শীতকাহন

শীতকাহন -- সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

 

সকাল সকাল বিছানা ছেড়ে সদর দরজার তালা খুলে বাইরেটা এক নজরে দেখে নেওয়া আমার অনেক কালের অভ্যাস। এভাবে দেখার মূল উদ্দেশ্যই হল বাইরের পরিবেশের হাল-হকিকত বিষয়ে একটা আগাম আঁচ নেওয়া। লকডাউনের মোক্ষকালে রাস্তাঘাটে মানুষজনের চলাচল বেড়েছে বটে, তবে শীতের সকালে রাস্তাঘাট এখনও সেভাবে সরগরম হয়ে ওঠেনি। আমাদের সদর দরজার ঠিক উল্টোদিকেই মানিকদার দোতলা বাড়ি। রোজ গলা বাড়িয়ে ‘গুড মর্নিং’ বলে মানিকদাকে সম্ভাষণ করাটাও আমার প্রাত্যহিক রেওয়াজের মধ্যে পড়ে। দিনের এই পর্বে বিপত্নীক মানিকদা স্বহস্তে প্রস্তুত গরমাগরম লিকার চায়ের কাপে আমেজী চুমুক চালাতে ব্যস্ত থাকেন। দোতলার বারান্দায় সেদিনও তাঁর ব্যস্ততা নজরে পড়ে। ‘গুড মর্নিং দাদা’ বলে হাঁক দিতেই কাচের স্লাইডিং শার্সি সরিয়ে মানিকদা প্রত্যুত্তর দেন— ‘গুড মর্নিং।’ মানিকদাকে দেখে একটু অবাক হই। এই শীতল আমেজ মাখা সাতসকালেই গলায় গামছা ঝুলিয়ে একদম খালি গায়ে উত্তরমুখী খোলা বারান্দায় বসে চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিচ্ছেন। আমি আশঙ্কিত কণ্ঠে এমন দৃশ্যপটের কথা স্মরণ করাতেই একেবারে রে রে করে ওঠেন মানিকদা—

–শীতকাল! আরে মশাই শীত কোথায়! পৌষমাস শেষ হল না, এই মাঝপৌষেই ঠান্ডা উধাও! আপনার গরম লাগছে না?

মানিকদার এমন আক্রমণাত্মক প্রশ্নের জবাব সরাসরি না দিয়ে একটু ঘুরিয়ে আমতা আমতা করে বলি— ‘না, ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়। আসলে ঠান্ডা একটু কম মনে হচ্ছে… তবে…’

উত্তর শেষ করার আগেই ও পক্ষ তেড়ে জবাব দেয়— ‘এসবই হল ঘোর কলি! এই তো কাগজে লিখেছে কাশ্মিরে প্রবল তুষারপাতের কারণেই নাকি কলকাতায় শীত বেমক্কা উধাও হয়ে গিয়েছে। কোথায় কাশ্মির, আর কোথায় কলকাতা! ব্যাটারা ভাবে আমরা সবাই গণ্ডমূর্খ! যা খুশি একটা বোঝালেই হল?’ মানিকদার এমন তুখোড় জবাব শুনে চুপ করে দরজা বন্ধ করে দিই।

শীতকাল নিয়ে আমাদের প্রত্যাশার অন্ত নেই। সম্বৎসরের চাপ তাপকে দূরে ঠেলে শীতকালে আমাদের কাছে প্রত্যাশার পসরা নিয়ে আসে। পার্ক স্ট্রিটের বড়দিন, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের মন্দ্রিত নিউ ইয়ার্স ক্যারল, নলেন গুড়ের সুবাসিত ঘ্রাণ, ফুলকপি কড়াইশুঁটির সিঙ্গারা, ঘর ছেড়ে দল বেঁধে ইতিউতি চড়ুইভাতির দঙ্গল— এসবই শীতের সিগনেচার। এহেন আনন্দযজ্ঞ পণ্ড হওয়ার জোগাড় হয় যখন “শীতের দেখা নাই”।

গোড়াতেই বলি, আমাদের দেশে ষড়্‌ঋতু তথা শীতের আসাযাওয়া, স্থায়িত্বের বিষয়টি একান্তভাবেই পরিবর্তনীয় বায়ুপ্রবাহের দান। বাতাসের এই ছুটে বেড়ানোকে নিয়ন্ত্রণ করে বায়ুচাপের অবস্থা যা প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হয় তাপবলয়গুলির দ্বারা। তাপ, চাপ ও বায়ুপ্রবাহের এই নিবিড় আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টিকে একটি সহজ নিয়মে প্রকাশ করা যেতে পারে।

