গুয়াদালুপে গঞ্জালেজ ও হুয়ান গ্যাব্রিয়েল তোকাতলিয়ান
আগ্রাসী ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে এই অঞ্চলে “ফিরে আসছে”, যখন সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচক, সহিংসতা ও বিচারহীনতার পরিসংখ্যান একত্রে বিচার করলে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এক ধরনের নতুন “লস্ট ডিকেড”-এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মনরো ডকট্রিনে ঘোষিত ট্রাম্প করোলারি একই সঙ্গে একটি অচল যুগের ধারণা এবং হুমকিস্বরূপ। এই নীতির ভিত্তিতে দাঁড়ালে আন্তঃআমেরিকান সহযোগিতা কার্যত অবাস্তব কল্পনা হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে সরে যাওয়া এক যুক্তরাষ্ট্র শুধু তথাকথিত “গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা” হিসেবে তার ভূমিকা হারায় না; বরং এটি অঞ্চলে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিস্তারকেও উৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে, একটি বিভক্ত ও অসংগঠিত লাতিন আমেরিকা নিজেই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করে এবং অন্তত আংশিকভাবে হলেও ঐক্যবদ্ধ একটি কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেয়
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এই মুহূর্তে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পুনর্বিন্যাসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মনরো ডকট্রিনের মতো তামাদি হয়ে গেছে ভেবে নেওয়া কিছু নীতিমালা ও আচরণও ফের হালনাগাদ রূপ নিয়ে বেঁচে উঠেছে।[1] এই সময়টা খুবই ব্যতিক্রমী, অস্থির এবং অনিশ্চিত; যেখানে মার্কিন নেতৃত্বের ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য এখন এক হুমকির শাসনকে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে। যে শাসন সরলভাবে বলে দিচ্ছে— “এটাই আমাদের গোলার্ধ,” এবং বাইরের শক্তির প্রভাব কমানো এবং উল্টে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরও খোলাখুলিভাবেই নিজেদের প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ব্যবস্থাপনাই “MAGA” (Make America Great Again) আন্দোলনের এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলাতে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে: “এটা আমাদের গোলার্ধ। এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে পড়তে দেবেন না।” এই সরল এবং স্পষ্ট বার্তাটি লাতিন আমেরিকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে এবং বিশেষভাবে বুঝিয়ে দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এখন এই অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলির— বিশেষত চিনের— প্রভাব হ্রাস করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
এই পরিবর্তন আমাদের মহাদেশীয় সম্পর্কগুলি সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আমরা বুঝতে পারছি যে এই সম্পর্ককে এখন আর শুধুই কর্তৃত্ব (হেজিমনি) দিয়ে নয়, বরং আধিপত্য কায়েম করা (ডমিনেশন)-র প্রশ্নে ভাবতে হবে; এবং এই নতুন স্তরে ক্ষমতার এক সরাসরি, জবরদস্তি এবং শ্রেণিবদ্ধ অনুশীলন দেখা যাবে, যেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির প্রচলিত উপকরণগুলি একবিংশ শতকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটালাইজেশন এবং বিদেশনীতির আরও কার্যকর উপকরণে পরিণত হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হেজিমনি ধারণাটি দিয়ে কোনও রাষ্ট্র নিজের শ্রেষ্ঠত্ব এবং আধিপত্য কায়েম রাখার জন্য ক্ষমতার বিভিন্ন উপকরণগুলিকে কত সুনিপুণভাবে প্রয়োগ করতে পারে, সেটাকেই বোঝানো হয়। এই উপকরণগুলি প্রযুক্ত হয় প্রধানত মৌখিক চাপসৃষ্টির মাধ্যমে এবং কখনও কখনও বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও। সক্ষম নেতৃত্ব তাদেরই বলে যারা নিয়মিত হুমকি বা শক্তি ব্যবহার না করে রাষ্ট্রশক্তি এবং তার অভিজাত শাসকবর্গের দক্ষতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে এবং সম্মতি আদায় করে নিতে পারে। এর বিপরীতে, যখন, কোনও রাষ্ট্র বা নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে হুমকি এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আনুগত্য নিশ্চিত করতে চায়, তখন তা নেতৃত্বের ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, বরং আধিপত্য বিস্তার করার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। হেজিমন নেতৃত্ব দিতে চায়; ডমিনেটর আধিপত্য স্থাপন করতে চায়। যেখানে হেজিমন মূলত সফট পাওয়ার ব্যবহার করে অন্যকে আকৃষ্ট এবং মেনে চলতে প্রলুব্ধ করে, সেখানে ডমিনেটর নিয়মিত হার্ড পাওয়ার ব্যবহার করে আনুগত্য ও অধীনতা নিশ্চিত করে।

হেজিমনি থেকে ডমিনেশন পর্যন্ত: কৌশল হিসেবে সংহতিনাশ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
আজ লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল এক অবাক-করা নির্লিপ্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের এই আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা প্রত্যক্ষ করছে, যেখানে ঘোষণা, পদক্ষেপ, নিষেধাজ্ঞা এবং বলপ্রয়োগ— সমস্তরকম অস্ত্রই ব্যবহৃত হচ্ছে এই লক্ষ্যে। এটাও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, অতীতের মতো হেজিমনি পুনর্গঠনের ইচ্ছা বা ক্ষমতা— কোনওটাই তাদের নেই। এই অঞ্চলের প্রতি মার্কিন বিদেশনীতি ঠান্ডা যুদ্ধের পরবর্তী যুগের উদারতা এবং উদাসীনতা থেকে সরে এসেছে। এখন তারা সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রস্তুত, যার ভিত্তি গানবোট ডিপ্লোম্যাসি এবং কমিউনিজম-বিরোধিতা। ফলে, সম্পর্কটি একদিকে যেমন বিভাজনমূলক, অন্যদিকে এক ধরনের দেজা ভু-জাতীয় অনুভূতিও জাগাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, যেমন আমরা এপ্রিল ২০২৫-এ সতর্ক করেছিলাম, অঞ্চলটি একটি পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে একটি গোলার্ধে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাধান্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং সীমাবদ্ধতা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যার জন্য খুব বেশি ঝুঁকিও নিতে হচ্ছে না, বা অতিরিক্ত মূল্যও চোকাতে হচ্ছে না।
