পদ্ম 

জিয়া হক 

 

–মা, একটা জঙ্গির গল্প বলো।

সইদ তার মায়ের চুলগুলো মুখে নিয়ে চিবিয়ে যাচ্ছিল। সইদের বোন রেবেকা দেড়বছুরে। সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। খোলা জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে মেঘেরা কীভাবে চাঁদকে ঢেকে দেয়।

জুবেদা বলল, বাবা, জঙ্গিদের গল্প শুনতে নেই।

ছোট সইদ বলল, কেন মা?

–জঙ্গিদের জীবন মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এত সুন্দর হয় যে তোমারও জঙ্গি হতে ইচ্ছে করবে, সইদকে শান্ত করার চেষ্টা করল জুবেদা।

ছোট মুখ জিজ্ঞেস করল, জঙ্গি হলে কি মরতেই হবে মা? জঙ্গিদের জীবন যদি সুন্দর হয় তাহলে তারা শুধু শুধু মরবে কেন মা? আর মরলে জঙ্গি হবেই কেন মা?

সইদের মুখ থেকে নিজের লম্বা কালো চুল সরিয়ে নিয়ে শান্তভাবে জুবেদা বলে, আমি এর উত্তর দেব তবে তারপর তোমাকে ঘুমিয়ে পড়তে হবে কিন্তু।

ছোট সইদ চুপ করে রইল। মায়ের মাথার চুল খেতে না পেয়ে হয়ত।

জুবেদা বলল, এই উপত্যকায় যে জন্মায় সে-ই জঙ্গি।

সইদ এ কথার মানে বুঝতে না পেরে ঘুমোনোর ভান করে। মাকে সকালে উঠে অনেক কাজ করতে হবে। ছোট বোন হাফিজার নোংরা কাপড় ধোয়া, বাজার থেকে রুটি আনা, তার টিফিন বানিয়ে দেওয়া, তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, তারপর স্কুল থেকে ফিরে লেপ সেলাই করতে বসা।

এ অঞ্চলের মহিলারা সবাই প্রায় লেপ সেলাই করে রোজগার করে। লেপ ঠিক নয়, পাতলা বালাপোষ ধরনের। তবে এতে খুব গরম হয়। কাছের শহরে এই পাতলা লেপের ভালো চাহিদা। তবে, উস্তাগররা কারিগরদের পয়সা দিতে চায় না। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মহিলারই স্বামী নেই। মারা গেছে। জুবেদারও স্বামী নেই।

কীভাবে মারা যায় এই পুরুষরা?  সবারই মৃত্যুর ধরনটা প্রায় একই। এখানকার ছেলেরা বড় হয় সেনা জওয়ানদের গুলিতে মরবার জন্যই। তারা দেশকে যতটা ভালোবাসা দরকার ততটা ভালোবাসে না। দেশ তাদের ভালোবাসবে কেন? দিল্লিতে যে সরকারই এসেছে তারা যা করতে চেয়েছে সেটা হল একটা ট্রিটি। প্রশ্ন হল, একটি যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্র কেন রাজ্যের সঙ্গে ট্রিটিতে যাবে? এভাবেই সবার থেকে আলাদা করে দেওয়া হয় তাদের। তারা সত্যিই আলাদা হয়ে যেতে চাইলে তাদেরকে ইতিহাসের পাঠ পড়িয়ে ভালোবাসা কী জিনিস তা বোঝানো হয়।

 

পরের দিন শুক্রবার। বিধবা মহিলারা জুম্মা পড়তে যায় পাহাড়ের মাথায় এক মসজিদে। সেই মসজিদের ইমাম রব্বানি সাহেব খুৎবা শুধু আরবিতে দেন না, খুৎবার তর্জমা করেন মিম্বর থেকে। এই মহিলাদের জীবনের একমাত্র শান্তি বলতে রব্বানি সাহেবের বয়ান। তিনি বই দেখে খুৎবা পড়েন না।

নামাজের পর জুবেদা, আঞ্জুমান, তারান্নুম, তাদের মতো আরও অনেকে একটা গাছের তলায় বসে আখরোট খেতে খেতে গল্প করে। রব্বানির বয়ান নিয়ে আলাপ চলে।

রাফিহা বলল, রব্বানি হুজুর প্রতি জুম্মায় সবর ধরতে বলেন, কিন্তু তিনি কি আমাদের জীবনের কিছু জানেন?

