ভারতের অস্ট্রেলিয়া জয়— এমনটা আর হয়নি

অভিনব দাশগুপ্ত

 



ভোজনরসিক, কাফে-মালিক, গোয়েন্দা উপন্যাস, ক্রিকেট ও সিনেমাভক্ত

 

 

 

টেস্ট সিরিজ ভারত আগেও অস্ট্রেলিয়ায় জিতেছে, ২০১৮-য়। একজন সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে সেই সিরিজটি খুবই গুরুত্ববহ হলেও বিশুদ্ধবাদীরা নাক সিঁটকে থাকেন, কারণ ভাঙাচোরা সেই অস্ট্রেলিয়া দলটির বোলিং লাইন-আপ বিশ্বমানের হলেও ব্যাটিং ছিল একেবারেই আনকোরা এবং মধ্যমানের। দলের দুই মূল ব্যাটিং স্তম্ভ, স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার স্যান্ডপেপারগেটের শাস্তিস্বরূপ এক বছর দলে নির্বাচিত হননি, এবং এই এক বছরকালের মধ্যেই এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়। তায় যে ড্রপ ইন পিচগুলো সেই সিরিজে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোয় অস্ট্রেলিয়ায় যে স্বাভাবিক গতি ও বাউন্স আশা করা হয়, তা মোটের উপর ছিল না। তাই ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয় হলেও, মন ভরেনি।

এবারে হিসেব একটু আলাদা ছিল। সিরিজের আগেই শোনা যায় বিরাট কোহলি একটার বেশি টেস্ট খেলবেন না, স্ত্রী অনুষ্কা ঐ সময়েই সন্তানসম্ভবা। আইপিএল-এ চোট পেয়ে দলের ওপেনার রোহিত শর্মা এবং বোলিং স্তম্ভ ইশান্ত শর্মার অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও তখন মেঘাচ্ছন্ন। ভারতীয় দলের আঙ্গিক দিয়ে দেখলে, রোহিতের থেকেও ইশান্তের না থাকা অনেকটা বেশি চিন্তার হয়ে দাঁড়ায়, কারণ ইশান্ত শুধু যে বিগত চার পাঁচ বছরে বিশেষ করে বিদেশ সফরে খুব সফল ছিলেন তাই নয়, গত ১৪ বছরে বহুবার অস্ট্রেলিয়া সফর করায় এই সমস্ত পিচে যে অভিজ্ঞতার ডালি নিয়ে আসতেন, তা থেকে দলের বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। উল্টোদিকে অস্ট্রেলিয়া দলে ওপেনিং পজিশন নিয়ে একটু সমস্যা ছিল, বহুদিনের ওপেনার জো বার্ন্স প্রচুর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি, তাই তিনি খেলবেন, নাকি ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় তৈরি করা তরুণ উইল পুকভস্কিকে খেলানো হবে, এই নিয়ে ছিল তর্ক। এসবই সিরিজ শুরু হওয়ার আগের আলোচনায়, বিতর্কে উঠে এসেছে। এবং তুল্যমূল্য বিচারে, বার্ন্স যদি বাদ পড়তেনও, তাহলেও তা বিরাটের না থাকার সঙ্গে তুলনীয় নয় তা বলাই বাহুল্য। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের পূর্ণ দল নিয়ে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছিল। ভারত আসছিল একটি দুর্বল দল নিয়ে। যে সিরিজের তিন চতুর্থাংশ ম্যাচে ভারত কোহলিকে পাচ্ছে না, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা বা নিউজিল্যান্ডের মত কোনও দেশে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে, সেখানে কেউ ভারতের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হবে না। কোহলির গুরুত্ব এ দলে অপরিসীম।

