মুন্নী সেন

শিরোনামহীন

 

 

১.

তোমার নাম ধরে ডেকে উঠি

তোমাকে নয়

ঘুমের মধ্যে

ভোরবেলা, তবু, দরজার দিকে তাকিয়ে বুকের মধ্যে পায়রা ছটফট করে
অন্ধকারে বালিশ বিছানা পাড়ি দিয়ে কতবার আমি চলে গেছি তোমার ঘুমন্ত শরীরের দিকে
ফিকে লাল রঙের চাদর আরও ফিকে হয়েছে দীর্ঘদিন ভুল ব্যবহারে
তোমার মুখ হয়েছে রক্তশূন্য
তিনঘন্টা বাথরুমের আয়নায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি আমার চোখ চোখের কালিমা ভ্রূর পাশে তিল
তবু এই মুখ অত চিনি না যত চিনি তোমার শরীরের কানাগলি

এখন আমি ছয়শো কিমি দূরে জ্বরে কাঁপছি গায়ে নিয়ে খান পাঁচেক লেপ কম্বল

মেপে নিচ্ছি

লাল চাদরটির মতো কে আমাকে কতটা তাতাল—

 

২.

চুল ছেঁটে ফেলেছ তাই তোমাকে চিনতে পারছি না
আমার আর বসন্তের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে তোমার একটা হাতছানির অভাব
এমন একটাও লোক নেই যাকে চোখ বুজে বন্ধু বলে ডেকে উঠতে পারি
সবাই সিগারেট এগিয়ে দেয়
ফেলতে পারি না
ফেললে ভাবে অহঙ্কার
নিলে ভাবে সম্মতি
আমাদের নিয়মিত জীবনে সিগারেট এত বড় ভূমিকা পালন করে
তোমাদের করে না
চুল ছেঁটে ফেলেছ, তোমাকে আর মনে পড়ছে না
মনে পড়ছে কত কত বসন্ত হেসেখেলে নষ্ট করেছি
এর থেকেও বেশি অবহেলায়

 

৩.

একটা ফোকটে বাজে নেশা করে বাড়ি ফিরছি
যখন যাদবপুরের আকাশে সস্তার মেঘ উড়ছে
যখন বসন্তকাল থাপ্পড় মারছে উথাল পাথাল
আমি একটাই ফুল ছিঁড়ছি
আর তার সাথে আরও চারটে ফুল ঝরে যাচ্ছে
ফলে তাদের দায়ও আমার
আমার একটাই আগুন ছিল
আমি তার ভাগ তোমাকে দিয়েছিলাম
আজ দেখি
গাছে গাছে সেই আগুন ছেয়ে গেছে
আমি এখন সেই লোকটাকে খুঁজছি
যাকে নাইটগার্ড রোজ অকারণ সন্দেহ করে
শহরে বসন্ত এসে গেছে
আর, ফুল ঝরছে তো ঝরছেই…

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5304 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...