আমরা নিঃসন্দেহে প্রত্যক্ষ করছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার একটি হস্তক্ষেপমূলক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ পর্যায়ের সূচনা করছে। এরকমটা অতীতে দেখা গেলেও এবারে বেশ কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। এবারে তাদের লক্ষ্য মার্কিন প্রভাবাধীন অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা। তবে এটিও লক্ষ্যণীয়, ওয়াশিংটন এখন বোঝে যে সে ঠান্ডা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যেভাবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিজেদের মর্জিমতো গঠন করতে চেষ্টা করেছিল এখন আর সেটা পারবে না। একমেরু বিষয়টা এখন অতীতের বস্তু হয়ে গেছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন লাতিন আমেরিকায় তার প্রবাদপ্রতিম প্রভাবক্ষেত্র পুনরায় নিশ্চিত করার জন্য চারটি পরস্পর আন্তঃসংযুক্ত উদ্দেশ্য হাতে নিয়েছে:
প্রথমত, একটি অঞ্চল, যেখানে কয়েক দশক আগে তার হেজিমনি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, সেখানে কৌশলগত উদ্যোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুবিধাজনক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা।
দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের পশ্চাদভূমি হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে তাদের আনুগত্য স্বীকারে কোনওরকম দ্বিধার চিহ্ন না রাখা।
তৃতীয়ত, শক্তি প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলি, যেমন— সামরিক উপস্থিতি, মারাত্মক হামলা, একপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা, ব্যাপক নির্বাসন, গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রম, এবং ইচ্ছামত শুল্ক— সুনিশ্চিত করতে হার্ড পাওয়ার সম্পদ সক্রিয় করে ব্যবহার করা। এর ফলে এই অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে এবং কৌশলগত সম্পদ, খাত ও অবকাঠামোতে দখলিস্বত্ব কায়েম করতে তাদের অগ্রাধিকার দেবে।
চতুর্থত, একটি ব্যাপক এবং শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণ করা, যা এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সাফল্য দেখিয়ে ঘোষণা করবে যে, বর্তমানে নিজেদের ক্ষয়প্রাপ্ত এবং চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া প্রাধান্য বজায় রাখতে বা অন্তত তা প্রদর্শন করতে তারা যা খুশি করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের কর্মকাণ্ড এই হেজিমনি থেকে আধিপত্যের দিকে সরণের তিনটি দিক প্রতিফলিত করে:
এক. লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভূতপূর্ব এবং ধারাবাহিক সক্রিয়তা।
দুই. অঞ্চলটির সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় গুরুত্ব, যা ১৯৮০-র দশকের পর এত দৃশ্যমান হয়নি— যা সময়ে সময়ে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠছে।
তিন. জবরদস্তি বা স্বেচ্ছামূলক— যেভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বিন্যাস কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এই কৌশলগুলি সবসময়ই কঠোরভাবে দ্বিপাক্ষিক চ্যানেলের মাধ্যমে শাস্তি এবং পুরস্কারের একটি ব্যবস্থা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি নির্ভুলভাবে এই নতুন নির্দেশিকার একটি সারসংক্ষেপ। তাতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার লক্ষ্য— আঞ্চলিক অগ্রাধিকারগুলিকে পুনর্বিন্যস্ত করা; এমন একটি সার্বভৌমতা-সংক্রান্ত অ্যাজেন্ডা তৈরি করা যা প্রধানত চিন এবং পরোক্ষভাবে রাশিয়ার প্রভাব সীমিত করবে; অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা; মাদকপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই চালানো; জ্বালানিখাতে প্রাধান্য দেওয়া; স্বনির্ভরতা এবং পুনঃশিল্পায়নে জোর দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চিন্তাধারার এই পরিবর্তনের ফলে সামরিক ও প্রতিরক্ষা, উভয় ক্ষেত্রেই গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও দপ্তরীয় সংস্কার করা হয়েছে। যেমন, ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার কমান্ড (West-Hemcom) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, কূটনৈতিক সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID)-এর বিলোপ ঘটানো হয়েছে, এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট-কে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একপক্ষীয় সামরিক অভিযান এই নতুন আধিপত্যের কৌশলের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে আসার জন্য। এই ঘটনা একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে রাজনৈতিক এবং নৈতিক প্রভাব সুগভীর। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন, প্রক্রিয়ার যথাযথতা, বিচারব্যবস্থার এক্তিয়ার-বহির্ভূত প্রয়োগ, গণতন্ত্রের সুরক্ষা, শক্তিপ্রয়োগের বৈধতা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিচিতি— এই সমস্ত কিছুর উপরেই এক চূড়ান্ত আঘাত হেনেছে এই অভিযান। এর সঙ্গেই, ওয়াশিংটন একটি অভূতপূর্ব “পরীক্ষা” চালু করেছে। যাতে শাসন পরিবর্তন না করেই প্রেসিডেন্টকে সরাসরি আটক করা হবে, তেলসম্পদ এককভাবে দখল করা হবে, সম্ভাব্য নতুন হামলার হুমকি দেওয়া হবে এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কিছু দেশের সঙ্গে সাময়িক সহাবস্থান করা হবে যেখানে গণতন্ত্রের কোনও মূল্য নেই। এটি এমন এক গার্ডিয়ানশিপ মডেল, যা অন্তত ধারণাগতভাবে আক্রান্ত নব্য প্রটেক্টরেট এবং স্বীকৃত প্রটেক্টরেটের মধ্যে দোলায়মান অবস্থাতেই ভেনেজুয়েলায় প্রযুক্ত হল।
এই অনন্য, ভঙ্গুর এবং অবিবেচক “পরীক্ষা” কীভাবে বিকশিত হবে, সেটাই এখন দেখার।
