পাঁচটি কবিতা

সার্থক রায়চৌধুরীর পাঁচটি কবিতা

সার্থক রায়চৌধুরী

 

সাইকেল সিরিজ ১

‘বালের মনস্তত্ব বোঝেন আপনি’,…— রাংতায় মোড়া সবকটা ওষুধের চামড়া উড়িয়ে সে দৌড় লাগাল ঘন ঘাসের জঙ্গলে,.. ঝোপ ঝাড় থেকে ডেকে উঠল বাবুই, মুনিয়া, তক্ষক… আর সাইকেল মিশে গ্যালো কি বলব.. এই বাংলাদেশের এক্কেবারে ভিতরে আবার…

 

মা

যে পথটা দিয়ে যেতে হবে সেটা একটা উত্তপ্ত রুক্ষ উল্কাখণ্ড, খড়্গের মত ধারালো তার ভূমি,
এক সুবিশাল নক্ষত্রের রৌদ্রে জ্বলে উঠছে তার মাটি… তাই এই ছাতা দেওয়া হল তোমাকে
আর দেওয়া হল এই পাদুকাজোড়া…
তাছাড়া… প্রায় চৌদ্দ দিবসের এই কষ্টসাধ্য আকাশপথে জনাকীর্ণ যে বিমানে তোমাকে যেতে হবে সেখানে তোমার খাদ্য, জল, পরিধেয়,
আর শয্যা তোমাকেই বহন করতে হবে—
তাই সবই দেওয়া হল তোমায়,…
মনে রেখো— শেষে যে নদী তোমাকে পার করতে হবে তার কালো ফুটন্ত জলের ঘূর্ণিতে যাতে
ভেসে না যাও তাই ওই দুগ্ধবতী কৃষ্ণা গাভিনী,.. যাতে প্রবেশদ্বারে রক্ষী পথ রুদ্ধ না করে
তাই এই স্বর্ণ, কাঞ্চন…
ওখানে পৌঁছে যাবে জানি,…
জানি দেখতে পাবে আমাদের,…
তোমার লাঠিটা দিয়েছি আর
চশমাটা পরিষ্কার করে বেঁধে দিয়েছি আঁচলে….
দেখো,
হারিয়ে এসো না…

 

কাফকার সঙ্গে কথোপকথন ১

এই এত জমে থাকা কান্না…
এগুলোর
কী হবে তাহলে?..
তুমি, ভুল করছ,..
দ্যাখো—
উল্টো দিকে ফিরেও কিন্তু
কেঁদে নেওয়া যায়..

 

সাইকেল সিরিজ ৩

শুধু কী কী হয়নি নোট করবেন সবাই,
সব কটা গ্রামে তারপর হেলিয়ে রাখা সাইকেল দেখবেন উঠে আসছে আরেকটি সঙ্গী নিয়ে…
অনেক অনেক দূর যেতে হবে,
অনেক না পাওয়ার কথা, না ঘটা ঘটনা, না করা কাজের বিরাট নিভৃত উচ্চারণ নিঃশব্দে লিখে ফেলতে হবে আমাদের…
কোনও অভিযোগ, অনুযোগ, প্রতিবাদ
আমাদের নেই…
কখনও ছিল না,..
ঘুরে চলা চাকার তলায় লিপি, লিখে রাখা..
চিৎকার, যন্ত্রণা, মৃত্যু, অকল্পনীয় অত্যাচারের এক নির্জন নিঃসরণ, স্বগতোক্তির মত অচিরাত জড়িয়ে যাচ্ছে সব টায়ারে টায়ারে.. আর—
‘আবার আসবেন’.. বলে হাত তুলে দাঁড়ানো
মেয়েটি বা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে
কখন বলবেন না— ‘নিশ্চই’…
কারণ— একই ধুলোকণা দুবার অতিক্রম
করা হল একান্ত শিল্পীর কাজ..
আমরা গান গাইতে আসিনি এখানে..
কারণ— ক্রন্দন যতটা ব্যাপক তার চেয়েও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠতে চাইছে আমাদের হাজারো সাইকেল..

 

ভ্যালেন্টাইনস ডে

আসলে কি জানেন,.. ভিখিরির সংসারে ভালবাসা,– মানে, একটা হার্ট আঁকা চকচকে কার্ড ঢুকে পড়লে যা হয়,…

কে পেয়েছে?.. কে নিয়ে এল এই ব্রিজের নিচে?.. কে সেটাকে ঝুলিয়ে রাখল তারের গায়ে?… কী লেখা আছে ঝকঝকে কালিতে? কার নাম?… এইসব…

এবার, কেউ কাউকে কিছু বলতে চায় না,.. তো, বউটা ভাবল বর বোধহয় মাল খেয়ে ও ফুটের দোকানির কাছ থেকে চেয়ে এনেছে ওরই জন্য,… ছোট ছেলেটা ভাবল দিদি দিয়েছে তাকেই,.. বড় ছেলেটা খিস্তি করতে থাকল বোনকে,.. বোন ভাবল রোলের দোকানের ছেলেটা দিয়ে গ্যাছে,.. আর রাতে লোকটা নেশায় টলতে টলতে ‘মাগী, মাগী’ বলে চিৎকার করতে করতে ওই কার্ডটা বউটার মুখে ঠুসে দিয়ে গলা টিপে মেরে ফেলল মাইরি!…

কতবার কত লোকে বলেছে,..
পুরসভা, দূষণবোর্ড, এই আমরা… পুলিশেরা বলিনি বলুন?…
গাড়ির জানলা থেকে যত্রতত্ৰ আবর্জনা
ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলাটা
অন্যায়?….

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4007 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...