পীযূষকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রাকবসন্তে …

গুঞ্জে ওঠে চড়…
হতভম্ব সভাস্থল। চিত্‍কার ওঠে -‘খোঁচর খোঁচর!”

স-মাইক হট্টগোল, শশব্যস্ত অধুনা বাবু’রা
মাটিতে লুটায় দেহ, ভক্তদের পায়ে
কালচে রক্তের দাগ, ভক্তিমান প্রতিশোধে
মথিত গাঁদা’র ফুল, মৃত রাধাচূড়া।

যতোটা বিক্ষোভ ছিলো মনে, যতখানি ভয় –
যতোটা হতাশা ছিল আরোপিত সভ্যতার দায়ে
ইতস্ততঃ তলপেটে চেপে ধরা পায়ে
লাঠি দিয়ে খোঁচানো অস্থানে
তেমন হলো কি জোর? কে জানে কে জানে!

নরমেধ নিশ্চিত আহুতি চায়
বলি খোঁজে হোতা
সরল বিশ্বাসে তাই চেয়েচেয়ে দেখছে দেবতা।
মুগ্ধনেত্র, পরাক্রমশালী সেই অধরের কোণে
সদম্ভে হাসিটি ঝোলে অতীব গোপনে।
অর্থটা ভীষণ স্পষ্ট – দেবতা ও মানুষে ফারাক
যারা তা বোঝেনা – তারা চুকেবুকে যাক।

এই মন্ত্রে উত্‍সাহিত ভক্তরা আকূল
কারো নখে চামড়ার কুচি, কারো হাতে ছিঁড়ে নেওয়া চুল
এই ফাঁকে যদি কিছু কৃপাভিক্ষা জোটে
সেই লোভে – কেউ মুখে থুতু দিল
স-বুট পা’খানি কেউ ঘষে দিলো ঠোঁটে
প্রতিবাদে মুখর সবাই
প্রতিবাদে লালিত বা প্রতিবাদে হালাল জবাই।
কে যে কাকে মারে …
শীতের আমেজ থেকে পার্থক্য’রা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে

খবরেরা বাসি হয়। কিছুদিন পর
খবরে প্রলেপ পড়ে অন্য কোনো খবরের,
শোনা যায় আরেক খবর।
আবার মরেছে ভক্ত অন্য কোনো জয়ে
দেবতা অটুট থাকে নৈবেদ্যেমাখানো
ভিন্ন নাম‚ ভিন্ন পরিচয়ে।

 

আমাকে বাঁধবে সাধ্য কার

আমি মুর্খের পৃথুলা জেদের দাঁতে চেপে ধরি কুকুরের রুটি
স্বজন-হারানো হাহাকার শুনে নিষ্ঠুর ভাঁড় হেসে কুটোকুটি

হুড়োহুড়ি করি, ছুটেছুটে যাই, এখানেওখানে খুঁজব পিতাকে
পিয়ানো বাজাব, মঞ্চ বানাই আধঝলসানো মায়ের চিতাকে।

কবিতা আসেনি, শখে খুলে ফেলি সৌখিন-সিল্ক কাপড়চোপড়
ধর্ষণ শেষ, একা বসে আছি পুরোনো প্রেমের লাশের উপর।

খুঁচিয়েখুঁচিয়ে ভিতরে আসীন পোষমানা শত সাপকে রাগাবো
মৈথুন শেষে বীর্যের দাগ গীতার খাস্তা পাতাতে লাগাব।

হাতপা ছুড়ছি, অদম্য-কাম গজগজে রাগে ঢুকে যাবো পাঁকে
পেটে ভাত নেই, ধেনো-বুঁদ হয়ে খিস্তি দিয়েছি রাষ্ট্রের মা’কে।

সঞ্চয়িতার পাশে রেখে দেব স্বরচিত যত পানুর সিরিজ
(আমি) বন্ধুর বুকে থ্রি’নট’থ্রি দাগ,তলপেটে
বাঁট-লাগানো কিরীচ

গৈরিক ধরা, বাবরীশোভিত কাটামাথা এনে ল্যুভ্রে ছুটব
শিউলিদলন পীত-দাগ হবো, সফেদ দেওয়াল জুটিতে লুটবো

ইতিহাস খুঁড়ে তুলে আনবোই রাষ্ট্রপিতার যৌনসফর
আমি আইনের ফেলে যাওয়া মৃত জারজতন্ত্রী মৌন নফর
কবিতা পোড়াবো, শেষ করে দেবো কলেজ
স্ট্রিটের বইয়ের দোকান

বেঁচে থাকা মানে বেশ্যাবৃত্তি, চমকাবে তাকে আমার শ্লোগান

রক্তচক্ষে বিদ্যাদেবীর স্তনের ভাঁজেই
তাকিয়ে থাকব
অপাপবিদ্ধ হাওয়া ফেলে দেবো, দুষিত শোণিত দু গালে মাখবো

খোয়াওঠা রোডে বনফুল হবো সংখ্যাগুরুর মিছিলের আগে
হবো বালিকার গুপ্ত-বাসনা ঋতুস্রাব হওয়ার কিছু আগেভাগে।

