ভোট ও মহিলা ভোটব্যাঙ্ক

অনুক্তা মজুমদার

 


'মহিলা ভোটব্যাঙ্ক' এই ধারণা যতটা না একটা বাস্তব রাজনৈতিক শ্রেণি, তার চেয়ে অনেক বেশি একটা রাজনৈতিক বয়ান। মহিলাদের ভোটকে বোঝার জন্য ভোটব্যাঙ্ক নয়, বরং 'রাজনৈতিক নাগরিক' ধারণাটাই আধুনিক এবং অবশ্যই সমাজতাত্ত্বিকভাবে সঠিক। সম্ভবত বর্তমান নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনকে এখনও আমাদের সমাজ ঠিকঠাক ধারণ করতে পেরে ওঠেনি

 

অঙ্কের হিসেবে এই লেখার শিরোনামে তিনটে শব্দ আছে। কিন্তু অঙ্কের হিসেব সমাজতত্ত্বের হিসেবের সঙ্গে তো মেলে না। তাই ইংরেজি ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ আর বাংলা ‘ভোটব্যাঙ্ক’ও আর এক থাকে না। বিশিষ্ট সমাজতাত্ত্বিক এমএন শ্রীনিবাস তাঁর ১৯৫৫ সালের প্রবন্ধ দ্য সোশ্যাল সিস্টেম অফ আ মাইশোর ভিলেজ-এ প্রথম ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন। প্রবন্ধটি পড়লে স্পষ্ট হয় যে সেখানে ভোট ব্যাঙ্ক বলতে তিনি বুঝিয়েছিলেন গ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কিভাবে তাঁর অনুগামীদের ভোট নিয়ন্ত্রণ করেন। অর্থাৎ সেখানে ভোট ব্যাঙ্কের অর্থ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বঙ্গীকরণের ফলে ভাষাতত্ত্বের নিয়মে ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ (vote bank) হয়ে গেল ‘ভোটব্যাঙ্ক’। আর সমাজতাত্ত্বিক অর্থ হারিয়ে হয়ে উঠল এক আদ্যন্ত নিন্দাসূচক রাজনৈতিক শব্দ। যা বলতে চায় জাত, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ ইত্যাদি পরিচয়ভিত্তিক ভোট সংগঠিত করা। মূলত কিছু সুবিধা দিয়ে তাঁদের ভোট আদায় করা। যোগেন্দ্র যাদবের মতো বর্তমান সময়ের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক দেখিয়েছেন ভোটব্যাঙ্ক শব্দটা মূলত সংখ্যালঘু, দলিত, নারী ও আরও নানান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেখানে ভোটব্যাঙ্ক বলতে কোনও একটা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পছন্দ বা আচরণকে বোঝায় না। বরং শব্দটা সেই গোষ্ঠীর রাজনৈতিক সত্তাকে নস্যাৎ করতে ব্যবহার করা হয়।

ঘটনাচক্রে সাম্প্রতিক ভারতীয় রাজনীতির আলোচনায় ভোটব্যাঙ্ক এক অবিচ্ছেদ্য শব্দ হয়ে উঠেছে। অন্যান্য হাজার কিসিমের ভোটব্যাঙ্কের মধ্যে ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ শব্দবন্ধটা যেন অধিক প্রাবল্য অর্জন করেছে। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে এই বিষয়টা যাবতীয় আলোচনায় যেভাবে গুরুত্ব আদায় করেছে, তা বিশেষ মনোযোগ এবং পড়াশুনোর দাবি রাখে। সেই দাবির ভিত্তিতেই রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান ও নারীবাদী তত্ত্বের প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটাও ওঠা জরুরি: ভোটব্যাঙ্ক কি আদৌ কোনও কার্যকর বিশ্লেষণাত্মক ধারণা? মহিলাদের ভোটকে কি একটি সমস্বত্ব রাজনৈতিক আচরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ আসলে একটা রাজনৈতিক ভাষ্য, যা বাস্তবের জটিলতাকে সরলীকৃত করে?

আমরা আগেই দেখেছি যে ভারতীয় রাজনীতিতে ভোটব্যাঙ্ক শব্দটার ব্যবহার মূলত বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে প্রচলিত হয়। তখন এটা একটা সামাজিক গোষ্ঠীকে নির্দেশ করে ব্যবহৃত হত, যারা পরিচয়ভিত্তিক আনুগত্যের কারণে ধারাবাহিকভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দিত। কিন্তু আধুনিক ভারতবর্ষে ভোট দেওয়ার ব্যাপারটা আর তত সরল নেই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী পল ব্রাস, ক্রিস্টোফ জাফ্রেলো কিংবা যোগেন্দ্র যাদবদের বিশ্লেষণ দেখায় যে ভারতীয় ভোটাররা একই সঙ্গে জাত, শ্রেণি, ধর্ম, অঞ্চল, উন্নয়ন, কল্যাণনীতি, দলমত, নেতৃত্ব, ইত্যাদি নানান কিছুর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ এখানে ভোট একটা বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া।

