ঠিক মানুষের মতো

অমরজয়

 

 

দুঃস্বপ্ন

একটা হাত। শুধুই হাত। একটা হাতুড়ি। বেশ বড়সড়। হাড় হিম করা হাতুড়িসুদ্ধ সেই ভয়ঙ্কর হাতটা নেমে আসছে। নেমে আসছে নীচের দিকে… তারপর… কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার শরীর লক্ষ করে একটা জোরালো আঘাত। যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠে চিৎকার করলাম প্রাণপণে, “বাঁচাও… আমাকে বাঁচাও…”

কিন্তু…হায় রে! আমার আর্তকান্না কেউ শুনতে পেল না।

এইরকম গায়ে ঘাম এনে দেওয়া একটা দুঃস্বপ্নে আমি জেগে উঠলাম। ভয়ে এখনও কাঁটা হয়ে রয়েছে শরীর। গলা শুকিয়ে কাঠ। বুকটা ধড়াস ধড়াস করে লাফাচ্ছে। একটু জল পেলে ভাল হত। দূরে কোথাও একটা মোরগ ডেকে উঠল। অন্ধকারও ফিকে হয়ে এসেছে। তার মানে এখন ভোর। মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল — ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়! যদিও বন্ধু এসব বিশ্বাস করে না। বলে, “যত্তসব কুসংস্কার!”

বন্ধু

কেন জানি না আজ ক’দিন বন্ধুর কথা মনে পড়ছে খুব। সেদিন স্বপ্নটা দেখার পর থেকেই এমন হচ্ছে। আসলে একটা ভয় যেন ধীরে ধীরে আমার চেতনা, আমার বোধ এমনকি আমার অস্তিত্বকে অসাড় করে দিতে চাইছে। বন্ধু কি সত্যি সত্যি কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিত এসব!

বন্ধুদের বাড়িতে আমি এসেছিলাম প্রায় দশ-এগারো বছর আগে। তরতাজা জোয়ান তখন। গায়ে শক্তি যেমন ভরপুর, দেখতে শুনতেও মন্দ ছিলাম না। একাই তিনটে লোকের কাজ করে দিতাম। রেশনে যাওয়া, বাজার করা, বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসা এই ধরনের কাজে বেশ হাতযশ ছিল আমার। কোনওদিন কোনও গণ্ডগোল পাকিয়েছি বলেও মনে পড়ে না। সব কাজ ঠিকঠাক, সময়মতো করে ফেলতাম। বিশ্বস্ত বলা যায় আর কি! সেই তুলনায় আমার খাওয়া-দাওয়া ছিল খুব সামান্য। নিচের তলায় সিঁড়িঘরের পাশে পড়ে থাকতাম। কোনও উচ্চবাচ্য নেই। কোনও বায়না নেই। কোনও অভিযোগ নেই। সব্বাই আমায় পছন্দ করতে শুরু করল। আর থাকতে থাকতে এ বাড়ির ছোট ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্বটাও হয়ে গেল একদিন।

কলেজের পাট চুকিয়ে বন্ধু তখন চাকরির চেষ্টা করছে। কিছু ছেলে-মেয়েও পড়াত দেখতাম। তবে বলতে কি, আমার বন্ধুটি আসলে একটু অলস প্রকৃতির। কিছু করার জেদও খুব একটা আছে বলে মনে হত না। নাহলে বাপু ভালো ছাত্র হয়ে আর কী কাজে লাগল! সারাজীবন কি টিউশন করে কাটাবি নাকি! ওর বন্ধুরা সব টপাটপ সরকারি চাকরি পেয়ে যাচ্ছে শুনছি। আর ও কেমন যেন মিইয়ে আছে। একটু ন্যাদোস মার্কা যেন। আমি তো আর বকাবকি করতে পারি না। নাহলে কবেই বলতাম, “গা ঝাড়া মেরে একবার লেগে পড় তো বাপু; দেখি কে আটকায়!” তবে বন্ধুর আমার মন ভাল। সাদাসিধে, অমায়িক, পরোপকারী। আজকালকার আর পাঁচটা ছেলের মতো নয়। বেশ ভদ্রসভ্য। বিনয়ী। হাসে হাসুক, বন্ধুকে একবার আমার এই দুঃস্বপ্নের কথা বলতেই হবে।

