বিধির কবলে ইন্টারনেট

স্বপন ভট্টাচার্য

 


গদ্যকার ও প্রাবন্ধিক, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

 

 

 

করোনাকালে মোদি-শাহের সরকার বিরোধীদের সঙ্গে বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ঠিক কোন কোন আইন সংশোধন করেছেন বা প্রণয়ন করেছেন, হে পাঠক, আপনি আগ্রহী হয়ে থাকলেও তার সব কটা জেনে উঠতে পেরেছেন বলে বাজি রেখে বলতে পারবেন না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তারা নয়া নয়া বিল, বিধি, মিশন, কমিশন, ইনিশিয়েটিভ ইত্যাদি বহু রকম প্রকল্প নিয়েছেন এই অতিমারির বছরে। এগুলোর ভালোমন্দ নিয়ে যত আলোচনা আপনি খবরের কাগজে পড়েছেন বা প্রাইম টাইম টিভি-তে দেখতে পেয়েছেন তার থেকে অনেক বেশি আলোচনা হয়ত আপনার নজরে এসে থাকবে বিভিন্ন ডিজিট্যাল নিউজ পোর্টালে। বলার কথা এই যে, সরকারি সাহায্যপুষ্ট নয়, সরকারি বিজ্ঞাপনের তোয়াক্কা করে না এবং সরকারকে চটাতে ভয় পায় না— এমন সোশ্যাল মিডিয়ানির্ভর নিউজ পোর্টালগুলিও কিন্তু এই করোনাকালের ‘তিরছে নজর’ থেকে বাদ পড়েনি, তবে কিনা সে নিয়ে আলোচনা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় আপনি কমই দেখে থাকবেন।

এই নভেম্বরের ১০ তারিখে একটা গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে ওভার দ্য টপ (OTT) প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত অডিও-ভিস্যুয়াল পরিবেশনা, সংবাদ পরিবেশনা, চলচ্চিত্র এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার জাতীয় পরিবেশনাগুলিকে। এর জন্য ভারতীয় সংবিধানের দ্বিতীয় শিডিউলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং দূরদর্শন, সিনেমা, বিজ্ঞাপন, প্রেস, খবরের কাগজ, কেবল টেলিভিশন এবং প্রকাশনার মতই তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের কাছে দায়বদ্ধ করা হয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রচারকে। ওটিটি নামটি গালভরা হলেও এর অর্থ সাদামাটা— ইন্টারনেট সংযোগের দ্বারা যা আপনার কাছে সরকারি নিয়ন্ত্রণের আওতার বাইরে থেকে (অর্থাৎ তার উপরে গিয়ে— ওভার দ্য টপ) পরিবেশিত হয় তাকেই মোটামুটিভাবে ওভার দ্য টপ (OTT) প্ল্যাটফর্ম বিবেচনা করা হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেবল টেলিভিশনে যা আপনি দেখেন তা সরাকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং সেন্সরড। কিন্তু নেটফ্লিক্স বা আমাজন প্রাইমে বা হইচই-এর মত আন্তর্জালভিত্তিক মাধমে যা আপনি দেখেন তার উপর সেন্সরের কাঁচি চলার সুযোগ ছিল না। এই সংশোধনী সেই সুযোগ এনে দিল তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরকে। যদি এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হত তাহলে এই বদলকে একটা নীতিপুলিশি হিসাবেই দেগে দেওয়া যেত। লাভ জেহাদের দেশে তা কেবল উপরন্তু মাত্র, মৌলিক লাগাম সেটা নয়। অতিমারিকালে যেখানে ক্লাস থ্রি ফোরের বাচ্চার পড়াশুনাও ইন্টারনেটভিত্তিক হয়ে গেল সেখানে অবাধ যৌনতা ও হিংসার স্ট্রিমিং নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার নিশ্চয়ই অবকাশ আছে, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে যদি সংবাদ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও প্রেস চলে আসে তখন সন্দেহ হয় উদ্দেশ্য নেটফ্লিক্স আমাজনের আড়ালে স্বাধীন ডিজিট্যাল সংবাদমাধ্যমকেও লাগাম পরিয়ে রাখা। চলচ্চিত্র বরাবরই সেন্সরশিপের আওতায় থাকলেও ভারতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের উপর ইন্দিরা গান্ধির সময়কার জরুরি অবস্থা ছাড়া খবরের প্রি-ভিউয়িং অর্থাৎ ছাপার আগে সরকারি সবুজ সঙ্কেতের আবশ্যিকতা ছিল না। এবারে দৃশ্যমাধ্যমে পরিবেশিত এবং ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে প্রাপ্তব্য স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনাকেও প্রি-ভিউয়িং-এর আওতায় অন্তত কাগজেকলমে এনে ফেলা গেল। স্বাধীন সংবাদ প্রায়শই সরকারের অস্বস্তির কারণ। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চার বছরের রাজত্বকাল এক ফক্স নিউজ ছাড়া প্রায় সমস্ত সংবাদসংস্থাকেই ‘ফেক নিউজ’ বলে কাটিয়ে দিল। কিন্তু তাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস বা ওয়াশিংটন পোস্টের মত প্রেসগুলির সমালোচনার মাত্রা একটুও কমেনি। এদেশে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার নজিরই নেই, সেখানে একটি দুটি ছাড়া এমন মিডিয়া হাউস নেই যাদের নিয়ে সত্যি বলতে কি সরকারকে ‘ভাবতে’ হয় । ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আমাজন নেটফ্লিক্সের মত পোর্টালে কখনও কখনও এমন চলচ্চিত্র দেখা গেছে যা সরকারের ভাবমূর্তির পক্ষে অনুকূল নয়। এগুলিকে প্রি-ভিউয়িং-এর আওতায় আনতে চাওয়ার ষোলআনা আগ্রহ থাকবে তাদের। কিন্তু তার থেকেও বড় মাথাব্যাথা হল খবর। সত্যি খবর যে সব সময় আচ্ছে দিনের খবর হবে না তা বলাই বাহুল্য। সেখানে তথ্যসম্প্রচার দপ্তরের অমোঘ যুক্তি হল— লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। অন্য মাধ্যম যখন ঘেরা মাঠে খেলে তখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মিডিয়া খোলা মাঠে খেলবে কেন?