সূর্যরশ্মির পতন কোণের তারতম্য à ক্ষেত্রীয় তাপীয় ফলের পরিবর্তন à তাপবলয়ের স্থানান্তর à বায়ুচাপ-বলয়ের অবস্থানে রদবদল à বায়ুপ্রবাহের দিকপরিবর্তন à ঋতুপর্যায়

মরশুমি বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে প্রভাবিত ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়া তথা জলবায়ু। গরমকালে যখন মার্তণ্ডদেব গগনপটে প্রবল মহিমায় বিরাজমান, তখন উপমহাদেশের স্থলভাগের অংশ তেতে উঠে গভীর নিম্নচাপের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়। ডাঙার ওপরের বায়ু গরম হয়ে, হালকা হয়ে উপরে উঠে যাওয়ার ফলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয় তা ভরাট করার জন্য উপদ্বীপীয় ভারতের দক্ষিণ থেকে জলভরা আর্দ্র মৌসুমী বায়ু ছুটে আসে ডাঙার দিকে। উপমহাদেশের বুকে নেমে আসে সজল বারিধারা। নিদাঘকালের তপ্ত, তৃষিত ভূমিবক্ষ তৃপ্ত হয় অফুরান বারিবিন্দুর জলীয় আস্বাদে। বর্ষাগমে থার্মোমিটারের পারদ নেমে আসে বেশ কয়েক ডিগ্রি। ফলে শরতের উৎসবমুখর দিনগুলো অনেকটাই উপভোগ্য হয়ে ওঠে আমজনতার মুখর মুগ্ধতায়।

শীতকালে অবশ্য পাশার দান যায় পাল্টে। মার্তণ্ডদেব গোলীয় পৃথিবীর দক্ষিণ দিকে সরে যান, ফলে উত্তর গোলার্ধের দেশ ভারতবর্ষে সূর্যরশ্মির তাপীয় ফলের প্রভাব ক্রমশই কমতে থাকে। তাপ কমা মানেই শীতলতার আবেশে আমাদের জড়সড় হওয়া। অন্যদিকে আবহমণ্ডলীয় উপাদানগুলির কার্যকারণ সম্পর্কে পরিবর্তনের পরশ লাগার ফলে বায়ুচাপবলয়ের স্থান পরিবর্তন হয়— ডাঙার ওপর বায়ুচাপের পরিমাণ সংলগ্ন দক্ষিণী জলভাগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় উপমহাদেশের ওপর দিয়ে উত্তুরে বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। উত্তরে মাথা তুলে খাড়াই দাঁড়িয়ে থাকা হিমালয় পর্বতশ্রেণির সুবিস্তীর্ণ বাধা টপকে শীতল মহাদেশীয় শুষ্ক বায়ুর সবটাই ভারতবর্ষে ঢুকতে না পারলেও পর্বতের গা বেয়ে গড়িয়ে নেমে আসা শীতল বায়ুর প্রভাবে আমরা শীতলতা অনুভব করি। এই উত্তুরে বায়ু যত সক্রিয় হবে, যত বাধাহীন গতিতে নেমে আসবে দক্ষিণের গাঙ্গেয় সমভূমিতে, ততই বাড়বে শীতলতার মাত্রা। বাড়বে শীতানুভূতির স্থায়িত্ব। এটা একটা ছান্দিক প্রক্রিয়া, একেবারে সরগম-বাঁধা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মত।

আমার প্রতিবেশী প্রবীণ মানুষ মানিকদার হৃদয় যে শীতযাপনের স্মৃতি এখনও অমলিন হয়ে রয়েছে তার সঙ্গে এই সময়ের শীতযাপন একেবারেই মেলে না। পরিবর্তনের পথ বেয়ে যেমন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনাভ্যাসে বদল এসেছে, তেমনি বদলে গিয়েছে আমাদের চেনা আবহিকমণ্ডলের রীতি নিয়ম। ফলে পিছনে ফেলে আসা দিনের চেনা অভিজ্ঞতার অঙ্কে একালের শীতকালের আচার-আচরণকে একদম মেলাতে পারি না আমরা। শীতকালে নরম তুলতুলে সাটিন কাপড়ের লেপ গায়ে যে মানুষটি শীতের ওম গায়ে মেখে মেজাজী আমেজে শীতবেলা উপভোগ করত, সেই মানুষটিই যখন দেখেন শীত বেমালুম উধাও তখন তার কণ্ঠ থেকে ঝরে পড়ে ক্ষোভ আর হতাশা!