সবাই উদাসীন হয়ে আখরোট ভাঙছে আর রাফিহা কথা বলে যাচ্ছে, সবর ধরতে ধরতে আমরা শেষ হয়ে গেলে কি আল্লাহ মুখ তুলে তাকাবে? আমার সবর শুনলেই এখন গাপিত্তি জ্বলে যায়।

তারান্নুম শান্ত করার চেষ্টা করে রাফিহাকে। রব্বানির পক্ষ নিয়ে সে বলে, তুমি কি জানো রব্বানির দুই মেয়ের স্বামীই সেনার গুলিতে মারা গেছে? রব্বানি নিশ্চয়ই জানেন এমন পরিবারে তখন কী গুজরায়।

সিদ্দিকা বলে, রব্বানির দুই মেয়েই বিধবা? আমি জানতাম না। লোকটা এখনও কী শান্ত!

তারান্নুম একটা সহজ কথা বোঝাতে চাইল, আল্লাহওয়ালারা এরকমই হয়।

তারা চেষ্টা করে আখরোট বাঁচিয়ে রাখতে কেননা আখরোট শেষ হয়ে গেলে তাদের আসরও ভেঙে যাবে।

 

জুবেদার ছেলে সইদ আর রব্বানির নাতি রাহাত একই স্কুলে পড়ে। স্কুল মানে ছোট দুচালা একটা ঘর আর একটা কোণা ভাঙা ব্ল্যাকবোর্ড। দুজন শিক্ষক আছে— শামদার আর হানিফা। দুজনেই অবিবাহিত। হানিফা পছন্দ করে শামদারকে। এর একটা কারণ আছে— শামদার খুব মেধাবী ছাত্র ছিল, বিদেশের চাকরি ছেড়ে এসে এখানে সামান্য বেতনে শিক্ষকতা করছে। হানিফা ভীষণ সুন্দরী তবে হিজাবে থাকে। শামদার জানে হানিফা তাঁকে ভালোবাসে কিন্তু সে আজীবন অবিবাহিত থাকবে ঠিক করেছে। এই উপত্যকার তাঁকে দরকার।

সেনাবাহিনির এক কর্মচারী প্রায়ই আসে স্কুল পরিদর্শনে। নিজের ফ্লাস্ক থেকে চা ঢেলে খাওয়ায় শামদারকে। বলে, কী স্যার, সব ঠিক আছে তো?

স্যার জবাব দেয়, জ্বি জনাব।

রোজ সকালে জাতীয় সঙ্গীত গায় তো আপনার স্টুডেন্টরা? সেনা জানতে চায় হেসে।

শিক্ষকও হাসে, জ্বি জনাব।

সেনা জানায়, তাদের অফিসার বলছিলেন যে সিলেবাসে অনেক বদল আনা হবে।

–কী রকম বদল জনাব?

–অত আমি জানি না স্যার। এলে দেখতে পাবেন।

সেনা চলে যায়।

হানিফাকে শামদার বলে যে সিলেবাস বদলে যাবে।

হানিফা প্রশ্ন করে, কে বদলাবে, আপনি?

শামদার বলে, সরকার।

–সরকার আমাদের অনুদান দেয়?

–না।

–তাহলে?

–তারা নির্দেশ দিতে পারে।

এই আলাপের মাঝখানেই হানিফা বলে তার বিয়ে হয়ে যেতে পারে যে কোনও দিন।

শামদার শুধু বলে, আগাম শুভেচ্ছা।

নিভে যায় হানিফার চোখদুটো। এই উপত্যকায় সব কিছুর মতো ভালোবাসাও পাওয়া যায় না। কীভাবে তারা বেঁচে আছে এতদিন, হানিফা ভাবে, তারা জীবনকে ভালোবাসে আর সবার মিলিত ঘৃণাই বাঁচিয়ে দিয়েছে তাদের। প্রকৃতি তাই এখানে এত সুন্দর।

 

সইদ আর রাহাত ঝাউবনের সরু পথটা ধরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। এই সরু পথেও একে-৪৭ হাতে দাঁড়িয়ে থাকে সেনা। তারা মেপে নেয় দুই শিশুকে। রাহাতকে তার মা শিখিয়ে দিয়েছে যে সেনাদের চোখে চোখ রাখবে না। রাহাতের মা শিক্ষিতা। সইদ খুব মুক্তভাবেই বেড়ে উঠছে। তাকে জরুরি কথাগুলো শেখানোর লোক প্রায় নেই।

তারপরেও দুই শিশু তাকিয়ে থাকে বন্দুকগুলোর দিকে। লোহা আর কাঠের কারুকাজ দেখে সইদ কিছু বলতে যায়।

রাহাত চুপ করিয়ে দিল তাকে।

এক রমজান মাসে এক সেনা তাদের পথ আটকায়। পুছতাছ করে।

–এই তোরা রোজা রাখিস?

সইদ বলে, ছোটদের রোজা করতে হয় না।

–ভোরে কী খাস তোরা?

–মা যখন সেহরি করে তখন আমি ঘুমোই। মা কী খায় ভোরে আমি জানি না।

–তোর মুসলমানি হয়েছে?

