সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
পর্যবেক্ষণসূত্রে জানা গিয়েছে যে মানবশরীরের বিভিন্ন অংশে যেমন লিভার, কিডনি, ফুসফুস, রক্ত, স্প্লিন, হৃদয় এমনকি মস্তিষ্কে ঠাঁই নিয়েছে ঘাতক মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক। এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে অন্যতম ন্যানোপ্লাস্টিক উপাদান পলিইথাইলিন লিভার বা কিডনির তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় জমা হয়েছে মানবমস্তিষ্কের ভেতরে। শরীরের শিরা-উপশিরায় এই প্লাস্টিক উপকরণ সঞ্চিত হয়ে বাড়িয়ে তুলেছে কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা। নারীদের শরীরের প্লাসেন্টা ও স্তনদুগ্ধেও আজ ন্যানোপ্লাস্টিক কণা হাজির। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে আগামী কয়েক প্রজন্ম তাঁদের শরীরে এই বিষ বয়ে বেড়াবে
বিজ্ঞানীরা অনেক সময়ই ঠাহর করতে পারেন না যে তাঁদের আবিষ্কার কত মানুষের জীবনকে ভেঙেচুরে নতুন করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। প্রকৃতি অকৃপণভাবে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে নানান উপকরণের বিপুল সম্ভার। তবে মানুষের প্রয়োজনের তো শেষ নেই, আর সেই কারণেই তাকে নতুন নতুন উপায়, উপকরণের অনুসন্ধান করতে হয়েছে যুগে যুগে, কালে কালে।
এমনই এক তাগিদের তাড়না থেকেই ১৮৫৫ সালে বিজ্ঞানী আলেকজান্দার পার্কস আবিষ্কার করেন প্লাস্টিক। পার্কস আবিষ্কার পরিচিত ছিল Parkesine নামে, যাকে এখন সেলুলয়েড বলা হয়। বিজ্ঞজনেরা বলেন, প্লাস্টিক মানুষের সবথেকে স্মরণীয় আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একটি। কেন বলেন এমন কথা তা বোধহয় আমরা সকলেই আজ বিলকুল উপলব্ধি করতে পারছি। প্লাস্টিক নিয়ে যতই হইচই হোক না কেন, এ-কথা তো অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে এই পলিমার যৌগটি সাশ্রয়ী, হালকা এবং বহুগুণ সম্পন্ন (remarkably versatile)। প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এই যে, এটিকে যেমন ইচ্ছে তেমন আকার দেওয়া যায়। এই বিরল গুণের জন্যই ফিনফিনে চেহারার ক্যারিব্যাগ থেকে শুরু করে হাসপাতালের নানা ধরনের উপকরণ তৈরিতে এ-কালে তার অবাধ ব্যবহার। পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাটিয়ে দিয়ে প্লাস্টিক তার সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে বড় কথা হল, প্লাস্টিক পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং পরিশোধনযোগ্য (sterilized)। ঠিক কোন কাজে তাকে কাজে লাগানো হবে এই বিষয়টির ওপর নির্ভর করে এইটি একবার ব্যবহার করা যায় আবার বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের তৈরি উপকরণকে বেশ কিছুদিন ধরে কাজে লাগাতে পারি আমরা। এগুলি সত্যিই বিরল গুণাবলি। আর এই সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্যতার কারণেই আজকের দিনে প্লাস্টিকের জয়জয়কার।
এখানেই শেষ নয়। ওজনে হালকা বলে পরিবেশগতভাবেও প্লাস্টিকের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা রয়েছে। হালকা হওয়ার জন্য প্লাস্টিকপণ্যের পরিবহনব্যয় অনেকটাই কম। ফলে তা জ্বালানিখাতে খরচ কমায়। যতদিন যাচ্ছে প্লাস্টিকের ওপর আমাদের আস্থা ও নির্ভরতাও সমানে বেড়ে চলেছে। ২০২৩ সালে সারা দুনিয়ায় ৪১৪ মিলিয়ন টন প্লাস্টিকপণ্যের উৎপাদন হয়েছিল। আজ দু-বছর পরে সেই পরিমাণ কমেনি, বরং বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও অনেকটাই বেড়ে যাবে।