লকডাউনের পরের মাসে

লকডাউনের পরের মাসে : অবন্তিকা পাল

অবন্তিকা পাল

 

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দু-একটা ওয়েব পোর্টাল থেকে ফোন এল৷ ওরা খবর করতে চায়। দুজনকেই না বলে দিয়েছি। নতুন করে কী কথা বলব! যা বলার তা তো ভিডিওতেই বলা আছে৷ সন্ধেয় মানবাধিকার কর্মী সুস্নাত ঘোষ ফোন করলেন৷ কারও মারফত ভিডিও ওঁর কাছেও পৌঁছেছে। “তুমি ভালো আছ তো? তোমার আর ওই মেয়েটির ভিডিও দেখলাম৷” “হ্যাঁ স্যার। আপনার শরীর ঠিক আছে?” “আর আমার শরীর… ওই ভালোমন্দে যেমন থাকে। কিন্তু তুমি হঠাৎ পুলিশে খবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদল করলে কেন?” আমি চুপ করে থাকি। উনি আবার বলেন, “তবে তোমার সব সিদ্ধান্তে আমার সমর্থন আছে সে কথা তো তুমি জানোই”— প্রাণখোলা হাসির শব্দ৷ “হ্যাঁ স্যার। আপনি নিজের যত্ন নেবেন।” এবার ফোনটা অফ করা দরকার। কথা বলতে ভালো লাগছে না৷ নিজের সঙ্গে কথোপকথন হয়নি চব্বিশ ঘণ্টার বেশি সময়।

দক্ষিণ দিকের জানলা খুলে বসেছিলাম খেয়ে ওঠার পর। মা পাশের ঘরে ঘুমোচ্ছে। বাবা দোতলায়৷ লোকটার কেবলই ঠান্ডা লাগে, তাই ওপরের ঘরে গিয়ে শুয়ে থাকে। এই মে মাসের দুঃসহ গরমে কী করে যে থাকে, কে জানে৷ চেয়ারে বসে পা দুটো খাটে তুলে রেখেছি। কোলের ওপর খবরের কাগজ৷ তার ওপর শীর্ষেন্দুর উপন্যাস সমগ্র দ্বিতীয় খণ্ড৷ অর্থাৎ কোনওটাই মন দিয়ে পড়ছি না। পুবের জানলা বন্ধ। ঘরের দরজাও। দক্ষিণের জানলায় হাফ লেংথ পর্দা লাগানো৷ ফলে রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। ঈদের ছুটি সোমবার পড়েছে বলে বাড়ি আসা গেল। নইলে বোলপুর থেকে ১৭৬ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে এক রাতের জন্য আর আসতাম না৷ তাছাড়া দেড় মাস লকডাউন চলায় গুচ্ছের কাজ বাকি পড়ে আছে৷ এবার টানা তিনদিন থেকে চলে যাব, আবার মাস খানেক পর আসব। কাজগুলো সামলাতেই হবে। পুবদিক থেকে অরিজিৎ সিং-এর গান ভেসে আসছে, বোঝে না সে বোঝে না। সম্ভবত অর্ঘ্যদের বাড়ি। রবিবার তো প্রায় সকলেই ঘরে। তিনটে বেজে দশ মিনিট। হালকা ঘুম ঘুম পাচ্ছে। আমি আসা মানেই বাবার একগাদা বাজার, আর কালঘাম ছুটিয়ে মায়ের দিনভর রান্না। তার ওপর গতকাল রাতে নিরামিষ খাইয়েছে, শনিবার ছিল বলে। তাই মরমে মরে যাচ্ছিল কাল থেকেই৷ কী করে বোঝাব, এত রান্নাবান্না করে রাখলে নিজের বাড়িতে নিজেকেই কেমন গেস্ট মনে হয়৷