আলোচনার এমনই এক সন্ধিক্ষণে যে প্রশ্নটা মনের মধ্যে উঁকি মারে তা হল— কোন অভিমানে আমাদের ছেড়ে শীতকাল এমন হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়? এই উত্তরটা খুঁজতে হলে আমাদের অবশ্যই আবহাওয়া সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। যাঁরা নিয়মিত আবহাওয়া সংক্রান্ত খবরগুলো পড়েন বা টিভির পর্দায় আবহাওয়া সংক্রান্ত বুলেটিনগুলো শোনেন তাঁরা সকলেই হয়তো শীত কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটের কথা অবশ্যই পড়ে বা শুনে থাকবেন। মানিকদার যতই ক্ষুব্ধ কণ্ঠে কাশ্মিরের বরফ পড়ার সঙ্গে কলকাতার ঠান্ডা উধাও হয়ে যাওয়ার সম্পর্ক নিয়ে তির্যক মন্তব্য করুন না কেন, বাস্তবে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গে বিশেষ করে কলকাতায় শীতের কড়া আমেজ অনুভূত হওয়ার এক নিগূঢ় সম্পর্ক আছে। এই বিষয়ে দু-এক কথা আলোচনার আগে পশ্চিমী ঝঞ্জা আসলে কী— সেই বিষয়ে দু-একটি কথা বলে নেওয়া যেতে পারে।

ইংরেজিতে ‘ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স’ বা বাংলায় ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ শব্দবন্ধটিকে ভেঙে দেখলে আমরা দুটি শব্দ পাই— ক. ওয়েস্টার্ন বা পশ্চিমী, খ. ডিস্টার্বেন্স বা ঝঞ্ঝা। অর্থাৎ পশ্চিম দিক থেকে আগত ঝড়ঝঞ্ঝাকেই আমরা সহজ কথায় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে থাকি। সাধারণভাবে এই বায়ুপ্রবাহকে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে এভাবে— পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হল মধ্য অক্ষাংশের এক ঘূর্ণবাত্যা যা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উদ্ভূত এবং যার প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে মূলত শীতকালে বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। গাঙ্গেয় সমভূমির একেবারে পূর্বপ্রান্তভাগে থাকা কলকাতায় কখনও কখনও পশ্চিম দিক থেকে আসা ঝঞ্ঝার প্রভাবে সরস্বতী পুজোর আশেপাশে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল এর সঙ্গে কলকাতার বা দক্ষিণবঙ্গের শীতলতার সম্পর্ক কী?

আরেকটু ভেঙে বলার চেষ্টা করা যাক। শহরের কোন যানপরিকীর্ণ ব্যস্ত রাস্তার কথা চিন্তা করুন। আপনি এই রাস্তা পার হবেন। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া না থাকলে আপনি সহজেই পার হয়ে যেতে পারেন, কিন্তু রাস্তায় যদি সমানে গাড়ি চলে তাহলে আপনার এপার থেকে ওপারে যাওয়া ব্যাহত হয়, বিলম্বিত হয়। ঠিক এমনটাই ঘটে কলকাতার শীতের সঙ্গে। সুদূর ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণসাগর, কাস্পিয়ান সাগর সংলগ্ন শীতল, আর্দ্র বায়ু আর্মেনীয় পর্বতগ্রন্থি থেকে প্রসারিত পর্বতশ্রেণির বাধা টপকে গাঙ্গেয় সমভূমির করিডর বেয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারত হয়ে দক্ষিণবঙ্গে এসে পৌঁছায়। ফলে উত্তুরে হাওয়ার দক্ষিণে শীত বয়ে নিয়ে আসার কাজটা ব্যাহত হয় দারুণভাবে। উত্তরের জেলাগুলোতে যখন মানুষজন হিমেল হাওয়ার পরশে জবুথুবু, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষের কণ্ঠে তখন ‘হা শীত, হো শীত’ বলে আক্ষেপ ঝরে পড়ে। ঝঞ্ঝার পিঠে চেপে যে বিপুল জলীয় বাষ্প অনুপ্রবেশ করে দক্ষিণী জেলাগুলোতে, তাই ঘন কুয়াশার চাদরে চারপাশ মুড়ে ফেলে শীতের খিলখিলে রোদ্দুর মাখা দিনগুলোকে প্রায় বিরল করে তোলে মাঝেমধ্যেই। আর শীত না এলে মানিকদার মত অসংখ্য মানুষ হতাশ হন, চড়ুইভাতির মজাটাই মাটি হয়, শালওয়ালা ইমরানের ব্যবসা কমে যাওয়ায় তার বিপন্নতা বাড়ে, শীতের সবজির সোয়াদে মন ভরে না রসেবশে থাকতে চাওয়া আমবাঙালির।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের শীতযাপনে বড় বৈচিত্র আনে। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল তুষারপাতের ফলে নিদাঘ তাপে ক্ষয়ে যাওয়া হিমবাহগুলো আবার পরিপুষ্ট হয়, রবি খন্দের ফসলে লাগে প্রাণদ বারিষ পরশ। এসব কিন্তু কলকাতার শীত উধাও হয়ে যাওয়ার চেয়ে কোনও অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাঘমাসের শেষে যে বৃষ্টি হয় দক্ষিণবঙ্গে তা সরস্বতী পুজোর উছল যৌবনের আনন্দে ভাগ বসালেও এ রাজ্যের কৃষিব্যবস্থায় দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণেই খনা দেবীর প্রবচনে বলা হয়েছে—

