কে না বাঁশি বাএ

রিনি গঙ্গোপাধ্যায়

 

এপ্রিল মাসের শেষাশেষি। চড়া রোদ আর গরমে এমনিতেই গলদঘর্ম অবস্থা! তার মধ্যে এই টপফ্লোর ফ্ল্যাটে বেলা বাড়ার পর থেকে টেকা দায়। একটা ম্যাক্সি কোমরে বেশ খানিকটা গুঁজে নিয়ে ঘর মুছছিল ও। সারা শরীর চ্যাপচ্যাপ করছে। উউউফফফ…. আর কতদিন যে এসব করতে হবে! একমাসের ওপর হয়ে গেল লকডাউন! চলছে তো চলছেই! ওঠার কোনও লক্ষণই নেই! চারিদিকে শুধু মৃত্যু আর মৃত্যু। হয় রোগে মৃত্যু; নয় খিদেয় মৃত্যু; নয় বাড়ি ফেরার তাগিদে মৃত্যু! আর ভালো লাগছে না!

এমন সময় ফোনটা বেজে উঠেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখে একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।

–হ্যাঁ, বলছি।
–ব্যস্ত আছেন? কথা বলা যাবে?

কী অদ্ভুত গলার স্বর! শুনেই এই সাঁইতিরিশেও বুকের মধ্যে কেমন ধক করে উঠেছে। কে বলছেন?

–আমি প্রকাশক।
–ও, না, না, ব্যস্ত না, বলুন।
–আচ্ছা, লেখাটা এই শেষ করলাম।
–ও।
–আচ্ছা, প্রথমে পজিটিভ দিকটাই বলি। লেখাটা অসম্ভব ভালো হয়েছে। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আপনি আরও আগে কেন লেখেননি?
–ও।
–কিন্তু লেখাটায় ন্যারেটিভ বেশি এসেছে। ডায়লগ কম। আমাদের কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা একটা উপন্যাস!
–হুম।
–এই ব্যাপারটার দিকে নজর দিয়ে যদি আর একবার ভাবেন!
–আচ্ছা, আমি চেষ্টা করছি।
–খুব ভালো হয়।
–ধন্যবাদ। আমি তো খুব ছাপোষা। আর নতুন। আপনি আমার লেখাটা পড়েছেন এটাই আমার কাছে অনেক!
–আপনার লেখা আমাকে কখনওই বুঝতে দেয়নি যে আপনি ছাপোষা। আপনার মধ্যে অনেকটাই সুপ্ত হয়ে আছে। একটু শান দিয়ে নিলেই…

সামান্য হাসি দেখা দিল ওর ঠোঁটের রেখায়… ধন্যবাদ।

–ঠিক আছে। ভালো থাকবেন।
–হ্যাঁ, আপনিও।

ফোনটা রেখেই ও গভীর চিন্তায় ডুবে গেল। কোথায় রইল কাজ! আর কোথায় স্নান-খাওয়া! এটা ওর প্রথম লেখা; প্রথমেই উপন্যাস! অনেকটা প্রথম সন্তানের মতো! আর আজ তার প্রথম ফিডব্যাক!

ও গভর্নমেন্টের হেলথ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করে। সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড। কিন্তু ছোট থেকেই গল্প-উপন্যাসের পোকা। তবে লেখালেখির কথা কোনওদিনই ভাবেনি। অথবা অবকাশ হয়নি। কিংবা অবকাশের সময় হয়নি। এই লকডাউনে অবকাশের সময় হয়ে ওঠাতে দুম করে একটা লেখা শুরু করে দিয়েছিল। সেটা ছোটগল্প হবে না উপন্যাস হবে তাও জানা ছিল না। মনের আনন্দে লিখে যাচ্ছিল শুধু। তারপর সে লেখা শেষ করে খোঁজ পড়ে প্রকাশকের। একটা প্রকাশনা থেকে এই লকডাউনের মধ্যেও বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজ্ঞাপন করেছে। ওদের সঙ্গেই সোশাল সাইটে যোগাযোগ করে। ওরা পাণ্ডুলিপি পাঠিয়ে দিতে বলে। সেই সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর দিয়ে দেয়। পাণ্ডুলিপি মেল করে তারপর থেকে চলছিল অপেক্ষা; আশঙ্কাই বলা ভালো। ভালোবাসায় আর লেখায়— রিজেক্ট হতে বড় ভয়!