এমন নয় যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের অডিও-ভিস্যুয়াল খবর বা লাইভ স্ট্রিমিং-এর জন্য ভারতে কোনও আইনকানুন ছিল না। ইন্টারনেট ছিল ইনফরমেশন টেকনোলজি আইনের আওতায়। একই মাঠে খেলবার কথা বলে ইন্টারনেটের কনটেন্টকে এবার তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের আওতায় আনা হল। ভারতে কেবল টিভির সম্প্রচার ‘কেবল নেটওয়ার্ক রুল ১৯৯৪’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সিনেমা ১৯৫২ সালের ‘সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এছাড়া ‘প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ খবরের কাগজের এবং ‘নিউজ ব্রডকাস্টারস অ্যাসোসিয়েশন’ দৃশ্যমাধ্যমের নিউজ চ্যানেলের বিষয়বস্তুর উপর খবরদারি করার অবকাশ রেখে দিয়েছে। তুলনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিষয় নির্বাচন থেকে শুরু করে দৃশ্যায়ন-সবকিছুই ছিল রাষ্ট্রের খবরদারির বাইরে। ইন্টারনেট ছিল প্রযুক্তির সেই ডানা যা মানুষকে রাষ্ট্রের আকাশের বাইরে অন্য এক মুক্ত আকাশে ওড়বার স্বাধীনতা দেবে বলে ভাবা গিয়েছিল। কিন্তু ইন্টারনেটকে রাষ্ট্র বরাবরই গিলেছে উইথ এ পিঞ্চ অফ সল্ট। চিন, রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার মত দেশে ইন্টারনেট স্বাধীন নয়। কী দেখব, কেন দেখব এ নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীতে দক্ষিণপন্থার বাড়বাড়ন্তের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমবর্ধমান। ২০১৯-এর হিসাবে ইন্টারনেট স্বাধীনতায় ভারতের স্থান ৫৫তম। ফেসবুক থেকে কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার অনুরোধ সবচেয়ে বেশি যায় ভারত সরকারের কাছ থেকে এবং সেটাও ফেসবুকে আঁখি দাসের মত মোদিভক্ত এক্সিকিটিভ থেকে যাওয়ার (সদ্য তিনি অবশ্য ফেসবুক ছেড়েছেন) পরেও।

