দিল্লি হিংসা, মিডিয়া ওয়ান ও একটি চপেটাঘাতের শব্দ

দেবব্রত শ্যামরায়

 



গদ্যকার, রাজনৈতিক ভাষ্যকার

 

 

 

মালয়ালম টিভি চ্যানেল মিডিয়া ওয়ানের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে দিল সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ে শুধু মিডিয়া ওয়ানের নির্ভীক সাংবাদিকতার পক্ষে জয় সূচিত হল, শুধুমাত্র তাই-ই নয়, এই রায় সামগ্রিকভাবে শাসকের একনায়কতন্ত্রী গণতন্ত্র-হত্যাকারী নীতির বিরুদ্ধে একটি বিরাশি সিক্কা ওজনের থাপ্পড়।

 

গত ৫ এপ্রিল ২০২৩ ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাধারণভাবে এদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন দেশের সর্বোচ্চ আদালত ‘মিডিয়া ওয়ান’ চ্যানেলের সম্প্রচারের ওপর কেন্দ্রীয় সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিল। বস্তুত, এরকম একটি সাদামাটা এক লাইনের মন্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বোঝা সম্ভব নয়। পাঠক, আসুন এই রায়ের সূত্র ধরে আপনাকে সাম্প্রতিক অতীতে কিছুদূরে নিয়ে যাই।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে ২৩ থেকে ২৭-এ ফেব্রুয়ারি এই কদিন ধরে নতুন দিল্লির উত্তর ও উত্তরপূর্ব অংশে এক ethnic cleansing তথা হিংসা ও গণহত্যার ঘটনা ঘটে৷ লক্ষ করুন, ‘দাঙ্গা’ শব্দটিকে আমরা সচেতনভাবে ব্যবহার করছি না, কারণ দাঙ্গা এবং গণহত্যার অর্থ এক নয়। এই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিক, ২০০-র বেশি মানুষ আহত হন। বেশ কিছু মসজিদ ভেঙে ফেলা হয় ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিমদের দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগাগোড়া হিংসার ঘটনাগুলি পরিচালনা করে অতি-দক্ষিণপন্থী উগ্র হিন্দু সংগঠনগুলি— গেরুয়া পতাকা, পরণের চাদর বা স্কার্ফ, হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ইত্যাদির মধ্য দিয়ে তাদের পরিচয় বুঝে নিতে কোনও অসুবিধে হয় না। উত্তর দিল্লি হিংসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল সঙ্কটকালে পুলিশের অনুপস্থিতি ও অনুদ্যোগ, যা হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। এছাড়াও ওষুধপত্র ও চিকিৎসা পরিষেবা ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছতে পথে বাধা দেওয়া হয়, গ্রাউন্ড জিরোতে যে অল্প কয়েকজন সাংবাদিক কর্মরত ছিলেন তাঁদের হেনস্থা করা হয়, মুসলিম মেয়েদের যৌন নিগ্রহের ঘটনা ঘটে যা পার্শ্ববর্তী রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মুসলিম পরিবার সেসময় সপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

এই পুরো সময় ধরে অর্থাৎ হিংসার ঘটনা চলাকালীন বা তার পরেও প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (রাজধানী দিল্লির সুরক্ষা সরাসরি যাঁর দায়িত্বের মধ্যে পরে) তরফ থেকে এ ঘটনা প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায় না। আমাদের নিশ্চয়ই মনে আসবে, ঠিক সেই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতভ্রমণে এসেছিলেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের হর্তাকর্তারা প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তায় ব্যস্ত ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল ভারতীয় মিডিয়া, এমনকি সামাজিক মাধ্যমও। আমরা তখন ফেসবুক-হোয়াটস্যাপে ট্রাম্পের ‘ভিভেকামুণ্ডন’ মিম শেয়ার করতে ব্যস্ত ছিলাম।