এই পরিস্থিতিতে একটি আয়রনি আছে, যা অগ্রাহ্য করা কঠিন। যখন লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল কয়েক দশক ধরে তাদের আন্তর্জাতিক অপ্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ এবং নিরীক্ষণের মুখোমুখি হচ্ছিল— যেখানে তারা আন্তর্জাতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতি এবং কৌশলগত অপ্রাসঙ্গিকতাকে বিভ্রান্তভাবে মিলিয়ে ফেলেছিল— ঠিক তখনই ওয়াশিংটন আবারও এই অঞ্চলকে প্রাধান্য দিয়ে দেখতে শুরু করল। তবে তা মোটেই এই অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী নয়, বরং বর্তমান মার্কিন স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে।
এই পুনর্মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে অসাম্যপূর্ণ এবং অসম্মানজনক। এখানে অঞ্চলটি নিজেই “মানচিত্রে ফিরে আসছে” এমন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র তার অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যস্ত করছে এবং নিরাপত্তা, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, এবং আধিপত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরায় পর্যবেক্ষণ করছে। এবং আবারও, যেমন ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ছিল, সেরকম “আমাদের সঙ্গে, নাকি আমাদের বিরুদ্ধে”— এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি এ-বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তাতে বলা হচ্ছে: “দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি এমন একটি বিশ্বে বসবাস করতে চায় যা মার্কিন নেতৃত্ব মেনে চলে (…) বা এমন একটি সমান্তরাল বিশ্বে যেতে চায় যেখানে তারা গ্লোবের অন্যদিকে অবস্থিত দেশের প্রভাবের অধীনে থাকবে।”
এই ‘অন্যদিকে অবস্থিত দেশ’ আগে স্পষ্টভাবে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন; এখন তা মৌনভাবে চিন।
ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সংঘর্ষের সময় লাতিন আমেরিকা যে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে তা অপরিসীম। এখন— তাদের জন্য এমন একটি জটিল এবং বিশ্বের এমন এক বিপজ্জনক সময়ে— তাদের কোনও দ্বিতীয় ঠান্ডা যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। এই সীমাবদ্ধ এবং অনিশ্চিত প্রেক্ষাপটে, মহাদেশটি এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যে হয় ট্রাম্পের দাবি মানতে হবে বা প্রেসিডেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধের মুখোমুখি হতে হবে— তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির জন্য গভীর অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ডেকে আনতে পারে।
তবে, বর্তমান মার্কিন নেতৃত্বের জবরদস্তি বা অভিভাবকত্বের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিটির মধ্যেই হিসাবের অসঙ্গতি, বিরোধ এবং সীমাবদ্ধতার মতো কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যা রয়েছে। একদিকে, অতিমাত্রায় হুমকি এবং শক্তির পুনরাবৃত্ত ব্যবহার ঐতিহাসিক অংশীদার ও মিত্রদেরকে— যেমন কলম্বিয়া ও মেক্সিকো— দূরে ঠেলে দিতে পারে। আবার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং ক্ষমতার শূন্যস্থান সৃষ্টি করতে পারে, যা অভিবাসন এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপ স্থিতিশীল দালাল সরকার বা নির্ভরযোগ্য মিত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, বাণিজ্যিক চাপ এবং বিনিয়োগ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বাণিজ্য-সুবিধার বাস্তব অনুপস্থিতি এই অঞ্চলের দেশগুলিকে অঞ্চলের বাইরে অংশীদার খোঁজার দিকে প্ররোচিত করছে, তা ইউরোপে হোক বা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিতে। সম্প্রতি ইউরোপে দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত সাদার্ন কমন মার্কেট (Mercosur)-এর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ খুলে দিয়েছে, যার ফলে মিত্রতায় বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং ট্রাম্পের একপক্ষীয় প্রাধান্য বজায় রাখার কৌশল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, অধীন পক্ষগুলি, যারা আধিপত্যের যুক্তি দ্বারা চালিত হচ্ছে, তারা সক্রিয়ভাবে এমন স্থান ও সঙ্গী খুঁজে বের করে যা এই অসমতার মধ্যেই তাদের স্বার্থরক্ষা ও উন্নয়নের সর্বাধিক সুযোগ দেয়। এটি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সম্ভব— যেমন অনুগমন, তোষামোদ, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা, শর্তসাপেক্ষ সহযোগিতা, সমদূরত্ব, বা প্রতিরোধ— যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল নিজেদের পরিচালনাধীন ক্ষেত্রকে রক্ষা করা এবং প্রসারিত করা।
তবে মনে রাখা দরকার, এই ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না; এর জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নেতৃত্ব প্রয়োজন, বিশেষত সমষ্টিগত আঞ্চলিক পদক্ষেপ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে।
বর্তমানে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এরকম ঘটা কঠিন— অন্তত স্বল্পমেয়াদে— শুধু এই কারণে নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে সমমনা ডানপন্থী দলগুলির উত্থানকে উৎসাহিত করছে, বরং এই কারণেও যে বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সংলাপের অভাব এবং ব্যক্তিনির্ভর কূটনীতির সঞ্চিত প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প যে আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন
লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল বর্তমানে এমন এক বিচ্ছিন্নতা, দ্বিধা এবং সমন্বয়হীনতার মধ্যে রয়েছে যে তার একটি স্বতন্ত্র কার্যক্ষম ভূ-রাজনৈতিক মর্যাদা আজ উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে কোনও সাধারণ বা সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে উঠছে না। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হল: লাতিন আমেরিকার সরকারগুলির মূল প্রবণতা কী, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবস্থান কীরকম? তদের কি এই আধিপত্যের যুক্তির অর্থ, পরিধি এবং শর্তগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য কোনও পরিসর বা সুযোগ রয়েছে?