পাগলা গারদ ভেঙেচুরে দিয়ে বইয়ে দেবোই প্রেমের বাতাস
প্রতিটি ধনীর গ্রিল ভেঙে দিয়ে খুলে দেবো পোষা কুকুরের ফাঁস।

প্রতি-কবিতার বুকে লিখে দেব, প্রেমের কবিতা; আদরে জড়াও।
ছুরি ফেলে তুলি তুলে নেব যদি একবার শুধু মুখ তুলে চাও।

 

জীবন

জীবন নিছক জি বাংলা নয়‚ কালিদা
জীবন বড় খামখেয়ালি‚ গভীর।
ইঁদুর‚ পেঁচা‚ মাঠ‚ নদী‚ রূপশালি ধান
নিমগ্নতার বিমূর্ত জলছবি।

জীবন মানে সন্ধ্যা হলো। নিজের
কাজের শেষে আমরা যারা সিঁড়ি
ভাঙতে ভাঙতে রক্তে‚ ঘামে ভিজে
বাসা’য় ফেরা’র মতোন প্রেমে ফিরি।

খেলাচ্ছলে ভালো থাকা’র প্রলেপ
মাখছি গায়ে; হঠাৎ কী এক তাড়ায়
জীবন মানে “আমাকে নাও!” বলে
আমরা যখন ট্রামলাইনে দাঁড়াই!!!

 

পলায়নী…

বুকের মধ্যে চুইঁয়ে পরে অলখ ব্যথার এক আধ কণা।
… মন্দ থাকা’র দু-হাত আগে
আমপাতাটির চিকন এসে মর্মে লাগে।

এখন হয়ত মেঘলা চাঁদের বিবর্ণ মুখ
ওজোন ঘেঁষা ইষৎ অসুখ
…ক্রমাগত
ঘুমের মধ্যে হাত, পা ছুড়ছে তোমার মতো
আদিম কোনো অলক্ত-রাগ।
কালসিটে, না চিরন্তনী ব্যথার পরাগ?

যে সব স্মৃতি মুখের ছাঁচে পথ চলাকেই উসকে দিতো
সে মোড়গুলো এখনও প্রায় অনতীত।
বুক পোড়া ছাই, অনভ্যাসের বোতাম খোলা, ভীষণ পাতি
তোমায় চাওয়া এক ধরনের প্রত্যাঘাত’ই।

এইযে তুমি গা দুলিয়ে তুমুল হাসছ রানির মতো
কান্নাগুলো জমিয়ে রাখছো নিয়ত সাবধানীর মতো
এইযে স্বচ্ছ শাড়ির ফাঁকে অন্যরকম আলতামিরায়
আরোহ দেয় ভুল ইশারা। কিশোরি রাই
সন্ধিপুজোর একটু আগে আঁচলা খসি
পড়লো, তোমার বয়স ষোলো, একটু তোমার পাশেই বসি?

কিংবা এখন তোমার বয়স ত্রিশ পার হয়ে
একত্রিশের ঘাটের দিকে যাচ্ছে বয়ে
চোখের নিচে মেঘ করেছে
অতীত প্রেমের দাগ পড়েছে।
কান্নাগুলো লুকিয়ে রাখো খুব গোপনে
কানাঘুষো’য় প্রায় শোনা যায়‚ তোমার মধ্যে
তেমন কোনো রহস্য নেই।

এইযে শোনো, সদ্য রঙিন ব্লাউজ কেনা স্টেনোগ্রাফার
রঙের নিচে ছেঁড়া ব্রা’য়ের গল্প শুনে লাভ কী আমার?
অফিস ফেরৎ আমার সাথে বাইরে যেতে
বরং কিছু উপরি পেতে!

কী যায় আসে খুবলে খেলাম একটু নরম হাসির ফাঁকে?
এমনিতেও তো ওসব গুলো ঢাকা’ই থাকে।

ধুঁকতে ধুঁকতে গর্তে ফিরছ; বাঁচার তাড়া
তোমার প্রেমের আগের স্টেশন অফিস-পাড়া।

 

প্রেমিক

এখনো তোর দুধের দাঁতে বিষ জমেনি
হতচ্ছাড়ি‚ তাও ওদিকে যাস নে ফাঁকায়
হাঁ করে দ্যাখ তাকিয়ে আছে প্রেমিক শ্রেণী
একটু খাটো স্কুলের ড্রেসে সব বোঝা যায়!

অতর্কিতেই চাপ পড়ে বুক‚ ওষ্ঠ‚ গালে
স্নেহের ছলে আদর তবু জমছে না ঠিক।
চালগুদামের অন্ধকারে‚ অন্তরালে
একলা পেলে পাড়ার কাকাও দারুণ প্রেমিক!

হলদেটে চাঁদ ডিগবাজি খায় কেবল তারে
হতচ্ছাড়ি‚ আজ কি তবে ফিরবি না‚ ঘর!
স্কুলের পথে‚ বন্ধ-গলির অন্ধকারে
ঘোগের মতো ওত্‍ পেতেছে হাজার নাগর!!

 

 

(ছবি: ইন্টারনেট)

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3048 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...