একজোড়া কবিতাযুগ্ম

কস্তুরী সেন

 

কবিতাযুগ্ম : ১

 

১. উইমেন্স ডে

এই ধরো ফিরে আসছি আলোচনা থেকে
এই ধরো ফিরে আসছি
সম্মেলন কবিতা কবিতা
এই ধরো ফিরে আসছি অধিকার,
আকাশের আধখানা ভাগ নিয়ে
ধোঁয়া ওড়া ফিরে আসছি
শুনশান, ধুলোমুঠি
পরবাসে কে রবে গো বলে সব
অকস্মাৎ শূন্য করে দিয়ে যাওয়া
কী অমিয়া ঠাকুর বিকেলে-
তোমাকে নস্যাৎ করে
তোমাকেই ছি ছি বলে
এই ধরো ফিরে আসছি খুব
মা বলো কোথায় যাব
মা বলো তোমার ওই
পড়ে থাকা শীর্ণ স্বাধীনতা
আমার জলের গ্লাসে
ভরে তুমি এগিয়ে না দাও যদি
যদি আর নাই বলো
জেগে আছি, তুই ঘুমো,
তুই নয় একটু ঘুমোলি?

 

২. শীত

আমিও সনেটে দিই চেষ্টাকৃত ইচ্ছের মিল
কেননা সনেট কোন ইচ্ছে নয়,
আমার ইচ্ছের মূলে গূঢ় এক অবাধ্যতা,
আমার নতির মূলে শ্রী ও ছন্দ নিজেদের হাস্যমুখে চালাচালি করে
হৃদয়কুশলা যেন, বর্ষিয়সী, যেমন দুপুরে রোদে মেলে দেয় নিজেদের হিম অবয়ব
আসলে উত্তাপ সেই,
একমাত্র কামনাবিলাস…

আসলে উত্তাপ নেই,
একমাত্র হিম সেই হৃদয়ের মুখোমুখি হওয়া

এখন ম্লানতা আসে, প্রারব্ধের উত্তর দিশায়,
আমিও কষ্টের মুখে কষ্ট পেতে ভুলে গেছি
এই কষ্ট বহু আগে মেরেছে আমায়।

 

কবিতাযুগ্ম : ২

 

৩. প্রস্তাব

সুন্দর, বারণ কত,
যা বলেছি সেসব তো সাদা পাতা, না দেখেই খুন
সুন্দর! হঠাৎ চ্যুতি,
অশ্বাসন, তারই সাথে হাতে ঠিক অশ্বের লাগাম
সুন্দর, পথের বৃক্ষে
ছায়া নেই, আলো আর চূড়ে যত কল্পগান থাকে
সুন্দর, শপথ! বলো
জীবনে কে এল আরও, পুরনো সে? চূড়ান্ত নতুন?
সুন্দর, অযথা প্রশ্ন
হ্যাঁ নতুন! না পুরনো! এক ছন্দ এক শালগ্রাম!
সুন্দর! পরের কাব্য
আবার নতুন করে লিখে দিই, তোমাকে তোমাকে?

 

৪. শস্য

এই যে রমণী ভোর,
হে রমণী, জবা আর কুসুমে সঙ্কাশ
সমস্ত রাতের জল শস্যমুখে নিয়েছ যে
অথচ তীর্থের পথে
কোনকিছু রাখোনি প্রমাণ

তবুও সফল ক্ষেত্র
অন্ধকার খাতাটিতে চিরধান্য
চিরমুহূর্তের সুধাধান

আকাঙ্ক্ষার অন্যপ্রান্তে
চিহ্নমাত্র না-ই রেখে জ্বলেছে কে,
নিভে গেছে দগ্ধতর আবার কখন

তোমার সমাপ্ত হল স্নান

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5420 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.