অঞ্চলটির এই সামগ্রিক অসহায় অবস্থাকে ব্যাখ্যা করার জন্য কয়েকটি ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব। এবং সেক্ষেত্রে আমাদের মতে, আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি যেখানে এমন বহু উপাদানকে বিশ্লেষণ করা জরুরি যেগুলি এই আন্তঃআঞ্চলিক বিভাজনকে তীব্র করে তোলে। আমরা এখানে অগ্রাধিকার বা প্রধান কারণগুলির কোনও ক্রম নির্ধারণ করতে চাই না; তবে আমরা মনে করি নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিশেষভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারগুলির আদর্শগত অবস্থান— যা একেবারে চরম ডানপন্থী থেকে তথাকথিত প্রগতিশীল পর্যন্ত বিস্তৃত— তা দিয়েই আমাদের বিভাজন ও মতবিরোধের কথা ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথম গোষ্ঠীতে আজ আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর এবং ইকুয়েডরের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত, আর দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে রয়েছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং মেক্সিকো। এখানে উল্লেখযোগ্য যে শতাব্দীর শুরুতে তথাকথিত “পিঙ্ক টাইড”-এর— যা সাধারণভাবে বেশ সংযত বা মধ্যপন্থী ছিল— পরবর্তী সময়ে ডানপন্থী আন্দোলনের একটি বৈচিত্র্যময় ঢেউ দেখা দেয়; যার মধ্যে কিছু স্পষ্টতই রক্ষণশীল এবং কিছু, তুলনামূলকভাবে কম হলেও, আরও বেশি উগ্রপন্থী হয়ে ওঠে। বর্তমানে চরম ডানপন্থী মনোভাবের একটি নতুন ঢেউ এগিয়ে চলেছে, যাকে মোটেও অস্থায়ী বলে মনে হচ্ছে না।
নিঃসন্দেহে আদর্শগত পার্থক্যগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে, তবে এগুলোই এই দৃশ্যমান অনৈক্যের একমাত্র কারণ নয়। ১৯৮০-র দশকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময় এবং একবিংশ শতকের শুরুর দিকে পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যের উত্থানের সময়েও নানা রাজনৈতিক-দলীয় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে উল্লেখ করা যায়—
- Contadora Group (এবং এর সমর্থন গোষ্ঠী) গঠন, যার লক্ষ্য ছিল মধ্য আমেরিকার একাধিক সংকটের জন্য একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধান খোঁজা;
- Helms-Burton Act-এর বিরুদ্ধে ঐকমত্য, যে আইন কিউবার উপর আরোপিত অবরোধকে আরও কঠোর করেছিল এবং যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সরকারগুলির অনুরোধে ইন্টার-আমেরিকান জুডিশিয়াল কমিটি এই আইনের বহির্দেশীয় প্রয়োগের অবৈধতা সম্পর্কে মতামত দেয়; এবং
- ১৯৫০ সালে নিষ্ক্রিয় করা মার্কিন চতুর্থ নৌবহর পুনরায় সক্রিয় করার মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় Union of South American Nations (UNASUR)-এর কাঠামোর মধ্যে সাউথ আমেরিকান ডিফেন্স কাউন্সিল গঠন।
এছাড়াও একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে, যাকে আমরা বলি “প্রাতিষ্ঠানিক ডারউইনিজম”— যা একটি অঞ্চলের ধীরে ধীরে ফাঁপা হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বিদ্যমান সংস্থাগুলো অচল হয়ে পড়ে, তাদের আহ্বান করা হয় না, অথবা মনে হয় বিকল্প কোনও নতুন কাঠামো তৈরি না করেই সেগুলি অদৃশ্য হয়ে গেছে।
ঐতিহ্যগতভাবেই লাতিন আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল। কিন্তু এখন আমরা এমন এক নতুন পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যেখানে স্বল্পপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক স্তরে এবং নিজস্ব কণ্ঠে অঞ্চলটিকে একত্রিত করার মতো প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। UNASUR ভেঙে পড়েছে; তার আংশিক ও দুর্বল বিকল্প ব্রাসিলিয়া কনসেনশাস পর্যাপ্ত উৎসাহ জাগাতে পারেনি। ডানপন্থী শক্তিগুলো ২০১৯ সালে UNASUR-এর বিকল্প হিসেবে যে Forum for the Progress of South America (Prosur) তৈরি করতে চেয়েছিল, তা বাস্তবে কখনওই একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বাইরে এগোতে পারেনি। Community of Latin American and Caribbean States (CELAC)-ও ধীরে ধীরে তার গুরুত্ব হারিয়েছে— বিশেষত ব্রাজিলের সাময়িক প্রস্থানের পর— এবং দৃঢ়ভাবে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করতেও ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এর প্রধান সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করার কোনও কার্যকর উপায় নেই। প্রায় পনেরো বছর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা Pacific Alliance (AP)— যার সদস্য চিলি, কলম্বিয়া, পেরু এবং মেক্সিকো— আজ আর সক্রিয়তার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। সম্প্রতি Caribbean Community (CARICOM) ক্যারিবীয় অঞ্চলকে শান্তির অঞ্চল হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিল, কিন্তু তা ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সমর্থন পায়নি। অন্যদিকে, বর্তমানে স্থবিরতার পর্যায়ে থাকা Mercosur ২৫ বছরের আলোচনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের মাধ্যমে কিছুটা গতি পেতে পারে।
এখন পর্যন্ত কোনও আঞ্চলিক বা আন্তঃআমেরিকান ফোরামই ক্যারিবীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকাচালকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে বিচারবহির্ভূত হত্যার নীতি প্রয়োগ করছে— যা এক ধরনের ধীরগতির গণহত্যার সামিল— তা নিয়ে আলোচনা করেনি বা এর মোকাবিলায় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
এটিও জোর দিয়ে বলা দরকার যে, অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের মতোই, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি— তা নির্বাচনী হোক, দলীয় হোক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক— ক্রমশই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। কিন্তু আজ দেশীয় রাজনৈতিক যুক্তিই বেশি প্রাধান্য পাওয়ায় কিছু দেশ আন্তর্জাতিক বিষয়ে তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। এর একটি প্রতীকী উদাহরণ হল জেভিয়ার মিলেই-এর আর্জেন্টিনা, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথ অনুসরণ করে নিঃশর্তভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের পক্ষ নিয়েছে। শাসক জোটের পরিবর্তনের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঞ্চলিক অবস্থানে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গেছে— যেমন বাণিজ্য চুক্তি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তানীতির ক্ষেত্রে।
