অস্মিতা রায়

 

তুমি

 

যত রাত বাড়ে,
আমি তোমার দিকে নুয়ে পড়ি।
শীত পড়ছে।
দেখো রাস্তার ওপর হিম নামছে
এগাছ ওগাছ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল
গড়িয়ে পড়ে।

আর আমি
এক বুক জল মেখে
তোমার দিকে নুয়ে পড়ি।

তুমি সরে যাচ্ছ
আমি তোমার হাত ধরতে চাই না।
আমি তোমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকতে চাই।
শুধু
ছুঁয়ে
ছুঁয়ে
থাকতে চাই।

তাই,
রাত যত বাড়ে
হিম পড়ে,
আর আমি তোমার দিকে নুয়ে পড়ি …

 

 

 

 

জ্বর

 

এইসব অসুখের দিনে
কেমন বৃষ্টি আসে ঝেঁপে।
হুহু হাওয়া দেয়।

বাড়ির পাশের নিমগাছ মনে পড়ে,
মনে পড়ে জুঁই বিছানো উঠোন
আর মায়ের জলপটি।

মায়েদের জ্বর হলে কাচপোকা টিপ আসে স্বপ্নে
বৃষ্টির ছাট আসে জানলা বেয়ে।
মায়েদের জ্বর হলে গাছেদের মনকেমন হয়
সন্ততির চোখ অনাথ হয়ে যায়।

হুহু হাওয়া দেয়,
দক্ষিণ খোলা জানলা মনে পড়ে।
জ্বরের ঘোরে আমি কাছিম দেখি।

অসুখ সয়ে যাওয়া মায়েদের
ঘুমিয়ে পড়া মুখ জুড়ে শান্তি নামে।

 

 

 

শিলালিপি

 

অদৃশ্য শিলালিপি ধার নিয়েছিলাম
রাখাল তোমার থেকে।

কোনওদিন যদি পাহাড়ে যাও
পাশে রেখো গুম্ফা,
হাতে রেখো ধর্মচক্র ফুল,
ঠিক খুঁজে পাবে
সুদূর সে শিলালিপি।

ঠিক চারদিন পরে
সেইসব লিপি ধরে রাখাল এসেছে
নেমে নদীর গায়ে, ছুঁয়ে আছে গা।

কবে কাকে ভালবেসেছিলে,
ভুলে গেছে।

নদী তো জেনেছে স্রোত,
কাকে বলে ভালবাসা।
চেয়ে দেখো,

জানু পেতে বসে আছি।

 

 

 

 

বেড়াল

 

আমি ঘুরছি ফিরছি বেঁচে আছি।
বেশ বেঁচে আছি।
তবু আমি মরে গেছি।
মরে গেছি সেই কবে।
হাঁটতে হাঁটতে, পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে
আমার শরীর খসে পড়েছে।
খিদের দখল নিয়েছে ঘুম
আর
ভালবাসা, ক্ষমা – এসবের দখল নিয়েছে
ক্রমশ অবসাদ –
শরীর জুড়ে অবসাদ।
ফারাও-এর পোষা বেড়ালের মতো
সে আমায় আগলে রেখেছে,
একমাত্র সেই আমায় ছেড়ে যায়নি।
আমায় ভুল বোঝেনি,
বোঝায়নি।
বাকিরা শুধু ত্রিকোণমিতি বোঝাতে চেয়ে
বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠানামা দেখতে চেয়েছে।

 

 

 

অনুপ্রবেশ

 

বিরতির পর — চোখ খুলে দেখি
অনন্ত ধানজমির ওপর মরা ঘাস শুয়ে
পাহাড়ের গায়ে নবান্নের মতো ধান,

লাল রাস্তার ধারে আগাছা, পরগাছা ধরে রেখেছে
সমস্ত মিনার ও মন্দির।
ছাই ও ভস্ম ফুঁড়ে স্বর্ণলতা,
আকাশের দিকে উঠে গেছে।

বিরতির আগের, যত বন্ধ ক্লাসরুম
সব আজ খেলাঘর।

বিস্তারে যাওয়ার আগে
সিংহশাবকগুলির সঙ্গে খেলছে হরিণের ছানা …
প্রজাপতি ও পাখিরা ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছে পরস্পরের দিকে

বিরতির আগের, সমস্ত বিনোদন ধুয়ে গেছে,
ধরে গেছে তুলির মতন অহম।

তরল সূর্যের থেকে একটু একটু করে
রোদ চুইয়ে পড়ছে সমস্ত মসনদে।

বিরতির পর চেয়ে দেখলাম,
একটিমাত্র জঙ্গির অনুপ্রবেশ ঘটল …
ইশারায় জানিয়ে গেল সমস্ত আদি বসত।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3775 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...