কৃষিবিশেষজ্ঞ দেবিন্দার শর্মাকে পাঁচটি প্রশ্ন

রোহিত কুমার

 






সাংবাদিক, লেখক, এবং কৃষিবিশেষজ্ঞ দেবিন্দার শর্মার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শিক্ষাবিদ, মনোবিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মী রোহিত কুমার। সাক্ষাৎকারটি ইংরাজিতে গত ১৭ জানুয়ারি দি ওয়ার-এ প্রকাশিত হয়।

 

 

 

 

 

 

একদিকে ভারতীয় জনতাকে তিনটি কৃষি আইনের উপকারিতা বোঝাতে কেন্দ্র সরকার এবং সংবাদমাধ্যমে তাদের ধামা-ধরারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। অন্যদিকে দিল্লি সীমান্তে অবস্থানরত কৃষকরা— যাঁদের আন্দোলন ৫০ দিন অতিক্রম করল— পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছেন আইন তিনটি একেবারে বাতিল না করা পর্যন্ত তাঁদের পিছু হটার কোনও প্রশ্নই নেই। আর এই তথ্যবিকৃতির মাঝে দোলাচলে পড়ে গেছেন শহুরে জনগণ। তাঁরা বুঝতে পারছেন না, আইনগুলি আদতে ভালো, না মন্দ।

যে জিনিসটা এই সাত সপ্তাহ ধরে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেটি হল, আমাদের বড় শহরের অধিবাসীরা তাঁদের গ্রামবাসী সহনাগরিকদের থেকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতে বসবাস করেন। তাঁরা এটা ভেবেই পাচ্ছেন না যে, এই যে কৃষকরা দিল্লি সীমান্তে বসে রয়েছে, তাঁদের এই মরণপণ জেদের কারণটা কী? আসলে সমস্যাটা হল, এই প্রতিবাদ আন্দোলনের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে তাঁরা প্রায় সম্পূর্ণতই অজ্ঞ।

এই ধোঁয়াশা কিছুটা কাটানোর জন্য এবং এই আন্দোলনের বৃহত্তর প্রেক্ষিত বোঝার জন্য আমি সাংবাদিক, লেখক, এবং খাদ্য ও বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ দেবিন্দার শর্মার সঙ্গে কথা বললাম। দেবিন্দার গত দুই দশক ধরে ভারতীয় কৃষকদের মধ্যে আয়ের সমতা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তা এই কৃষক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেই যে পাঁচটি প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবীভাবে উঠে আসছে, আমি সেই পাঁচটি প্রশ্নই তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

কেন কৃষকেরা কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর এত অসন্তুষ্ট?

অনেকেই ভাবছেন কেবলমাত্র কৃষিবিষয়ক এই তিনটি আইন নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃষকদের এত ক্ষোভ, এবং সে কারণেই তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীর উপকণ্ঠে জমায়েত হয়েছেন। আমার কিন্তু তা পুরোপুরি সত্যি বলে মনে হচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে, এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ আসলে গত বেশ কয়েক দশক ধরে পুঞ্জীভূত হতে-হতে অবশেষে একটা ফেটে বেরনোর রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে কৃষিক্ষেত্র যে ভয়াবহ বৈষম্য ও অবিচারের সাক্ষী থেকেছে— কৃষকরা যে চূড়ান্ত বঞ্চনার শিকার হয়েছেন— সেই বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্ষোভেরই এক সম্মিলিত রূপ আজকের এই প্রতিবাদ-আন্দোলন। যদি আমরা তিনটি সমীক্ষার দিকে একটু নজর করে দেখি, তা হলে অনায়াসেই সেই বঞ্চনা ও অসাম্যের ইতিহাসের একটা মোটামুটি সামগ্রিক ছবি পাওয়া যাবে।