এই ওঠানামার মধ্যে সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংহতির ভাষা ও চর্চা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিছু দেশে এই শব্দগুলো প্রায় ব্যবহারের বাইরে চলে যাচ্ছে, বিশেষ করে যখন জাতীয়তাবাদী মনোভাব বাড়ছে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বদলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এর সঙ্গে আরও একটি বিষয়ও ঘটছে। বেশ কয়েকটি দেশে ধীরে ধীরে পেশাদার কূটনীতির অবক্ষয় ঘটছে এবং তার বদলে গণমাধ্যমনির্ভর রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক কূটনীতির ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তিনির্ভরতা, পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ক্ষমতায় কাটছাঁট, এবং এমন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতাকে খর্ব করে অন্যান্য আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যেমন, উদাহরণস্বরূপ, প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকে পেশাদার কর্মকর্তাদের যে ধীরগতির প্রতিষ্ঠা চলছিল, তা এখন মন্থর হয়ে গেছে বা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো হতেও শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নীতিগত ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করে এমন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে— পররাষ্ট্রমন্ত্রকে ব্যক্তির প্রাধান্য, এবং এর রাজনীতিকরণ। আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অ্যাজেন্ডাগুলিকে আদর্শিক ভিত্তি দেওয়ার রূপে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে— যা আবার সমঝোতা ও ঐক্যের সম্ভাবনার উপর নতুন বাধা তৈরি করছে।
লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এক ধরনের প্রান্তীয় রিয়ালপলিটিক প্রচলিত ছিল। বিভিন্ন ধরনের সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এটি মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েছিল: আন্তর্জাতিক আইনকে রক্ষা, বহুপাক্ষিকতার প্রতি অঙ্গীকার এবং আঞ্চলিকতার বিকাশ। আজ সেই স্তম্ভগুলিতে ফাটল ধরেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও এই অঞ্চলের সম্পর্কজনিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে দেখা গেছে যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলির সমষ্টিগত নীরবতার মধ্যেই নিয়ম, বিধি এবং নীতিমালা পদদলিত হচ্ছে। গণহারে নির্বাসন, ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপ এবং সরাসরি শক্তি প্রয়োগের মতো পদক্ষেপ বিভিন্ন চুক্তি, কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করছে। তবুও অঞ্চলটি সম্মিলিতভাবে বা বড় পরিসরে বিদ্যমান শক্তিশালী আইনি যুক্তিগুলি ব্যবহার করে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপকে অগ্রাহ্য বা অবৈধ ঘোষণা করার চেষ্টা করেনি।
এগুলিই প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক বিভাজন কতটা গভীর এবং সেই ক্ষেত্র— যা ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলি শক্তিশালীদের স্বেচ্ছাচারিতা সীমিত করতে ব্যবহার করত— অর্থাৎ আইনের ক্ষেত্র— তার আশ্রয় নেওয়াও এখন কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতার দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা জরুরি। লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে অন্তত মৌখিকভাবে সহযোগিতাকে খুবই উচ্চ মূল্য দেওয়া হয়। কিন্তু তা সবসময় বাস্তব অর্থে আঞ্চলিক সংহতি গড়ে তুলতে সহায়তা করেনি। এই সংহতির পথে একাধিক কারণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন—
(ক) রাজনৈতিক দ্বিধা, কারণ প্রতিটি সরকার আঞ্চলিক সংহতিকে ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব দিয়েছে;
(খ) ব্যবসায়িক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্ভাবনের সীমিত আগ্রহ বা সক্ষমতা;
(গ) সামাজিক ভঙ্গুরতা, যা এই প্রকল্পগুলিতে নাগরিক অংশগ্রহণের দুর্বলতার ফল;
(ঘ) অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, কারণ বাণিজ্যিক বিনিময় ও মানবিক যোগাযোগের প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তব অবকাঠামো (বন্দর, জ্বালানি উৎস ইত্যাদি) এবং যোগাযোগব্যবস্থা (পরিবহন, সড়ক ইত্যাদি) যথেষ্ট নয়;
(ঙ) বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি পালনের নিম্ন মাত্রা;
(চ) দেশগুলোর কৌশলগত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির মধ্যে পার্থক্য;
(ছ) প্রধান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক দূরত্ব বা উত্তেজনা; এবং
(জ) ছোট দেশগুলোর মধ্যে সীমিত লাভ এবং সংশোধন না হওয়া বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ।
এর পাশাপাশি আরও কিছু প্রবণতা কিছুদিন ধরেই কাজ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে— যেমন অর্থনীতির পুনরায় প্রাথমিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সমস্যাকে মোকাবিলা করার সীমিত সক্ষমতা, আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষতিতে বহিঃআঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রণোদনা, এবং অঞ্চলজুড়ে অবকাঠামো, যোগাযোগ ও সংযোগের সমস্যা।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি যে বড় শক্তিগুলো— বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র এবং সঙ্গে চিনও— এই অঞ্চলের জন্য এক ধরনের অপকেন্দ্র বল হিসেবে কাজ করছে। ফলে একসঙ্গে বা সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রণোদনা খুবই সীমিত। ওয়াশিংটনের বর্তমান আক্রমণাত্মক দ্বিপাক্ষিক নীতি এবং বেইজিংয়ের বাণিজ্যকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রবণতাকে আরও গভীর করছে। এর ফলে অঞ্চলটির দেশগুলির মধ্যে বিকল্প হিসেবে কোনও ব্যক্তিকে খুঁজে নেওয়ার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে— যার শেষ পর্যন্ত যোগফল শূন্য, এবং যার বৈশিষ্ট্য হল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দির দোলাচল।
সংক্ষেপে বলা যায়, নানা উপাদানের সমন্বয়ে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধত আগ্রাসনের মুখে বিভ্রান্ত ও কার্যত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবেই রিপাবলিকান প্রশাসনের এই ধারণা শক্তিশালী হচ্ছে যে তারা তাদের দাবি, চাপ ও অপব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারে।
কিন্তু এই সব ঘটনা যখন অঞ্চলের সরকারগুলোর ক্ষেত্রে ঘটছে, তখন প্রশ্ন হল সমাজের প্রতিক্রিয়া কী?