–হ্যাঁ।

–দেখি।

সইদ আর রাহাত দৌড়ে পালায়। জঙ্গল ভেঙে তারা দৌড়য়। রাহাত একটু ফুলবাবু গোছের। নাদুসনুদুস। তাকে দৌড়তে দেখে সেনারা হাসে আর খৈনি ডলে।

 

তিন জুম্মা পরে রব্বানিসাহেবকে মসজিদে আর দেখা গেল না। কেউ বলল, তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কেউ বলল, স্ট্রোক, কেউ কেউ বলল, সেনা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে ক্যাম্পে। ক্যাম্প শুনলেই উপত্যকাবাসী ভয় পেয়ে যায়। ক্যাম্প আসলে একটা টর্চার রুম।

 

সইদের সঙ্গে এক সেনার ইতিমধ্যে বেশ ভাব হয়ে গেছে। বাঙালি সেনাটির সইদের বয়সী এক ছেলে আছে বাড়িতে। সে লজেঞ্জুস, বিস্কুট খেতে দেয় সইদকে। রাহাত ও পথ মাড়ায় না। তার দাদুকে চারজন সেনা এক মধ্যরাতে তুলে নিয়ে গেছে। দাদু তখন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ছিলেন। সেনারা তাঁর প্রিয় শালটিও নিতে দেয়নি। রব্বানিকে দেখলে মনে হবে তখন তিনি মোটেই আশ্চর্য হননি। পাশের ঘরের দরজার ফাঁক থেকে রাহাত সব দেখেছে। তার মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিল তার মা।

 

মাস খানেক পরের কথা। সইদ একদিন তার বন্ধু সেনার পাশে বসে বিস্কুট চিবিয়ে যাচ্ছে, সেনাটি বলল, তুমি আমাকে কী বলে ডাকবে বলো তো?

সইদ কিছু বলে না। একজন সেনা তার বন্ধু— এই নিয়ে পাড়ায় তার মাকে প্রতিবেশীরা ভয় দেখায়। সেনারা আসলে স্পাই বানায় এভাবে। সইদ একদিন সেনাদের স্পাই হয়ে যাবে।

সেনাটি আবার জিজ্ঞেস করে, সইদ, উত্তর দিচ্ছ না যে?

সইদ বলে, চাচু বলে ডাকব?

–তোমার কি কোনও চাচা আছে?

–আমার দুজন চাচা ছিল।

–তারা এখন কোথায়?

–তারা কোথাও নেই।

–মানে?

–এর মানে আমার মা জানে।

সেনাজওয়ান চুপ করে যায়। কোথাও নেই-এর মানে কী তা সে জানে।

–তারা কী করত সইদ?

–আমার বড়চাচুর কার্পেটের ব্যবসা ছিল। আর ছোটচাচু গান গাইত।

–গান গাইত? কী গান?

–আমি ছোট চাচুর গান কখনও শুনিনি। তার গলা নাকি সোনু নিগমের মতো ছিল। সিনেমায় গান গাইবে, বলত।

সেনা অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, তুমি আমাকে ছোটচাচু বলে ডাকবে।

সইদ কোনও প্রশ্ন করে না, বলে, আচ্ছা।

 

এ বছর শীত যেন রাক্ষসের দল নিয়ে এসেছে। তুষারপাত হচ্ছে নিয়মিত। রাস্তার দুধারে বরফ জমে রয়েছে। লেকগুলো জমে গেছে।

স্কুলে টিফিনের সময় এক ঝাউবাগানে হাঁটতে হাঁটতে আখরোট খাচ্ছিল সইদ আর রাহাত। হঠাৎ সইদ বলল, মা কাল আমাকে একজন জঙ্গির গল্প বলেছে। শুনবি?

রাহাত বলে, জঙ্গির গল্প আবার হয় নাকি? আমার দাদু নাকি জঙ্গি তাই তাকে সেনারা বাড়ি ফিরতে দিচ্ছে না।

সইদ জিজ্ঞেস করে, তোর দাদু কি কোনও সেনাকে মেরেছে?