আঙ্কটাড (UNCTAD – ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড কমার্স)-এর একটি সমীক্ষা বলছে, গত শতকের আট দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে এই শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে উৎপন্ন ফসলের দাম (যাকে আউটপুট প্রাইস বা ফার্মগেট প্রাইস বলা হয়) মোটামুটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেছে। শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই। অর্থাৎ, একটু অন্য কথায় বলতে গেলে, ১৯৮০ সালে কৃষকের আয় যা ছিল, মূল্যবৃদ্ধির জন্য টুকটাক অ্যাডজাস্ট করে, গত দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তা থমকে থেকেছে প্রায় একই জায়গায়। বিশ্বের ধনী দেশগুলো এই সমস্যার মোকাবিলা করেছে মূলত দুটি উপায়ে— কৃষকের হাতে সরাসরি বাড়তি টাকা পৌঁছিয়ে দিয়ে, এবং তাদের অন্যান্য নানাবিধ আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে। কিন্তু উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলি তা করতে পারেনি; ফলে সেসব দেশের চাষিরা মার খেয়েছেন অনেক বেশি, এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) নয়াদিল্লির একটি সংস্থার সঙ্গে একযোগে একটি সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ২০১০ থেকে ২০১৬-১৭-র মধ্যে এ দেশের চাষিরা কৃষিক্ষেত্রে রোজগারের এক বিপুল অংশ লোকসান করেছেন। টাকার অঙ্কে সেই লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা! এবং, মনে রাখতে হবে, এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাপ করা হয়েছে কেবল কয়েকটি বিশেষ শস্যের ভিত্তিতে, অর্থাৎ ধরে নেওয়া যেতেই পারে যে, বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ আসলে আরও অনেকটাই বেশি। তার চেয়েও বিস্ময়কর ঘটনা হল, এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি নিয়ে কোনও মহলে প্রায় কোনও আলোচনাই হতে শোনা যায়নি। এ থেকেই বোঝা যায়, কতটা নীরবে এই বিপুল পরিমাণ ন্যায্য রোজগার থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে আমাদের কৃষকদের। এই যে আমরা খবরের কাগজে প্রায়ই কৃষকদের আত্মহত্যার খবর শুনতে পাই, সেটা যে নিছক অকারণে নয়, তা বোঝা যায় এই সমীক্ষার ফলাফলের দিকে এক নজর তাকালেই।

আরেকটি রিপোর্ট ‘ইকোনমিক সার্ভে’-র করা, ২০১৬ সালে। সেটার থেকে দেখা যাচ্ছে দেশের ১৭টি রাজ্যে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধাংশে, কৃষিজীবী পরিবারগুলির গড় বার্ষিক আয় মাত্র ২০০০০ টাকা! মানে মাসে ১৭০০ টাকারও কম! তাঁরা বেঁচে রয়েছেন কী করে সেটা ভাবলেই কেমন বিহ্বল হয়ে যেতে হচ্ছে না?

ফলত সব মিলিয়ে বলার এটাই যে, কৃষি এই সমস্ত দশকগুলি জুড়ে এক ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাস্তব সত্য এটাই যে, এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে দিল্লির সীমান্তে কৃষকরা যে বসে রয়েছেন, তাঁরা সত্যিই তাঁদের সহ্যের শেষ সীমায় এসে পৌঁছেছেন। বিদ্বজ্জনেরা, অভিজাতরা এবং অর্থনীতিবিদরা সবাই কৃষকদের তাঁদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনাগণ্ডা বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে কৃষকরা আপাতত তাঁদের নিজেদের বেঁচে থাকার লড়াইটা নিজেরাই করে নিতে ময়দানে নেমেছেন।

এই কৃষি আইনগুলি তাঁদের মধ্যে এই আতঙ্ক ঢোকাতে পেরেছে যে, তাঁদের যেটুকু সম্বল আছে, এবার সেই সেটুকুও যাবে। এই বোধটাই তাঁদের এই ঐতিহাসিক নজিরবিহীন সংগ্রামে টেনে নামিয়েছে। এমন একটা সংগ্রাম তাঁরা চালাচ্ছেন যেরকম সংগ্রাম আমি অন্তত বিশ্বের কোথাও দেখিনি।

কিন্তু এটা কি মূলত পাঞ্জাবের ধনী চাষিদের বিক্ষোভ নয়?

