মৃন্ময় প্রতিহারের লেখা

মৃন্ময় প্রতিহার 

 

কোথায় যেন একটা আনন্দ অনুভব করছি। ক্রিকেটে হার। হ্যাঁ, আনন্দই হচ্ছে। যে খেলাটা আমাদের কৈশোর যৌবনের অনেকটা মূল্যবান সময় স্রেফ টুপি পরিয়ে কেড়ে নিয়েছে, তার পরাজয়ে আনন্দ তো হবেই। যে খেলাটা তার চরম আগ্রাসী বাজারি বহুজাতিকের মিথ্যে দিয়ে ভারতের ধর্ম করে বাকি সব খেলার চরম সর্বনাশ করে ছেড়েছে, তার খারাপ দিনে আমার আনন্দ পাবার কারণ তো আছেই। না, ক্রিকেট ভারতবাসীর ধর্ম হতে পারে না। শচীন কারও ভগবান হতে পারে না। নিছক একটা বড় প্লেয়ার, এমন একটা খেলার যেটা মেরেকেটে কুড়িটা দেশ হয়ত বা খেলে। এবং তাতে অর্থ যা পায়, যা এন্টারটেন করে গেছে অন্য খেলার সাপেক্ষে তা বহু বহু বহু গুণ বেশি। এই বোধটা আমার এসেছে অনেকটা সময় অপচয় করে ফেলার পর। কি পাগলামিটা না করেছি! তখন ভাবতেও পারতাম না, আমার আবেগ, কোটি কোটি দেশের লোকের আবেগ নিয়ে কোটি কোটির ব্যবসা চলছে। মূল কুশীলব আমাদের নায়করাই। যে আউট নিয়ে নাচানাচি করেছি, পরে জানলাম সেটা টাকা নিয়ে করা। অপমানিত হলাম, রক্তাক্ত হলাম। টিম ইন্ডিয়া, টিম ইন্ডিয়া। কিসের টিম ইন্ডিয়া!! যখন ভারতীয় ক্রিকেটের ঘুঘুর বাসা ভাঙতে সরকার হস্তক্ষেপ করতে চাইল, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বিসিসিআই বলেছিল, দেশের সরকারের এতে এক্তিয়ার নেই, এটা বেসরকারি সংস্থা, স্বয়ংশাসিত। তাহলে টিম ইন্ডিয়া কেন বলব? টিম বিসিসিআই নয় কেন? ইন্ডিয়া নামটা ব্যবহার হবে শুধু দেশ নিয়ে আমাদের আবেগের ফয়দার জন্য?? যেমন কলকাতা নাইট রাইডার্স? যেমন আতলেটিক কোলকাতা? যেখানে কোলকাতার একটা প্লেয়ার নেই? মালিকও বাইরের? নামটা শুধু আবেগের ব্যবসার জন্য???

আনন্দিত এই জন্য, এমন একেকটা হারে কিছু মানুষের চোখ খোলে। কিছু মানুষের মোহমুক্তি হয়। কিছু মানুষ ওই পাগলামি থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিজের উন্নতিতে সময় দিতে পারে। ওতেই নিজের মঙ্গল। সামগ্রিকভাবে দেশের মঙ্গল। ইন্ডিয়ার নাম ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করে মুনাফা লুটছে তাদের থেকে মুখ ঘোরানোই প্রকৃত দেশপ্রেম। খেলার মাঠে তেরঙ্গা নিয়ে নাচানাচি করেই দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়ার শেষ জায়গা নয়। আজকাল দেখেছেন? শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা আর বাদ নেই। সারা বছর চলছে এই উৎসব!! আগের মতো ভাগ্যিস আর মানুষ খেলার দিন রাস্তাঘাট ফাঁকা করে অঘোষিত বন্ধ করে না। আরও, আরও সর্বনাশ হোক এই খেলাটার। মনে পড়ে? স্টার টিভির মালিক মরেছিল বলে ভগবান শচীন বাকিদের কালো ব্যান্ড পরিয়েছিল? লোকটা যে ভারতীয় ক্রিকেটেরও মসীহা ছিল, আর শচীনের মূল প্রোমোটার। দেখি কাটলে ভগবানেরও রক্ত বেরোয়। আর যদি বেরোয়ই, তাকে আর ভগবানই বা বলি কেন? অসাধারণ খেলাটা খেলেছে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকাও তো কামিয়েছে, আজও কামাচ্ছে। সব্বাই। খেলাটা খেলা থাকলে এত কথা ছিল না। ওটাকে আমাদের ধর্ম হিসাবে প্রচার হচ্ছিল কিনা। লোকে যত তাড়াতাড়ি এটা বোঝে তত মঙ্গল। হ্যাঁ, থ্যাঙ্ক গড। আই পি এল আসার পর থেকে খেলাটা আমি দেখি না।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3608 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...