চক্রব্যূহে ভারতের অর্থনীতি— ভারতীয় অর্থনীতিতে ‘চিনা ফ্যাক্টর’

সুমন কল্যাণ মৌলিক

 


ভারত ঠেকে শিখে বাধ্য হচ্ছে চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করতে— সরাসরি ফ্লাইট চালু, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরারম্ভ, সাংবাদিক ও গবেষকদের ভিসা প্রদান, এবং সর্বশেষ এই প্রেস নোট সংশোধন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, চিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার স্বপ্ন দেখার আগে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন দেশবাসীর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাড়ানো, এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মতো বুনিয়াদি ক্ষেত্রগুলিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা

 

পূর্ব-প্রসঙ্গ: চাহিদা, জোগান ও পুঁজির নিরন্তর সংলাপ

গালওয়ান এখন অতীত। চিনা পণ্য বয়কটের উগ্র জাতীয়তাবাদী স্লোগান আর আত্মনির্ভরতার গগনচুম্বী প্রচার আপাতত কার্পেটের তলায়। এখন এই অমৃতকালে মোদি সরকারের বীজমন্ত্র হল চিন থেকে বিনিয়োগ আনা; তার জন্য পূর্বে ঘোষিত নানান ধরনের নিষেধাজ্ঞা বানের জলে ভেসে গেছে। বিরোধীপক্ষ সরকারের চিনের সঙ্গে আর্থিক নীতির এই ভোলবদলকে ‘আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়েছে। কঠিন বাস্তব হল— নিষেধাজ্ঞা থাকুক বা উঠুক, ভারতীয় অর্থনীতিতে চিনা ড্রাগনের থাবা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ভারতীয় অর্থনীতির সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে চিন। শুধুমাত্র নির্বোধ আস্ফালন, উগ্র ও ছদ্ম দেশভক্তির টোটকা কাজে আসছে না। চিনের সঙ্গে সীমান্ত-বিরোধের কার্যকর ফয়সালা হওয়ার আগেই সরকার চিনের কাছে নতজানু হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক বিতর্কের স্বরূপ উপলব্ধি করতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ইস্যুতে ভারত সরকার একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে, যার পোশাকি নাম ছিল প্রেস নোট-৩।[1] এই নোটে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা রয়েছে এমন সমস্ত দেশের কোম্পানির ভারতে কোনও বিনিয়োগ করতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগবে। কোভিড অতিমারির সময় এই বিশেষ প্রেস নোটের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল: “To curb opportunistic takeovers/acquisitions of Indian companies due to the Covid pandemic.” এর মোদ্দা কথা হল, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অটোমেটিক রুটে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি ভারতে বিনিয়োগ করতে, বা কোনও ভারতীয় কোম্পানিতে তাদের শেয়ার বাড়াতে, বা মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবে না।

এই সময় পিপলস ব্যাঙ্ক অব চায়না ধীরে ধীরে ভারতের সর্ববৃহৎ ব্যাঙ্ক এইচডিএফসিতে তাদের অংশীদারি বাড়াচ্ছিল, কারণ কোভিডের ধাক্কায় ভারতের অর্থনীতি টালমাটাল ছিল। এই প্রেস নোটের মূল লক্ষ্য যে চিনের গতিরোধ করা, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আর কোনও দেশ যদি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতিতে চাঙ্গা হতে চায়, তবে তাকে পরনির্ভরতা ছাড়তেই হবে— তাই এই প্রেস নোট নিয়ে বিশেষ আপত্তি ছিল না।

এই প্রেস নোটের আগে মানিকন্ট্রোল পত্রিকার এক হিসাব অনুযায়ী, ৩০টি ইউনিকর্ন কোম্পানির মধ্যে ১৮টি— যেমন, সুইগি, জোম্যাটো, ওলা, বিগবাস্কেট, বাইজুস— চিনা বিনিয়োগের অধীনে ছিল। এদের মোট বাজারমূল্য ছিল সেই সময় প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।[2] এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার দু-মাসের মধ্যেই গালওয়ানে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ ঘটে, যাতে একাধিক ভারতীয় সেনা শহিদ হন। এই সংঘর্ষের প্রভাবে দেশজুড়ে চিনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দাবি সংঘ পরিবার থেকে জোরালো হয়ে ওঠে। সেই সময় পাল্টা প্রায় ২০০টি চিনা অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়, যার মধ্যে ছিল টিকটক, উইচ্যাট, আলিবাবার মতো জনপ্রিয় অ্যাপ।[3]

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতির এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রভাব ফেলে। অটোমেটিক রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ২০১৯ সালে চিনা বিনিয়োগ যেখানে ছিল ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, তা ২০২০ সালে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ০.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। সে সময় ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক বিওয়াইডি, গ্রেট ওয়াল কর্পোরেশন এবং ফরচুন ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো বড় সংস্থার বিনিয়োগ প্রস্তাব ভারত সরকার নাকচ করে।