নতুন ঠিকানায়

কিন্তু মুশকিল হল এখন আমি অন্য বাড়িতে থাকি। বন্ধুদেরই কোনও আত্মীয় হবে। এখানে কাজের জন্য দরকার ছিল তাই বন্ধুরা পাঠিয়েছে। বন্ধুদের বাড়িতে এখন অন্য একজন কাজ করে। কিন্তু বন্ধুর সঙ্গে না দেখা করতে পারলে এই কথাগুলো গুছিয়ে বলা যাবে না। কখন যাই! সারাদিন একাজে-ওকাজে একদম ফুরসত পাই না। কাজ যে খুব ভারি তাও নয়। টুকটাক ফাইফরমাস খাটার পাশাপাশি শুধু দুটো বাচ্চাকে নিরাপদে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং বাড়িতে নিয়ে আসা। আজকাল রাস্তাঘাটের যা অবস্থা! তাছাড়া সকালের দিকে গাড়িঘোড়ার চাপও থাকে বেশি। একবার তো আমাদের সামনেই একটা অ্যাক্সিডেন্ট হল। একটা চ্যাংড়ামতো ছেলে — পরণে ফেটে যাওয়া জিন্স আর টকটকে লাল গেঞ্জি, কপালে কালো রঙের একটা ফেট্টি বাঁধা — ঝড়ের মতো বাইক নিয়ে এসে মারল একটা ধাক্কা… আর মারবি তো মার একটা বুড়োকে। একটা আর্তনাদ, বীভৎস একটা ঘষাটে আওয়াজ… তারপর… সে কী রক্ত! ভয়ে গা শিউরে উঠল আমার। বমি পেল। বাচ্চাদুটো চোখ বন্ধ করে নিল সঙ্গে সঙ্গে। থরথর করে কাঁপছে তারা। বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠছে তাদের চোখে-মুখে-নাকে। উঃ আর একটু হলেই…! আমরা তো ঐ বুড়োর একদম পাশেই ছিলাম। উত্তেজিত হয়ে উঠলাম ভীষণ। ইচ্ছে হল ছেলেটাকে ঘা কতক দিয়ে দিই। কিন্তু সে তো নিজেই রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে। তাছাড়া ওদের কষ্ট দেখে আমারও কষ্ট হচ্ছিল খুব। কিন্তু আমি নিরুপায়। আর এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকলে বাচ্চাদুটো হয়তো অজ্ঞান হয়ে যাবে। তাই তাড়াতাড়ি স্কুলের রাস্তা ধরলাম। কিন্তু তাড়াতাড়ি বললে তো আর তাড়াতাড়ি করা যায় না। বয়েস বাড়ছে। আর আমার যে সত্যি সত্যি বয়েস বাড়ছে তা আমার হাঁটাচলা দেখেই আজ বুঝতে পারলাম। বার্ধক্য। কেমন যেন নিজেকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া। বাচ্চারা বাড়ি ফিরে যখন মনিবের কাছে এই সব গল্প করছিল, লজ্জা পেল খুব। দুঃস্বপ্নটা আবার চোখের সামনে ভেসে উঠল।

আর সঙ্গে সঙ্গে একটা ভয়ের চোরাস্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে আসছে হাত-পা। মনিব কি কিছু আন্দাজ করল! এই কথা মনে হতেই আমার মাথায় একটা অন্য চিন্তা এসে ভিড় করল — আচ্ছা, মনিবের কাছে আমার দুঃস্বপ্নের কথাটা একবার বললে কেমন হয়! বন্ধুর মতো উনিও তো আমাকে খুব ভালবাসেন।

মনিব

আমার মনিব লোকটা একটু অন্যরকম। নিজের কাজ নিয়েই পড়ে থাকে সারাদিন। খুব পরিশ্রমী। উচ্চশিক্ষিত মানুষ। কারও সাতে-পাঁচে থাকতে পছন্দ করেন না খুব একটা। কতরকম লোকজন আসে বাড়িতে। কী সব গুরুগম্ভীর আলোচনা হয় সবসময়। সে সব আমি বুঝি না। কী জানি আমার বন্ধু হয়তো ঠিক বলতে পারবে। তবে মানুষটা খুব দয়ালু। আমি তা প্রথম দিন থেকেই বুঝেছি। আমাকে খুব যত্ন-আত্তি করেন। মাঝেমধ্যে আমার সামনে দাঁড়িয়ে উদাস চোখে কী যেন সব ভাবেন। সযত্নে আমার গায়ে-টায়ে হাত বুলিয়ে দেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে যান। যতবার এই দীর্ঘশ্বাসের গরম বাতাস আমার গায়ে এসে লাগে, আমার খুপ খারাপ লাগে। হয়তো আগের মতো আর ছুটে-হেঁটে কাজ করতে পারি না তাই। আবার মাঝে মাঝে মনে হয়, হয়তো আমার এই ভাঙাচোরা শরীর দেখে ওনার কষ্ট হয়। কী জানি!