অতিমারির কালে সিনেমাব্যবসাকে দফা গয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। সেই সু্যোগে ঘরে ঘরে জাঁকিয়ে বসেছে অ্যামাজন আর নেটফ্লিক্স। অভিযোগ এই যে, তাদের স্ট্রিমিং-এ সেক্রেড গেমস বা মির্জাপুরের মত সিরিজ ড্রয়িং রুমে বসে হজম করা সহজ হয়নি সবার পক্ষে। অভিযোগ এও যে, ঘাউল বা পাতাললোকের মত সিরিজ রাষ্ট্রের পক্ষে নুন দিয়েও গিলে ফেলা সহজ হয়নি। প্রি-ভিউয়িং-এর অবকাশ ছিল না বলে তাদের কনটেন্টে লাগাম পরানোর সুযোগ সরকারের ছিল না। কী দেখবেন,  কেন দেখবেন আইন তাদের এই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে এনে ফেলার যুক্তিতে। ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির এই শাসনের সামনে মাথা ঝোঁকানোর অভ্যেস প্রায় পূর্বজন্মকার, কিন্তু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যারা কাজ করেন তারা এই খবরদারির বাইরে গিয়েই তো করেন। হল নেই, প্রজেক্টর নেই, হাউস ফুল নেই, টিকেট ব্ল্যাক নেই, শুক্কুরবারের রিভিউ নেই খবরের কাগজে— তবু সে সবের ঝুঁকি তাঁরা নেন তার একটা কারণ যেমন এই যে তাদের ছবিতে টাকা ঢালার লোক নেই বা ছিল না তেমনই তাদের অনেকেই  যা বলতে চান তা অর্ধশিক্ষিত কেউ কফি খেতে খেতে কেউ কুচ করে কাঁচি চালিয়ে উড়িয়ে দেবে, তা মানতে পারবেন না। এই রেগুলেটেড কনটেন্টের মধ্যে নিউজ পোর্টালগুলোকে ঢোকানো— তা মোটেই হঠাৎ করে নয়। ২০১৮-র ২ এপ্রিল তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ‘ফেক নিউজ’ নিয়ন্ত্রণের লক্ষে একখানা বিজ্ঞপ্তি বার করে জানিয়েছিলেন যে সংবাদিকের শংসাপত্রই কেড়ে নেওয়া হবে যদি খবর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত হয়। প্রচুর সমালোচনার পরে মোদির হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় তা তুলেও নেওয়া হয়। ৪ এপ্রিল তারিখে জানানো হয় একটি দশ সদস্যের হাই লেভেল কমিটি গঠনের কথা যাতে সামিল করা হল তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, তথ্যপ্রযুক্তি, আইন, ব্যবসা সংক্রান্ত মন্ত্রক ইত্যাদি নানা দপ্তরের সেক্রেটারিদের। উদ্দেশ্য অনলাইন পরিবেশনাকে— ‘on the lines applicable for print and electronic media’— প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার লাইনেই— নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা। বিজ্ঞপ্তির ভাষাই মজার। সরকারি মতে ছাপা বা দৃশ্যমাধ্যমে ব্যত্যয় ঘটলে শাসন করার জন্য ‘ওয়েল সেটলড’ আইন আছে যা ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং-এর জন্য নেই। সে কমিটি আজ অবধি তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে বলে জানা নেই, কিন্তু ওই বছরেই মে মাসে আর একটা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিউজ মিডিয়ার সঙ্গে এক পংক্তিতে এনে ফেলা হল আন্তর্জালভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া এবং যে কোনওরকম ডিজিটাল সম্প্রচারকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আগে মাথায় ছিল স্বাধীন খবর পরিবেশনা, পরে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আমাজন, নেটফ্লিক্স বা ফেসবুকের মত মাধ্যমকে। বলা দরকার, এর মধ্যেই আমাজন, নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস, হটস্টার, হইচই সহ পনেরোটি পোর্টাল ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া নামে একটি ছাতার তলায় (IAMAI) একত্রিত হয়ে স্বনিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার রেখেছিল যাতে দর্শক-শ্রোতাকে তারা কী দেখাচ্ছে সে সম্পর্কে কোনও অস্বচ্ছতা না থাকে। কনটেন্ট কোন বয়সের  উপযোগী, তাতে  অস্বস্তিকর ভাষা বা নগ্নতা বা ভায়লেন্স আছে কিনা তা জানিয়ে দেওয়ার দস্তুর এসব প্ল্যাটফর্মে আছে। বলাই বাহুল্য, তথ্যসম্প্রচার দপ্তরের তা যথেষ্ট মনে হয়নি।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এসব মাধ্যমে কাজ করেন এমন শতাধিক সাংবাদিক ও ব্যবহারজীবী সরকারকে জানালেন সরকারবাহাদুর নিয়ন্ত্রণ নেই বলছেন বটে কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারাগুলিতে চোখ বোলালেই জানা যাবে ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচারিত সব কনটেন্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বলে নিয়ন্ত্রিত এবং ইন্ডিয়ান পেনাল কোড অনুসারে সেক্ষেত্রে ব্যত্যয়ের অভিযোগে কড়া শাস্তির বিধান আছে। বস্তুত, নিয়ন্ত্রণ নেই বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার একরকম নিজেই নিজেকে প্রতারণা করছে বলে মনে হয়। তাঁরা এও জানান যে, ডিজিটাল মাধ্যমে যদি ব্যক্তি বা সমষ্টি স্বাধীনভাবে এবং তথ্য সম্প্রচার আইনের মধ্যে থেকেই কিছু পরিবেশন করেন তাহলে সেটাকে প্রদর্শক এবং দর্শক-শ্রোতার মধ্যে একের সঙ্গে একের যোগাযোগ বলেই গণ্য করা উচিত ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী। তাতে লাগাম পরাতে চাওয়া বা প্রি-ভিউয়িং-এর অধিকার দাবি করা দু জনেরই ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হতে পারে। ১০ নভেম্বর ২০২০-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিজিটাল মিডিয়াকে তথ্য-সম্প্রচার দপ্তরের আওতায় এনে সরকার বুঝিয়ে দিল তারা সে যুক্তি কানে তোলেনি। বোঝাই যাচ্ছে দ্য কুইন্ট, নিউজলন্ড্রি, দ্য ওয়্যার ইত্যাদির মত স্বাধীন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সংবাদ পরিবেশনকারী এবং সংবাদ বিশ্লেষণকারী পোর্টালগুলিকে সরকার সেন্সর করতে চায়। দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ বরদারাজনের বক্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য। “The underlying impulse of involving the I&B ministry is to introduce special rules to hinder digital media, which has so far bucked the trend in print and TV spaces of giving the government a free ride.” ডিজিটাল সম্প্রচারকে তথ্যসম্প্রচারে জুড়ে দেওয়া হল তাদের জন্যে বিশেষ আইনের প্রবর্তনার উদ্দেশ্যে, যাতে করে ডিজিটাল মিডিয়া, যারা এখন পর্যন্ত সরকারকে প্রিন্ট বা টিভি মিডিয়ার মত লাগামহীনভাবে যা কিছু করে পার পেয়ে যেতে দেয়নি, তাদের শাসনে রাখা যায়।

