এনকাউন্টারমঙ্গল: বিচারহীনতার রাষ্ট্রীয় মতবাদ

সুজন ভট্টাচার্য

 


লেখক প্রাবন্ধিক, গদ্যকার, ঔপন্যাসিক

 

 

 

 

মাসছয়েক আগের ঘটনা। ঘটনাস্থল হায়দারাবাদ। এক তরুণী খুন হয়ে গেলেন গণধর্ষণের পরে। ফুঁসছে গোটা দেশ। দিল্লির নির্মম ঘটনার স্মৃতি তখনও তরতাজা। কাঠুয়ার মেয়েটির নাম অবশ্য তখন প্রায় হারিয়ে গেছে। সে তো কত নাম-ই হারিয়ে যায়, বিশেষত রাজনৈতিক সংসর্গ থাকলে। যাই হোক পুলিশি তৎপরতায় দ্রুত গ্রেপ্তার হল চার অভিযুক্ত। তাদের নিয়ে যাওয়া হল ঘটনাস্থলে, ঘটনাক্রম ভালো করে বুঝে নেওয়ার জন্য। আর তারপরই বিপর্যয়। পুলিশি পাহারা কেটে চারজনই নাকি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালাল আর তাতেই মারা গেল চার অভিযুক্ত।

প্রবল উল্লাসে ভেসে গিয়েছিল সেদিন গোটা দেশ। ধর্ষণকারীর এমন কঠোর শাস্তিই হওয়া উচিত বলে সামাজিক মাধ্যমে কিংবা রাস্তাঘাটে মত প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। বিচারের চোরাগোপ্তা গলিঘুঁজি দিয়ে বহু অপরাধীই যে পার পেয়ে যায়, সেটা অনেকেরই জানা। বঙ্কিমচন্দ্র সেই কত বছর আগে লিখেছিলেন, ‘আইন একটি তামাশা মাত্র; বড়লোকেরা পয়সা খরচ করিয়া উহা দেখিয়া থাকে।’ অধিকাংশ ধর্ষণকাণ্ডেই শেষ পর্যন্ত কেউ শাস্তি পায় না। সেই জন্যই নাকি দেশে ধর্ষণের এত বাড়বাড়ন্ত। তাই চাই এমন হাতেগরম চটজলদি শাস্তি। যারা এনকাউন্টারের নামে বিচারপদ্ধতিকে এড়িয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের গায়েও উৎসাহী জনতা ধর্ষকের স্ট্যাম্প লাগিয়েছিল।

এনকাউন্টার মৃত্যু নিয়ে আবার তোলপাড় শুরু হয়েছে কানপুর পুলিশ কর্তৃক বিকাশ দুবের হত্যার ঘটনায়। কানপুরের কুখ্যাত মাফিয়া বিকাশ আটজন পুলিশকর্মীকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে হাতে না পেয়ে পুলিশ নাকি বুলডোজার দিয়ে তার বাড়ি মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। বাড়িটি বৈধ নাকি অবৈধ, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। যদি অবৈধ-ই হয়, তাহলে সেটা তৈরি হলই বা কীভাবে, আর এতদিন রয়েই বা গেল কেন, সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নাকি বিকাশ দুবে পুলিশের গায়ে হাত না দিলে বাড়িটা যেমন থাকার তেমনই থেকে যেত? যে যাই উত্তর দিন না কেন, বিকাশ দুবের বাড়ি ভাঙার পিছনে একটা সুচতুর অঙ্ক রয়েছে। সহকর্মীদের খুনের ঘটনায় উত্তর প্রদেশের পুলিশবাহিনীর ক্ষোভকে সচেতনভাবেই ব্যবহার করার জন্য এটা করা হয়েছিল।

প্রতিহিংসার স্বাভাবিক প্রকাশ বলে তবু নাহয় এই ঘটনাকে খানিকটা লঘু চোখে দেখা যায়। তারপর যেটা হল, তাকে সস্তা ফিল্মের চিত্রনাট্য বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কানপুরে আটজন পুলিশকে খুন করার পর স্বাভাবিকভাবেই বিকাশ লুকিয়ে পড়ল। তারপর তাকে দেখা গেল মধ্য প্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে। পুজো দেবে বলে ভিআইপি টিকিট কেটে ঢুকে পড়ল ভিতরে। তাকে নাকি চিনে ফেলেছিল মন্দিরের একজন বেসরকারি পাহারাদার। সে-ই খবর দিল স্থানীয় থানায়, চলে এল পুলিশ, গ্রেপ্তার হয়ে গেল বিকাশ। সবটাই ৮ জুলাই সকালের ঘটনা। উত্তর প্রদেশের পুলিশও চলে এল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। আর যাবতীয় বিধিকে নস্যাৎ করে মধ্য প্রদেশ পুলিশ বিকাশকে সরাসরি তুলে দিল উত্তর প্রদেশের পুলিশের হাতে। স্থানীয় আদালতে তাকে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করাটাই ছিল ফৌজদারি আইনের বিধি। কী এমন তাড়াহুড়ো ছিল যে সেটাকে অগ্রাহ্য করেই এমন চটজলদি হস্তান্তর করতে হল?