সুতরাং ভোটব্যাঙ্ক, বিশেষ করে ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ শব্দবন্ধটা অতিসরলীকরণ দোষে দুষ্ট বলাই যায়। কারণ আজকের দিনে ‘মহিলা’ কোনও একক সামাজিক শ্রেণি নয়। একজন শহুরে শিক্ষিত কর্মজীবী মহিলার রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের একজন মহিলার অগ্রাধিকার কিংবা একজন সংখ্যালঘু কৃষিশ্রমিক মহিলার অগ্রাধিকার এক নয়। এক্ষেত্রে কিম্বার্লে ক্রেনশ-এর ইন্টারসেকশনালিটি তত্ত্ব থেকে ধার করে বলা যায়, লিঙ্গপরিচয়কে কখনওই শ্রেণি, জাত, ধর্ম, বর্ণ বা আরও অন্যান্য সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন করে বোঝা যায় না। সুতরাং মহিলা ভোট-কে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক বলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখার অবশ্যই দরকার আছে।

 

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মহিলাদের যোগদান ক্রমশ বেড়েছে। আর ২০১১ থেকে পুরুষ-ভোটের চেয়ে মহিলা-ভোট বাড়তে শুরু করেছে। অর্থাৎ নির্বাচনী রাজনীতিতে গত দেড় দশকে এখানে মহিলাদের অংশগ্রহণ একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মহিলা ভোটদানের হার পুরুষের তুলনায় প্রায় ১৪.৩৪ শতাংশ কম ছিল। ২০১১-র নির্বাচনে এসে সেই ব্যবধান কার্যত বিলুপ্ত হয়। সরকারি তথ্য বলছে সে বছর এখানে মহিলা-ভোটের হার পুরুষের থেকে প্রথমবার ০.২৩ শতাংশ বেশি ছিল। এ-বছর (২০২৬) সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে এবং মহিলা-ভোট পুরুষ-ভোটের থেকে ১.৫ শতাংশ বেশি পড়েছে। সুতরাং ক্ষমতাযন্ত্র বেশ কিছু বছর ধরেই বুঝতে পারছে যে মহিলা-ভোট একটা নির্ণায়ক ভূমিকা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে, অন্তত অঙ্কের হিসেবে। কিন্তু আমরা সবাই জানি ‘অঙ্ক কী কঠিন’। তাই এই ক্রমবর্ধমান মহিলা ভোটসংখ্যাকে ভোটব্যাঙ্ক বলা কতটা ঠিক তা নিয়ে মাথা ঘামানো প্রয়োজন।

বিভিন্ন নির্বাচনোত্তর সমীক্ষা কাটাছেঁড়া করে, সিএসডিএস-লোকনীতির বিশ্লেষণ দেখিয়েছিল, এখানে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে মহিলা ভোটারদের মধ্যে তৎকালীন শাসক দলের প্রতি সমর্থন পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু এখানে যেটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হল, এই সমীক্ষাগুলি নারী-ভোটের প্রবণতা (trend) দেখায়, তাকে একক ভোটব্যাঙ্ক বলে না। কারণ একই নির্বাচনে বয়স, ধর্ম, শ্রেণি, জাতি, অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে মহিলা ভোটারদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। অর্থাৎ এইসব পরিসংখ্যান জেন্ডার গ্যাপ দেখায়, যা কিনা আদতে নারী আর পুরুষ ভোটারের কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে দেওয়া ভোটের অনুপাত বিবেচনা করে মাত্র। কিন্তু কোনও মোনোলিথিক ব্লক-এর কথা বলে না, যা এক্ষেত্রে ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’।

