পাঁচটি কবিতা
দোলযাত্রা
যতক্ষণ থাকে, থাক। মুছে ফেললে মনে হয়
শুভেচ্ছা ফিরিয়ে দেওয়া হল
শুধুই শুভেচ্ছা, নাকি বাৎসল্য জড়ানো কিছুটা
যতক্ষণ পারো, রাখো। পায়ের পাতায় ওই লাল রং
কিছুটা প্রণাম
কুপুত্র হইতে যদি এ-সুবাদে উত্তীর্ণ হলাম!
মাতৃত্ব
অতৃপ্ত যৌনতা নিয়ে বেড়ে ওঠা গাছ
ফলের অতৃপ্তি চোখে লাগে
কৃত্রিম উপায়ে তাকে সাবলীল করে তোলা
সাময়িক, দীর্ঘস্থায়ী নয়
ফল দেখছে প্রিয় গাছ, ঝড় উঠলে পড়ো-পড়ো
কে কার দায়িত্বে পরায়ণ
ফলই কি গাছের সার্থকতা শুধু, ভেবে-ভেবে
বড় করছ
ছিঁড়ে যাচ্ছে প্রাণ
অভিনয়
অলক্তনূতন রাগে তোমাকে রাঙিয়ে তোলা এই
হাত বেঁধে ফেলে রাখা দূরের শয্যায়
শয্যার নিকটে যাওয়া, বন্দিমুক্তি প্রকল্প, সময়
এভাবে কিছুটা গেল, তাপ হল থরোথরো, প্রাণ
মৃদু আর্তনাদময়, মুক্তির বিপক্ষে, বন্দি চায় আরও
অত্যাচার, শ্রম
নির্বিকার হত্যা এসে ফুঁড়ে দেওয়া তাহারও প্রথম
পরিক্রমা
এ-গলি সে-গলি ঘুরে পৌঁছেছ এখানে
‘এখানে’ বলতে ঠিক কোন স্থান, বোঝানো কঠিন
সবারই নিজস্ব এক ‘এখানে’ রয়েছে
ভালো লাগে, অথবা লাগে না
তোমার পৌঁছনো কেন চালু হবে বিখ্যাতের কাছে
এখানে পৌঁছেছ মানে হল না অন্যত্র গিয়ে ওঠা
কিছুকাল জেগে থেকে ডুবে গেল বন্ধুরা সেখানে
বার্তা
আমার একমাত্র কাজ লিখে চলা, লেখার ভেতরে
জীবনীরেখা ও ক্লান্তি ভেসে থাকে, সূচিপত্র হয়
বাকি থেকে যাওয়া কোনও কাজে
পাতা মুড়ে রাখি, পাতা ভাঁজ থেকে আলাদা, একদিন
সেই টুকরো মনে পড়ে, একদিন সেলাইবন্ধুকে
ধন্যবাদ দিতে ভালো লাগে
যেহেতু সমস্ত কাজই মাঝপথে ধুত্তেরি বলার
শ্মশানবন্ধুরা দেখো, আমি ছাড়া কেউই যেন
কাজ করতে না-বসে আমার