গলার স্বরটা বেশ অন্যরকম কিন্তু! কী স্বচ্ছ, আন্তরিক; কেমন স্নেহ জড়ানো। অনেকটা নন্দিনীর কিশোরের মতো! নরম অথচ দৃঢ়! চট করে দুটো কথা বলেই কেমন ইন্সপায়ার করে দিলেন! প্রকাশক, ডিরেক্টর, মিউজিশিয়ান, শিক্ষক এদের এমন ক্ষমতা থাকে! ভিতর থেকে বেস্টটাকে টেনে আনতে পারে! ফলে কোনওরকমে হাতের কাজ মিটিয়ে প্রকাশিতব্য লেখক বসে যায় উপন্যাসে প্রাণ সংযোজন করতে। তিনদিন টানা কাজ চলছে। কনসেনট্রেশনের চূড়ান্ত যাকে বলে আর কী! এর মাঝে প্রকাশক একবার একটু খোঁজ নিয়েছেন মেসেজ করে। কিন্তু তাতে তো কানে শিহরণ জাগে না!

তারপর এল সেই কাঙ্ক্ষিত বিকেল। কমলা থালার শেষ বিন্দুটুকুও মুছে গিয়ে যখন মরা আলোর মন খারাপ আকাশ ছাপিয়ে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে তখন দুরুদুরু বুকে নম্বর ডায়াল করল লেখক।

–হ্যাঁ, বলুন।
–শেষ করেছি।
–বাঃ
–ডায়লগ এসেছে প্রয়োজনে। কিন্তু আমার চরিত্ররা বড়ই আত্মমগ্ন, বন্ধুহীন।
–সময়টাই তো বড় বন্ধুহীন!
–ওরা তাই নিজের সঙ্গে কথা বলে! আসলে আমি খুব একটা সবার সঙ্গে মিশতে পারি না তো!
–সেটা আপনার লেখা পড়েই বোঝা যায়!
–আমি এটুকুই করতে পারলাম। আপনি পড়ে দেখুন। পছন্দ হয় কিনা!
–ঠিক আছে। দেখছি।

তারপরও উপন্যাস নিয়ে আরোও দু-চারটে জরুরি কথা বলে ফোন রেখে দেওয়া। বাড়তি কথা কিই বা বলা যেত!

আবার সেই অপেক্ষা ও আশঙ্কা! একসময় এসবের স্বাদই ছিল আলাদা! কুড়ির সেই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর তিরতির করে বয়ে চলা আনন্দের ধারা যার জীবনে ঘটেনি সে এ জীবনে অনির্বচনীয় শব্দটার মানেই বুঝল না! কিন্তু এই মধ্যতিরিশ পার করে মনের মধ্যে মাঝে মাঝে দু একটা ঢেউ উঠলেও এখন সব শান্ত দীঘি। জীবনের রোদে পলিমাটি শুকিয়ে ফুটিফাটা। আঁচড় পড়ে না।

এই কদিন কিন্তু ছটফটে ভাবটা খুব একটা লুকোনো যায়নি। ফোন বাজলেই একটি বিশেষ নম্বর ভেসে ওঠার প্রত্যাশাকে আড়াল করা যায়নি। কখনও তো বিনা ডাকেই কেমন চমকে উঠে সাড়া দেওয়ার পরিস্থিতি হয়েছে। মা মিচকি মিচকি হেসেছে। নতুন লেখক আর ধৈর্য রাখতে পারছে না! শেষে লেখা নিয়ে সামান্য অসূয়া প্রকাশ করে একটা মেসেজ পাঠিয়ে ফেলেছে। ওপার থেকে উত্তর এসেছে, ডুবে আছি। আর বিরক্ত করতে ইচ্ছে হয়নি।

সেদিন সারাদিনের হাপিত্যেশ শেষে মায়ের পাশে বসে পুরনো মেলোড্রামার চর্বিত চর্বণে আনমনে চোখ পাতা ছিল। মনটা কেমন বোবা হয়ে আছে। কোন অন্ধকার ব্রিজের তলায় বৃষ্টির বেয়াদবি এড়িয়ে ছেঁড়া কাঁথায় মুড়ি দিয়ে মন ঘুমিয়ে পড়েছে। সুদূর থেকে ভেসে আসছে চৌরাশিয়ার বাঁশি! মা-ই ঠেলা দিয়েছে, কী রে! ফোনটা ধরবি তো?