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ প্লাস্টিকের দাপট অব্যাহত। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার জন্য যেই হাতে ব্রাশ তুলে নিলেন ঠিক তখন থেকেই প্লাস্টিক পণ্যের সঙ্গে ওঠাবসার পর্বটির সূচনা। ব্রাশের ব্রিশলস্ তৈরিতে সাধারণত নাইলন ব্যবহার করা হলেও, হাতলের অংশটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় পলিইথাইলিন অথবা পলিপ্রপাইলিন। সকালেই আমার আপনার বিকশিত দন্তকৌমদীকে যথোপযুক্তভাবে সাফসুতরো করতে ব্যবহৃত হচ্ছে একটা সাধারণ মাপের টুথব্রাশ যার আয়তন ৮.৫-১৯ কিউবিক সেন্টিমিটার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বস্তুটির ক্ষয়-লয় আছে। ঘষাঘষির ফলে তা ভাঙছে যার ফলে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক যারা ৫ মিলিমিটারের থেকে কম আয়তনের এবং এগুলো আরও আরও ভেঙে পরিণত হচ্ছে কয়েক হাজার গুণ ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক কণিকায়। এই অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক কণা প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে আমাদের মুখগহ্বরের ভেতরে!

বোঝার সুবিধার জন্য হিসেবটাকে আরও একটু খোলসা করে নিই।
ইদানিং মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে চারিদিকেই হৈচৈ পড়ে গেছে। কিন্তু কাকে বলব মাইক্রোপ্লাস্টিক সে বিষয়ে আমাদের অনেকেরই খুব স্পষ্ট ধারণা হয়তো নেই। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে যদি একটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের আয়তন হয় ১ মাইক্রোমিটার (একটি ব্যাকটেরিয়ার সমতুল), অথবা ০.১ মাইক্রোমিটার (সার্স কোভিড ভাইরাস-২) তাহলে বলতে পারা যায় যে একটা দৈনিক ব্যবহারের টুথব্রাশ তাত্ত্বিকভাবে আমাদের মুখগহ্বরের ভেতরে ৮.৫-১৯ ট্রিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক উৎপন্ন করে। অবাক হতে হয় সন্দেহ নেই। এগুলো এতটাই অণু আকৃতির যে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে কিংবা খাবারের মধ্যে দিয়ে অবাধে আমাদের শরীরের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে অবিরত। আর এই সবই হচ্ছে আমাদের অজান্তে।
আমাদের একালের জীবনে প্লাস্টিক এককথায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শয়নে স্বপনে জাগরণের প্রতিটি খণ্ডপর্বই এখন প্লাস্টিকময়। এমন গরিমাময় অবস্থান সত্ত্বেও সকলেই প্লাস্টিক নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন? প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এই যে প্লাস্টিক ভাঙে কিন্তু পরিবেশে মিশে যায় না। সূর্যের তাপে, বিশেষত আল্ট্রা ভায়োলেট-বি-র প্রভাবে প্লাস্টিক তার সহজাত নমনীয়তা হারিয়ে ভঙ্গুর হয়ে যায়। এই পরিবর্তন সম্পর্কে আমরা সবাই অবহিত। যেহেতু আমাদের ব্যবহৃত সবধরনের প্লাস্টিকেরই গন্তব্য পরিবেশের অঙ্গন সেই কারণেই আশঙ্কা বাড়ছে। মাটির কাছাকাছি জমা হওয়া এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিককে সমুদ্রের ঢেউ, প্রবহমান বায়ু এবং অন্যান্য বহির্জাত শক্তি ভেঙে আরও ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে ফেলে। এমনকি বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের অন্তর্ভুক্ত ওজোন স্তর, যা পৃথিবীতে অতিবেগুনি রশ্মির অনুপ্রবেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, এই জমে থাকা প্লাস্টিক কতটা দ্রুতগতিতে ভেঙে পরিবর্তিত হবে তার মাত্রাকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও রয়েছে কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাই, যারা এই ভাঙচুরের খেলায় অংশ গ্রহণ করে সীমিতভাবে। তবে তারা কাজ করে ধীরে এবং অসম্পূর্ণভাবে।
