আনন্দপুর, নাজিরাবাদ: অনিয়ম, দুর্নীতি ও শ্রমিক-মৃত্যুর শুকনো পরিসংখ্যান…

অমর্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 


এর আগেও যখন ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে বারংবার বিষাক্ত গ্যাসে সাফাইকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, আমরা কি কোনওরকম সংগঠিত প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলাম? আমরা কি আদৌ, ঘটনাগুলো মনে রেখেছি? আমরা আমরি-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত মনে রেখেছি বোধহয়, আগুনে দমবন্ধ হয়ে মরলেও, হাসপাতালের বিল না মিটিয়ে কোনও রোগী যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য একাধিক দরজা কর্তৃপক্ষের তরফে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আজ আনন্দপুরের ঘটনাতেও যখন প্রশ্ন উঠছে, আগুন লাগার পরেও শ্রমিকেরা পালাতে পারলেন না কেন? গুদামের দরজা কি বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়েছিল? এ-ধরনের অপ্রিয় প্রশ্নেরই বা আজ যথাযথ বিচার হবে কি? এই সব প্রশ্ন কি যথেষ্ট জোরের সঙ্গে সমাজের সর্বস্তর থেকে উঠে আসবে? যেমনটা আমরা অন্তত প্রযুক্তি-কর্মীর বেলায় কিয়দংশে, কিছুকাল আগেই সমাজ-মাধ্যমে দেখে এসেছি

 

নিয়ম না মানাটাই এদেশে অভ্যাসে পরিণত। তা সে স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ডই হোক অথবা আনন্দপুর। অবশ্য আমার চোখে পড়ল অন্য আরেকটি ঘটনা। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার, (পড়ুন কর্পোরেট খাদ্যপ্রস্তুতকারী সংস্থার) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি। সেই বিবৃতিতে অবশ্য অনেক কথাই বলা হয়েছে, আন্তরিক সহানুভূতি, সহমর্মিতা, সমবেদনা— ইত্যাদি। তারই সঙ্গে পরিবারপিছু দশ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ, অবসরের বয়স অবধি মাসিক মাইনের আশ্বাস, সন্তানের শিক্ষার খরচ— খাদ্যপ্রস্তুতকারী সংস্থাটি তাদের তরফে এমন সব ব্যবস্থাই সুনিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে। তবে কেবল, মৃতের সংখ্যাতেই কিঞ্চিৎ গলদ থেকে গেল বোধহয়…

খাদ্যপ্রস্তুতকারী সংস্থাটির বক্তব্য অনুসারে অগ্নিকাণ্ডে তাদের সংস্থার মোট দুজন কর্মী ও গোডাউনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। অথবা, মোট মৃত্যুসংখ্যার নিরিখে এই তিনজনকেই মাত্র সংস্থাটি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। এই বিবৃতির মাধ্যমে কার্যত প্রথম থেকেই সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য গোডাউনটিতে (যেটি থেকেই প্রথম আগুন ছড়িয়েছে বলে কর্পোরেট সংস্থাটির অভিমত) আগুনে ঝলসে যাঁরা মারা গেলেন তাঁদের দায়িত্ব নিতে স্বভাবতই সংস্থাটি অপারগ। এতে হয়তো নৈতিকভাবে জনগণেরও কিছু বলার নেই, (নৈতিকভাবে আমরা আদৌ কিছু বলার জায়গাতে রয়েছি কি?)— বরং বিশেষ করে নামজাদা সেই খাদ্যপ্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে জারি করা সেই ‘মার্জিত’ বিবৃতিটিতেই আমরা আরেকটিবার চোখ বুলিয়ে নিই চলুন।

 

প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আটচল্লিশ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এই বিবৃতি এসেছে। ঠিকই পড়েছেন, ২৬ জানুয়ারি ভোর তিনটেয় গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি, দুপুর তিনটেয় সংস্থার তরফে সামাজিক মাধ্যমে প্রথম বিবৃতি দেওয়া হয়। মূল ঘটনার কমবেশি ষাট ঘণ্টারও বেশি সময় ততক্ষণে অতিক্রান্ত, এবং— যেটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, একই সময়ে সামাজিক মাধ্যমগুলিতে সংস্থাটির বিরুদ্ধে নাগরিক বয়কটের দাবি তখন ক্রমশই জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে, এই বিবৃতি কি আদৌ সংস্থাটির তরফে সদিচ্ছার প্রকাশ? নাকি জনরোষের মুখে পড়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায়, সংকট-প্রতিরোধে ‘সেফটি-ভালভ থিয়োরি’র প্রয়োগ?