আলস্যে শরীর ঠেলে ফোনের সামনে পৌঁছেই ঝটকা… প্রকাশক..

–হ্যাঁ?
–হ্যাঁ, চমৎকার হয়েছে। যতটা আশা করেছিলাম তার থেকেও ভালো।
–সত্যি? ভালো লেগেছে আপনার?
–খুউউউব। আপনি বাংলা গদ্যসাহিত্যে থেকে যাওয়ার নিশানা রাখছেন আপনার লেখায়। শুধু চর্চাটা চালিয়ে যেতে হবে।

ঝলমলিয়ে হেসে ওঠে লেখক।

–আচ্ছা, এবার একটু কাজের কথায় আসি?
–হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
–আপনার ডিটেইলটা লাগবে।
–আচ্ছা আমি মেসেজ করে দিচ্ছি।
–তার চেয়ে বরং আপনি আমায় হোয়াটসঅ্যাপ করে দিন। আমি নম্বর দিয়ে দিচ্ছি।
–আচ্ছা।
–আর একটা কথা। শুধু লিখলেই তো হবে না। লেখক হিসেবে পরিচিত হতে হবে তো?
–না মানে, আমি ঠিক…
–আপনাকে তো সবাইকে চিনতে হবে?
–ও।
–তাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুতালিকা দীর্ঘায়িত করুন।
–ওরে বাবা! এ তো ভারি মুশকিল! ইনবক্সে বিরক্ত করে যে!
–সে তো ব্লক করার অপশন আপনার হাতে রইলই! কেমন!
–আচ্ছা দেখছি!

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপ এ একটা মেসেজ ঢোকে প্রকাশকের পরিচয় জানিয়ে। লেখক এই প্রথম তাকে দেখে। দাড়িওলা একটি মুখ; এলোমেলো চুল; মেদহীন কাঁধ বাঁকিয়ে স্পষ্ট তাকিয়ে আছেন। কী ঝকঝকে দৃষ্টি, উদ্যমী, বুদ্ধিদীপ্ত…

লেখক বেশ খানিকটা সময় তাকিয়ে থাকে। তার মনে হয় চোখদুটো যেন গহনে ডুব দিয়েছে! তুলে আনবে বুঝি থিতিয়ে যাওয়া সমস্ত কথা ঢেউয়ের এক এক ধাক্কায়! লেখক তাড়াতাড়ি হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দেয়। বুকটা তার ঝড় ওঠার আগের থমথমে প্রকৃতির মতো হয়ে আছে। কানে ধাপা ধরে গেছে। ওদিকে টিভিতে তখন ‘নতুন ছন্দে লিখব জীবন’… বেশিক্ষণ কিন্তু ওভাবে বন্ধ করে রাখা গেল না। ঝড় ওঠার সময় হলে কি আর প্রকৃতি শান্ত থাকতে পারে! আবার যে কী ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে! ঐ স্পষ্ট তাকিয়ে থাকায় যদি জীবনে আরও একবার জাগিয়ে তোলা যায় সেই বয়ঃসন্ধির উদ্বেলতাকে! এবার কিন্তু কেমন অন্যরকম মনে হল! কী প্রশান্ত দৃষ্টি! উচ্ছল লহরী বুঝি থই পেয়েছে ও চোখের কূলে! আবেগের ফেনা সরিয়ে রেখে যাচ্ছে আলতো চুম্বন।

পরদিন বিকেল-সন্ধ্যেয় মাঠ জুড়ে নেমেছে ঝড়! পাগল হাওয়া মাতিয়ে দিচ্ছে সবুজ স্থবিরতাকে! ধুলোবালির দঙ্গল উঠেছে কংক্রিটে কংক্রিটে! লেখক ছাদে ছিল। হাওয়ায় তার মন উড়ছে! বিষাদ খসে পড়ছে…

‘সব যে হয়ে গেল কালো
নিবে গেল দীপের আলো
আকাশ পানে হাত বাড়ালেম কাহার তরে?’