অর্ঘ্যদের বাড়ি থেকে আসা গানটুকু ছাড়া আর কোথাও কোনও শব্দ নেই। মানুষ কেমন অপ্রত্যাশিতভাবে শান্ত হয়ে গেছে হঠাৎ। এরকম একটা মহামারির ট্রমা কাটিয়ে উঠতে বছর খানেক সময় তো লাগবেই। বই সরিয়ে রেখে ফোনটা তুলে নিই। কিছু খবরের নোটিফিকেশন। চার পাঁচটা গ্রুপের মেসেজ। খুব মৃদু একটা গেট খোলার শব্দ মনে হয়। নাহ, সাইকেল গেল বোধ হয়৷ ফেসবুকে অনেকগুলো রিকোয়েস্ট এসে বসে আছে৷ থাক গে, রাতে দেখব। সামনের খয়েরি পর্দা নড়ে ওঠে সামান্য। আমাদের জানলার ঠিক পাশেই খাট৷ আমার হ্যান্ডব্যাগটা পড়ে আছে। আর একটা মশা মারার র‍্যাকেট, বাবা রেখে গেছে। চেয়ার থেকে পা নামিয়ে বসি। জানলায় একটা হাত। শরীর ঠান্ডা হতে থাকে। বুঝতে পারছি পর্দার ওপারে কেউ আছে। যথাসম্ভব নার্ভ সজাগ রাখার চেষ্টা করছি৷ পর্দার তলা দিয়ে সরু সরু আঙুল আর আধখাওয়া নেলপালিশ পরা একটা হাত কবজির একটু ওপর পর্যন্ত জানলার এপারে ঢুকে এসেছে৷ ধরার চেষ্টা করছে ব্যাগটা। হ্যান্ডব্যাগ হলেও এটার যা মাপ তাতে গ্রিলের মধ্যে দিয়ে গলবে না৷ খুব সন্তর্পণে চেয়ার ছেড়ে উঠেছি৷ মাথা নিচু করে নিলডাউনের মতো হাঁটছি, যাতে হাফ-পর্দার ওপর দিয়ে মাথা না দেখা যায়। গুঁড়ি মেরে প্রায় নিঃশব্দে খাটে উঠেই একদম অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ। খপ করে ধরে ফেলেছি হাতটা। প্রাণপণ চেষ্টা চলছে ওদিক থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার। আমি প্রথমে ডানহাত দিয়ে বাগিয়ে ধরেছিলাম৷ এবার বাঁহাতও কাজে লাগাই। একটা রোগা মতো হাতের তালু আমার দুহাতের বজ্র আঁটুনির মধ্যে। আর চিৎকার করতে থাকি, “মা, মা, শিগগির ওঠো। বাবাকে ডাকো৷ মা…।” চার পাঁচবার চিৎকারের পর বেভুলের মতো মা উঠে আসে “কী হয়েছে কী হয়েছে টুবাই” করতে করতে। ওদিক থেকে তখনও হাত ছাড়ানোর জন্য বলপ্রয়োগ চলছে। “মা, বাবাকে ফোন করে নিচে নামতে বলো।” মোবাইলে ফোন পেয়ে বাবাও পড়িমরি করে ছুটে আসে। মিনিট তিনেক ধরে হাত চেপে আছি৷ আশা করি ছেড়ে যাবে না৷ বাবা এসে সদর দরজা খোলে। প্রথমটায় ভয় পাচ্ছিলাম সকলেই, ওদিকে যে আছে তার তো মুখ দেখা যাচ্ছে না৷ ফলে ছুরি টুরি নিয়ে এসেছে কিনা তাও বোঝার উপায় নেই। কিছুটা সাহস করেই সদর দরজা খোলার পর মা ও বাবা উঠোনে নেমে মেয়েটাকে চেপে ধরে। আমি ঠিক কতটা জোরে চেঁচামেচি করেছি তার আন্দাজ আমার কাছে ছিল না৷ পাশের বাড়ি থেকে অর্ঘ্য আর ওর বাবা ছুটে এসেছেন। সামনের বাড়ির মণ্ডলকাকুও একেবারে বাইরের গেটটার সামনে দাঁড়িয়ে।

