant, and all of which are now passed by, unknown and unnoticed. These things cannot be looked at with indifference.’ তুলনায় আসে অসম্ভব অনাদরে মেহরৌলি পার্কের বিপরীতে দিল্লি গুরগাঁও রোড লাগোয়া আজিম খান টম্ব। ধুলিধুসরিত সিঁড়ি, ভেঙে পড়া প্লেক, প্লাস্টারনির্মিত প্রায় আকাশের সঙ্গে কথা বলা আজিম খানের স্মৃতিসৌধে কোথাও জেনারেল আজিম খানের কথা লেখা নেই।

কুলি খানের সমাধি (মেটক্যাফে হাউস) এবং প্রবেশদ্বারে নীল পাথরের অলঙ্করণ

 

কুলি খানের সমাধি (মেটক্যাফে হাউস) এবং প্রবেশদ্বারে নীল পাথরের অলঙ্করণ

পর্যটকশূন্য আজিম খানের সমাধি, সিঁড়ির কাছেই ভেঙে পড়ে থাকা প্লেক

মেহরৌলির কথায় নটেগাছ মুড়োয় না। বাকি থেকে যায়। পার্কের ভেতরেই একটি মসজিদে ছবি তুলতে বাধা পাই। যদিও আদর করে কাছে ডেকে নেন ধর্মের ওপারে থাকা বন্ধু, ভাই, পিতা। ‘রান্না হচ্ছে, খেয়ে যান।’ জাফর মহল লাগোয়া বখতিয়ার কাকির দরগার বাইরে বল ব্যাট নিয়ে খেলার আসর। ব্যাট ধরেছিলাম কিছুক্ষণ। ওদের হাতের স্পর্শ। কামারাদেরি। দরগার ভেতর জাফরির নকশা, নৈঃশব্দ এবং অদ্ভুত এক নৈকট্যের সন্ধান। জন্মান্তরে বিশ্বাস থাকলে কিছু সম্পর্কের রিশাফল চাইতাম, যা এজন্মে আর হল না। বড় বেশি নাস্তিকতার দায় থেকে গেল…

মেহরৌলি পার্ক মধ্যস্থ মসজিদ, সংসার

ইসলামিক ভারতবর্ষের প্রথম আর্চ সিস্টেমের সাক্ষী বলবনের সমাধি অরণ্যাকীর্ণ, আমাদের ঢুকতে বাধা ছিল অনেক। দূর থেকে চোখ, পিক্সেল ভেঙে যাওয়া লেন্স। অন্ধকারে ঢাকা তিন চারশ বছরের পুরনো আস্তাবল, প্রায় সারাবছরই তালাবন্ধ গন্ধক কি বাউলি এবং ওয়াল্ড মস্ক, ধূধূ গোলাপবাগান, ইতিহাস-সম্বল পার্কের খোলা মাঠে ইতিহাস-বিস্মৃত আদর, ঠোঁট— এসবে ঘোর লেগে যায়। “সারা জীবন যুদ্ধের পর যুদ্ধ, শরিকি রক্তক্ষয়— অথচ সমাধিসৌধে abode of peace, মৃত্যু কী অসম্ভব কন্ট্রাডিক্টরি, না গো?” বন্ধু সঙ্গীর কথায় চমকে উঠি।

সন্ধে গাঢ় হয়…

চেহরে পে সারে শহর কে গার্দ-এ-মালাল হ্যায়
জো দিল কা হাল হ্যায়, ওহি দিল্লি কা হাল হ্যায়

–মল্লিকজাদা মনসুর আহমেদ


*সমস্ত ছবি লেখকের তোলা

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3545 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...