দ্রুত হস্তান্তর করার পিছনে কোনও একটা বড় কারণ যে অবশ্যই ছিল সেটা পরিষ্কার হয়ে গেল পরদিন সকালেই। উত্তরপ্রদেশের পুলিশের ঘোষণা অনুযায়ী, যে গাড়িতে বিকাশকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, দুর্ঘটনায় সেটি উলটে যায়। পাহারাদার পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে বিকাশ পালানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এনকাউন্টারে বাধ্য হয়। আর তাতেই মারা গেল কুখ্যাত মাফিয়া বিকাশ দুবে। গোয়েন্দা গল্পের প্লট সাজাতে আমরা বসিনি। তাই এই ঘোষণা অনুযায়ী যে কাহিনিক্রম, তাতে বড় বড় ফাটল কোথায় আছে, আপাতত সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। ফাটল তো সর্বাঙ্গ জুড়েই। আমরা বরং মোটিভের প্রশ্নে আসি।

বিকাশ দুবের পরিণতি নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এটাও তো ঘটনা, ৬০ খানা চার্জশিট যার নামে, সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে কিসের জোরে? কোন কোন মহাবলীর অভয় হস্ত রাখা ছিল তার মাথার উপরে? ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশের সরকারি দলের বিবিধ মহান নেতানেত্রীর সঙ্গে তার ভাব-ভালোবাসার নানান কাহিনির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। সবটা সত্যি না-ও হতে পারে। কিন্তু গুচ্ছ গুচ্ছ সহাস্য ছবির উৎস কী? কীভাবে বিকাশ দুবের মতো একজন অপরাধী নানান ক্ষমতাশালীর কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারল? কী সেই জাদুমন্ত্র? আছে, কিছু না কিছু তো আছেই। ‘ওয়াটার অব ইন্ডিয়া’-র সেই জাদুকলসে কার কার নাম লেখা আছে, সেটাই তো আসল প্রশ্ন।

বিকাশের এনকাউন্টার মৃত্যুর কারণে একমাত্র লাভবান হল এরাই। বিকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বাভাবিকভাবেই এইসব নাম আর বিকাশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি প্রকাশ্যে চলে আসত। কতটুকু প্রমাণ করা যেত, এখনই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু তারা যে অস্বস্তিতে পড়তেন, সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ধরা পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিকাশের মৃত্যু আর যাই হোক না কেন, এদের নিশ্চিন্ত করেছে। দুর্ঘটনা তো ঘটেই, ঘটতেই পারে। কিন্তু বিকাশের মত একটা ব্র্যান্ডেড আসামিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল হাতকড়া না পরিয়েই? তাই গাড়ি উল্টোতে না উল্টোতেই সে পার্শ্ববর্তী পুলিশটির বন্দুক কব্জা করে ফেলল? রূপকথার গল্পেও কেউ এমন বিশ্বাস করবে না।

এনকাউন্টার ভারতের পুলিশিব্যবস্থার কাছে খুব প্রিয় একটা শব্দ। অস্বস্তিকর প্রসঙ্গকে চাপা দিতে কিংবা চারিপাশে সন্ত্রাসের আবহাওয়া গড়ে তুলতে এনকাউন্টার যে বড্ড কাজে দেয়! ধরুন না সেই নকশাল আমলের কথা। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২। কতজনকে খুন করেছিল পুলিশ এনকাউন্টারের নামে? এইসব এনকাউন্টারের উদ্দেশ্য ছিল একটাই। মানুষ যাতে ভয় পায়, নতুন করে কেউ আবার নকশালি দলে নাম না লেখাতে যায়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল পাঞ্জাবে, খালিস্তান আন্দোলন দমনের নামে। উদ্দেশ্য সেই একই। মানুষকে সন্ত্রস্ত করে আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। এই পদ্ধতি অবশ্য বহু প্রাচীন। শকদের প্রতিহত করতে না পেরে পারস্য সম্রাট সাইরাস শুরু করলেন শকদের সঙ্গে মিত্রতা আছে এমন গোষ্ঠীগুলোর উপর নির্যাতন। পরিণতিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল শক-রা, পালিয়ে যেতে বাধ্য হল ভোলগা নদী পেরিয়ে।

