ভারতীয় রাজনীতিতে শুধুই কি মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক?

শুভাশিস মৈত্র

 

 


হিন্দুত্ববাদীদের প্রথম থেকে শেষ সারির সব নেতারা যেমন হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখার জন্য তাদের নির্বাচনী ভাষণে ক্রমাগত মুসলিমদের কখনও নাম করে কখনও নাম না-করে আক্রমণ করে যান, মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন দেশের ১৫ শতাংশ মুসলিম দেশের ৮৫ শতাংশ হিন্দুর জন্য ভয়ের কারণ, তেমনই এটাও ঠিক অতীতে কংগ্রেস বা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে রাজনীতি করেছে। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খেতে রাজি, এই ধরনের কথা যেমন বাংলার রাজনীতিতে একটি লজ্জাজনক বক্তব্য তেমনই লজ্জাজনক বক্তব্য "আন্দোলনকারীদের পোশাক দেখে চিনুন" বা "ওরা ক্ষমতায় এলে হিন্দু মহিলাদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে নেবে" ইত্যাদি কথাবার্তা

 

সম্ভবত ভারতীয় সমাজবিজ্ঞানী এবং নৃতত্ত্ববিদ এমএন শ্রীনিবাসই প্রথম তাঁর জাতি-গবেষণায় ভোটব্যাঙ্ক শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে গ্রামাঞ্চলে দলিত-ওবিসিদের উপর উচ্চবর্ণের প্রভাবশালী ‘প্যাট্রন’দের নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং সেই প্যাট্রনরা নির্বাচনের সময় সেই ভোটব্যাঙ্কের সমর্থন নিশ্চিত করে কীভাবে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের থেকে নানা সুযোগসুবিধা আদায় করে নেয়। পরে অবশ্য এই ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি-র চরিত্র একেবারেই বদলে যায়। এখন কথাটার মানে অনেকটাই ভিন্ন। মূলত কংগ্রেস, বামপন্থী এবং অন্য সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলির রাজনীতি এবং সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের ভোটদানের পদ্ধতিকে আক্রমণ করতে হিন্দুত্ববাদীদের যে ভাষা ব্যবহার করে, ‘ভোটব্যাঙ্ক’, ‘তুষ্টিকরণ’ শব্দগুলি সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যখন ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ২২টি রাজ্যে এককভাবে বিজেপি বা এনডিএ ক্ষমতায় আছে তখন বোঝা যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির শিকড় ভারতের রাজনীতিতে অনেকটা গভীরে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজেপি এখনও ৩৬-৩৭ শতাংশের বেশি ভোট পাচ্ছে না। কংগ্রেস কিন্তু ১৯৮৪ পর্যন্ত গড়ে ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এসেছে।

বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারের একটা বড় অংশ হল, কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলের সেকুলারিজম-এর আদর্শ আসলে সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘তুষ্টিকরণ’-এর হাতিয়ার, এমন একটা ধারণাকে ক্রমাগত বলে বলে দেশের মানুষের চোখে ব্যাপারটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং সেকুলারিজমকে একটি খারাপ ধরনের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এই কাজে তারা কিন্তু বেশ খানিকটা সফল, সে-কথা মানতেই হবে। বাংলায় এখন সমাজমাধ্যমে প্রায়ই সেকু-মাকু বলে একটি কথা শোনা যাচ্ছে, যা দিয়ে হিন্দুত্ববাদীরা বামপন্থীদের বোঝাতে চাইছে, এবং তাদের সমর্থন কম নয়। ফলে সেকুলারিজম নিয়ে এখানে দুটো কথা বলে নেওয়া জরুরি।

 

এটা ঠিক যে ভারতের সংবিধানে গোড়ায় সেকুলার শব্দটি ছিল না। ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময়ে সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধি সংবিধানের প্রস্তাবনায় সোশালিস্ট-এর সঙ্গে সেকুলার শব্দটিও যুক্ত করেছিলেন।

ইওরোপে সেকুলারিজমের যে ধারণা তার থেকে ভারতীয় সেকুলারিজমের ধারণা অনেকটাই আলাদা। এ-কথা অতীতে কনস্টিটিউশন ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকার কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা ভারতীয় গণপরিষদের বৈঠকে একাধিকবার বলেছেন। ভারতে সেকুলারিজম বলতে আমরা মূলত বুঝি রাষ্ট্রের চোখে সকলে সমান, এমন একটি ধারণা। অর্থাৎ, সবার জন্য ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সমতা।

আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে— সব নাগরিকের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা; মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার সমতা সৃষ্টি এবং সকলের জন্য ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিত করা, যাতে সৌভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে ওঠে।

এই যে সকলের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার সমতা, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা, এই কথাগুলিই পরিষ্কারভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার সমার্থক। আলাদা করে শব্দটি তখন সংবিধানে রাখা হয়নি।

ভারতের গণপরিষদের বৈঠক শুরু হয় ১৯৪৬-এর ৯ ডিসেম্বর, শেষ হয় ১৯৫০-এর ২৪ জানুয়ারি। ৬৭৫৬ পৃষ্ঠার (ডিজিটাল) গণপরিষদের বিতর্কের যে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায় সেখানে সেকুলার শব্দটি ৬৭ বার রয়েছে। গণপরিষদের সদস্য অর্থনীতিবিদ কেটি শাহ, সিপিআইয়ের রেণুকা রায়-সহ বেশ কয়েকজন সদস্য চেয়েছিলেন সংবিধানের প্রস্তাবনায় সেকুলার শব্দটি রাখতে। সংবিধান ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান বিআর আম্বেদকর বলেছিলেন এর কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ সংবিধানের প্রস্তাবনার যে ভাষা তাতে সেকুলার শব্দটি না থাকলেও, সেকুলারিজমের আদর্শের কথা খুব স্পষ্ট করে সেখানে বলা হয়েছে।

সংবিধানের প্রস্তাবনায় শুরুতেই ‘উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া’ এই বাক্যের আগে ‘ইন দ্য নেম অফ গড’, এই কথা জুড়তে গণপরিষদে প্রবল তৎপর ছিলেন বেশ কিছু সদস্য। আম্বেদকর রাজি ছিলেন না। অবশেষে ৪১-৬৮ ভোটে বাতিল হয়েছিল সেকুলারিজম-বিরোধী সেই সংশোধনী প্রস্তাব।

ভারতীয় সংবিধানের আত্মার মধ্যে সেকুলারিজমের ভাবনা অন্তর্লীন অবস্থায় আছে, আম্বেদকর এমনই বলেছিলেন গণপরিষদের বিতর্কে যোগ দিয়ে। সেকুলারিজম শব্দটি সংবিধানে যোগ করার দাবি-প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ছিল যে এই সংযোজন ‘সুপারফ্লুয়াস’ বা অতিরিক্ত। সমাজজীবনে ধর্মের কী ভূমিকা হবে তার উল্লেখ সংবিধানে থাকা প্রয়োজন, গণপরিষদে তোলা এই দাবিও খারিজ করে দিয়েছিলেন আম্বেদকর, জওহরলাল, প্যাটেল। এই সময়ে, এই একই দাবি জানিয়ে শিল্পপতি বিএম বিড়লা প্যাটেলকে চিঠি লিখলে তার জবাবে প্যাটেল লিখেছিলেন, হিন্দুস্তান একটি হিন্দু রাষ্ট্র হোক বা হিন্দু ধর্মকে ভারতের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ঘোষণা করা উচিত, এরকম তিনি মনে করেন না। বহু সংখ্যালঘু মানুষ এই দেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, লিখেছিলেন প্যাটেল।

বাস্তবে, সেকুলারিজমের ভাবনা ভারতে অতি প্রাচীন। রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের প্রবন্ধ ইতিহাসের মার্কসীয় বিচার: কোসাম্বির চোখে অশোক থেকে জানা যায়, অন্তত ছ-টি জায়গায় পাথর খোদাই করে লেখা অশোকের যে নির্দেশ পাওয়া যায় সেখানে বলা হয়েছে “দেবতাদের প্রিয় রাজার ইচ্ছে যে সর্বত্র সব ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করুক”। এটা ছিল প্রশাসনের নৈতিকতা। আড়াই হাজার বছর আগের ভারতীয় রাজা অশোক এখানে ধর্ম-সম্প্রদায়নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষকে সব জায়গায় যেতে এবং থাকতে উৎসাহ দিচ্ছেন, তাঁর নিজের ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করছেন না। ন্যায়বিচারের কথা বলছেন, সমতার কথা বলছেন। এই যে ভারত, এর সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না হিন্দুত্ববাদীদের ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী হিন্দুরাষ্ট্রের ধারণা। ইন্দিরা গান্ধি যদি সংবিধানে সেকুলার শব্দটি যুক্ত না করতেন, তাতে সংবিধানের কোনও ক্ষতি হত না। কিন্তু যারা আজ সেটা আক্রমণ করছে এবং সেটাকে বাদ দিতে চাইছে, তাদের উদ্দেশ্য মহৎ নয়। যদিও তাদের পিছনে জনসমর্থন বাড়ছে।