আরও দৃষ্টিকটুভাবে যেগুলি চোখে পড়ে,

  1. দশ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার যে অংশটি, ইংরেজিতে লিখতে গিয়ে সরাসরি লেখা হয়েছে, “a lum-sum compensation”। শব্দবন্ধটি থোক-অর্থে ব্যবহৃত— কিন্তু তার বানান ‘lum’ নয়, বরং সীমিত ইংরেজি-জ্ঞানে জানি, ‘lump-sum’ কথাটিই বোধহয় ব্যাকরণ-স্বীকৃত।
  2. এর আগে লেখা হয়েছে “we solemn to ensure”। ‘solemn’ বিশেষণ পদটির এমন ক্রিয়া-রূপে ব্যবহার আমার কাছে অন্তত অজ্ঞাত। ইংরেজি অভিধান অথবা ব্যাকরণ বইতেও এমন ব্যবহারের কোনও উদাহরণ খুঁজে পেলাম না।
  3. সবশেষে লেখা হয়েছে, “we are doing everything to support and co-opeperate with…”

অর্থাৎ এমন স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে, দেশব্যাপী ব্যবসা-করা একটি কর্পোরেট সংস্থার তরফে সামান্য একটি সহমর্মিতা-প্রকাশক বিবৃতি জারি করার ক্ষেত্রেও, যে আদতে কতখানি দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব, ও হাবেভাবে কেবলই দায়সারা কর্তব্যপালনের ইঙ্গিত— কেবল ফেসবুকীয় জনরোষ প্রশমনেই যে এই বিবৃতি প্রচারিত, এরপর সেই নিয়ে আর মনে কোনও সন্দেহ রইল না।

‘আন্দোলন করে কিছু হওয়ার নয়’— এই বোধ ২০১১/২০১৪-পরবর্তী ভারতবর্ষে, ভারতীয় জনগণের মজ্জায়-মস্তিষ্কে রীতিমতো নিখুঁতভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবু আমরা ভুলে যাই সংগঠিত জনরোষের কারণেই,

  1. সাম্প্রতিক আরাবল্লী-রায় পুনর্বিবেচনার জন্য গিয়েছে,
  2. ধর্ষণকারী কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন বাতিল করা হয়েছে, সর্বোপরি
  3. আনন্দপুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাটির তরফে, দায়সারা হলেও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি আদায় করা গিয়েছে।

কিন্তু এতটুকুতেই কি আমাদের দায়িত্বের অবসান? আনন্দপুরের ঘটনার দিকে আবারও চোখ ফেরাই।

ইতিপূর্বে স্টিফেন কোর্ট (২০১০) ও আমরি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা (২০১১) আমরা দেখেছি। প্রথম ঘটনাটির সময় বিরোধী নেত্রী, পরবর্তী সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখনও ক্ষমতার শীর্ষস্থানে আসীন। দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণ-বণ্টন ভিন্ন দোষীদের কারও এতটুকুও শাস্তি হয়েছে বলে স্মরণে আসছে না। উল্টে আড়ে ও বহরে বেসরকারি হাসপাতালটির ব্যবসা বেড়েছে। মালিকানায় হাতবদল ঘটেছে। কোভিড-সময়ে যথেষ্ট পরিমাণে সরকারি সুবিধা ও ব্যবসার সুযোগ জুটেছে। অন্যদিকে স্টিফেন কোর্ট যথানিয়মে ‘বাম-আমল’ ও ‘৩৪ বছরের’ চেনা অজুহাতের খাতায় আড়ালে থেকে গিয়েছে। শতাধিক মানুষের পরিবার— তাঁদের সম্বল বলতে আজ, ২০২৬ অবধি, কেবল ব্যাঙ্কের খাতায় ফুরিয়ে আসা ক্ষতিপূরণ, বুকভরা রাগ-ক্ষোভ-অন্ধকারের এক নিয়মিত শূন্যতা যাপন।