যদিও একই সঙ্গে একথা মনে রাখা দরকার যে, ভারতে পুঁজি বিনিয়োগের আরেকটি পথ—অর্থাৎ ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই)— চিনারা কিন্তু ব্যবহার করতে থাকে।

কয়েকদিন আগে (চলতি মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে) ভারত সরকার তার সেই আলোচিত প্রেস নোটের সংশোধন করে জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এ দেশে বিনিয়োগ করতে পারবে যে কোনও চিনা সংস্থা, তবে তা ১০ শতাংশের নিচে হতে হবে। এই সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে যে, ইলেকট্রনিকস, ব্যাটারি, বিরল মৃত্তিকা-সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কোনও প্রকল্পের প্রস্তাব ৬০ দিনের মধ্যে ‘সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে সরকারের ছাড়পত্র পাবে।[4]

এখন প্রশ্ন উঠছে— ভারত অর্থনীতির ক্ষেত্রে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চিনকে এইভাবে খোলা মাঠ দিচ্ছে কেন? কোভিডকালে ‘গোদি মিডিয়া’র বিশেষজ্ঞদের প্রধান যুক্তি ছিল, এই সংকটে পশ্চিমি দেশগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বলে পরিচিত চিনকে পরিত্যাগ করে ভারতকে তাদের নতুন ঠিকানা করবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মন্ত্রে বলীয়ান ভারত হয়ে উঠবে নতুন গ্লোবাল পাওয়ার।

এই নিবন্ধে ভারত–চিনের আর্থিক ভারসাম্য বিচার করে, ভারতীয় অর্থনীতির পূর্বোক্ত দাবিগুলির মূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, চিনা পণ্য বয়কটের স্লোগান ছিল অনেকটাই লোকদেখানো। সত্যটা হল, ভারত ধীরে ধীরে চিনা পণ্যের প্রধান ক্রেতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (মার্চ ১০, ২০২৬) একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তথ্য-সহ উপস্থাপন করেছে।[5]

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে ভারত চিনে পণ্য রপ্তানি করেছিল ১৬.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের, যা ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে কমে দাঁড়ায় ১৪.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। উল্টোদিকে, ভারত চিন থেকে ২০২৩-২৪ সালে পণ্য আমদানি করেছিল ১০৭.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে হয় ১১৩.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে, ২০২৩-২৪ সালে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরে বেড়ে প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অসম বাণিজ্যের এই চিত্র স্পষ্ট করে যে, চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার মতো অবস্থার ধারেকাছেও আমরা নেই।

চিনের জন্য ভারতের দরজা হাট করে খুলে দেওয়ায় ভারতের কোনও দীর্ঘমেয়াদি লাভের সম্ভাবনা নেই। এর কারণ, চিন ভারতকে পণ্য বিক্রি করতে যতটা আগ্রহী, প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ততটাই অনাগ্রহী— যা বাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতার এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য। ভারতের গাড়ির বাজারে এই মুহূর্তে ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রধান উপকরণ হল লিথিয়াম ব্যাটারি। বিরল মৃত্তিকার ভাণ্ডার এবং তা থেকে ব্যাটারি তৈরির প্রযুক্তি চিনের হাতে কেন্দ্রীভূত। স্বাভাবিকভাবেই চিনের লক্ষ্য ভারতের ব্যাটারি বাজার দখল করা। এদিকে, ভারতের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট কনগ্লোমারেট মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ চিনের জিয়ামেন হিথিয়াম এনার্জি স্টোরেজ টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তি করে ভারতে ব্যাটারি তৈরির কারখানা গড়তে চেয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়, কারণ চিন সরকার প্রযুক্তি হস্তান্তরে সায় দেয়নি।[6] একই সমস্যার মুখে পড়েছে ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যাটারি প্রস্তুতকারক সংস্থা এক্সাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডও।

এর বিকল্প ছিল ব্যাটারি উৎপাদনে আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা। ২০২০ সালে ভারত সরকার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে ঘোষণা করে যে, দেশে ৫০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি সেল উৎপাদন করা হবে এবং এই খাতে ১৮,১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। কিন্তু আজ, পাঁচ বছর পর সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমরা মাত্র ১ গিগাওয়াট-ঘণ্টা উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি।[7] ফলে, আজ ভারত বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের লিথিয়াম ব্যাটারি আমদানি করে, যার প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে চিন থেকে।[8] তাই চিনা প্রযুক্তির প্রতি আমাদের নির্ভরতা ভারতের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

ভারতের অর্থনীতিতে চিনের প্রভাববৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ডলারের তুলনায় টাকার ক্রমহ্রাসমান মূল্য। এই মুহূর্তে যখন ১ ডলারের দাম ১০০ টাকা ছোঁবে কি না, তা নিয়ে গোটা দেশ আশঙ্কিত, তখন বিষয়টি সহজ গণিতে বোঝা দরকার।