তা কোহলি যেটুকু থাকলেন, তাতেও বিশেষ কিছু করতে পারলেন না। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে অল আউট হয়ে লোক হাসাল, এবং তিনি দেশে ফিরে এলেন। এবং এই ৩৬ অল আউটই সেই অনেকগুলি প্রেক্ষাপটের অন্যতম, যেগুলির জন্য ২০২০-২১এ ভারতের অস্ট্রেলিয়া থেকে ২-১ সিরিজ জিতে আসাকে দেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ টেস্ট সিরিজ জয় বলা হচ্ছে। সেগুলোয় একে একে আসব। তার আগে দেখে নিই ভারতের ৮৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেট খেলার ইতিহাসে মোটামুটি ঐকমত্যে শ্রেষ্ঠ টেস্ট সিরিজ জয় কোনগুলিকে ধরা হয়।

১৯৭১এর ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গাভাস্কারের উত্থানের আলোকে ওয়াদেকারের অধিনায়কত্বে সিরিজ জয়; ১৯৮৬র ইংল্যান্ড; এবং ২০০১এ ঘরের মাঠে পৃথিবীর ইতিহাসের তিনটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী দলের একটি যাদের ধরা হয়, সেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানো— এগুলিই যে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব, তা নিয়ে এতদিন বিশেষ তর্ক ছিল না। ঘরের মাঠে হলেও ২০০১-এ অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ভারতীয় ক্রিকেট রূপকথায় আলাদাই জায়গা করে নিয়েছে। আগেই বললাম স্টিভ ওয়-র অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলির অন্যতম। ১৫টি টেস্ট পরপর জিতে স্টিভ ঘোষণা করেছিলেন ভারত হল ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’। এর আরও কারণ ছিল। ১৯৬৯-৭০এ ববি সিম্পসনের দল এদেশে সিরিজ জিতে যাওয়ার পর ৩২ বছরে অস্ট্রেলিয়া বহুবার এসেছে, এবং খালি হাতে ফিরেছে। তাই ভারতকে ভারতে হারিয়ে ষোলকলা সম্পূর্ণ করতে স্টিভ যে বদ্ধপরিকর ছিলেন তা প্রশ্নাতীত। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন পূর্ণশক্তির দল। এদিকে ভারত ঘরের মাঠের সমস্ত সুযোগসুবিধা পেলেও দলে পাচ্ছিল না তাদের ঘূর্ণি পিচের মূল ম্যাচ উইনার অনিল কুম্বলেকে। তাঁর জায়গায় দলে ঢুকে হরভজন ৩ ম্যাচে ৩২ উইকেট নেবেন সেটা তখন কেউ জানত না। তাই কুম্বলে না থাকায়, অস্ট্রেলিয়া দলের শক্তি যাই থাকুক না কেন, ঘরের মাঠে খেলা হলেও ভারত ফেভারিট হিসাবে সিরিজ শুরু করেনি। তারপর আবার মুম্বাইয়ে, প্রথম টেস্টে, অস্ট্রেলিয়া দাপটের সঙ্গে জিতে নিজেদের বিশ্বজয়ী তকমা এবং গরিমা দুই-ই অক্ষুণ্ণ রাখে। এর পর যা হয় তা ইতিহাস। হরভজন এবং লক্ষণের উত্থান, এবং বাকিদের লড়াই পারতপক্ষে যা অসম্ভব মনে হয়েছিল, সেটাকেই সম্ভব করে দেখায়। ভারত কলকাতা এবং চেন্নাই, দুটি চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ জিতে সিরিজ জেতে। এর মধ্যে ইডেন টেস্ট নিয়ে বাঙালির আবেগ একটু বেশিই লাগামছাড়া, তবে খুব অস্বাভাবিক নয়, বহু আলোচনায় বার বার উঠে এসেছে কেন সেই টেস্ট সর্বকালের শ্রেষ্ঠ টেস্ট ম্যাচগুলির অন্যতম। কিন্তু সেই টেস্ট নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণে যাব না, লিপিবদ্ধ করব কিছু তুল্যমূল্য বিচার, যাতে প্রমাণ হয় ২০২১-এর জানুয়ারিতে শেষ হওয়া এই সিরিজ কেন ২০০১ থেকে এগিয়ে।