 

হিন্দুত্ববাদীদের প্রথম থেকে শেষ সারির সব নেতারা যেমন হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখার জন্য তাদের নির্বাচনী ভাষণে ক্রমাগত মুসলিমদের কখনও নাম করে কখনও নাম না-করে আক্রমণ করে যান, মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন দেশের ১৫ শতাংশ মুসলিম দেশের ৮৫ শতাংশ হিন্দুর জন্য ভয়ের কারণ, তেমনই এটাও ঠিক অতীতে কংগ্রেস বা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে রাজনীতি করেছে। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খেতে রাজি, এই ধরনের কথা যেমন বাংলার রাজনীতিতে একটি লজ্জাজনক বক্তব্য তেমনই লজ্জাজনক বক্তব্য “আন্দোলনকারীদের পোশাক দেখে চিনুন” বা “ওরা ক্ষমতায় এলে হিন্দু মহিলাদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে নেবে” ইত্যাদি কথাবার্তা।

এবার কংগ্রেসের কথা। রাজীব গান্ধি যখন বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনে হেরে গিয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের ধস আটকাতে ৭৩ বছরের বৃদ্ধা শাহবানুকে ১৭৯ টাকা ২০ পয়সা খোরপোশ দেওয়া সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সংসদে বিল এনে নাকচ করে দিয়েছিলেন ১৯৮৬ সালে এবং যখন তিনি মুসলিম পার্সোনাল ল-র পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, সেটা অবশ্যই ছিল ভোটব্যাঙ্ক পলিটিক্স।

কেন কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেমব্লিতে প্রথমে হিন্দু কোড বিল আনা হল, কেন সব ধর্মের মানুষের জন্য কমন সিভিল কোড নয়, এই নিয়ে নেহেরুর মত ছিল, ঐতিহাসিক কারণেই দেশের হিন্দুরা মুসলিম সমাজ থেকে তুলনায় অনেকটা এগিয়ে। ফলে খুব কম সংখ্যায় হলেও হিন্দুদের মধ্যে থেকে হিন্দু কোড বিলের প্রতি সমর্থন পাওয়া যাচ্ছিল। তবে বিরোধিতার মাত্রাও ছিল যথেষ্ট। উল্টোদিকে মুসলিম সমাজের ভিতর থেকে কমন সিভিল কোডের প্রতি সমর্থন প্রায় ছিলই না। জওহরলাল, আম্বেদকর বুঝেছিলেন, এই দাবিটা দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের ভিতর থেকে, অন্তত কিছুটা হলেও প্রথমে ওঠা প্রয়োজন। তবেই সরকার এগোতে পারবে। তাঁদের মনে হয়েছিল, মানসিক প্রস্তুতির জন্য মুসলিম সমাজের আরও একটু সময় দরকার। তা না হলে মুসলিম সমাজের মনে হতে পারে, সংখ্যাগুরুরা তাদের উপর গায়ের জোরে একটা আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন প্রথমে চালু হোক সংখ্যাগুরুদের জন্য হিন্দু কোড বিল। অবশ্য এটাও মুসলিম সমাজের ভেবে দেখা উচিত, কেন এত বছর পরেও মুসলিম সমাজের ভেতর থেকে এর পক্ষে কোনও আওয়াজ শোনা গেল না!