যদি পাঞ্জাবের কৃষকেরা অতটা ধনীই হতেন, সেক্ষেত্রে তাঁরা বাকি দেশের চাষিদের কাছে একটা উদাহরণ হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু লুধিয়ানার পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাতিয়ালার পাঞ্জাবি বিশ্ববিদ্যালয় ও অমৃতসরের গুরু নানক দেব বিশ্ববিদ্যালয়— তিনটিই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়— থেকে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৬৬০০ কৃষক ও কৃষি শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন পাঞ্জাবে। এবং পাঞ্জাবের কৃষক পরিবারগুলির কাঁধে ১ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চেপে রয়েছে।

ধনী হলে, এত বিপুল সংখ্যক চাষি আত্মহত্যা করছেন কেন? যে কোনও পাঞ্জাবি সংবাদপত্র খুলে দেখুন, আপনি প্রতিদিন একটি বা দুটি কৃষক আত্মহত্যার খবর পাবেনই। আর পাঞ্জাবে প্রতি তিনজন কৃষকের একজন দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন।

ভুললে চলবে না, এদেশে মাত্র ৪ শতাংশ চাষির ১০ হেক্টরের বেশি জমি আছে। তাহলে এই যখন অবস্থা তখন ধনী কৃষক বলতে আমরা ঠিক কী বলতে চাইছি? দেশের ৮৬ শতাংশ চাষির নিজস্ব জমির পরিমাণ পাঁচ একরেরও কম। বাদবাকিরা মাঝারি কৃষক, এবং এঁদের জমির পরিমাণ ৬ থেকে ৮ একর।

শুধুমাত্র ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাচ্ছেন বলে ধনী হয়ে যাওয়া চাষিরা এই আন্দোলন করছেন, একথা বলা মূর্খতার নামান্তর। পাঞ্জাবে ছোট চাষিদের ৭০ শতাংশ এই ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সুবিধা পান। ছোট চাষি বলতে যাঁদের ৫ একরেরও কম জমি আছে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সবচেয়ে বেশি সুবিধা তাঁরাই পান।

যাঁরা বলছেন, এই বিক্ষোভ মূলত বিরোধীপক্ষ থেকে উসকানি থেকেই সংগঠিত হচ্ছে, তাঁদের বলতে হয়, এই ভয়ঙ্কর শীতের রাতে একবার ঘরের বাইরে কাটিয়ে আসুন, দেখে আসুন কেমন লাগে। আমার মনে হয় পয়সা দিলেও কেউ এমন কাজ করবেন না। দিল্লির বাইরে তাঁবু বা ট্রলিতে একটা রাত কাটান এবং বলুন আপনাদের টাকা দিলেও আপনারা এমন পরিবেশে এক মাসের বেশি সময় এখানে কাটাতে পারবেন কিনা। আমার মনে হয় কৃষকসমাজের দিকে এমন বিদ্রূপাত্মক কথা বলা এবার বন্ধ করা উচিত। প্রতিবাদী কৃষকদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানানো উচিত এবং দেখা উচিত তাঁদের কী প্রয়োজন এবং আমরা তাতে কতটা কী সুরাহা করতে পারি।

তবে বেশিরভাগ কৃষক ইউনিয়নই কি এই আইনগুলির পক্ষে নয়?