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল। এই আলোচনা প্রায়শই একটা সমীকরণ তৈরি করেছে যে— টাকা → ভোট। যা প্রথমত অতিসরলীকরণ, অবমাননাকর এবং সর্বোপরি সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় অস্বীকৃত। অর্থনীতির তাবড় ব্যক্তিত্বরা বহুবছর ধরে বলে আসছেন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক নীতি শুধু আর্থিক উপশম করে না, সামাজিক স্বীকৃতিও প্রদান করে। সুতরাং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলিকে শুধুমাত্র নগদ হস্তান্তর হিসেবে দেখা খণ্ডদর্শন মাত্র। বহু মহিলার কাছে এটা প্রথম নিয়মিত ব্যক্তিগত আয়ের উৎস। বিভিন্ন ক্ষেত্রসমীক্ষায় দেখা যায়, এই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের নিজস্ব খরচ, সন্তানদের শিক্ষা কিংবা জরুরি স্বাস্থ্যখাতে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এই প্রকল্পকে কেবল অর্থনৈতিক লেনদেন হিসেবে দেখা ভুল। এখানে নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও স্বীকৃতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আর, ‘ফ্রি সুবিধা’ তত্ত্বের মধ্যে লুকিয়ে আছে পিতৃতন্ত্রের ভাইরাস। কৃষক যখন কৃষিভর্তুকির পক্ষে ভোট দেন, তাঁকে কৃষিনীতির বা সার্বিক অর্থনীতির অঙ্কে দেখা হয়। ব্যবসায়ী কর-ছাড়ের পক্ষে অবস্থান নিলে তাঁকেও অর্থনৈতিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। মধ্যবিত্ত যখন সরকারি সুযোগ-সুবিধার পক্ষে মত দেয়, সেটাকে উন্নয়নের প্রত্যাশা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু মহিলারা যখন নগদ হস্তান্তরকে স্বাগত জানান তাকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি বলে চিহ্নিত করা হয়। যেন নারীর রাজনৈতিক পছন্দ তার যুক্তি, অভিজ্ঞতা বা আত্মসম্মান অর্জনের উপায় থেকে নয়, বরং কোনও বিশেষ প্রলোভন থেকে তৈরি হয়! মহিলারা কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে ভোট দিলে তাকে লোভী, নির্ভরশীল বা ফ্রি সুবিধাভোগী হিসেবে দেখানো হয়। এ এক অদ্ভুত পক্ষপাতদুষ্ট লিঙ্গচেতনা। পুরুষের ভোটকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু মহিলার ভোটকে প্রায়শই লেনদেনমূলক বলে চিহ্নিত করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির আশু পরিবর্তন জরুরি।

আজকের নির্বাচনী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, মহিলারা ক্রমশ স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে উঠে আসছেন। নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর বিভিন্ন ক্ষেত্রসমীক্ষা জানান দিচ্ছে যে এখন বহু ক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষ সদস্যের সঙ্গে মহিলাদের রাজনৈতিক পছন্দের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ মহিলাদের নিজস্ব রাজনৈতিক চেতনা বা সচেতনতা বেড়েছে।

কিছু দশক আগেও এ ছিল অকল্পনীয়। মহিলারা এখন আর শুধুই পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভোট দিচ্ছেন। এই পরিবর্তনকে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ বলা আদতে নারীর রাজনৈতিক এজেন্সিকে অবমূল্যায়ন করা।

 

সুতরাং মহিলা ভোট আজকের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক বড়সড় সত্য। কিন্তু তাকে ভোটব্যাঙ্ক বলা ভুল। নানান জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মহিলারা সাধারণত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, স্থানীয় পরিকাঠামো ইত্যাদিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন নির্বাচনী সমীক্ষাতেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা গেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সমস্ত মহিলা একইভাবে ভোট দেন। কিছু অভিজ্ঞতা অভিন্ন হওয়ার কারণে, কোনও নির্দিষ্ট নীতির প্রতি মহিলাদের তুলনামূলক সমর্থন তৈরি হতে পারে। তবে সেই সমর্থনও ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, জাত ইত্যাদি নানান কিছু দ্বারা প্রভাবিত এবং খণ্ডিত হয়।

মহিলা ভোটব্যাঙ্ক ধারণাটা রাজনৈতিক ভাষণের জন্য সুবিধাজনক হলেও বাস্তবে তা অলীক এক শব্দবন্ধ। একটু ভাবলেই বোঝা যায় যে এই শব্দবন্ধ মহিলাদের রাজনৈতিক সত্তাকে নস্যাৎ করে এবং তাদের একটি নিষ্ক্রিয়, সুবিধাভোগী গোষ্ঠী হিসেবে চিত্রিত করে। বাস্তবে মহিলা ভোটাররা অর্থনৈতিক সুবিধা, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং আদর্শগত অবস্থান ইত্যাদি বহুকিছুর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অনুরূপ প্রকল্প সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সেটা কিছুতেই একমাত্র কারণ নয়।

নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ এই ধারণা যতটা না একটা বাস্তব রাজনৈতিক শ্রেণি, তার চেয়ে অনেক বেশি একটা রাজনৈতিক বয়ান। মহিলাদের ভোটকে বোঝার জন্য ভোটব্যাঙ্ক নয়, বরং ‘রাজনৈতিক নাগরিক’ ধারণাটাই আধুনিক এবং অবশ্যই সমাজতাত্ত্বিকভাবে সঠিক। সম্ভবত বর্তমান নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনকে এখনও আমাদের সমাজ ঠিকঠাক ধারণ করতে পেরে ওঠেনি।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5413 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.