স্মৃতিলেখা

সাদিয়া সুলতানা

 

সুবিনয় সাহা শ্রদ্ধাস্পদেষু,

জানি এই চিঠি আপনার জন্য কোনও বিস্ময়ই তৈরি করবে না। একজন লেখক হিসেবে প্রতিদিনই হয়তো আপনি এমন চিঠি পান। ব্যস্ততা কিংবা প্রয়োজনহীনতায় সেসব খুলেও দেখেন না। ফেসবুক, মেইল, ভাইবারের যুগে অবশ্য মানুষের চিঠি লেখার তেমন আর প্রয়োজন পড়ে না। ধারণা করি আপনি লেখক হিসেবে এমন এক উচ্চতায় আছেন যে, আমার মতো কিছু মানুষ এখনও আপনার কাছে চিঠির মাধ্যমেই পৌঁছাতে চায়। বিশেষ করে আমাদের প্রজন্মের মানুষ। যে প্রজন্মের মানুষ আজও বিশ্বাস করে চিঠিই সেই পথ যার মাধ্যমে বহু দূরে অবস্থান করেও মানুষের নৈকট্য পাওয়া যায়।

জানেন, আধুনিকতার পাঠ নিতে আমিও আজকাল ফেসবুকের ব্যবহার শিখেছি। অনিন্দ্য শিখিয়েছে। ভুলভাল আঙুল চালনা দেখলেই সে আমাকে শাসন করে। আমার মতো ছাত্রী পেয়ে অনিন্দ্য যারপরনাই বিরক্ত। আমাদের পোল্লাকুড়ির পাঠশালার মাস্টারমশাইয়ের মতো গাম্ভীর্য তার। কে বলবে অসময়ের জ্বরে বৌদি দেহ রাখলে ঐ অতটুকু ন্যাতা ন্যাতা অনিন্দ্যকে কোলেপিঠে করে আমিই বড় করেছি। এখন উঠতে বসতে নতুন ছাত্রীকে শাসন-বারণ করা চাই তার। আমাকে মোবাইলে ফেসবুকের পাতা খুলতে দেখলেই তর্জনী নাচিয়ে বলে, ‘উল্টাপাল্টা কিছু লিখবে না, মন্তব্য করবে না— এখন সবকিছুতেই নজরদারি চলছে।’

আর কেউ আমাকে নজরদারিতে রাখে কিনা জানি না। অনিন্দ্য রাখে। এই যে আমার বইয়ের আলমারির একটা তাকে আপনার বইগুলো বিশেষ যত্নে থাকে সে-ও অনিন্দ্যের নজর এড়ায় না। আপনার নতুন কোনও বই বের হলে ও ঠিকঠাক আমার জন্য খুঁজে নিয়ে আসে। মাসে বই কেনা বাবদ ওর আলাদা বরাদ্দ থাকে। অনিন্দ্য জানে, আমার নিঃসঙ্গ জীবনের একমাত্র সঙ্গী এই বই।

সত্যিই তাই। রঞ্জনের বাবা চলে যাবার পর রঞ্জনও আমার নাগালের বাইরে চলে গেল। বিদেশবিভুঁইয়ে থিতু হল। একদিন বাবাকেও দাহ করা হলে দেখি বইগুলো ছাড়া আমার পাশে কেউ নেই।

আমার বই পড়ার অভ্যাসটি কিন্তু রঞ্জনের বাবা আগে থেকেই গড়ে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে বিছানার ওপরে কোনও না কোনও বই রেখে অধ্যাপক মানুষটি আমাকে চা দিতে বলতেন। দুএকদিন পর জানতে চাইতেন বইটি পড়া হয়েছে কিনা, ছাত্র-ছাত্রীদের মতো পড়াও ধরতেন। আমার অবসরের উপযুক্ত সঙ্গী কে হবে তা কর্কট রোগে ভোগা মানুষটি এভাবে আগে থেকেই ঠিক করে গেছেন। তাই একা হওয়ার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল আমার নিঃসঙ্গতার পাঠ নেওয়া।

লীলা মজুমদারের হলদে পাখির পালক, গুপির গুপ্তখাতা, পদিপিসির বর্মিবাক্স, বিমল মিত্রের আসামী হাজির, কড়ি দিয়ে কিনলাম, শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি, নেকড়ে অরণ্য পড়তে পড়তে একদিন হাতে এসেছিল সুবিনয় সাহার ‘করুণাময়ী উপাখ্যান’। আমি একেবারে নাক-মুখ গুঁজে পড়েছিলাম সেই বই। একদিন, একরাতের ভেতরেই পাঠ শেষ হয়েছিল এক হাজার বারো পৃষ্ঠার ‘করুণাময়ী উপাখ্যান’। হবে না! এ যে আমার কঙ্কাপিসির আখ্যান! সেই তো পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যার শরীরে মহুয়া ফুলের ঘ্রাণ!