যদি বেশিরভাগ কৃষক এই আইনগুলির পক্ষেই থাকতেন, তবে এই বিপুল সংখ্যায় প্রতিবাদী কৃষকরা এলেন কোথা দিয়ে? বরং এটাই চমকপ্রদ যে এতগুলি কৃষক ইউনিয়ন এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়েছে। আমার মতো যারা দু দশক ধরে কৃষকদের সাথে কাজ করেছে, তারা জানে যে বিভিন্ন কৃষক ইউনিয়নকে পরস্পরের মুখোমুখি করা কতটা কঠিন। তার পরেও এখানে আমরা পাঞ্জাবের ৩২ জন ইউনিয়ন নেতাকে দেখতে পাচ্ছি, সঙ্গে দেখছি হরিয়ানা, রাজস্থান, পশ্চিম ইউপি এবং দেশের অন্যান্য অংশের আরও অনেককে। ফলে এটা পরিষ্কার যে সমস্যা এতটাই গভীর, সংগঠনগুলির এখন বেঁচে থাকার স্বার্থেই নিজেদের বিরোধগুলিকে একপাশে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে।

এই যে যেসব গোষ্ঠীগুলি বলছে যে এই আইনগুলি ভালো, সেগুলি কেমন জানেন? একটা ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে নিন আর দাবি করুন আপনি অমুক কৃষক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন! আমরা এসব আগেও ঘটতে দেখেছি এবং এখনও  ঘটতে দেখছি। এসব বাদ দিয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কৃষকরা যে এত বড় সংখ্যায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।

আর আমি যদি ধরেও নিই খুব অল্প সংখ্যক কৃষকই অখুশি হয়েছেন, তাহলেও কী করণীয়? তাঁরা কেন অখুশি তা বোঝার চেষ্টা করা এবং সমস্যা সমাধানে তাঁদের সাহায্য করা, না কি তাঁদের সংখ্যা কম দেখিয়ে তাঁদের দুরবস্থাকে লঘু করার অপচেষ্টা করা?

কৃষিতে কর্পোরেট সংস্থার অনুপ্রবেশ কী এমন ক্ষতি করতে পারে?

একটা বিজনেস চ্যানেলে সেদিন সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলাম। তা সেখানে হোস্ট আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “বাজার যখন কৃষি আইনগুলি নিয়ে এত উচ্ছ্বসিত, সেখানে কৃষকদের অসন্তোষের কারণটা কী?”

আমি বললাম, “আপনি তো প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। আইনগুলো বাজারের পক্ষে তাই বাজার উচ্ছ্বসিত। কৃষকরা মনে করেন, এ আইন তাদের পক্ষে নয়। তাই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।”

গোটা বিশ্বে কর্পোরেট সংস্থাগুলো কৃষির দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, কর্পোরেটরা যতই এ নিয়ে ঢাক পেটাক না কেন, কৃষিতে কর্পোরেটের অনুপ্রবেশ কৃষকের আয় বাড়াতে কোনওভাবেই সাহায্য করেনি। উদাহরণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকানো যাক। তার কাছ থেকেই তো এই আইনগুলো আমরা ধার করেছি। আমেরিকাতে খোলা বাজার আর কৃষিতে মুক্ত-বাণিজ্য তো ছয় থেকে সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। তবুও, যদি খোঁজ নেন, দেখবেন, কৃষিকাজে আয় ক্রমশ কমছেই। বাস্তবে, গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে মার্কিন কৃষকরা ৪২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ চোট খেয়ে পথে বসেছেন।

সংস্কার যদি এতই ভালো হবে, তবে কেন সেখানকার কৃষকরা এই জাতীয় দেউলিয়া অবস্থায় পড়তে বাধ্য হলেন? বেশিরভাগ ভারতীয়ই জানেন না যে আমেরিকাও এক ভয়াবহ কৃষি সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে দিন যাচ্ছে। বস্তুত গ্রামীণ আমেরিকায় আত্মহত্যার হার নগর আমেরিকার তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