উত্তর দিল্লির ঘিঞ্জি মহল্লায় বাড়ি-দোকানপাঠ যখন আগুনে পুড়ছিল, জাতীয় মিডিয়া বিশেষত ‘গোদি’ মিডিয়া তখন ট্রাম্প আজ দুপুরের আহারে থেপলা খেলেন নাকি ধোকলা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞের প্যানেল বসিয়ে বিদগ্ধ আলোচনা করছিল। এরপর, ট্রাম্প বিদায় নেওয়ার পর ও গণহত্যার কটা দিন অতিক্রান্ত হলে হিংসার ঘটনাগুলি যখন আস্তে আস্তে মিডিয়ায় আসতে শুরু করল, শুরু হল পরিকল্পিতভাবে ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা উলটে আক্রান্তকেই দোষারোপের কাজ। দক্ষিণপন্থী ও শাসকপোষিত চ্যানেলগুলি ও সোশাল মিডিয়ায় আইটি সেল সরাসরি মিথ্যা-অর্ধসত্য পরিবেশন ও লাগাতার অপপ্রচার চালাতে লাগল। যেসব সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীরা পথে নেমে হিংসার ঘটনার ও প্রশাসনিক অপদার্থতার প্রতিবাদ করছিলেন, নাশকতা ও দাঙ্গায় জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হল, ও সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনের ধারায় বিনা বিচারে আটকে রাখা হল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি হিংসার প্রশাসনিক তদন্তে মুসলিম বিদ্বেষমূলক ঝোঁকের অভিযোগ আনে। ফলস্বরূপ, সেপ্টেম্বর ২০২০ তে ভারতে অ্যামনেস্টি-র কার্যালয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য করা হয়। এই মুহূর্তে, ভারতই সারা বিশ্বে একমাত্র ‘গণতান্ত্রিক’ দেশ যেখানে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর কোনও অফিস নেই। সবমিলিয়ে, ফেব্রুয়ারি ২০২০-র উত্তর দিল্লি হিংসা ও তৎপরবর্তী সময় ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি মর্মান্তিক বিজ্ঞাপন হয়ে রয়ে যাবে।

উত্তর দিল্লি হিংসা নিয়ে প্রকৃত তথ্য সেইসময় সাধারণ মানুষের সামনে আসেনি৷ ঘটনার পরে হাতে গোনা, বলা ভাল আঙুলে গোনা সামান্য কয়েকটি নির্ভীক মিডিয়া হাউজ ও তাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে, প্রত্যক্ষদর্শী ও আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত সত্যকে তুলে আনে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে থাকে। তেমনই কতিপয় মেরুদণ্ডী, মস্তক-বিক্রয়-না-করা সংবাদমাধ্যমের মধ্যে মালয়ালম নিউজ চ্যানেল ‘মিডিয়া ওয়ান’ ছিল অন্যতম। এই আপসহীন সাংবাদিকতার ফল মেলার কথা হাতেনাতে, মেলেও৷ সঠিক সময়ে ‘আইনি’ আঘাত নেমে আসে চ্যানেলের ওপর।

ঘটনাক্রম এইরকম—

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি, মিডিয়া ওয়ানের সম্প্রচারের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হলে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক আর তা নবীকরণের অনুমতি দিল না৷ স্বাভাবিকভাবেই, মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যায় মিডিয়া ওয়ান-এর কর্ণধার সংস্থা মাধ্যমম ব্রডকাস্টিং লিমিটেড।

কেরল হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রচারের অনুমতি রদের বৈধতা হিসেবে চ্যানেলের কাজকর্ম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পক্ষে সমস্যাজনক— এমন কারণ দর্শানো হয়। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নাকি জামাত-ই-ইসলামি হিন্দ-এর যোগাযোগ আছে। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ কেরালা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে ও বিচারে কেন্দ্র সরকারের অনুমতি রদের সিদ্ধান্তকেই বজায় রাখে। পুনরায় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে মাধ্যমম ব্রডকাস্টিং। ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে পুনর্বহাল রাখে৷ অর্থাৎ সম্প্রচার বন্ধ থাকে।

চ্যানেলের পরবর্তী পদক্ষেপ— রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন। অবশেষে ১৫ মার্চ, ২০২২ সর্বোচ্চ আদালত কেরল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে খারিজ করে দেন৷ চ্যানেলের পক্ষে যুক্তি ছিল যে কেরল হাইকোর্টে চ্যানেলটিকে নিজেদের অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করার কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি, কারণ তারা  জানতেই পারেনি তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রকের অভিযোগগুলি ঠিক কী কী। কারণ এখানেও জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের মন্তব্য একটি মুখবন্দি খামে কেরল হাইকোর্টের কাছে পাঠিয়েছিল, যা নিয়ে মুক্ত আদালতে কোনও শুনানিই হয়নি৷ কেন্দ্রীয় সরকারের সেই গোপন বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, চ্যানেল আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই পায়নি।

প্রসঙ্গত, ফুটনোট হিসেবে এ কথা বলে রাখা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, মিডিয়া ওয়ান চ্যানেল ও কেন্দ্র সরকারের এই দ্বৈরথ চলাকালীন তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের মন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন শ্রীমান অনুরাগ ঠাকুর। হ্যাঁ, ইনিই সেই অমিত শাহ-ঘনিষ্ঠ অনুরাগ, সিএএ আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় বিরুদ্ধবাদীদের উদ্দেশ্যে তাঁর ‘গোলি মারো শালোঁ কো’ স্লোগান ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে অমর হয়ে থাকবে৷