ডিজিটাল প্রযুক্তি আজ স্বাধীন চিন্তার পক্ষে বড় হাতিয়ার। এমন হাতিয়ার যা সরকারকে চিন্তায় রাখে। শাসক, সে ছোট-বড়-মাঝারি, কেন্দ্র বা রাজ্য যাই হোক না কেন— সোশ্যাল মিডিয়া তাদেরও হাতিয়ার। অনবরত মিথ্যা এবং বানানো কনটেন্ট ঝুড়ি ঝুড়ি বাজারে ছাড়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মাইনে করা প্রযুক্তিবিদ আছে। প্রভাবে তারাও কম যায় না। তাদের কনটেন্ট দাঙ্গা বাধিয়ে দিতে পারে, দিয়েছেও সদ্য অতীতে, কিন্তু সেটা তাদের অতটা মাথাব্যথার কারণ নয় যতটা স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যা পারে না। বিরোধী দল পার্লামেন্টে যা পারে না, সরকারের করুণাপ্রার্থী সংবাদপত্র যা পারে না, মালিকের মুখের দিকে তাকিয়ে সম্প্রচার করে চলা ‘হাউলার’ টিভি সংবাদ চ্যানেল যা পারে না, তা এরা পারে। বিরোধিতার এই স্পেসটাকে রাষ্ট্র স্বভাবতই পছন্দ করে না। বহুত্বের সাধনাকে ভারতরাষ্ট্র ইদানিং বিপর্যয় মনে করে, সমালোচনাকে মনে করে আক্রমণ। সংবিধানের দোহাই দিয়ে, আইনের দোহাই দিয়ে, অমুক ধারা তমুক ধারার দোহাই দিয়ে যন্ত্রণার কথা, অস্বস্তিকর কথা, লজ্জার কথা, ব্যথার কথা খোলাখুলিভাবে, যতটা এবং যেভাবে বলা দরকার সেভাবে বলবার সুযোগই রাখেনি কলোনিয়াল যুগের এক আইন আজকেরও প্রিন্ট বা টেলিভিশনের সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে। ডিজিটাল সম্প্রচার মাধ্যম কিন্তু সে নিরিখে যথার্থই ওভার দ্য টপ। যা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া হাউস পারে না, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক প্রচার মাধ্যম তা পারে, আর পারে বলেই তাদের নিয়ে এত মাথাব্যথা রেফারির।


ঋণ: নিবন্ধটি লেখার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পোর্টাল News Click এ প্রকাশিত বিষয়বস্তুর সহায়তা নেওয়া হয়েছে।  https://www.newsclick.in/Is-New-Social-Media-Regulation-Pre-Censorship-Online-Content

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3088 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...