দেশ বনাম বিদেশ: বলার অপেক্ষা রাখে না, যেকোনও দল ঘরের মাঠে সুবিধা পায়। অতিথি দল যত শক্তিশালীই হোক না কেন, স্থানীয় পিচ, আবহাওয়া, পরিবেশের পরিচিতি খুবই বড় সুবিধা, যে কারণে বিদেশে সিরিজ জেতাকে সবসময় আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই একটি অতিসাধারণ যুক্তিই ২০২১-কে ২০০১-এর থেকে এতটাই দূরত্বে এগিয়ে দেয়, যা লঙ্ঘন করা কষ্টসাধ্য।

দুই ভারতীয় দলের আপেক্ষিক শক্তি: হ্যাঁ, ২০০১-এ কুম্বলে ছিলেন না। কিন্তু বাকি ভারতীয় দল পূর্ণশক্তিতে খেলেছে। তারকাখচিত ব্যাটিং অর্ডারের সবাই সে সিরিজে উপস্থিত ছিলেন। ২০২১-এর এই সিরিজে কোহলি একটা ম্যাচ খেলেছেন, বুমরাহ দেড়খানা ম্যাচ, জাদেজা একটা ম্যাচ। শামি আর উমেশ আর্ধেক ম্যাচ, ইশান্ত আর হার্দিক খেলেননি, রোহিত শেষ দুটো ম্যাচ খেলেছেন। রাহুল না খেলেই চোট পেয়ে ফিরে গেছেন। নিয়মিতভাবে প্রথম এগারোয় খেলেন, এরকম খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল রাহানে আর পুজারা সমস্ত ম্যাচ খেলেছেন। এসপার নাহয় ওসপার চতুর্থ টেস্টের আগে বিহারির চোট, অশ্বিনের চোট, এরকম ফর্দ লিখে যাওয়াই যায়, কিন্তু সম্ভবত এতক্ষণে দুই দলের আপেক্ষিক শক্তির আন্দাজ পাওয়া গেছে।

পিচের ধরন: ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বাউন্সি পিচে খেলার অক্ষমতা সর্বজনবিদিত। গত চার পাঁচ বছরে বিসিসিআইয়ের উদ্যোগে ভারতের ঘরোয়া পিচগুলির প্রকৃতি কিঞ্চিৎ পাল্টেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে তাই স্পিনারদের থেকে পেসারদের উত্থান বেশি হচ্ছে। তা বলে রাতারাতি ফ্রন্টফুটে খেলে আসা পুজারা, রাহানে, বিহারিদের ব্যাকফুট টেকনিক উন্নত হয়ে যায়নি। বল নিয়মিতভাবে কোমরের উপর দিয়ে গেলে এখনও তাঁরা অসুবিধায় পড়েন। তাই ২০১৮-য় মূলত ব্যাটিং পিচ উপহার দিয়ে সিরিজ হেরে এবারে অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গীকার ছিল নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী পিচ বানাবে। এবং বানিয়েছেও স্পোর্টিং পিচ। ট্রু বাউন্স, তৃতীয় বা চতুর্থ দিন থেকে বল একটু একটু করে ঘুরেছে, চারটি পিচেই ব্যুৎপত্তিমূলকভাবে বিরাট কোনও তফাৎ ছিল না। ২০০১-এর পিচ কিন্তু ছিল ভারতীয়দের অনুকূলে বানানো পিচ।