সর্বোচ্চ আদালত কেরল হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডার দিয়েছিল। তা ছিল চ্যানেলের কাছে সাময়িক স্বস্তির। কিন্তু চূড়ান্ত জয়ের জন্য তাদের আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হল। সরকার সুপ্রিম কোর্টের উচ্চতর বেঞ্চে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করলে তা প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি হিমা কোহলির ডিভিশন বেঞ্চে চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য আসে। গত ৫ এপ্রিল, ২০২৩ বিচারপতিরা তাঁদের রায় শোনান। ১৩৪ পাতার সেই রায়ে শুধু মিডিয়া ওয়ানের নির্ভীক সাংবাদিকতার পক্ষে জয় সূচিত হল, শুধুমাত্র তাই-ই নয়, এই রায় সামগ্রিকভাবে শাসকের একনায়কতন্ত্রী গণতন্ত্র-হত্যাকারী নীতির বিরুদ্ধে একটি বিরাশি সিক্কা ওজনের থাপ্পড়।

রায়ে কী বলেছেন মাননীয় বিচারপতিরা দেখা যাক। ১৩৪ পাতার রায়ে আইনি পরিভাষায় স্বাভাবিক ন্যায়ের নীতি ও সমানুপাতিকতার নীতি (Principles of Natural Justice and Proportionality) উল্লেখ করে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। তাতে কেন্দ্র সরকারকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, যত্রতত্র জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া যাবে না। কোর্ট বলেছে, কেউ শাসকের কাজের সমালোচনা করলেই তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলা অসঙ্গত। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধ সমালোচনাকে রাষ্ট্র-বিরোধী না প্রতিষ্ঠান বিরোধী বলে দেগে দিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। এর অর্থ প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র আশা করছে যে প্রেস সবসময় রাষ্ট্রের কাজকে সমর্থন করবে বা তাকে জো-হুজুর জ্ঞানে মেনে চলবে। এ আকাঙ্ক্ষা শুধু অবান্তর ও অনৈতিকই নয়, দেশে মুক্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে ভয়াবহ।

প্রসঙ্গত, অবস্থা যে সত্যিই কতটা ভয়াবহ, তা আলাদা করে বলা বাহুল্য মাত্র। গত কয়েক বছরে সংবাদমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক সূচক আমাদের দেশে সড়সড় করে নিচে নামছে। ২০২২ এ ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৫০তম, প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা (১৪৬), নেপাল (৭৬) ও ভুটানের (৩৩) অবস্থা তুলনায় অনেক ভাল। ২০২১-এ এই একই সূচকে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪২।

দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে মুখবন্ধ খামে আদালতের কাছে নিজস্ব মন্তব্য পেশ করার যে সরকারি অভ্যাস বা কুপ্রথা, তার মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দিল। আদালতে, কোনও বিচারাধীন বিষয়ে, সে বিষয় যতই সংবেদনশীল হোক না কেন, মুখবন্ধ খামে করে নিজের মতামত পাঠানো যাবে না৷ নিজের অবস্থান আদালতে খোলাখুলি সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, যাতে বিরোধী পক্ষ বা আক্রান্ত পক্ষ তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে পারে, বিরোধিতা করতে পারে, পালটা মতামত দিতে পারে। বাদি-বিবাদি পক্ষ প্রত্যেকের এই সুযোগ পাওয়ার অধিকার তাদের ন্যায়সঙ্গত মৌলিক অধিকার৷ (‘.. it is now an established principle of natural justice that relevant material must be disclosed to the affected party, ensuring that right to appeal can be effectively exercised.) অর্থাৎ এতদিন এই ধরনের মামলায় সরকার পক্ষ ও তাদের ‘মুখবন্ধ খাম’ যে অতিরিক্ত ও অনৈতিক সুবিধে পেয়ে আসত, চন্দ্রচূড়-কোহলির রায়ে তার সমাপ্তি ঘটল। পরবর্তী একই ধরনের যেকোনও মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই রায় precedence হিসেবে গৃহীত হবে ও সরকারপক্ষ গোপনীয়তার immunity অর্জন করতে পারবে না।

সংসদীয় গণতন্ত্রে মানুষের রায়ে জয়ী হয়ে এসে শাসক যদি মানুষেরই কণ্ঠরোধ করতে চায়, তারা তা যেন না পারে, আমাদের দূরদর্শী সংবিধানপ্রণেতারা তার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। ভারতের বিচারব্যবস্থার সেরকম একটি ব্যবস্থা। এই বিচারব্যবস্থাকেও কলুষিত ও কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সে চেষ্টা যে এখনও সফল হয়নি, এবং শাসকের অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক অপচেষ্টা নিবারণে আদালত যে এখনও কত কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে, ৫ এপ্রিল ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বেঞ্চের রায় তার প্রমাণ। আপামর ভারতবাসীর জন্য, এখনও, এ বড় স্বস্তির কথা।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4710 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...