অনেকদিন পর লেখক গান গাইল। মা খুব খুশি হয়েছে। মোবাইলে রেকর্ড করেছে। মাসিকে পাঠিয়েছে। লেখক কেন যে গানটা প্রকাশককেও পাঠাল! তারপর অবশ্য বারবারই মনে হচ্ছে মুছে দিলেই হয়! কিন্তু সেটা ভালো দেখায় না। তাই খানিকটা দ্বিধা নিয়েই মোবাইলটা মুঠোর মধ্যে রেখে দেওয়া। বেশ খানিকটা রাতে রিপ্লাই এল…

–একলা অন্ধকারে ছাদে শুনলাম। হু হু করছে ভিতরটা… আপনি কি শান্ত স্বরপ্রক্ষেপ করেন, লেখক!

লেখক বারবার পড়ে মেসেজটি। ‘শান্ত স্বরপ্রক্ষেপ’ শব্দলব্জ তাকে নিজের ভিতরে আরও খানিকটা অন্তরীণ করে।

পরদিন থেকে একটু আধটু কথা চলতে থাকে। বইয়ের ব্লার্ব নিয়ে, লেখকপরিচয় নিয়ে, প্রচ্ছদ নিয়ে! লেখকের ছবি চেয়ে পাঠানো হয়। লেখক নির্দ্বিধায় নিজের অসৌন্দর্য প্রকাশ করে ছবি পাঠায়। এই বয়েসে আর নিজেকে নিয়ে ফ্যান্টাসি থাকে না। ওপার থেকে কিন্তু অন্যরকম উত্তর আসে…

–কী অদ্ভুত রহস্যময় আর গভীর আপনার চোখ… নিবিড় ঘন চুল.. অনবদ্য।

মুগ্ধতা, সে তো আগেও বহুবার! তবু আশ্রয় জুটল কই! জুটেছে কেবল অধিকারবোধ, সন্দেহপ্রবণতা, স্বার্থপরতা, অবদমন আর যৌন আগ্রাসন। এমনকি পরকীয়াতেও পাওয়া যায়নি প্রেমের নিজস্ব পরিসরটুকু! তাই তো আজও রহস্যময়তাকে ঘুচিয়ে দিয়ে কারও আকাশ জুড়ে হেসে ওঠাই হল না! তবু মৌটুসী রঙ্গনের ফুটে ওঠায় না উড়ে পারে না। নীল ঝিলিক তুলে ঠোঁট ডুবিয়ে দিতেই হয় বৃন্তের গভীরে। মুহূর্তও যে জীবন রচে দেয়!

এরপর থেকে রোজই টুকটাক কথা চলতে থাকে। কথার মাঝে অল্প মজা হাসি! লেখক সকাল থেকে ধৈর্য ধরে থাকে কখন হোয়াটসঅ্যাপে ডাক আসে। একটি মাত্র ছবি আর গলার বিভঙ্গে যার অস্তিত্ব তাকে কল্পনা করা হতে থাকে দিনলিপি জুড়ে!

সেদিন সকাল থেকেই চুপচাপ। সাড়াশব্দ নেই।

ধৈর্যেরও তো ধৈর্য থাকে! অগত্যা…

–আজ কলেজ স্ট্রিট এসেছি।
–এই লকডাউনে বেরোলেন?
–পারমিশন আছে আমার।
–ও। কখন ফিরবেন?
–দেখি!

সন্ধেবেলা জানানো হয় যে ফেরা হচ্ছে।

–কোথায় থাকেন?
–দক্ষিণে।
–ও, তবে তো আমার বাড়ির কাছেই।
–তাই! আদি বাড়ি উত্তরে; মা আছে। আমরা যাতায়াত করি।

লেখক আর উত্তর দেয় না। স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে ভাবে আবার তবে বহুবচনের আঘাত!

অনেক রাতে লেখক লেখে, একটা বল্গাহীন কথা বলব?