আমরা আগেই দেখেছি যে ভারত চিন থেকে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে। দেশের প্রায় প্রতিটি ব্যবসা এবং গৃহস্থালির কোনও না কোনওভাবে চিনা পণ্যের সঙ্গে যোগ রয়েছে। এখন টাকার মূল্যহ্রাসের ফলে দেখা যাচ্ছে, একই পরিমাণ পণ্য আমদানির জন্য ভারতকে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। একদিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে ভারতের রপ্তানিতে আঘাত হেনেছে চিন; অন্যদিকে চিন থেকে পণ্য আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।[9] এমনিতেই চিন ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে পৃথিবীতে এক নম্বর। তাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা চিন থেকে বছরে প্রায় ৫২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। ভারত এই তালিকায় ছয় নম্বরে।

এদিকে এই বাণিজ্যে চিনের রপ্তানিকারকদের বিশেষ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না, কারণ চিনা মুদ্রা ডলারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে ভারত তার যাবতীয় উৎপাদন ব্যবস্থা— ব্যাটারি, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ওষুধ, রাসায়নিক সার, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্প— সব ক্ষেত্রেই টাকার মূল্যহ্রাস ও ইউয়ানের স্থিতিশীলতার কারণে চিনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

আমদানির পরিমাণের পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্যের বিষয়টিও আমাদের বোঝা দরকার। বিস্ময়ের ব্যাপার হলেও, এটা সত্যি যে ভারত প্রায় ৭,০০০ ধরনের পণ্য চিন থেকে আমদানি করে। দু-একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যেতে পারে। টেলিকম, ইলেকট্রনিকস এবং ফার্মাসিউটিক্যালস (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস বা এপিআই) নিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক।

২০১৫ সালে মোদি সরকার ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি চালু করে, যার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল: “a flagship programme of the Government of India with a vision to transform India into a digitally empowered society and knowledge economy.” কিন্তু বাস্তব হল, এই খাতে ভারত বিপুলভাবে চিনের উপর নির্ভরশীল। যেমন, ২০১৯-২০ সালে ভারতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের প্রায় ৮৩ শতাংশই চিন থেকে আমদানি হয়েছিল। আরও উদ্বেগজনক হল, প্রায় ৯০ শতাংশ রঙিন টিভিও চিনের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট থেকে এসেছে।

ওষুধশিল্পে ভারতকে ‘ফার্মেসি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বলা হয়। উৎপাদন ও রপ্তানিতে ভারত এক উজ্জ্বল নাম। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই শিল্প কার্যত অচল হয়ে পড়বে যদি চিন থেকে এপিআই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রচলিত কথায় বলা হয়, চিনের এপিআই ছাড়া আমরা একটি সাধারণ প্যারাসিটামলও তৈরি করতে পারি না।

এমনকি ভারতের উদীয়মান মোটরসাইকেল শিল্পেও ২০১৮-১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, হুইল রিম-সহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সোলার প্যানেলের প্রায় ৯০ শতাংশ চিন থেকে আমদানি করা হয়।

ভারত ঠেকে শিখে বাধ্য হচ্ছে চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করতে— সরাসরি ফ্লাইট চালু, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরারম্ভ, সাংবাদিক ও গবেষকদের ভিসা প্রদান, এবং সর্বশেষ এই প্রেস নোট সংশোধন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, চিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার স্বপ্ন দেখার আগে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন দেশবাসীর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাড়ানো, এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মতো বুনিয়াদি ক্ষেত্রগুলিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা।

তথাকথিত উগ্র জাতীয়তাবাদী হুঙ্কার নয়— ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। ট্রাম্পের আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা আমাদের চিনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। কিন্তু অতিরিক্ত চিন-নির্ভরতা শেষপর্যন্ত আমাদের আরও গভীর সংকটে ফেলতে পারে।

 

তথ্যসূত্র:

 

[ক্রমশ]

 


[1] Change in FDI Policy – Prior Government approval required for FDI from countries with which India shares land border. PWC.
[2] In pics | Chinese money in Indian start-ups, unicorns. Moneycontrol. Jun 18, 2020.
[3] India bans 59 Chinese apps including TikTok, WeChat, Helo. ET. Jul 29, 2020.
[4] Cabinet approves changes in guidelines on investments from countries sharing land border with India. PMIndia. Mar 10, 2026.
[5] India’s trade deficit with China may reach $106 billion in 2025: GTRI. Business Standard. Dec 19, 2025.
[6] Sachdev, Alisha. Reliance halts cell-making plans after failed bid for China tech. ET. Jan 12, 2026.
[7] Das, Puja. India’s battery PLI scheme hit just 2.8% of target in 4 years. Down to Earth. Jan 22, 2026.
[8] Oriel, Astha. Economic Survey 2024-25 raises concerns over India’s EV imports from China. Business Today. Jan 31, 2025.
[9] Pathak, Sriparna. India–China Trade Paradox: Dependency and Geopolitical Rivalry. India Foundation. Jul 1, 2025.

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5337 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...