ব্যস এরপর থেকে প্রিয় লেখকের তালিকার একদম শুরুতে চলে গেলেন “সাহিত্যিক সুবিনয় সাহা”। শুধু বই পাঠে হচ্ছিল না, এদিকে-সেদিকে যা পেয়েছি তার প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা সবই পড়েছি মনোযোগী পাঠক হয়ে।

এর ভেতরে একদিন অনিন্দ্য ফেসবুকে আপনার লেখক পাতার খোঁজ দিল। সুবিধেও হল খুব, এখানে আপনার নতুন পুরনো সব লেখার খোঁজ পাওয়া যায়। আমি জানি হালের অনেক জনপ্রিয় লেখকদের মতো আপনি ফেসবুকে সক্রিয় না। তাই পাঠকেরা সহজেই আপনাকে মেসেঞ্জারে বা ফেসবুকের দেয়ালে পায় না। অনিন্দ্য বলেছে আপনার ফেসবুক পাতায় চোখ রাখতে। সেটা করি বলেই তো আজ আপনার ছবিটি দেখতে পেলাম। দেখলাম, একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আছে বিশেষ একজন মানুষ।

ছবিটা দেখে খুব চমকে উঠেছিলাম। কী করে পেছনের পাতায় যেতে হয় বুঝতে পারছিলাম না। ছবিটা কী করে যেন মোবাইলের ভেতরেই আটকে গিয়েছিল। আর কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল, ফেসবুকের পৃথিবী আমাকে এক কঠিন চক্রের ভেতরে ফেলে দিয়েছে। যে চক্রে আটকে পড়ে আমি নতুনভাবে আপনাকে জেনে ফেলেছি।

কী জানি, না জানাই হয়তো শোভন ছিল।

আসলে আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে জানার আগ্রহ আমার কখনওই ছিল না। আমার বরাবর মনে হয় পাঠক আর লেখকের মধ্যে আড়াল থাকা ভালো, কিছু রহস্য থাকা আরও শ্রেয়। নচেৎ বিপত্তি ঘটে। কী বিপত্তি তা বিশদে আর না বলি। এসব আপনার জানা। আপনি হয়তো ভাবছেন, ‘আচ্ছা মানুষ তো, আড়ালই যখন রাখতে চায়, তখন কীসের জন্য এই চিঠি লেখালিখি!’ যাই ভাবুন, চিঠি আমাকে লিখতেই হচ্ছে। একজন মানুষকে জানা, বোঝা, অনুভব করার জন্য চিঠিই আমার প্রিয় মাধ্যম। নিজেকে জানানোর জন্য মোক্ষম পথও হল চিঠি।

আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে সেই চিঠির যুগের কথা? যে যুগে খুব জরুরি কথাও মুখোমুখি বসলে কিছুতেই বলা হত না, অথচ সেসব কথা অনায়াসেই চিঠিতে বলা হয়ে যেত? এই চিঠি দিয়েই কতজন পরস্পরের কাছাকাছি আসত, আবার দূরে চলে যেত এই চিঠি দিয়েই? বারবার হারিয়েও একে-অন্যের কাছে ফিরে আসত?