কিন্তু এ তো হল রাষ্ট্রের নিজস্ব ইমিউনিটি। রাষ্ট্রব্যবস্থার গোড়া ধরে কেউ টান দিলে রাষ্ট্র তো আর ছেড়ে দেবে না। যখন বুঝবে আইনের পথে কিছু করা যাবে না, তখন পড়ে থাকবে অলিখিত যুদ্ধঘোষণা। যুদ্ধে আর যাই হোক সামরিক বদলা ছাড়া অন্য কোনও বিধি খাটে না। এমন ক্ষেত্রে এনকাউন্টার হল দেশের মধ্যে যুদ্ধচালনার রাষ্ট্রীয় কায়দা। প্রশ্ন করার বা নিজেই প্রশ্নচিহ্নিত হওয়ার উপদ্রব নেই; আগেই নিকেশ করে দাও। তাতে শত্রুও গেল, আর ভয়ে তার হয়ে কথা বলারও কেউ থাকবে না। হাজার চাইলেও এমন ঘটনা আটকানো যাবে না। বরং যারা এমন কথা বলবেন, তাদের গায়ে রাষ্ট্রদ্রোহীর ছাপ্পা মেরে দেওয়াতাই দস্তুর। আর পৃথিবীতে সবাই জানে খুব-ধর্ষণ-রাহাজানির থেকেও বড় অপরাধ হল রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। ব্যাঙ্কের টাকা মেরে বিদেশে পালিয়ে গেলে জামাই-আদর পাওয়া যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেই কোতল নিশ্চিত।

এর বাইরে পড়ে থাকে আরেকটা বিপুল জগত, যেখানে অপরাধী আর আইননির্মাতা কিংবা আইনের রক্ষকদের মধ্যে গড়ে ওঠে আশনাই। প্রায়শই ভালোবাসার সেই তাগিদ গোপনও থাকে না, চলে আসে প্রকাশ্যে। সেই সময়ে বিষফোঁড়ার চিকিৎসার সবথেকে ভালো বন্দোবস্ত হল ঝটাক সে অপারেশন, এনকাউন্টার। অভিযুক্তই যদি আর না থাকে, তাহলে কিসের তদন্ত আর কে দেয় সাক্ষ্য! দয়া নায়কের নাম মনে পড়ছে? মুম্বাইয়ের এনকাউন্টার এক্সপার্ট সাব ইন্সপেক্টরের কথা? ৮০টি সফল এনকাউন্টারের স্রষ্টা। প্রবল খ্যাতি। সেই সময়েই জনৈক সাংবাদিক অভিযোগ তুললেন দয়া নায়কের বিরুদ্ধে। মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের সঙ্গে তার নাকি গভীর যোগাযোগ। এবং সেই সূত্রে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন নাকি দয়া নায়েক।

গ্রেপ্তার হলেও দয়া নায়কের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি কোর্টে। পুলিশ উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। না পারারই কথা। রাঘববোয়ালদের কেসে কোন রাজ্যের পুলিশ কবে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ দিতে পেরেছে? দয়া নায়ক চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এনকাউন্টার-প্রেম নিয়ে কিছু সন্দেহও জাগিয়ে দিতে পেরেছেন। এনকাউন্টারের ঘূর্ণনচক্রের পিছনে যে রজতচক্রের একটা ভূমিকা আছে, সেই সন্দেহ উঠেছে অনেকদিন আগেই। মনে আছে জঙ্গল-দস্যু বীরাপ্পনের কথা? তামিলনাড়ু পুলিশের এনকাউন্টারে মারা গেল হাতির দাঁত আর চন্দন কাঠের কারবারি বীরাপ্পন। কিন্তু সেই ব্যবসার মাধ্যমে যে অর্থ আসার কথা, সেগুলো গেল কোথায়? জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বীরাপ্পনের পক্ষে তো আর সেই অর্থে আয়েশ করা সম্ভবও ছিল না। তার স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে তো নিতান্ত দরিদ্রের জীবন যাপন করতে। কে খেল সেই বিপুল টাকা? বীরাপ্পনের এনকাউন্টার প্রশ্নগুলোকে মুক্তি দিয়ে গেল, নিশ্চিন্ত করে দিয়ে গেল অনেকের রাতের ঘুম।