লাতিন আমেরিকার কল্পজগৎ: হেজিমনি ছাড়া আধিপত্য, আকর্ষণ ছাড়া ক্ষমতা
কোনও দীর্ঘস্থায়ী হেজিমনি কেবল বস্তুগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। আন্তনিও গ্রামশি জোর দিয়ে বলেছেন যে স্থিতিশীল ক্ষমতা শুধু জবরদস্তির মাধ্যমে টিকে থাকে না; বরং শক্তি ও সম্মতির সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সামাজিক ব্যবস্থা নিজেকে বৈধ, স্বাভাবিক এবং কিছুটা আকাঙ্ক্ষিত বলে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান মহাদেশীয় পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের এখনও লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উপর শর্ত আরোপ করার উপায় রয়েছে কিনা, তা নয়; বরং এই সক্ষমতাকে নতুন হেজিমনিতে রূপান্তরিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতীকী পুঁজি তার এখনও আছে কি না।
লাতিন আমেরিকায় আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি— বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা নিয়ে জনমত সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন হেজিমনির যুগ সম্ভবত ইতিমধ্যেই অতীত হয়ে গেছে। এই তথ্যের আলোকে, “আমেরিকা ফার্স্ট” স্লোগান দিয়ে আঞ্চলিক ব্যবস্থাকে অসমভাবে ও জবরদস্তিমূলক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামোগত ক্ষমতা এবং লাতিন আমেরিকার সমাজে তার প্রতীকী বৈধতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ও দৃশ্যমান ব্যবধানকে প্রকাশ করে। এই টানাপোড়েন আমাদের মনে করিয়ে দেয় গ্রামশির হেজিমনি ধারণা, জোসেফ এস নাই-এর সফট পাওয়ার তত্ত্ব, এবং পিয়ের বোর্দো-র প্রতীকী ক্ষমতা ও সামাজিক ক্ষেত্র নিয়ে বিশ্লেষণের কথা। নাই এবং বোর্দোর বিশ্লেষণ বিশেষভাবে প্রতীকী ক্ষমতা এবং সামাজিক ক্ষেত্রের সম্পর্ক নিয়ে।
তাহলে সমীক্ষার আলোকে হেজিমনিকে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়? এর উত্তর খোঁজা যায় কয়েকটি সূচকের বিশ্লেষণের মাধ্যমে—
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি লাতিন আমেরিকানদের অনুভূতি;
- বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব সম্পর্কে তাঁদের মনোভাব; এবং
- মার্কিন প্রভাব ও নেতৃত্বের বস্তুগত ও নৈতিক ভিত্তি সম্পর্কে তাঁদের ধারণা।
২০২৫ সালে নুয়েভা সোশিয়াদাদ এবং ফ্রেডরিক অ্যালবার্ট ফাউন্ডেশন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং লাতিনোবারোমেট্রো পরিচালিত সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে লাতিন আমেরিকার সমাজে ধারণা মূলত এমন এক নেতিবাচক আবেগের সমষ্টি দ্বারা চিহ্নিত, যা স্পষ্টভাবে ইতিবাচক অনুভূতিগুলির তুলনায় বেশি। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, অবিশ্বাস (৩০ শতাংশ), ভয় (৮ শতাংশ) এবং অবজ্ঞা (৮ শতাংশ)— এই অনুভূতিগুলি আশা (১৯ শতাংশ), নিরাপত্তাবোধ (১২ শতাংশ) এবং প্রশংসা (১০ শতাংশ)-র চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। গ্রামশির দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভারসাম্যহীনতা সম্মতির আংশিক অভাবের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু তা করতে গিয়ে ক্রমশ বেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবরোধের মুখে পড়বে— যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তার পররাষ্ট্রনীতি ও প্রভাবের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

নোট: “নিচের কোন শব্দগুলি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আপনার অনুভূতি সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?”— প্রশ্নের উত্তরের নেট ব্যলেন্স = ইতিবাচক অনুভূতির শতাংশ – নেতিবাচক অনুভূতির শতাংশ। সংখ্যাগুলিকে রাউন্ডিং করার জন্য নেট ব্যালেন্সে ±১ শতাংশের ত্রুটি আসতে পারে। একই কারণে বারগুলির সমষ্টি ১০০ শতাংশ নাও হতে পারে। সূত্র: FES, Nueva Sociedad, Grupo Diálogo y Paz, and Latinobarómetro: “Survey on relations between Latin America and Europe”, 2025.
হেজিমনির গ্রহণযোগ্যতার এই ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয় (চিত্র ২)। লাতিন আমেরিকানদের মধ্যে যেসব বিশ্বনেতার প্রতি সবচেয়ে কম আস্থা রয়েছে, তাঁদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ট্রাম্প— ২৫ শতাংশ অবিশ্বাসের হার নিয়ে। এটি ভ্লাদিমির পুতিন (১২ শতাংশ), নিকোলাস মাদুরো (৫ শতাংশ), বা শি জিনপিং (৫ শতাংশ)-এর প্রতি যে অবিশ্বাস রয়েছে তার তুলনায় অনেক বেশি।
এই তথ্যটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ: এমনকি কর্তৃত্ববাদী নেতারাও লাতিন আমেরিকান জনমতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় কম প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছেন।
প্রতীকী দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নয়; বরং তার নৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্তৃত্বের ক্ষয়। এর ফলে লাতিন আমেরিকানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে এবং একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আর সেই মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না, যেগুলো একসময় সে নিজেই প্রচার করত। ঠিক এই জায়গাতেই নাই-এর “সফট পাওয়ার” ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকা-ক্যারিবীয় অঞ্চলের বর্তমান সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণাত্মক হাতিয়ার হয়ে ওঠে। নাই-এর মতে, ক্ষমতা শুধু বলপ্রয়োগের সক্ষমতাই নয়; বরং এতে আকর্ষণ সৃষ্টি করা, প্রভাবিত করা এবং অন্যদের পছন্দ-অভিরুচি গঠন করার সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সমীক্ষার তথ্যগুলি দেখায় যে এই অঞ্চলে মার্কিন সফট পাওয়ার প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভয় ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে, শর্ত ও আচরণ চাপিয়ে দিতে পারে— কিন্তু নেতৃত্ব দিতে, অন্যদের পছন্দ গঠন করতে বা স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন অর্জন করতে পারছে না। অর্থাৎ, সে আকর্ষণ ছাড়াই ক্ষমতা প্রয়োগ করছে; বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়াই আধিপত্য কায়েম করছে।

নোট: “কোন বিশ্বনেতাকে আপনি সবচেয়ে কম বিশ্বাস করেন” প্রশ্নের উত্তর। সূত্র: FES, Nueva Sociedad, Grupo Diálogo y Paz, and Latinobarómetro: “Survey on relations between Latin America and Europe”, 2025.
ট্রাম্পের নীতির বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে লাতিন আমেরিকানদের ধারণাও এই বিশ্লেষণকে নিশ্চিত করে (চিত্র ৩)। সমীক্ষায় দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতিগুলো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আর মাত্র ২৭ শতাংশ ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা করেন। এই নেতিবাচক নেট ব্যালেন্স (−২৮ শতাংশ পয়েন্ট) কেবল নিছক সমালোচনামূলক মূল্যায়ন নয়; এটি এমন এক সূচক যা দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্র আর নিজেকে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বা একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে না।

নোট: “আপনার জানা ও শোনার ভিত্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পলিসিগুলি বিশ্বে কীরকম প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন?” প্রশ্নের উত্তর। নেট ইমপ্যাক্ট = খুব ইতিবাচক এবং ইতিবাচক ইমপ্যাক্টের শতাংশ – খুব নেতিবাচক এবং নেতিবাচক ইমপ্যাক্টের শতাংশ। সূত্র: FES, Nueva Sociedad, Grupo Diálogo y Paz, and Latinobarómetro: “Survey on relations between Latin America and Europe”, 2025.