বছরের পর বছর ধরে আমেরিকায় ছোট ছোট খামারগুলিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সে দেশে মাত্র ১.৫ শতাংশ জনগণ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের বৃহত্তম কৃষি-উৎপাদক দেশ। (অবশ্য আমরা যখন আমেরিকার কৃষি নিয়ে কথা বলি, তখন বড় বড় মেশিন, বড় বড় কর্পোরেশন, বড় ব্যবসা এবং বড় বড় কৃষিকাজের কথা বলি। কিন্তু ভারতের কথা এলেই লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র আর প্রান্তিক কৃষকদের কথা চলে আসে।)

আমেরিকায় এমএসপি বা এপিএমসি নেই। সেখানে ওয়ালমার্টের মতো বড় খুচরো বিক্রেতা রয়েছে, যাদের মজুত করার ক্ষেত্রে কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। ওখানে চুক্তিচাষ আছে, পণ্য-বাণিজ্য রয়েছে, কিন্তু এত কিছুর পরেও মার্কিন সরকারকে প্রতি বছর কৃষিতে ৬২০০০ ডলার ভর্তুকি দিতে হয়। এবার স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— কৃষকদের জন্য খোলা বাজার যদি এতই ফলদায়ক তো সরকারকে কেন এত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে?

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ট্রেডিং ব্লক OECD অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকির আকারে প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলার কৃষিক্ষেত্রে ঢালতে বাধ্য হচ্ছে। ইওরোপ আজ বার্ষিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে যার প্রায় অর্ধেকটাই কৃষকদের প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা রূপে। সুতরাং একটা বিষয় পরিষ্কার, আমরা কৃষিকাজ বা কৃষি রফতানিতে যাকে “বাজারের দক্ষতা বা ক্ষমতা” হিসেবে দেখছি, তা আসলে কৃষিক্ষেত্রে সরকার দ্বারা সরবরাহকৃত সহায়তা।

অতএব এ নিয়ে আমাদের খুব স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার যে ধনী ও উন্নত দেশগুলোতে কৃষিক্ষেত্র টেকসই ও কার্যক্ষম বাজারের দক্ষতার কারণে নয়, কারণটা হল সেসব দেশে সরকার কৃষিক্ষেত্রে বছর বছর গাদা গাদা ভর্তুকি দেয়।

বর্তমানে চিন, আমেরিকা ও ইওরোপীয় ইউনিয়নকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃষিভর্তুকি প্রদানকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে চিন সরকার কৃষিক্ষেত্রে ২১২ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, গম চাষিদের আয়ের ৩৮ শতাংশ, ধানচাষিদের আয়ের ৩২ শতাংশই প্রকৃতপক্ষে এই ভর্তুকি থেকে আসে। তাহলে উচ্চ ফলন কিন্তু কৃষকদের আয়ের উৎস নয়, আয়ের আসল উৎস হল সরকারের দেওয়া ভর্তুকি।

এরপর আসে প্রযুক্তির বিষয়টি। আর প্রযুক্তির কথা উঠলেই আপনার মানসে ভেসে ওঠে সেই চেনা কথা: “প্রযুক্তি মানেই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং আয়ও বাড়বে” ইত্যাদি ইত্যাদি। আচ্ছা, আমরা যদি ১৯৭০-এর দশকে পিছিয়ে যাই তাহলে দেখব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তির ছোট দুগ্ধ খামার আর প্রচুর দুগ্ধ প্রদানকারী গবাদি পশু ছিল। বস্তুত, আমেরিকার এই দুগ্ধ খামারগুলোই আমাদের মডেল ছিল। কিন্তু দশ বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক কৃষকের মর্মান্তিক আত্মহত্যার খবর আমার নজরে আসে। বাজারে দুধের দাম না পেয়ে সেই কৃষক প্রথমে তার ৫১টি গরুকে গুলি করে হত্যা করে, তারপর সে নিজেকে গুলি করে।

