শীর্ষা

উদভ্রান্ত করাতের তুমুল আজান -- শীর্ষা

উদভ্রান্ত করাতের তুমুল আজান

 

একটি অবিভাজ্য সংসারী নারী
শরীরের চলনে বিচ্ছেদ মুড়তে মুড়তে
পাখি হয়ে যাচ্ছে—
তুমি দেখছ তার স্বপ্নের সাকার,
আমি দেখছি পালকের সমার্থক ক্রিয়াটি;
এদিকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে নিজস্ব ছায়াটুকু
দেখতে না শেখার বেদনাবীজ

 

*

আমাদের মাথা একটি অজস্র উকুনের শহর—
চুলকে যাচ্ছি, চুলকে যাচ্ছি— চুলকোতে চুলকোতে
অনুসন্ধান গ্রে ম্যাটার ফুঁড়ে চলেছে এপার-ওপার,
না-সংসারের দামামাকে বৈষ্ণব করে তুলছে অন্য
প্রজাতির সংসার, চোখের কালিকে নেগেটিভ করে তুলছে
জলের মাদুলি দিয়ে। অনঙ্গফুলে সাজানো মৃত নগরীর ছায়াকে
ধুয়ে ফেলছে মাদুলির দেমাক!
আমাদের মাথা হয়ে উঠেছে অজস্র উকুনের
শহর। অবিশ্বাস্য, সামান্য শহর!

 

*

করাতের মতো আমাদের খান খান করছে শীতের হাওয়া—
কাঁচুলির ঢেউ আর ভেজাতে পারছে না হৃৎপিণ্ডকে;
গাছের শরীর থেকে জন্ডিসে ভোগা হলুদ চোখ
উপড়ে নিচ্ছে ক্যালেন্ডার, আলোর অভাব
প্রকট হয়ে উঠছে সূর্যের বোরখায়—
আমাদের অস্থি-চর্ম-মজ্জা দেখছে,
কীভাবে একটি ঋতুর পায়ের কাছে ফুৎকার হয়ে
মরে পড়ে থাকে পুরোহিতের নৈশ আজান।

 

*

কবচের বেঁধে থাকা নিয়ে ভুলের শক্তি
এঁটে থাকে আমাদের গায়ে। তোমার ক্যাম্বিসের ব্যাগে
আমার স্যালারির চিকচিক, আমার মধ্যদেশে
তোমার হস্তশিল্পের নুন— চাকা গড়াতে গড়াতে আসা
মহাকালকে আমরা সুপারি দিয়ে থাকি—
‘নিকষ অন্ধকারে নিমতলা সেজে উঠুক আবার’!
এদিকে দুর্নিবার কবচ, ভুলের কবচ,
একটি নিষিদ্ধ মদিরালয়ে বিক্রি হওয়া অনঙ্গধেনুর মতো
মহাকালের আড়ালে আমাদের চাটতে থাকে,
পোড়াতে থাকে, এক হঠকারী আদিম কবচ!

 

*

তন্ময় মেখে গড়িয়ে পড়ছে বিকেল!
আমি শরীরে বন্দি করছি তোমার গা-ধোওয়া—
আমার আদেখলাপনায় ফের ভিজে উঠছ তুমি,
ফের, ফের… তন্ময়ে ডুবে যাচ্ছি এভাবেই। তোমার
তন্ময়রূপ আমার গলা টিপে ধরছে, শ্বাসবৃক্ষের
গোড়ায় বিষ ঢেলে দিচ্ছে সারের প্রণালী নামে,
আর তাচ্ছিল্যের খিলখিলে জন্ম নিচ্ছে
অবিশ্বাস্য বিকেলের গোধূলিরঙা সাপ।
শুধুই সাপ।

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5420 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.