বোলিং কম্বিনেশন: একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে ঘরের মাঠে ভারতের বোলিং কম্বিনেশন কেমন তা বিচার করতে গেলে, চার বা পাঁচজন বোলার কে কে খেলছে দেখলে হবে না। কুম্বলে মূলত, এবং শ্রীনাথ থাকলেই তা ভালো লাইন আপ, বাকি সবাই কৃতজ্ঞতা স্বীকারের তালিকাভুক্ত। এদিকে কুম্বলে ২০০১-এর সিরিজে খেলেননি, শ্রীনাথ কেবল প্রথম টেস্ট খেলেছেন। হরভজন তো এই সিরিজে ৩২ উইকেট নিয়েই হরভজন হয়েছিলেন, তাই তাঁর থাকাকেও গুরুত্ব দেওয়া যাবে না। এই একটা জায়গায় ২০০১-এর কৃতিত্ব  হয়ত ২০২১-এর থেকে বেশি, বা একই সমতলে থাকতে পারত, কিন্তু বিধি বাম। গাব্বায় যে টেস্টটি জিতে ভারত সিরিজ জিতল, তার বোলিং লাইনআপের সম্মিলিত উইকেট সংখ্যার থেকে মার্নাস ল্যবুশেনের উইকেট সংখ্যা বেশি। সিরাজ, সুন্দর, শার্দুল, সাইনি এবং নটরাজনের সম্মিলিত টেস্ট সংখ্যাও ছিল মাত্র ছয়। জাদেজা, অশ্বিন, ইশান্ত, বুমরাহ, শামি খেললে হেজেলউড, কামিন্স, স্টার্ক, লায়ন নামগুলো খুব একটা ভয়ের লাগে না, কিন্তু তাঁরা তখন কোথায়?

আরও অনেক ছোট ছোট উপাখ্যানের সঙ্কলন ছিল এবারের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। হ্যামস্ট্রিং-এ চোট নিয়ে দেড় শতাধিক বল খেলে ১৫ রান করে বিহারি তার একটি লিখেছেন। দেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাটিং প্রতিভা হিসাবে চিহ্নিত শুভমন গিল অবশেষে সুযোগ পেয়ে আরেকটি লিখেছেন। বাবাকে হারিয়েও বায়ো বাবল ছেড়ে বাড়ি না যেতে চাওয়া সিরাজ, বিগত তিন বছরে মুষ্টিমেয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা “ওয়াইট বল স্পেশালিস্ট” ওয়াশিংটন, বুকে, পেটে, মাথায়, সাকুল্যে ১১ বার গায়ে বল লাগা সত্ত্বেও শেষদিন দুই শতাধিক বল খেলে একদিক ধরে রাখা পুজারা, আর দীর্ঘদিন রঞ্জিতে লাল বলে রঞ্জিতে মুম্বইকে নিজের কাঁধে বয়ে চলা শার্দুল লিখেছেন বাকি পরিচ্ছেদগুলি। তবে ঋষভ পন্থ বোধহয় সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন। তাঁর ব্যাটিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত না ঋদ্ধিমানের কিপিংকে, এই আলোচনায় গত একমাস ধরে মেতে ছিলাম আমরা, এবং ভারতের ঘূর্ণি পিচে ইংল্যান্ড এলে হয়ত আবার এ আলোচনায় মগ্ন হব, কিন্তু শেষ দুটি টেস্টে যে ৯৭ এবং ৮৯ নট আউট-এর ইনিংস দুটি তিনি উপহার দিলেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

তবে অজিঙ্ক্য রাহানেকে বাদ দিয়ে এ সিরিজ নিয়ে কিছু লেখা সম্ভব নয়। মেলবোর্নে দলের হয়ে সিরিজের একমাত্র সেঞ্চুরিটি পেলেও বাকি সিরিজ খুব সাদামাটা গেছে তাঁর। পাশাপাশি অধিনায়কত্বের সাময়িক মুকুট নামে একটি কণ্টকাকীর্ণ হেডগিয়ার পেয়েছিলেন। এ সত্ত্বেও চোট আঘাতে জর্জরিত দল নিয়ে যে ভেল্কি তিনি দেখালেন, বিরাট কোহলিকে এবার কয়েকদিন খুব চাপের মধ্যে রাখবেন।