আনন্দপুরের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখনও নির্দিষ্ট নয়। কতজন মৃত ও কতজন নিখোঁজ, এই লেখার সময় অবধি সরকারি তরফে সেই বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট বিবৃতি আসেনি। মৃতের সংখ্যা কুড়ি ছাড়িয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত তেইশ, অথবা তার চেয়েও বেশি বলে নানা মহল থেকে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়…

বিশ্বাস করবেন? অসহায়তা শব্দটিকেই ক্রমশ ঘৃণার আঁস্তাকুড়ে পাঠাতে ইচ্ছে হয়। আত্মগ্লানি শব্দটিকেও ক্ষতস্থানে অগ্নিশলাকা-তুল্য কষ্টকর মনে হয়। চুপ করে থাকতে ইচ্ছে হয়। হয়তো বা আত্মঘাতী হতেও… হয় না বলুন?

আমরা আদতে মোমবাতি-বিলাসীর দল। আমরা হয় অনেককালের পুরনো, এমন বইমেলার সময়েই ঘটে যাওয়া চিংড়িঘাটা-দুর্ঘটনার স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ দেখে ভীত ও আশঙ্কিত হই। অথবা আনন্দপুরের ঘটনায় মোমবাতি জ্বালাই। (যদিও এখনও অবধি তেমন সংগঠিতভাবে মোমবাতি জ্বলারও কোনও খবর নেই)

তারপর?

এই আমাদের মতো কয়েকজন, লিখি-পড়ি, সমাজে অথবা সংবাদ-মাধ্যমে বিবৃতি সাজাই। এই আমাদের একটিমাত্র সুখ, একটিমাত্র বিদ্রোহ-যাপনের অবকাশ। শ্রেণি-পরিচয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ জানেন? আজ এই প্রসঙ্গে, সেই বিষয়টিকে নিয়েই বরং দু-চার কথা বলার সময় এসেছে।

কিছুদিন আগেই নয়ডা-নিবাসী এক প্রযুক্তি-কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়ে আপনারা সকলেই কমবেশি অবহিত। সেই মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে, (যদিও তদন্তে সাফল্য বা কোনওরকম রহস্য-উদ্ঘাটনের বিষয়ে সে রাজ্যের প্রতিভা ইতিমধ্যেই বহুবার সংবাদ-শিরোনামে আলোচিত), এবং ‘প্রযুক্তি-কর্মী’ হিসেবে মৃতের সামাজিক (পড়ুন, শ্রেণিগত) অবস্থানকেও যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে বিবিধ পরিসরে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের চেনা-পরিচিত বহু মানুষও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এহেন শ্রমিকমৃত্যুর ঘটনা? আমরা কি একজনও শ্রমিকের নাম এই প্রসঙ্গে স্মরণে রাখব?

এর আগেও যখন ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে বারংবার বিষাক্ত গ্যাসে সাফাইকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, আমরা কি কোনওরকম সংগঠিত প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলাম? আমরা কি আদৌ, ঘটনাগুলো মনে রেখেছি? আমরা আমরি-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত মনে রেখেছি বোধহয়, আগুনে দমবন্ধ হয়ে মরলেও, হাসপাতালের বিল না মিটিয়ে কোনও রোগী যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য একাধিক দরজা কর্তৃপক্ষের তরফে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আজ আনন্দপুরের ঘটনাতেও যখন প্রশ্ন উঠছে, আগুন লাগার পরেও শ্রমিকেরা পালাতে পারলেন না কেন? গুদামের দরজা কি বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়েছিল? এ-ধরনের অপ্রিয় প্রশ্নেরই বা আজ যথাযথ বিচার হবে কি? এই সব প্রশ্ন কি যথেষ্ট জোরের সঙ্গে সমাজের সর্বস্তর থেকে উঠে আসবে? যেমনটা আমরা অন্তত প্রযুক্তি-কর্মীর বেলায় কিয়দংশে, কিছুকাল আগেই সমাজ-মাধ্যমে দেখে এসেছি।