তাহলে ফলাফল কী দাঁড়াল? পরিবেশ প্রতিক্রিয়ার ফলে প্লাস্টিক ভেঙে ভেঙে মাইক্রো থেকে ন্যানো প্লাস্টিকে পরিণত হয়ে সগৌরবে আমাদের পরিবেশেই রয়ে যায়। অন্যান্য জৈব পদার্থের মতো পরিবেশের পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায় না। উদ্বেগের হেতু এখানেই।
অনেক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হলেও পরিবেশ প্রতিক্রিয়ার বিচারে প্লাস্টিকবর্জ্য ভয়ঙ্করতম পরিণতির দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কার মেঘ জমাট বেঁধে রয়েছে এখানেই। প্লাস্টিকবর্জ্য সম্পর্কে আমাদের উদাসীনতা গভীর উদ্বেগের বিষয়। যত্রতত্র ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের বড় বড় টুকরোকে খাবার ভেবে খেয়ে ফেলায় সমুদ্রের প্রাণী বা তীরের পাখিরা নানাভাবে বিপন্ন হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। অন্যদিকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা নীরব ঘাতক হয়ে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের একটু একটু করে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
প্লাস্টিক আজ সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সৃষ্টি করছে নতুন এক বিপন্নতার। গবেষকরা জানিয়েছেন যে প্রায় ১৩০০ প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণী এই মুহূর্তে তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ধারণ করছে। অনেকটাই তেলের মতো হওয়ায় (হাইড্রোফোবিক) এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণিকাগুলি আমাদের শরীরে যে জৈব ছাঁকনি বা biological membrane রয়েছে সেগুলোর মধ্যে দিয়ে কোষের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে বালুকা কণার মতো হাইড্রোফিলিক বা জল-প্রিয় উপাদানগুলো শরীরে ঢোকার জন্য ভিন্ন জৈব পথ অনুসরণ করে থাকে। এখানেই লুকিয়ে আছে বিপদের শঙ্কা।
অণু প্লাস্টিক কণার আয়তনের বিষয়টিও এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তুলনামূলকভাবে অতি অতি সূক্ষ্ম কণিকাগুলো প্রাণীদেহের যে অংশ দিয়ে দেহের ভেতরে প্রথম প্রবেশ করেছিল সেখান থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিপদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গবেষকরা জানিয়েছেন যে দূষিত সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা কিংবা পানীয় জল বা খাবার থেকে— যদি তাতে আগে থেকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা উপস্থিত থাকে বা খাবার প্যাকেজিং-এর সময় প্লাস্টিক কণার সংস্পর্শে আসে— শরীর সংক্রমিত হতে পারে। এর সঙ্গে বায়ুতে উপস্থিত ভাসমান এরোসলের মধ্যে থাকা মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিক কণা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে পড়ে একরকম চুপিসারে। বিভিন্ন শিল্প, যেমন বস্ত্রবয়ন শিল্প থেকেও উৎপন্ন হয় বিপুল পরিমাণ অণু প্লাস্টিক কণিকা যা শরীরে ঢুকে যায় আমাদের শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে। শুনলে বিস্মিত হতে হয় যে, আমাদের পরিধেয় পোশাক থেকেও কৃত্রিম সিন্থেটিক তন্তু শ্বাসক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরে ঢুকছে।
কি? মাথা ঝিমঝিম করছে তো? মনে হচ্ছে, তাহলে বাঁচার উপায় কী?