যদি বর্ষে মাঘের শেষ
ধন্যি রাজার পুণ্য দেশ।

এই পুণ্যভূমির অধিবাসী হওয়া কি কম আনন্দের!

 

শেষকথা

এতক্ষণ ঝড়ঝঞ্ঝার সঙ্গে যেসব পাঠক সময় কাটালেন তাদের অনেকেই হয়তো বলবেন, ‘সবই তো বুঝলাম বাপু, কলকাতায় শীত যে আবার ফিরে এল?’ হ্যাঁ, জাঁকিয়ে ফিরে এসেছিল তো শীত। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই থার্মোমিটারের পারদ তার স্বাভাবিক অবস্থার থেকে বেশ কয়েক ডিগ্রি নেমে গেছিল। তার আগে আক্ষেপে আড়াল করে রাখা পশমি জামাকাপড়গুলো আয়েসি শরীর আগলে রাখার জন্য হৈ হৈ করে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল রংবেরঙের ঊর্ণাপক্ষ মেলে। কী এমন কাণ্ড ঘটেছিল যার ফলে শীতের পালে লেগেছিল এমন উতল হাওয়ার স্পন্দন? আবহবিজ্ঞানের উপর আস্থা রেখে উত্তর খোঁজা যাক। আবহবিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন এবারের শীত আর দ্বিতীয় ইনিংসে অনেকটাই স্থায়ী হতে পারে। কেন? আসলে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর নয়া ভেলকি দেখাচ্ছিল। আপেক্ষিক তাপের ফারাকের দরুন সাগরজল তুলনামূলকভাবে গরম ছিল। আর কে না জানে গরম বাড়লে বায়ুর মধ্যে ফাঁক বাড়ে, চাপ কমে। তার দিন কয়েক আগেই উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছিল কতগুলো নিম্নচাপের ক্ষেত্র। সেই চাপ গহ্বরগুলো তখন খানিকটা সরে গিয়ে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণাংশে আস্তানা গেড়েছিল। ফলে উত্তরের বাতাস ফাঁকা ময়দানের উপর দিয়ে মনখোলা আনন্দে ছুট দিয়েছিল দক্ষিণে, আরও দক্ষিণে। তার এই ছোটা দেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল পূব দিকে ছুটে আসা পূবালি বায়ুর পাখনা। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। এই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে হিমকণারূপে উত্তরের হিমশিখরগুলিকে ঢেকে ফেলে এবং ঢাল বেয়ে নেমে আসা ক্যাটাবেটিক বায়ুর দাপটে এক অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলে দিল এবারের শীত।

আমরা তো ছোটবেলায় ঠাকুমার মুখে শুনেছি “মাঘের শীত বাঘের গায়ে”। শীতবাতাস গায়ে জড়িয়ে এসো না প্রতি বছরই আমরা বাঘ হয়ে উঠি।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3172 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...