আমি এইবার উঠোনে এসে দাঁড়াই। বছর চব্বিশ পঁচিশের একটি মেয়ে, খুব ছোটখাট গড়ন। চার-এগারো উচ্চতা হবে মেরেকেটে। শ্যামলা গায়ের রং। মলিন গোছের সুতির শাড়ি পরা। দুহাতে একটা-একটা করে ইমিটেশন চুড়ি রয়েছে৷ হাতের আঙুলে ক্ষয়ে যাওয়া গোলাপি নেলপালিশ, যা আমি ঘর থেকে দেখেছি। সর্বাঙ্গে আর কোথাও বিন্দুমাত্র কোনও প্রসাধন নেই। “চুরি? চুরি করতে আসা?” মণ্ডলকাকু সজোরে থাপ্পড় মারেন মেয়েটার গালে। অর্ঘ্য পকেট থেকে মোবাইল ফোন বার করে তাক করে রেখেছে মেয়েটার দিকে। বাড়ির সামনে জটলা দেখে আরো দুজন পথচারী এসে দাঁড়িয়েছেন৷ একজন প্রৌঢ়, অন্যজনকে দেখে কলেজপড়ুয়া তরুণী মনে হয়৷ সেও মোবাইল ফোনে ভিডিও তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমার বাবা মেয়েটার চুলের মুঠি ধরে আছে। অর্ঘ্যর বাবা বলছেন, “মেয়ে হয়ে চুরি করতে এসেছিস লজ্জা করে না?” মা বলে, “মেরে লাভ নেই। এই টুবাই থানায় ফোন কর তো।” এইবার মেয়েটা ভয়ে কেঁদে ফ্যালে। বাবার পা ধরে উবু হয়ে বসে পড়েছে উঠোনে। মণ্ডলকাকু বলে ওঠে, “কেঁদে লাভ হবে না, পুলিশ তুলে নিয়ে গেলে কেঁদে পার পাবি না।” তরুণীটি মাকে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে, “কী করে ধরলে গো আন্টি!” মা গর্বভরে আমাকে দেখিয়ে ইশারায় তাকে বোঝায়। তরুণী বলে, “দিদি ইউ আর অসাম।” মেয়েটা সমানে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে। অর্ঘ্যর বাবা একটু দূরে সরে গিয়ে থানায় ফোন করতে উদ্যত হন৷ মেয়েটি হঠাৎ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, “জেঠি জল খাব।” অর্ঘ্য বিরক্তির সুরে বলে, “আবার জেঠি!” মা ইতস্ততভাবে ঘর থেকে জলের বোতল আনতে যাচ্ছিল, আমি হাত দেখিয়ে থামাই। “চলো, কলতলায় চলো।” বাবা বলে, “দেখিস, না পালায়। আমরা অবশ্য এদিকে আছি৷ পালাবে আর কোন রাস্তা দিয়ে।”

মেয়েটা সামনে, আমি ওর হাত হালকা করে ধরে পেছনে যাচ্ছি৷ “কী নাম তোমার?” নীরবতা। “উত্তর দাও। সত্যি কথা বললে পুলিশে দেওয়া হবে না।” মেয়েটা কলতলায় দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। গালে জলের দাগ। চুলের খোঁপাটা খুলে গেছে টানাটানিতে। একটা সবজেটে মগ রাখা ছিল৷ মিউনিসিপালিটির ওয়াটার সাপ্লাইয়ের কলটা খুলে মগে জল ভরে হাতে দিই। ঢকঢক করে পুরোটা খায়। “নাম বলো এবার।” “শিউলি।” “মারব টেনে এক থাপ্পড়। ঠিক নাম বলো।” “আমিনা। ঘরে শিউলি ডাকে।” “বাড়ি?” “বনগাঁ।” কথার উত্তর দিচ্ছে সংক্ষেপে, আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। ওয়াটার রিজার্ভারের ওপর কিছু পুরনো বাসন রাখা। একটা থালা, দুটো কালো হয়ে যাওয়া কাঁসি, একটা গ্লাস, কয়েকটা কাচের কাপ প্লেট, একটা চকলা ওঠা ননস্টিক ফ্রাইং প্যান। পাশে একটা আদ্যিকালের কালো কিটস ব্যাগ। দু দশক আগে যখন ট্রলি বাজারে আসেনি, কাছেপিঠে বেড়াতে গেলে মা এই ব্যাগটা নিয়ে যেত। সেটার চেন কাটা, পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে৷ ভেতরে একটা সরু পাড় সাদা শাড়ি দেখা যাচ্ছে৷ মনে হয় দিদানের। বাসনগুলোও গতবছর দিদান চলে যাওয়ার পর একে একে বাতিল করা হয়েছে মনে হয়।

