সঞ্চারী গোস্বামী

পাঁচটি কবিতা -- সঞ্চারী গোস্বামী

পাঁচটি কবিতা

 

ক্লান্তি

ফেলে আসা দৃশ্যপটে ক্লান্তির দাগ লেগে থাকে।
যত দূরে চলে যাই দৃশ্যপট ছোট হয়ে আসে
মদমন্থর পায়ে বয়ে যায় অলস সময়।

যত দূরে যাই, দেখি, দাগ তত বড় হয়ে ওঠে
যতবার ফিরে দেখি ততগুণ ক্লান্তি ঘিরে ধরে
এগোনোর সব পথ ঘুণ ধরে ভেঙেচুরে যায়!

সময়ে তো ক্লান্তি নেই! ক্লান্তি তো সময়ের গায়ে—
কোনও দাগ কোনও ক্ষত লিখে রেখে যায় না কখনও!
আগামী ভোরের দিকে যতবার সেঁচেছি জীবন
ক্লান্তি ক্রমে ক্ষীণ হয়ে, ক্লান্তি সব ক্ষমা হয়ে গেছে।

 

জোয়ার-ভাঁটা

জোয়ারে ক্লান্তি আসে, ভাটা ছুঁয়ে ভালোবাসা যায়
শব্দগুলি পড়ে থাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সবখানে
কেবল শব্দগুলি।

সেইসব শব্দগুলি কথা হতে পারেনি কখনও;
ভোরের অপেক্ষা নিয়ে, অপেক্ষার ভালোবাসা নিয়ে—
শব্দগুলি পড়ে আছে কথার আড়াল নেবে বলে।

 

ভালোবাসা

ভালোবেসে বেঁচে থাকি, বেঁচে থেকে ভালোবেসে রাখি।
রোজ এলোমেলো ঝড়ে উড়ে যায় বুকের পাঁজর;
সুখ-দুখ উড়ে যায় ভালোবাসা কুড়োতে কুড়োতে।

সব আলো নিভে আসে। সব সুর আধচেনা লাগে।
তার সপ্তক ছুঁয়ে সেতারের তার ছিঁড়ে যায়।
দম বন্ধ হয়ে আসে। ধোঁয়া হয়ে আসে চারপাশ।

তবু ভালোবাসা থাকে। কোনও এক হেমন্তের গায়ে
শিশির-ফোঁটার মত লেগে থাকে ভালোবাসাগুলি;
দিন আরও গাঢ় হলে টুপ্‌টুপ্‌ ঝরে যাবে, তবু,
এই মুহূর্তের চেয়ে এ মুহূর্তে বড় কিছু নেই।

 

গড়া

সময় ঘিরেছে তাকে, সময়‌ই খেয়েছে গিলে সব
এপারে-ওপারে বান, তবু এক চর জেগে আছে
অনির্বাণ দীপশিখা যেন।

চাঁদের সাম্পান তাই পড়ে থাকে বিশবাঁও জলে
আপাতত ঘর গড়া, আপাতত লাঙল চালানো
বীজতলা জুড়ে শুধু বুনে নেওয়া শস্যকণাগুলি।

 

নারী-পুরুষের কথা

আমি যতখানি নারী, তুমি ঠিক ততটা পুরুষ—
পাল্লা ঠিক কত ভারী, কার দিকে, ভেবেও দেখিনি;
সপ্তডিঙা মধুকর ভাসিয়েছি অসীমের স্রোতে।

আজ আমি দাঁড় বাই; কাল তুমি দাঁড় বাও যদি
আমি তবে হাল ধরে ‘ভয়োভোর’ জীবন বাজাই।
ঘাটে ঘাটে নেমে শুধু জড়ো করি মানুষের কথা—

আসলে তো সত্যি সে-ই। আসলে তো চাষের জমিতে
উদয়াস্ত খাটি আমি, তুমি খাটো, আমি-তুমি খাটি।
আসলে তো কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই জীবন বেঁচেছি
অন্ধকারে তুমি নারী, আমি ঠিক ততটা পুরুষ।

 

 

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3909 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...