–আমার দাদু শুধু নামাজ পড়ে আর কুরআন তেলাওয়াত করে। রাহাত বলে।

–কিন্তু সেনারা তো খুব খারাপ লোক নয়। তারা কেন তোর দাদুকে ধরে রাখবে? বাঙালি সেনার পাতানো ভাইপো সইদ বুঝতে পারে না। তার ছোটচাচু বলেছে, তারা দেশের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে এত দূরদেশে এসে রয়ে গিয়েছে। তারা দেশমাতাকে ভালোবাসে যেভাবে সইদ তার মাকে ভালোবাসে।

টিফিন শেষ হয়ে যায় কখন তারা টের পায় না।

 

হানিফা আজ গাঢ় নীল রঙের হিজাব পরে এসেছে। তাকে ঠিক সিন্দবাদের নায়িকার মতো দেখতে লাগছিল। শামদার রোজ একই সাদা পাঠান কোট পরে আসে। হানিফা চায় শামদার তাকে দেখুক আড়চোখে। সে আড়চোখে তাকিয়ে থাকে শামদারের দিকে। কিন্তু শামদার জানে যে তার এতদিন বেঁচে থাকার কথা নয়। শিক্ষক বলে সে বেঁচে গেছে। তার জীবন আলাদা। সে পরকালকে যতটা ভালোবাসে ইহকালকে ততটা ভালোবেসে উঠতে পারে না। আর হানিফা ইহকালের অংশ।

একজন সেনা অফিসার সেদিন এসেছে স্কুলে। সে ক্লাসে ঢুকে পড়ল হুড়মুড় করে, শামদারকে চাকরবাকরের মতো করে নির্দেশ দেয়, যোগা শেখাতে হবে আপনার স্টুডেন্টসদের। দেশের ইতিহাসের উপর বি এন শাহের লেখা বইটাই পড়াতে হবে।

এই বলে যেমন হুড়মুড় করে এসেছিল তেমনভাবে বেরিয়ে গেল। শামদার পাহাড়ি পথের দিকে তাকিয়ে রইল। হানিফা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

সে শুধু বলল, নামাজের চেয়ে ভাল যোগ কিছু আছে?

 

এক বছর পর রব্বানি ফিরে এলেন। ঝুঁকে হাঁটেন। আপেলের ডাল নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মসজিদে যান। ওই ডালে ঠেস দিয়ে জুম্মার খুৎবা দেন। খুৎবা দিতে দিতে কেঁদে ফেলেন। সকলেই জানে রব্বানি কেন এভাবে কাঁদেন। লাল পর্দার ওপারে মহিলারা কেঁদে ফেলে।

রাহাত আর স্কুলে যায় না। মায়ের পাশে বসে সারাদিন লেপ সেলাই করা দেখে। তার মা পাতলা লেপের গায়ে সুতো দিয়ে নানারকম ফুল তোলে। সে বুঝতে পারে না এত কিছুর পরও মা কীভাবে এত ফুল মনে রেখেছে। তার সইদের মুখ মনে পড়ে।

সইদ জেনে গেছে তার আব্বার মৃত্যু হয়েছে কার গুলিতে। জুবেদা এক রাতে ঘুমনোর আগে সইদকে বলেছিল এক জঙ্গির গল্প। যে জঙ্গিটা আপেলবাগানে কাজ করত আর ভেড়া চরাত। এক সময় পাশের দেশের সঙ্গে তাদের দেশের যুদ্ধ বাঁধে। সালটা ঠিক মনে নেই জুবেদার। সালটা সে ভুলতে চেয়েছে বলে ভুলে গেছে।

সারাদিন ভেড়া চরিয়ে এসে সন্ধ্যায় সবে শুয়েছে সইদের আব্বা। একদল সেনা বন্দুক নিয়ে ঢুকে পড়ে তাদের কাঠের বাড়িতে। সইদ তখন এক বছরের। দোলনায় শুয়েছিল। জুবেদা রুটি তৈরি করছিল আঁচ জ্বালিয়ে। সে দৌড়ে আসে সইদের আব্বার ঘরে। হঠাৎ প্রচন্ড জোরে তিনটে শব্দ হয়। সইদের বাবার বিছানা, তার বোনা ফুল করা লেপ রক্তে ডুবে যায়। যে সেনার বন্দুক থেকে গুলি চলেছিল, ওই অন্ধকার মুহূর্তেও জুবেদা খেয়াল করেছিল যে তার হাতে একটা পদ্মের উল্কি।

সইদ একদিন সেনাক্যাম্পে বিস্কুট চিবোতে চিবোতে লক্ষ করেছে যে তার ‘ছোটচাচু’র হাতে একটা উল্কি। পদ্ম আঁকা উল্কি।

বিস্কুট মুখ থেকে গায়ের জোরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সইদ পাশে রাখা ছোটচাচুর বন্দুকের গায়ে হাত বুলোয়। এতদিন পরে আব্বার সঙ্গে দেখা হল যেন তার।

–হাতে নিয়ে দেখো, সেনাটি বলল।

বন্দুকটা চাগিয়ে কোনওরকমে লোহার নলে চোখ রাখে সইদ। নলের সরু সুড়ঙ্গের ওপারে সে দেখতে পায় সারি সারি কবর। একটা কবরের উপর মায়ের হাতের ফুল তোলা লেপ। ফুলগুলো রক্তে আর বোঝা যাচ্ছে না।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3775 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...