আজ, অন্য যে গুদাম থেকে প্রথম আগুন ছড়িয়েছিল বলে (তদন্তের মাধ্যমে আমরাও, সবটুকু সত্যি জানার অপেক্ষায় রয়েছি) একাধিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, তার মালিক গ্রেপ্তার হলেও জলাভূমি অঞ্চলে লাগাতার এমন গুদামঘর গজিয়ে উঠতে পারল কী করে, সেই বিষয়েও প্রশাসনিক তরফে কোনও সদুত্তর নেই। খাদ্যপ্রস্তুতকারী কর্পোরেট সংস্থার গুদাম অথবা অন্য গুদামটিতেও কোনওরকম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না, এই আলোচনাও তো এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অসার হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে আস্ত গুদামগুলিরই অস্তিত্ব অসম্ভব, সেখানে গুদামের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে তো কোনও আলোচনা বা তর্কবিতর্কই, যুক্তি-নির্ভর আলাপে এতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হল,

১) বাংলাদেশের কোনও ঘিঞ্জি কারখানায় যখন সমতুল অগ্নিকাণ্ডে এমন শ্রমিকমৃত্যুর ঘটনা ঘটে, আমাদেরই সহনাগরিকদের একাংশ তখন তাই নিয়ে লাগামহীন বিদ্বেষ, অপর্যাপ্ত পরিমাণে শ্লাঘা ও অশালীন কুৎসায় লালায়িত হয়ে ওঠেন। কারণ, তাঁদের শেখানো হয়েছে, বাংলাদেশিরা আমাদের প্রতিপক্ষ, দুশমন, মানুষ-নামধারণের অযোগ্য।

২) এমন একেকটি ঘটনার পরেও আমরা স্পষ্ট, তীক্ষ্ণ প্রশ্নের বিপরীতে, গা-গরম করা রাজনৈতিক কথাবার্তা আমাদের আলোচনায় তুলে এনে সময়ের রোদ পোহাই। কারণ, আমাদের প্রতিক্রিয়া অনেকাংশেই নির্ভর করে আমাদের রাজনৈতিক আনুগত্যের রঙের তারতম্যের উপর।

৩) সাদা কলারের বাবুরা, যদিবা আমাদের সমাজে মনুষ্য-নামধারণের যোগ্য বলে বিবেচিত হন, তথাকথিত ‘অশিক্ষিত’ কৃষক-শ্রমিকের দল (দক্ষ/অদক্ষ শ্রমিকের ধারণা কেবল মানবসম্পদ-বিভাগের জাবেদা খাতার প্রয়োজনে), তারা এদেশে কেবল নীরস সংখ্যার হিসেবেই বিবেচিত। কারণ, শ্রেণিগত পরিচয়ই এখনও, এদেশে মানুষ হিসেবে কার কতখানি ব্যক্তিগত সম্মান প্রাপ্য তা নির্ধারণ করে। আমার এক ফেসবুকীয় বন্ধুর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল। বন্ধুটি লিখেছিল, “যতদিন আপনি চামার শব্দটিকে গালাগালি হিসেবে ব্যবহার করবেন, ততদিন আপনার শ্রেণিবোধ সম্পূর্ণ হয়নি বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।”

এহেন ত্রিগুণান্বিত-সমাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, মোমবাতি-মিছিলের চেয়ে বড় কিছু আশা করাটাই তো অনুচিত বোধহয়। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন— সেসব তো অনেক বড় ব্যাপার, সংগঠিত কোনও প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদে অংশ নেওয়া? সেও তো বড় রাজনৈতিক! তার চেয়ে বরং আমার বইমেলা থাকুক, আর হ্যাশট্যাগে থাকুক বয়কটের ডাক। নিজস্বী মিছিল, অথবা ফেসবুকে লম্বা বক্তব্যের সতর্কতা।

এই বেশ ভালো আছি।

আমরা তো লাইনেই থেকেছি বহুকাল।

লাইন ছেড়ে বেরোবার আমাদের দুঃসাহস হয় না।

ডিজিটাল স্কোরশিটে কেবল ‘মৃতের সংখ্যা’ বেড়ে যায়।


*মতামত ব্যক্তিগত

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5272 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...