জাতীয় পার্থক্যগুলো এই ব্যাখ্যাকে আরও শক্তিশালী করে। যেসব দেশ মার্কিন নীতির ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— যেমন মেক্সিকো (−৬৫ শতাংশ), গুয়াতেমালা (−৪৯ শতাংশ), কোস্টারিকা (−৪০ শতাংশ), এবং কলম্বিয়া (−৩৫ শতাংশ)— সে-সব দেশে MAGA পররাষ্ট্রনীতির প্রতি প্রত্যাখ্যান বিশেষভাবে তীব্র। এই দেশগুলি শুধু যে ট্রাম্পের নীতির অধিকতর প্রত্যক্ষ প্রভাব ভোগ করছে তা-ই নয়; তারা আন্তঃআমেরিকান সম্পর্কের কাঠামোগত অসমতাও সবচেয়ে স্পষ্টভাবে অনুভব করে। ফলে তাদের বিরূপ মনোভাব দূরত্ব থেকে নয়, বরং জোরপূর্বক নৈকট্য থেকে।
এর বিপরীতে, আর্জেন্টিনা (−১৩ শতাংশ), বলিভিয়া (−১৪ শতাংশ), এবং চিলি (−১৪ শতাংশ)-র মতো দেশগুলিতে নেতিবাচক মনোভাব তুলনামূলকভাবে কম। এটি ইঙ্গিত করে যে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দৈনন্দিন প্রত্যক্ষ চাপ বা জবরদস্তির দ্বারা ততটা প্রভাবিত নয়। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে সামান্য ইতিবাচক ভারসাম্য (+১.৫ শতাংশ) এই যুক্তির বিরোধিতা করে না। বরং এটি দেখায় যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত কখনও কখনও বাইরের শক্তির প্রতি মানুষের ধারণাকে বদলে দিতে পারে, এমনকি যখন সেই বহিঃশক্তি কঠোর চাপ প্রয়োগ করেও থাকে।
একই সমীক্ষার অন্যান্য ফলাফলও দেখায় যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে MAGA প্রকল্পের অধীনে জবরদস্তি ও চাপের ভিত্তিতে ক্ষমতা প্রয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অনুকূল মতামত গড়ে ১৭ শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে (চিত্র ৪)। এই পতন সামান্য নয়; বরং বিশেষভাবে বেশি দেখা গেছে সেই দেশগুলিতে যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং যারা ট্রাম্পের নীতির দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে— যেমন কলম্বিয়া (-২৯), কোস্টারিকা (-২৫), গুয়াতেমালা (-২৫), এবং মেক্সিকো (-২৪)। এই অবনতি দক্ষিণ আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলিতেও দেখা যায়— যেমন চিলি (-১৪), ব্রাজিল (-১১), এবং উরুগুয়ে (-২৫)-তে— যা প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা পুরো অঞ্চলজুড়েই ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

নোট: “কোন দেশের বিষয়ে আপনার মতামত সবচেয়ে ভালো?” প্রশ্নের উত্তর। ভ্যারিয়েশন ২০২১-২০২৫ (Δ) = ২০২৫ এবং ২০২১-এর পারসেন্টেজ পয়েন্টের পার্থক্য। ভ্যারিয়েশনে রাউন্ডিং করার জন্য নেট ব্যালেন্সে ±১ শতাংশের ত্রুটি আসতে পারে। সূত্র: FES, Nueva Sociedad, Grupo Diálogo y Paz, and Latinobarómetro: “Survey on relations between Latin America and Europe”, ২০২৫-এর; আর ২০২১-এর সূত্র: FES, Nueva Sociedad, Latinobarómetro: “Latin America-European Union: perspectives, agendas, and expectations”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হেজিমনি কিন্তু শুধু আবেগ বা মূল্যায়নের স্তরেই ধসছে না। লাতিন আমেরিকার সমাজগুলি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায়— বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে— নিজেদের দেশের অবস্থানকে কীভাবে উপলব্ধি করে সেটা দেখলে বিষয়টা যে আরও বিস্তৃত তা বোঝা যায় (চিত্র ৫)।
সমীক্ষায় যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল যে এই দ্বন্দ্বে তাদের দেশকে কোনও এক পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে কি না, তখন আঞ্চলিক স্তরে প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা (৪৯ শতাংশ) এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত বা দৃঢ়ভাবে একমত হন। এটি বহিরাগত চাপের ব্যাপক অনুভূতি এবং স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণের সীমিত সুযোগের ধারণার প্রকাশ। অন্যদিকে ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ইঙ্গিত করে যে অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও স্বায়ত্তশাসনের কিছু পরিসর এবং জোটনিরপেক্ষতা বা সমদূরত্বের কৌশল বজায় রাখার সম্ভাবনা দেখতে পায়।

নোট: “চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতায় আপনার দেশকে পক্ষ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে”— বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া। নেট এগ্রিমেন্ট = “দৃঢ়ভাবে একমত” এবং “কোনওভাবে একমত” প্রতিক্রিয়ার শতাংশ – “দৃঢ়ভাবে দ্বিমত” এবং “কোনওভাবে দ্বিমত” প্রতিক্রিয়ার শতাংশ। সংখ্যাগুলিকে রাউন্ডিং করার জন্য নেট এগ্রিমেন্টে ±১ শতাংশের ত্রুটি আসতে পারে। একই কারণে বারগুলির সমষ্টি ১০০ শতাংশ নাও হতে পারে। সূত্র: FES, Nueva Sociedad, Grupo Diálogo y Paz, and Latinobarómetro: “Survey on relations between Latin America and Europe”, 2025.