“অ দি, ওগুলো দিবা?” “চেয়েই যদি নিবি তো আগে এসে চাইতিস। চুরি করতে এসেছিলি কেন বল?” “চাইলে তোমরা দাও?” মনে হচ্ছে বাড়ির সামনের ঘেরাওস্থল থেকে কলতলায় এসে একটু সাহস পেয়েছে। “তুই চুরি করিস?” “না।” “আবার মিথ্যে কথা?” “অ দি মাইরি আমি চুরি করি না। আগে একবার করেছিলাম, ওই যখন নোট বাতিল হল। যে বাড়ি কাজ করতাম ওই বাড়ির কাকাটা খালি গায়ে হাত দিত। ওর ব্যাগ থেকে নতুন দুহাজার টাকার চারটে নোট তুলে নিইচিলাম। আর কাজে যাইনি।” “বাড়িতে কে কে আছে?” আমিনার চোখ আবার বাসনগুলোর দিকে। “তিনটে কচি। আর আম্মি। খোঁড়া, হাঁটতি পারে না।” “তোর বর নেই?” “আরেকটা শাদি করে পালিয়েছে। ওগুলো দাও না দি।” এগিয়ে ওয়াটার রিজার্ভারের দিকে যাই। একধারে তোবড়ানো থালাটার মাঝখানে খোদাই করে প্রিয়বালা দাসী নাম লেখা। হাত নেড়ে আমিনাকে ডাকি। “দ্যাখ, এগুলো খারাপ বাসন। নিয়ে কি ব্যবহার করতে পারবি?” “হ্যাঁ পারব। শাড়িটা দিবা না? আম্মির শাড়ি নাই।” “সবই নিয়ে যা। কিন্তু আর চুরি করিস না।” “অ দি কাল পরব্, ছেলেমেয়েগুলোর জন্য কিছু কিনতি পারিনি… মা হয়ে… ট্রেনে গলা দিই মনে হয়।” আমিনা বাসনগুলো ওই কালো কিটস ব্যাগে ভরতে থাকে। থালাটা হাতে নিয়ে বানান করে করে নাম পড়ে। “পি ও বা লা… তোমার নানি?” “হ্যাঁ। দিদান বলতাম আমরা। তুই কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছিস?” “এইট। আব্বা মদ খেয়ে আমাকে, ভাইবোনকে, মাকে মারত। জামাইবাবু ধরে বিয়ে দিয়ে দিল। তোমার দিদান তোমারে অনেক ভালোবাসত, না দি?”