এত আশঙ্কার কথা শোনানোর পর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে অন্যান্য প্রাণীদের দেহের ভেতরে ঢোকার পর এই অণু প্লাস্টিক কণিকাগুলো ট্রান্সলোকেশন পদ্ধতিতে শরীরের নানা অংশে পরিবাহিত হয়। তবে এই নিয়ম মানবশরীরে কার্যকর কিনা তার উদাহরণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে এতে একেবারেই আশ্বস্ত হবেন না।
এই ঘাতক উপকরণ সিঁধ কেটে একবার যখন আমাদের দেহমন্দিরে ঢুকে পড়েছে তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় কী! পর্যবেক্ষণসূত্রে জানা গিয়েছে যে মানবশরীরের বিভিন্ন অংশে যেমন লিভার, কিডনি, ফুসফুস, রক্ত, স্প্লিন, হৃদয় এমনকি মস্তিষ্কে ঠাঁই নিয়েছে এই ঘাতক উপকরণ। এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে অন্যতম ন্যানো প্লাস্টিক উপাদান পলিইথাইলিন লিভার বা কিডনির তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় জমা হয়েছে মানবমস্তিষ্কের ভেতরে। শরীরের শিরা-উপশিরায় এই প্লাস্টিক উপকরণ সঞ্চিত হয়ে বাড়িয়ে তুলেছে কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা। নারীদের শরীরের প্লাসেন্টা ও স্তনদুগ্ধেও আজ ন্যানোপ্লাস্টিক কণা হাজির। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে আগামী কয়েক প্রজন্ম তাঁদের শরীরে এই বিষ বয়ে বেড়াবে। আশঙ্কা থেকেই যায় এর ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা ভেবে।
প্রাত্যহিক জীবনে যেভাবে প্লাস্টিকের সঙ্গে ওঠাবসা করতে হয় তাতে করে আমাদের খাদ্য এবং পানীয়ে এই ঘাতক দূষণের উপস্থিতিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সমস্যা হল শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়া প্লাস্টিক কণাদের উপস্থিতিকে নির্ণয়ের বিষয়টি। হাসপাতালে বা বীক্ষণাগারে যেভাবে প্লাস্টিক পরিবৃত পরিবেশে এমন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয় তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা যে অনেকটাই বেড়ে যায় তা বলা বাহুল্য।
প্রশ্ন হল, এমন সব বহিরাগত উপাদান ভেতরে ঢুকে বসে থাকলে শরীরের ওপর তার প্রভাব ঠিক কেমন হবে? বিষয়টি কিন্তু মোটেই হালকাভাবে নেবেন না। উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরাও কিন্তু সহজভাবে নিচ্ছেন না এই গলাধঃকরণের বিষয়টিকে। তাঁরা খোঁজখবর করছেন দেহমন্দিরে ঢুকে থাকা এই অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশকারীরা ঠিক কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে? খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা যা জানাচ্ছেন তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! এই মুহূর্তে আমাদের শরীরের যে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যেমন— কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ফুসফুসের জটিল সমস্যা পালমোনারি ফাইব্রোসিস, লিভার এবং বাওয়েল সংক্রান্ত জটিলতা— এগুলোর সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি কীভাবে সম্পর্কিত তা নিয়ে অনুসন্ধান করছেন।

তবে এই অনুসন্ধানের কাজ এখনও একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। যোগসূত্র খুঁজে বের করতে হলে বড়মাপের দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। তা না করে আগ বাড়িয়ে কিছু বলার পক্ষপাতী নন তাঁরা। তবে এই কথাগুলো উপেক্ষা করা যে মোটেই ঠিক হবে না তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন গবেষকরা। মাথায় রাখতে হবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি এখন নিছকই পরিবেশসমস্যা নেই, এইটি আমার-আপনার স্বাস্থ্যসমস্যার রূপ ধারণ করতে চলেছে।
কথায় বলে সাবধানের মার নেই। তাহলে সাবধান হতে বাধা কোথায়?