দুঃস্বপ্ন, মনিব ও আমার ভয়

স্বপ্নটা আজ রাতে আবার দেখলাম। বলতে গেলে আজকাল প্রায় দেখি। আর খুব ভয় পাই। মৃত্যুভয়। একটা ধুমসো ইঁদুর যেন তার ধারালো দাঁত দিয়ে আমার নাড়িভুঁড়ি কেটে রক্তাক্ত করছে সারাক্ষণ। তাহলে কি সত্যি সত্যি আমি আর বাঁচব না!

এখন অনেক রাত। ঝিঁঝিঁপোকার ডাক ছাড়া আর কিছু কানে আসছে না। অবশ্য আমার মনিবের ঘরের আলো এখনও নেভেনি। উনি অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেন কিনা! তাই অপেক্ষায় আছি উনি কখন বাইরে আসেন। অনেক ভেবে মনস্থির করেছি, মনিবকে আমার ভয়ের কথাটা বলতেই হবে আজ। যে করে হোক।

উদ্বিগ্ন হয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর খুট করে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম। বাইরের আলো অবশ্য জ্বলল না। দরজার ফাঁক থেকে একফালি নীলচে সাদা আলো এসে পড়ল বাইরে। মনিব বারান্দায় এসে পায়চারি করছেন। এমন দৃশ্য তো প্রায় দেখি। উনি হঠাৎ হঠাৎ মাঝরাতে দরজা খুলে বাইরে আসেন। বারকয়েক পায়চারি করে আবার ভিতরে চলে যান। আজ অবশ্য নিজের ঘরের বারান্দা থেকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে এলেন। আলো জ্বালার প্রয়োজন হয়নি। আজ পূর্ণিমা। গ্রিলের ফাঁক গলে চোরের মতো কিছুটা চাঁদের আলো এসে বারান্দায় আঁকিবুকি কেটেছে। তবে আমার এদিকটায় আবছা অন্ধকার। উনি হাঁটতে হাঁটতে আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। হাতখানেক দূরে আমি। উনি কিছু যেন দেখছেন মনে হল। কী দেখছেন! অন্ধকারে সেটা বোঝার উপায় নেই। আমি চুপ করে আছি। গত কয়েকদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছি। কিছুতেই পারছি না। আজ বলতেই হবে। শেষ বয়েসটা এ বাড়িতেই পড়ে আছি যখন, আমার জীবন-মরণ এখন ওনার হাতে।

দম বন্ধ করে বসে আছি। কথাগুলো গলার কাছে এসে ঠেলাঠেলি করছে যেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলতে পারব তো! আসলে ওনাকে দেখলেই আমার সবকিছু গুলিয়ে যায়। যা রাশভারি লোক। যা ব্যক্তিত্ব! তবে এখন বাঁচা-মরার লড়াই। সাহস সঞ্চয় করে মন শক্ত করলাম। ওই তো উনি ধীর পায় আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। এই সময় বাইরে রাস্তার কুকুরটা ডেকে উঠল ঘেউ ঘেউ করে। প্রতিদিনই শুনি অথচ আজ কেমন যেন অন্যরকম মনে হল এই ডাক। ঠিক কান্নার মতো। বেদনামাখা। এক অজানা আশংকায় আমার শরীরটা দুলে উঠল। বুকটা ঢিপঢিপ করছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। বুঝলাম ভয় পেতে শুরু করেছি। এই ভয়টাই আমার কাল হল। শরীরে বার্ধক্য এসে থাবা বসালে আমার মতো সবাই কি এমন মরার ভয় পায় রাতদিন? আর অবচেতনের এই ভয়ই কি ঐরকম বিশ্রী দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দেয় বারবার? এটা কি স্বাভাবিক… নাকি অন্য কিছু! এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে কথাগুলো আজ মনিবের কাছে বলতেই হবে আমাকে।

সমস্ত ভয় দূরে সরিয়ে, শরীরের সমস্ত শক্তি আর সাহস এক জায়গায় করে আমি ঠোঁট খুলতে গেলাম। কিন্তু আমাকে দারুণ অবাক করে দিয়ে, আমার আগেই মনিব বিড়বিড় করে উঠলেন, “তোকে আর বুঝি রাখতে পারলাম না রে! কাল সকালেই হয়তো…” কথা শেষ করতে পারলেন না। শুনে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল আমার। আর রাখতে পারবেন না মানে! ভয়ে আর বিস্ময়ে ঠোঁট থেকে কথা হারিয়ে ফেললাম। হায় ভগবান! যার কাছে বিপদের কথা বলতে গেলাম সেই তো আমার বিদায়ের দিনক্ষণ ঠিক করে রেখেছে।