আসলে আমি যেটা বলতে চাইছি সেটা হল, ―আমেরিকায় বেশ কয়েক দশক ধরে এই সঙ্কটটা ছেয়ে রয়েছে এবং আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানি না। ১৯৭০-এর দশক থেকে আমেরিকায় কী ঘটছে তা যদি আপনি গভীরভাবে লক্ষ করেন তাহলে দেখতে পাবেন, ৯৩ শতাংশ দুগ্ধখামার বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ দুধের উৎপাদন বেড়েছে। এর কারণ হল বড় বড় কর্পোরেটরা ঢুকে পড়ে বৃহদায়তন ডেয়ারি তৈরি করেছে। যার ফলস্বরূপ দুধের দাম পড়ে গেছে ব্যাপকভাবে, এবং ওই ৯৩ শতাংশ ছোট ডেয়ারি ঝাঁপ ফেলতে বাধ্য হয়েছে।

যদি প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা প্রকৃতপক্ষেই কৃষির সাফল্যের মানদণ্ড হয়, তাহলে ওই দুগ্ধখামারগুলির বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ আমাকে বুঝিয়ে দিন। তারা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কারণ তাদের উৎপন্ন দ্রব্যের বাজারমূল্য ক্রমাগত পড়ে যাচ্ছিল। একটা পর্যায়ে এসে তারা আর তাদের উৎপাদন ব্যয়টুকুও তুলতে পারেনি— এবং কৃষি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

এটা আমাদের কাছে একটা চেতাবনি। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, যেসব জিনিসগুলিকে কৃষকের আয়বৃদ্ধির উপায় হিসেবে দেখানো হয়, বাস্তব ক্ষেত্রে সেগুলি আদৌ তা করে না। কৃষকদের প্রয়োজন সরাসরি আর্থিক সহায়তা। ইওরোপে কৃষকদের যে ভর্তুকি দেওয়া হয় তার ৫০ শতাংশই দেওয়া হয় এই প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা হিসেবে। আমেরিকা গড়ে বছরে ৬২০০০ ডলার ভর্তুকি দেয়।

এই সব ঘটনা আমাদের পরিষ্কার দেখিয়ে দেয় যে বাজার মোটেই কৃষিকে টিকিয়ে রাখে না। আজকের দিনে কৃষি ভর্তুকির জোরেই কোনওমতে টিকে রয়েছে।

তাহলে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? কৃষিকে রক্ষা করা এবং পুনরুজ্জীবনের জন্য কী কী করা দরকার?

আমরা একটা ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। বলা ভালো এই কৃষক আন্দোলন আমাদের সেখানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমাদের এখন অবশ্যই যেসব সংশোধনগুলি অনেকদিন ধরে বকেয়া হয়ে রয়েছে সেগুলি করে ফেলতে হবে।

প্রথমত, আপনার আমার যেমন যা হোক একটা নিশ্চিত উপার্জনের প্রয়োজন হয়, প্রত্যেক কৃষকেরও তেমনি তাদের উৎপন্ন দ্রব্যের জন্য একটি নিশ্চিত মূল্য প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শস্য উৎপাদনের পরবর্তীতে যখন একজন কৃষক মান্ডিতে যাচ্ছেন, তখন যেন তিনি ন্যূনতম মূল্যটি পান, সেটি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আমি বুঝতে পারি না যদি একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বেঁধে দেওয়া যায়, তবে একজন কৃষক কেন তার শস্যের জন্য একটি নিশ্চিত ন্যূনতম মূল্য পাবেন না।

একমাত্র পথ আমি বুঝি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। বস্তুত এটা ভারতের একটা শক্তি। সবুজ বিপ্লবের সময় আমাদের নীতিনির্ধারকরা একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছিলেন— এই ন্যূনতম সহায়ক মূল্যটি চালু করেছিলেন। এই পদ্ধতি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আমি মানি যে মান্ডি-ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু সেজন্য তো ব্যবস্থায় সংস্কার দরকার, বন্ধ করে দেওয়াটা কোনও সমাধান হতে পারে না। মান্ডি ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হল রোগ হয়েছে বলে রোগীকেই মেরে ফেলা।