জওহরলাল মুসলিম সমাজকে কিছুটা সময় দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময় যখন এল রাজীব গান্ধি ভোটের কথা ভেবে পিছিয়ে গেলেন। তারপর আবার রাজীব ভয় পেলেন মুসলিমদের তুষ্ট করতে গিয়ে তিনি হয়তো হিন্দি বলয়ে হিন্দু ভোট হারাবেন। তখন হিন্দু ভোট হারানোর ভয়ে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের তালা খুলে রামমন্দিরে পুজোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি, সেটাও ছিল ভোটব্যাঙ্ক পলিটিক্স। সেদিন রাজীব এই কাজ করছিলেন আরএসএস নেতা বালাসাহেব দেওরসের ভাই ভাউরাও দেওরসের সঙ্গে আলোচনা করে, এমন কথাই লিখেছেন সাংবাদিক নীরজা চৌধুরী তাঁর বই হাউ প্রাইম মিনিস্টার্স ডিসাইড-এ। সেদিন রাজীবের সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে ভারতের রাজনীতিকেই বদলে দেয়। সাংবাদিক নীরজা চৌধুরী এ-ও লিখেছেন, রাজীব বাবরি মসজিদের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার পর ভাউরাও রাজীবকে লিখেছিলেন “হিন্দু হৃদয় সম্রাট বনো আউর রাজ করো”। রাজীব অবশ্য তাঁর সঙ্গে আরএসএসের যোগাযোগের কথা কখনও স্বীকার করেননি।

 

হিন্দু-মুসলিম-এর বাইরেও অবশ্য ভোটব্যাঙ্কের অস্তিত্ব রয়েছে ভারতীয় রাজনীতিতে। সেটা হল যাদব, জাঠ, ভোক্কালিগা, লিঙ্গায়েত, নায়ার, রেড্ডি ইত্যাদি যে-সব প্রভাবশালী জনগোষ্ঠী বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে, তারা কিন্তু নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। এই সব গোষ্ঠীর মন জুগিয়ে চলতে হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে। এই সব গোষ্ঠী এতটাই ক্ষমতাশালী যে তারা সরকার গড়তে পারে ভাঙতেও পারে। আমাদের এই বাংলায় ততটা প্রভাবশালী কোনও হিন্দু জনগোষ্ঠী নেই। এখানে যে কৃষিনির্ভর মুসলিম সমাজ আছে, যারা সংখ্যায় ৩০ শতাংশের আশেপাশে হবে, তাদের একটা ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার। বাংলার এই ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী স্বাধীনতার পর কখনও মুসলিম লিগের মতো কোনও দলকে ভোট দেয়নি। বরং বলা যায় তারা সব সময়ই কোনও না কোনও ধর্মনিরপেক্ষ দলের সঙ্গে থেকেছে। কংগ্রেস, সিপিএম হয়ে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিল গত পনেরো বছর। তবে শেষের দিকে, বিজেপির উত্থানের ফলে, কিছুটা নিরুপায় হয়েই। তাদেরকেই মমতা নাম না করে দুধেল গাই বলেছেন। এসআইআর-এর আঘাত এই জনগোষ্ঠীর উপর খুব বড়ভাবে নেমে এসেছিল। বিজেপির আক্রমণের লক্ষ্যই ছিল এই কৃষকসমাজ, যার বড় অংশকেই তারা বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়ে আওয়াজ তুলেছিল জনবিন্যাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে। বড় অংশ হিন্দু বাঙালি বিজেপির সেই প্রচারে বিশ্বাস করেছে। এই প্রথম মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে বাদই দিয়ে শুধু হিন্দু ভোটের জোরে (৬৬ শতাংশ) বাংলায় একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এল। তবে বিজেপির যা রাজনীতি তাতে এই সংখ্যালঘু কৃষকসমাজের পক্ষে সম্ভব নয় বিজেপির হাত ধরা। ফলে আগামী দিনে তারা কংগ্রেসের বা বামপন্থীদের হাত ধরতে পারে। যে-কোনও সভ্য দেশে সরকারের উচিত যারা সংখ্যালঘু, দুর্বল, সংখ্যায় কম তাদের পাশে থাকা। ভবিষ্যতে কংগ্রেস বা বামপন্থীরা অবশ্যই সংখ্যালঘুদের স্বার্থে কথা বলবে। সেটা বলাই উচিত। কিন্তু তাদেরও খেয়াল রাখা উচিত কোনটা ন্যায় আর কোনটা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি।

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5413 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.