–বলুন।
–লেখক আর প্রকাশকের প্রেম নিয়ে একটা গল্প লিখব।
–লিখুন না… লেখক। আপনি পারবেন।
–কিন্তু বহুবচনের আঘাত সামাল দেবে কী করে লেখক!
–তাতে কী! বেঁচে থাকা তো নিজের দুনিয়ায়, নিজের শর্তে! নিজের কাছে যা সত্য সেই তো একমাত্র সত্য!
–হুম।
–জানেন তো মানুষ আসলে ভালোবাসে নিজেকেই। সম্পর্ক থেকে সম্পর্কান্তরে সে গ্রন্থিত করে নিজেকেই!
–হুম।
–বাইরের পৃথিবীতে রয়েছে সামাজিকতা! ভিতরের আকাশেই তো মনের উদার বিস্তার!

লেখকের ইচ্ছে করে এক্ষুনি একবার প্রকাশকের সামনে দাঁড়াতে!

–গুটি কেটে বেরিয়ে আসুন লেখক! দেখবেন বারণ নিষেধ বলে কিছু নেই কোথাও। যা আছে মনে! সংস্কারের মতো গাঁথা আছে! ছিঁড়ে ফেলুন।
–বারবার সম্পর্কান্তর যে বড় ক্লান্ত করে!
–একটু ভালো করে ভাবুন তো! সমৃদ্ধও কি করে না! প্রতিটি বিষণ্ণতা কি কোনও এক সময়ে আলো হয়ে ফোটে না! আর আপনি তো লেখক! কলমের আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলুন সেসব আলো!
–হুম।
–নিন, এবার গুছিয়ে লিখে ফেলুন দেখি।

লেখা হয় শব্দ। শব্দ জড়িয়ে অনুভব। স্বরপ্রক্ষেপের অনুভব। দৃষ্টির গহীনে ডুব দেওয়ার অনুভব। শরীরী আসঙ্গের অনুভব। অদেখা প্রকাশের সুপ্তির অনুভব।

ওদের একদিন দেখা হবে। চুক্তিপত্রে সইসাবুদ হবে। বই প্রকাশিত হবে। হয়তো আরও লেখা হবে। আরও আরও প্রকাশ ঘটবে হাতে হাত মিলিয়ে। লকডাউন উঠে গেলেই কলেজ স্ট্রিটের নতুন পুরনো গন্ধ মেলানো অপরিসর বইঘরে দেখা হবে মুগ্ধ লেখক আর অভিজ্ঞ প্রকাশকের।

বন্ধুত্ব হবে হয়তো বা। সম্পর্কের গায়ে উঠবে ধীরে ধীরে আকাচা ময়লা শার্ট। হাসি, তর্ক, অপছন্দ, রাগারাগি সবই আসবে যাবে! শুধু যে কণ্ঠ চল্লিশ ছুঁইছুঁই হৃদয়ে অনুরণন তুলেছিল তা ডাক পাঠাবে কোন সুদূর প্রান্তর পেরিয়ে! সমাজ-মন উতলা হবে সে ডাকে! কোনওদিন হয়তো সাহসী ঝাঁপ ফেলে সাঁতরে পেরোবে দুর্গের পরিখা। অথবা হয়তো দূর থেকে শুনে দূর থেকেই মিলিয়ে দেবে শান্ত আশ্বাস! তবু ডাক থেকে যাবে! যুগে যুগে কালে কালে কিশোরী বা তরুণী, যুবতী বা মধ্যবয়স্কা কে যে কখন তার ডাকে মনের আকাশে উড়াল দেবে কেউ বলতে পারে না! তাই কান পেতে থাকা; ইশারারা বড় স্পর্শকাতর জেনেও পর্দা সরিয়ে রাখা! পুড়ে যাবে জেনেও উষ্ণতার আঁচ পোয়ানো!

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3545 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

2 Comments

  1. খুব ভালো লাগল৷ সব বিষাদ পেরিয়েও কোথাও যেন আশা জেগে থাকে… জেগে থাকে অনাগত প্রেমের চিরন্তন আভাস৷

Leave a Reply to হীরক সেনগুপ্ত Cancel reply