মোদ্দা প্রশ্ন একটাই। একজন দাগী অপরাধীর জন্ম একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে একটা একটা করে মদত চাই, অবশ্যই চাই। পুলিশের সঙ্গে খাতির না থাকলে একটা পর্যায়ের পরে তার পক্ষে ডানা মেলা মুশকিল। আর চাই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। সর্বজনমান্য মাফিয়া ডন হয়ে উঠতে গেলে রাজনৈতিক বরাভয় চাই-ই চাই। নইলে গোড়াতেই মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। তার মানে বিভিন্ন কারণে কেউ হয়তো অপরাধী বনে গেল। কিন্তু তাকে বড় মাপের অপরাধী হয়ে উঠরে সাহায্য করে পুলিশি ও রাজনৈতিক মদত। বিকাশ দুবের কথাই ধরা যাক। ৬০ খানা চার্জশিট নিয়েও সে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিল বাইরে। কেউ তার গায়ে হাত দেবার কথা ভাবেনি। কেন? এই সরল অঙ্কটা মাথায় রাখলেই যাবতীয় উত্তর মিলে যাবে।

সবচেয়ে বড় কথা, কোর্টে যতক্ষণ না একজনের অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ সে নিছকই অভিযুক্ত; অপরাধী নয়। হ্যাঁ, কোর্টে ঠিকঠাক তথ্য-প্রমাণ হাজির করার দরকার আছে; আছে সাক্ষীদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার। নইলে ভয়ে তারাও কোর্টে এসে উলটো কথা বলে যেতে পারে। বেস্ট বেকারি মামলার কথা মনে পড়ে? গুজরাটের বরোদার? গুজরাট দাঙ্গায় শেষ হয়ে যাওয়া একটি মুসলিম পরিবারের সুবিচার পাবার কাহিনি? গুজরাটে বিচার চলাকালীন কিভাবে পাল্টি খেয়েছিল যাবতীয় সাক্ষী? পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুম্বাইয়ে নতুন করে বিচার শুরু হবার পর ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল। মূল অভিযোগকারী জাহিরা শেখ পর্যন্ত ক্রমাগত চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। তাতেও সত্যি সামনে চলে আসে। এমনভাবে কেস চালনা কটা ক্ষেত্রে সম্ভব? গুজরাটে বসে যে সাক্ষী পাল্টি খায়, মুম্বাইয়ে এসে সেই সাক্ষীই সবকিছু বলে দেয় কোর্টে। কেন এমন হতে পারে?

এই রহস্য যারা বোঝেন না, তারা দয়া নায়ক কিংবা রুনু গুহনিয়োগীকে নিয়ে উল্লসিত হতে পারেন। এনকাউন্টার মানেই কোর্টে আসার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, বন্ধ করে দেওয়া বিবিধ অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পথ। আর এই কারণেই এনকাউন্টার প্রচলিত ব্যবস্থা কিংবা তার প্রসাদজীবীদের পছন্দের বিষয়। কোনও সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বিচার না করেই মেরে ফেলার পদ্ধতিকে সমর্থন করতে পারেন না। বিচারে ফল হয় না, এই যুক্তিতে যদি এনকাউন্টারকে মেনে নিতে হয়, তাহলে আরও কতগুলো অনুসারী সিদ্ধান্তও একই সঙ্গে নিয়ে ফেলতে হয়। যাই হোক না কেন, পুলিশের কাছে বা কোর্টে মামলা করতে যাব না। কারণ বিপরীত পক্ষ যদি জোরদার হয়, তাহলে আমার পরাজয় অনিবার্য। সেক্ষেত্রে তো না ঘাটানোই ভাল। কজন মানবেন এমন যুক্তিবদ্ধ প্রস্তাব? আঁতে ঘা লাগলে একজনও মানবেন না। তাহলে এনকাউন্টারেই বা হাততালি দেবেন কেন? যেই হোক, পুলিশ তাকে টেনে আনুক কোর্টে। উপযুক্ত তদন্ত করে তার শাস্তির ব্যবস্থা করুক। নিজের অপদার্থতা কিংবা অন্য কোনও অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ আড়াল করার জন্য এনকাউন্টার বেছে নেওয়া বন্ধ হোক।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3604 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...