“তোর কাছে আমাদের ঋণের শেষ নেই। অনেক করেছিস আমাদের জন্যে। কিন্তু কী করব বল! সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়…”

একটা বুকচেরা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন উনি। তার গরম বাতাস এসে লাগল আমার চোখে-মুখে। সেই একইরকম দীর্ঘশ্বাস। সেই একইরকম গরম বাতাস। উনি কি এইজন্যেই আমার সামনে এসে আনমনে দাঁড়িয়ে থাকতেন! যাক্‌গে, ওসব ভাববার সময় নেই এখন। কথাটা আমাকে বলতেই হবে। এই শেষ সুযোগ। বেপরোয়া হয়ে প্রাণপণে চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু বলতে পারলাম না।

কথাগুলো গলার কাছে এসে আটকে গেল। তবু শেষ চেষ্টা করলাম, ‘মালিক?… ভয়… বাঁচান…’ অনেক কষ্টে তিনটে এলোমেলো শব্দ কোনওরকমে গলা থেকে উঠে এল। কিন্তু উনি শুনতেই পেলেন না। হা ঈশ্বর! বুকের ভিতরটা হাহাকার করে উঠল আমার। মরণকালে মতিভ্রমের মতো হঠাতই একটা ছবির কথা মনে পড়ল। মনিব বারান্দায় বসে ল্যাপটপে দেখছিলেন সেদিন। কী যেন শর্ট ফিল্ম না কি বলে! আমিও কিছুটা দেখে ফেলেছিলাম। একটা দৃশ্যে পুতুল হয়ে যাওয়া এক পুলিশ অফিসার বাঁচার জন্য প্রাণপন চিৎকার করছে। তার আত্মাটা ছটফট করছে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য। কিন্ত একটা পুতুলের আর্তচিৎকার আর কে শুনতে পাবে! খুব খারাপ লেগেছিল দেখে। সত্যি কথা বলতে কি আমার মৃত্যুভয়টাও দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসেছিল সেদিন থেকেই।

সেই দুঃস্বপ্ন, সেই ভয় সবই সত্যি হতে চলেছে কাল। পৃথিবীতে এত কিছু মিথ্যে হয় মনিবের কথাটা যদি মিথ্যে হয়ে যেত! আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জানি তা হবার নয়। কাল সকালেই তো… নাহ্‌ আর ভাবতে পারলাম না। দুরু দুরু বুকে, অসহায় অপেক্ষা করে রইলাম এক ভয়ঙ্কর সকালের।

মানুষের মতো

দুঃস্বপ্নের রাত পেরিয়ে সকাল হল…

এখন মনিবের বাড়ির উঠোনে একজন ফেরিওয়ালা বসে আছে। তার হাতে একটা খুব বড় লোহার হাতুড়ি। সে সেই হাতুড়ি দিয়ে তার সামনে শোয়ানো আমার এই পুরানো, ভাঙাচোরা শরীরটা মেরে মেরে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। হাতুড়িটা বার বার উপর থেকে নিচে নেমে আসছে আর সজোরে একের পর এক আঘাত করছে আমার গায়ে। আস্তে আস্তে আমি দুমড়ে যাচ্ছি… ভেঙে যাচ্ছি… আর মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করে উঠছি বারবার…

মনিব আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। থাকতে না পেরে ছুটে এলেন, “দাঁড়াও… ভাই… সাইকেলটা ভেঙো না… কষ্ট হচ্ছে… দীর্ঘদিন বাড়িতে ছিল তো… একজন রক্তমাংসের মানুষের মতোই সুখেদুঃখে সঙ্গী হয়ে ছিল… কেমন যেন মায়া জড়িয়ে গেছে…।”

থমকে গেল ফেরিওয়ালা। মনিবের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল সে। অবাক হয়ে গেলাম আমিও। মরতে হবে জেনেও একটুকরো খুশি এসে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। যদিও আমার চোখদুটো ভিজে যাচ্ছিল। বলেছিলাম না আমার মনিব খুব দয়ালু। মনিব নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কী মনে করে আবার আমাদের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন, “আর… শোনো… ওটা তুমি নিয়ে যাও… টাকা-পয়সা কিছু দিতে হবে না…” কথা শেষ করে আর দাঁড়ালেন না মনিব। আমি ডুকরে উঠলাম। বিস্ময় আর অবিশ্বাসের বোবা দৃষ্টিতে তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল ফেরিওয়ালা। তারপর আমার ভাঙাচোরা শরীরটা টানতে টানতে নিয়ে চলল বড় রাস্তার দিকে…

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3049 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...