আমার পরামর্শ এটাই যে সরকার প্রতি বছরের মত ২৩টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণাকে একদম আইনি রক্ষাকবচ দিক। প্রতি বছর সরকার ২৩টি ফসলের এমএসপি ঘোষণা করলেও কার্যক্ষেত্রে কেনে শুধু ধান আর গম (কখনও প্রয়োজন বুঝে তুলো এবং ডালও কেনে, কিন্তু প্রাথমিকভাবে ধান আর গমই কেনা হয়)। এই ক্রয়ব্যবস্থা সমস্ত শস্যের জন্যই প্রযুক্ত হওয়া উচিত।

The Wire একটা বিশ্লেষণ করেছিল। সরকারের নিজস্ব পোর্টালের তথ্য নিয়ে। যে পোর্টালে কোথায় কি কি শস্য কি কি পরিমাণে কত দামে বিক্রি হয়েছে ইত্যাদি তথ্য পাওয়া যায়। সেই বিশ্লেষণে দেখা গেছে ২০২০-র অক্টোবর এবং নভেম্বর মাত্র এই ২ মাসে যদি কৃষকেরা শুধুমাত্র ধান আর গমের বদলে সমস্ত শস্যের জন্য এমএসপি পেতেন তবে তারা ২ মাসে ১৯০০ কোটি টাকা লাভ করতে পারতেন! আপনারা নিশ্চয়ই মানবেন যে এটা কোনও ছোটখাটো টাকা নয়। এবার ধরুন যেখানে সারাদেশের অর্ধেক অংশের উপার্জন গড়ে বছরে মাত্র ২০০০০ টাকা, সেখানে ভাবুন যে এই ২৩টি ফসল যা দেশের ৮০ শতাংশ ফসল ক্ষেত্র জুড়ে উৎপাদিত হয়, তা দিয়ে কৃষকরা কতটা উপকৃত হতে পারতেন! এর অর্থ এমএসপি যদি সঠিকভাবে প্রযুক্ত হয়, এবং একে আইনি করে দেওয়া হয় তবে কৃষক সাধারণের বিরাট একটি অংশ লাভবান হবেন। সেটাই হবে কৃষকের জন্য প্রকৃত আজাদি। কারণ তিনি নিশ্চিত থাকবেন যে পাঞ্জাব বা বিহার যেখানেই তিনি ফসল বিক্রি করুন না কেন একই দাম পাবেন, এবং সেটি এমএসপি। এই স্বাধীনতাই কৃষকরা আশা করছেন।

কর্পোরেটগুলির বক্তব্য যে তারা এবার কৃষকদের তাঁদের উৎপন্ন ফসলের জন্য আরও বেশি দাম দিতে পারবে! কিন্তু কিসের চেয়ে বেশি দাম? আমাদের কাছে একমাত্র মাপকাঠি হল এমএসপি। যদি কর্পোরেট, নীতিনির্ধারক এবং অর্থনীতিবিদেরা বেশি দাম দিতে এতটাই উদগ্রীব হয়ে থাকেন, তাহলে এমএসপি, যা কৃষককে ন্যূনতম নিশ্চিত উপার্জনের সুযোগ দেবে, তা বলবৎ করতে অসুবিধা কোথায়! কর্পোরেটরা কৃষকের পক্ষ নিয়ে বলুক, ‘হ্যাঁ, এমএসপি-কে আইনি অধিকার বানানো হোক। আমরা যেকোনও অবস্থায় কৃষককে তার চেয়েও বেশি দাম দেব।’

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না। এর অর্থ কর্পোরেটদের বক্তব্যে সততা নেই। তারা জানে তারা কখনওই বেশি দাম দেবে না।