প্রাধান্যকারী অনুভূতিটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার নয়, বরং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার। এখানে পিয়ের বোর্দোর ধারণাটি মনে করা প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, প্রতীকী ক্ষমতা তখনই কার্যকর হয় যখন বস্তুগত কাঠামোগুলি মানুষের চেতনার মধ্যে ঢুকে “কী সম্ভব আর কী সম্ভব নয়”-এর বিষয়ীগত সীমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ, “কোনও এক পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হওয়ার” যে ধারণা, তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অধস্তন অবস্থানের অভ্যন্তরীণীকরণ। দেশগুলো বাইরের চাপের শুধু মুখোমুখিই হয় না; তারা এই চাপকেই নিজেদের প্রত্যাশার দিগন্ত হিসেবে গ্রহণ করে ফেলে।
এই ধরনের ভূরাজনৈতিক জবরদস্তির অনুভূতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গুয়াতেমালা, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং মেক্সিকোতে— যেখানে অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কৌশলগত নির্ভরতা বা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাজেন্ডায় কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকার কারণে নীতিগত স্বাধীনতার পরিসর কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা সুযোগ হিসেবে নয়, বরং আরোপিত বাস্তবতা হিসেবে অনুভূত হয়। অন্যদিকে কোস্টারিকা (১৯ শতাংশ), কলম্বিয়া (১৩ শতাংশ) এবং আর্জেন্টিনায় (১২ শতাংশ) “পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হওয়া”-র ধারণা অনেক কম; আর চিলি ও উরুগুয়েতে (১ শতাংশ) তা প্রায় নেই বললেই চলে। এই দেশগুলিতে বাস্তব ক্ষমতার কাঠামো ও আত্মনির্ভরতার অনুভূতির মধ্যে দূরত্ব বেশি, ফলে তারা প্রতীকীভাবে কাঠামোগত চাপকে কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।
ব্রাজিলের ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এটিই একমাত্র দেশ যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, কিন্তু বড় একটি অংশ (৪০ শতাংশ) মনে করেন না যে তাঁদের দেশকে কোনও পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যেখানে সামান্য বেশি মানুষ বিপরীত মত পোষণ করেন। এই পার্থক্যটি সামান্য হলেও তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্রাজিলের শুধু বস্তুগত সক্ষমতাই নয়, বরং যাকে বোর্দো “আন্তর্জাতিক প্রতীকী পুঁজি” বলতেন— অর্থাৎ এই ধারণা যে, দেশটি বৈশ্বিক অঙ্গনে তুলনামূলকভাবে স্বায়ত্তশাসিত সত্তা হিসেবে কাজ করতে পারে— তা ভেতরে ও বাইরে এখনও বজায় রয়েছে।
এই সমস্ত তথ্য একত্রে বিবেচনা করলে আমাদের মূল যুক্তিটিকে আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়: ট্রাম্পের সময়ে সমসাময়িক আন্তঃ-আমেরিকান ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার যে চেষ্টা চলছে, সেটি দাঁড়িয়ে আছে কাঠামোগত শক্তি ও প্রতীকী বৈধতার মাঝে এক ক্রমবর্ধমান ব্যবধানের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও এমন যথেষ্ট বলপ্রয়োগের অস্ত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে সে এই অঞ্চলে নির্ণায়ক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সে আকর্ষণ সৃষ্টি করা এবং ঐকমত্য গড়ে তোলার ক্ষমতার বড় অংশটাই হারিয়ে ফেলেছে। গ্রামসির ভাষায়, এর অর্থ হল ব্যর্থ হেজিমনি; নাই-এর ধারণায়, ক্ষয়প্রাপ্ত সফট পাওয়ার; আর বোর্দোর বিশ্লেষণে, এটি এমন এক আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র যেখানে আধিপত্যকে আর স্বাভাবিক বা স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে “ফিরে আসা”-র যে প্রচেষ্টা, তা বাস্তবে বিশ্বাসযোগ্য বা বৈধ নেতৃত্বে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ সম্মতি ছাড়া, আকর্ষণ ছাড়া এবং প্রতীকী স্বীকৃতি ছাড়া যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তা ক্রমশ আরও দৃশ্যমান, আরও ব্যয়বহুল, এবং পরস্পরবিরোধীভাবে আরও ভঙ্গুর হয়ে ওঠে। যার ফল রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং আমেরিকা মহাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার হ্রাস।

উপসংহার
এই লেখাটি কয়েকটি গুরুতর ফাঁক বা দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে, যা সম্ভবত আমেরিকা মহাদেশে আরও বেশি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়।
আগ্রাসী ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে এই অঞ্চলে “ফিরে আসছে”, যখন সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচক, সহিংসতা ও বিচারহীনতার পরিসংখ্যান একত্রে বিচার করলে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এক ধরনের নতুন “লস্ট ডিকেড”-এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মনরো ডকট্রিনে ঘোষিত ট্রাম্প করোলারি একই সঙ্গে একটি অচল যুগের ধারণা এবং হুমকিস্বরূপ। এই নীতির ভিত্তিতে দাঁড়ালে আন্তঃআমেরিকান সহযোগিতা কার্যত অবাস্তব কল্পনা হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে সরে যাওয়া এক যুক্তরাষ্ট্র শুধু তথাকথিত “গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা” হিসেবে তার ভূমিকা হারায় না; বরং এটি অঞ্চলে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিস্তারকেও উৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে, একটি বিভক্ত ও অসংগঠিত লাতিন আমেরিকা নিজেই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করে এবং অন্তত আংশিকভাবে হলেও ঐক্যবদ্ধ একটি কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে যদি অঞ্চলের ভেতরে বিভাজন আরও গভীর হয় এবং এক বা একাধিক বিরোধী ব্লকের সৃষ্টি হয়, তাতেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। তবে এতে অঞ্চলটির যৌথভাবে কাজ করার ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে— এমনকি সেইসব ক্ষেত্রেও, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের স্বার্থ বাস্তবে মিলতে পারত।
অন্যদিকে, এই অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সমাজের মধ্যে তেমন সাড়া জাগাতে পারছে না, বিশেষ করে যখন জনগণের চোখে উত্তরের এই শক্তি ও তার নেতার বর্তমান ভাবমূর্তি বিবেচনা করা হয়।
কিন্তু এই বিচ্ছিন্নতা এখনও অঞ্চলের কিছু সরকারের নীতিতে তেমন প্রভাব ফেলছে বলে মনে হয় না; কারণ তারা নিজেদের সমাজের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে নিজেদের নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ করে চলেছে। সেই সঙ্গে, প্রশাসনগুলির মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই পরিস্থিতি নেতাদের যৌথ আলোচনা ও অভিন্ন অবস্থান গড়ে তোলার কোনও পরিসর তৈরি করতে উৎসাহিত করছে বলেও মনে হয় না, বিশেষত ওয়াশিংটনের ব্যাপারে। অথচ এমন উদ্যোগ নেওয়া গেলে তা সম্ভবত আঞ্চলিক সমস্যাগুলিতে আরও কার্যকর সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারত।
ফলত, ক্রমশ আরও বেশি পূর্বানুমেয় হয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এখন একটা উদ্বেগজনক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র কখনওই লাতিন আমেরিকা থেকে “চলে যায়নি”— সে সব সময়ই ফিরে আসে।
আর এবার সে এক কঠোর ও অমার্জিত মুখ নিয়ে ফিরে এসেছে।

[1] ডনরো ডকট্রিন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনরো ডকট্রিন। সঙ্গে পড়ুন: The Monroe Doctrine Was Never Meant to Be This. Multipolar Press. Jan 7, 2026.

*নিবন্ধটি নুয়েভা সোশিয়াদাদ-এর ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় স্প্যানিশে প্রকাশিত। মূল স্প্যানিশ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন সুশোভন ধর