এই অধিনায়কত্বের নিরিখেও ২০২১ কেন ২০০১-এর থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে, তাই দিয়ে এবার শেষ করি।

মাথায় রাখা ভালো, ২০০১এর সিরিজ যখন শুরু হয়, ১৯৯৯-এর সিরিজ অস্ট্রেলিয়া জিতে থাকায় রাবার তাদের হাতেই ছিল। অর্থাৎ, রাবার জিততে গেলে, ভারতকে সিরিজ শুধু ড্র করলে চলত না, জিততে হত। তিন টেস্টের সিরিজে প্রথম টেস্ট হারার পর তাই বাকি দু টেস্ট ভারতকে জিততেই হত। এমতাবস্থায় ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ইডেনে পঞ্চম দিনের সকালেও এক ঘন্টার উপর সময় ব্যাট করে গিয়েছিলেন, দ্রাবিড়, লক্ষণ আউট হওয়ার পরেও, যাতে সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি লিড অস্ট্রেলিয়া কিছুতেই না তুলতে  পারে। এই রক্ষণাত্মক মানসিকতা ঠিক না ভুল, সে তর্কে যাব না, কিন্তু এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ঘরের মাঠে, রাবার ফেরত পেতে গেলে জিততেই হবে এমন একটা ম্যাচে সৌরভ আগে ড্র নিশ্চিত করে তারপর সম্ভব হলে জেতার চেষ্টা করছিলেন। কম সময় পেয়েও ভারত জিতে গিয়েছিল এবং তাই সে টেস্ট আজ ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ টেস্টগুলির অন্যতম বলে গণ্য হয়।

এবার আসি রাহানেতে। এক্ষেত্রে শেষ সিরিজটি ভারত জিতেছে, অর্থাৎ বর্ডার গাভাস্কার ট্রফি এবং রাবার ভারতের হাতে। ১-১ অবস্থায় সিরিজের শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এখানে ম্যাচ ড্র করলেও ট্রফি ভারতের কাছেই থাকবে। ২০০১-এর পরিস্থিতির ঠিক বিপরীত অবস্থা। ভারত চাইলে দল ব্যাটসম্যান দিয়ে ভরিয়ে ড্রয়ের জন্য অনায়াসে খেলতে পারে। তায় খেলা গাব্বায়, ৩২ বছরে যে মাঠে অস্ট্রেলিয়া হারেনি, সেখানে কে আক্রমণাত্মক হতে চাইবে? রাহানে চাইলেন। স্কোয়াডে পৃথ্বী শ থাকা সত্ত্বেও তিনি নামলেন পাঁচ বোলার নিয়ে। চারদিন ধরে সেয়ানে সেয়ানে লড়ালড়ি করে শেষদিন, যখন এক বিশাল সংখ্যক ভারতীয় ফ্যান বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছে, সবাইকে চমকে দিয়ে এক অলৌকিক রান-চেজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, এবং সফল হলেন। গিল, পুজারা, এবং সর্বোপরি পন্থ তাঁর এই ঐতিহাসিক কৃতিত্বের রূপকার হিসাবে ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবেন, কিন্তু শেষদিন, গাব্বার গতিময়, বাউন্সময় পিচে, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বোলিং অ্যাটাকের বিরুদ্ধে ৩২৮ রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত আর কজন অধিনায়ক নিতেন সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বিশেষ করে এমন একটি ম্যাচে যা ড্র করলেও চলত, বরং হারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁরা পয়েন্ট খুইয়ে অসুবিধায় পড়ে যেতেন।

২০২১এ শেষ হওয়া এই সিরিজ যে উত্তরাধিকারের প্রত্যাশা রেখে যাচ্ছে, ভারতের খেলা আগামী যে কোনও টেস্ট সিরিজ তা পূরণ করতে পারবে কিনা এখনই বলা সম্ভব না। কিন্তু এর আগে যে কখনও করেনি, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3545 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...