বেশ কিছু কর্পোরেট অ্যাক্টিভিস্ট টেলিভিশনে নিয়ম করে দেখা দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি কেন্দ্রীয় সরকার এমএসপি-কে আইনি অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়ে একটা চতুর্থ আইন আনে, তবে সংস্কারের কাজ মুখ থুবড়ে পড়বে। অর্থাৎ তোমরা নিজের মুখেই স্বীকার করছ যে তোমরা কৃষককে বেশি দাম দিতে চাও না।

দ্বিতীয়ত ভারতে এমএসপি চালু করার কিছু নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে। এ দেশে এপিএমসি-নিয়ন্ত্রিত ৭০০০টি মান্ডি রয়েছে। অথচ প্রয়োজন প্রতি ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ৪২০০০ মান্ডি। এই পরিকাঠামো আমাদের তৈরি করতে হবে, যাতে কৃষকরা সহজে তাঁদের উৎপন্ন দ্রব্যাদি বিক্রি করতে পারেন। যদি একটি সুষ্ঠু মান্ডি নেটওয়ার্ক তৈরি  করা যায়, তাহলে এমএসপি ব্যবস্থা চালু করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

আমেরিকাতে এতগুলি দশক খোলা বাজার চলার পর আজ মার্কিন কৃষি দপ্তর বলছে যে খাদ্যপণ্যের প্রতি ডলারে কৃষকের ভাগ কেবল ৮ সেন্ট। অর্থাৎ মাত্র ৮ শতাংশ। মার্কিন কৃষক যে কেন আজ সঙ্কটে ভুগছেন এই তথ্যটা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

এবারে এটাকে আমাদের দেশের আমুল ডেয়ারি কো-অপারেটিভের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন। আমুল ডেয়ারি কো-অপারেটিভের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অন রেকর্ড বলেছিলেন যে, যদি ১০০ টাকার আমুল দুধ বাজারে বিক্রি হয় তবে কৃষক তার মধ্যে ৭০ টাকা পান। কৃষকের ভাগ থাকে ৭০ শতাংশ! তাহলে আমুলের থেকে এই শিক্ষা নিয়ে কেন সবজি, ডাল, ফল ইত্যাদিতেও প্রয়োগ করা হবে না যাতে কৃষকের বেশি আয়ের নিশ্চয়তা তৈরি করা যায়?

আমরা আমাদের দেশীয় মডেলের জন্য লজ্জিত কেন হব? বরং আমাদের নিজস্ব শক্তি চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে হবে এবং তার উপর ভিত্তি করেই উন্নতি করতে হবে। কর্পোরেটদের শোষণের জন্য কৃষিকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিবর্তে আমাদের দেশে সমবায় নেটওয়ার্ক বিস্তার ঘটানো দরকার। তরিতরকারি ও ফলের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

শেষ কথা যেটা বলবার— আমাদের অর্থনৈতিক নকশা কৃষিকে সমাজের ওপর একটি বোঝা হিসাবেই দেখে এসেছে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে— যদি আমরা মানুষকে কৃষি থেকে মুক্ত করে শহরে প্রতিস্থাপন করতে না পারি তাহলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। লকডাউনের মাত্র ২ দিনে মধ্যে আমরা ৮ কোটি মানুষের বিপরীত অভিবাসন প্রত্যক্ষ করেছি— অন্তঃরাজ্য এবং আন্তঃরাজ্য, দুরকমই। এই ঘটনা শেখায় যে মানুষ কে গ্রাম থেকে শহরের দিকে ঠেলে দেওয়ার অর্থনৈতিক মডেল একটি ত্রুটিপূর্ণ, ব্যর্থ মডেল। আমি মনে করি এই মডেলটিকে উলটে দেওয়া দরকার। কৃষিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি শক্তিকেন্দ্র করে তোলার সম্ভাবনাকে জোরদার করাটাই আজকের দিনে সর্বাধিক প্রয়োজন।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3088 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...