ওদিকের কেউ পুলিশ স্টেশনে ফোন করেছে কিনা জানা নেই। করলেও, তাদের আসতে নিদেনপক্ষে এক ঘণ্টা। মোবাইল ফোন তাক করে সেই সদ্য তরুণী আমাদের দিকে এগিয়ে আসে— “আন্টি দেখতে পাঠাল তোমার দেরি হচ্ছে কেন।” তরুণীর আকস্মিক আগমনে আমিনা হাত থেকে ব্যাগটা মাটিতে নামিয়ে আবার পা ধরতে আসে— “পুলিশে দিবা না তো?” তরুণীকে হাত নেড়ে ভিডিও রেকর্ডিং বন্ধ করতে অনুরোধ করি। আমিনার কাছ থেকে সরে দাঁড়াই। “পা ধরছিস কেন কথায় কথায়! আগে বল চুরি করবি না। পড়তে জানিস তো, কাজ খোঁজ।” “আমাদের ইস্টেশনে একটা এগরোলের দোকানে তো বসতাম। মালিক বারোশো টাকা দিত মাস গেলে। চত্তির মাস পড়তে ছাড়িয়ে দিল। বলল, দোকান বন্ধ। আর আসতি হবে না।” কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকি। তারপর উত্তর দিই, “আমিনা আমার দু বছর চাকরি ছিল না। সবারই কষ্টের সময় একদিন শেষ হয়ে যায়।” তিনজনে আবার বাড়ির সামনের দিকে যাই। জটলা খালি হয়ে গেছে। মণ্ডলকাকু আর বাবা ছাড়া উঠোনে কেউ নেই৷ পথচারী প্রৌঢ়, অর্ঘ্য আর ওর বাবা চলে গেছেন। মা বারান্দার সোফায় বসে। আমাদের দেখে বলে, “ওকে ধরে রাখ। সাব ইন্সপেক্টর লোক পাঠাবে বলেছে এখনই।” “মা ওকে ছেড়ে দিচ্ছি। ও আর চুরি করবে না।” মণ্ডলকাকু খুব অবাক হন— “সেকি গো, ছেড়ে দেবে কেন! ছেড়ে দিলে এদের শিক্ষা হবে না।” মার দিকে তাকিয়ে বলি, “তোমার বাসনকোসনগুলো ও নিল।” মা একটু বিরক্ত হয়েছে— “হ্যাঁ ও আর আমার কী হত, ফেলেই তো দিয়েছিলাম।” মণ্ডলকাকু বাড়ির দিকে এগোন। বাবা বলে, “সব সিদ্ধান্ত তো তুই একাই নিলি। তাহলে থানাতেও ফোন করে বারণ করে দে। পুলিশ আর ফালতু এসে কী করবে।” তরুণীকে মা বলেন, “বোসো প্রিয়াঙ্কা, একটু চা খেয়ে যাও। চারটে তো বেজেই গেছে।” বারান্দার ঘড়িতে চারটে পাঁচ। এবং জানা গেল, মেয়েটির নাম প্রিয়াঙ্কা। ও জবাব দেয়, “হুম আন্টি, টিউশন তো আর যাওয়া হবে না। চারটেয় স্যার আসেন। এখন ট্রেনে উঠে দমদম ক্যান্টনমেন্ট নেমে রাজবাড়ি পৌঁছতে ৫টা বেজে যাবে। চাপ নিয়ে লাভ নেই।” আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “উফফ আজকে যা এক্সপেরিয়েন্স হল! একদম লাইফটাইম। এটা এফবিতে পোস্ট করে দিচ্ছি এখনই।” আমি হেসে সম্মতি জানাই।

বারান্দায় একটা দরজার ওপর দিদানের ছবি। অন্য দরজার মাথায় দাদানের। মালাটালা দেওয়া নেই। চন্দনের ফোঁটাগুলি বোঝা যায় এখনও। ক্লাস ইলেভেনে প্রেম করতে গিয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পর বাবা রোজ মাকে বলত, “মুদির দোকানের ছেলেটেলে দ্যাখো, বিয়ে দিয়ে দেব। ওকে পড়ানোর চেষ্টা করে লাভ নেই।” আমাদের জ্ঞানত, দিদান জীবনে মাত্র একবারই বাবাকে ধিক্কার দিয়ে বলেছিল, “খোকা, নিজের জীবনের দিনগুলো ভুলে যাস না।” কাল ঈদ। দিদান খুব ভালো সিমুইয়ের পায়েস বানাতে পারত৷ মায়ের চেয়ে ভালো। তবে আমাদের সিমুই পাতলা হয়, ঝুরঝুরে নয়। স্টেশনের রাস্তা ধরে, আমার চেয়ে বছর সাত-আটেকের ছোট মেয়ে শিউলি ওরফে আমিনা হেঁটে চলে গেছে। হৃদয়পুর থেকে ট্রেন ধরে ও হয়ত সোজা বাড়িই যাবে। আত্মহত্যা হয়ত ও করবে না। ওর মধ্যে একটা বেপরোয়া ভাব আছে। যুঝে নিতে পারবে বলে মনে হয়। কিন্তু, সবারই কষ্টের দিন শেষ হয় কি?

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2770 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...