আমি কিন্তু চিঠির যুগ দেখেছি। যতদূর জানি আপনিও সে যুগের মানুষ। কোনও একটা পাক্ষিক পত্রিকায় একবার আপনার একটা সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। আপনি বলেছিলেন, আপনি একসময় শত শত চিঠি লিখেছেন। বন্ধুকে, প্রেয়সীকে, মাকে। আবার আপনার উপন্যাসিকা ‘মিতালি’— সেটাতেও তো মিতালি অনির্বাণকে কত কত চিঠি লিখেছে।

আমিও লিখেছি জানেন, আমার পত্রমিতা পরাগকে, প্রাণের সই বীণাকে, ছেলে রঞ্জনকে। কখনও কখনও সেসব চিঠির কালি লেপ্টে গেছে চোখের জলে। কখনও বা চিঠিতে শুকনো লবণ লেগে গেছে, চিঠির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে পড়েছে অজস্র মায়াস্পর্শ।

শুধু লিখিনি। প্রচুর চিঠি পেয়েছিও। জানেন, বীণার চিঠিগুলো ছিল ভারি মজার। চিরকুটের মতো। ও বলত, ‘আমি কি তোর মতো কি পোস্টঅফিসের সামনে টুল পেতে চিঠি লেখার কাজ করি যে দিস্তা কাগজে চিঠি লিখব?’

কী, হাসছেন? আমার পোস্টঅফিসে টুল পেতে বসার গল্পটা কিন্তু ওর বানানো কোনও গল্প না। সে এক মজার সত্যি গল্প।

একবার বীণা আমাদের বাড়ি এসে ভুবনকাকার জন্য আমাকে চিঠি লিখতে দেখে ফেলেছিল। সেই থেকে ও আমাকে ক্ষ্যাপাত। ভুবনকাকা আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন, কাকার মেয়ে কিশোরগঞ্জে থাকত। কেউ ওদিকে গেলে কাকা মেয়ের জন্য চিঠি দিয়ে দিত। চিঠি লিখতে আমার কাছেই আসত কাকা। আমার মতো করে গ্রামের আর নাকি কেউ গুছিয়ে চিঠি লিখতে পারত না। কাকা চোখ মুছতে মুছতে মেয়ের কথা বলত আর আমি বুকের সমস্ত দরদ উজার করে চিঠি লিখে দিতাম। কাকা যাওয়ার আগে আমাকে আশীর্বাদ করত, ‘সোনার সংসার হোক মায়ের।’ সেদিন বীণা এ কথা শুনে ফেলার পর কী হাসি বীণার! ‘সোনার সংসার! এই মেয়ে যেই সংসারে যাবে পুড়ে কয়লা হবে তা।’ বীণা খুব পাজি ছিল। সারাক্ষণ আমার পেছনে লেগে থাকত।

একবার বীণা ভুবনকাকাকে বলল, ‘কাকা, দেবী ছাই চিঠি লেখে। দিন তো আমি লিখি।’ কাকা বললেন, ‘লেখো মা।’ বীণা বলল, ‘তো বলুন কী লিখব?’ কাকা আবারও বললেন, ‘ঐ তো লেখো মা কেমন আছি।’ বীণা ততক্ষণে রেগে গেছে, ওর মুখ থমথম করছে। আর আমি পাশে বসে মুচকি হাসছি। ভুবনকাকা উল্টো রেগে গিয়ে বললেন, ‘তুমি ছাই পারো চিঠি লিখতে, দেবী-মাকেই খাতাটা দাও তো।’ আমি তখন হেসে লুটিয়ে পড়ছি। আসলে বাড়ি ঢুকেই ভুবনকাকা বলতেন, ‘আমরা বাড়ির সবাই ভালো আছি, মেয়েটার জন্য মন কেমন করে, তাই লিখে দাও মা।’ কাকার চোখের পানি দেখতে দেখতে ওই একটা কথাই ইনিয়েবিনিয়ে আমি এক-দেড় পৃষ্ঠা লিখে ফেলতাম। বীণা তবে আমার সঙ্গে পারবে কেন?

আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন? এই যে আমি এত কথা লিখছি? আসলে কী জানেন, প্রিয় লেখকের কাছে অনেক কথা বলব ভেবে মনের ভেতরে সব গুছিয়ে নিয়ে আমি চিঠি লিখতে বসি। তবু সব এলোমেলো হয়ে যায়। মনের সুড়ঙ্গ দিয়ে কথারা অনর্গল বের হতেই থাকে।

কতকাল হল বইয়ের পাতার অগুনতি শব্দরেখার মতো শত সহস্র কথার ঢেউ বুকের ভেতরে বাঁধ দিয়ে রেখেছি। ইচ্ছে ছিল, আপনার সঙ্গে যেদিন দেখা হবে সেদিন আমি সব কথা বলব। আপনি যেসব শুনে শুনে আস্ত একটা উপন্যাস লিখতে পারবেন। করুণাময়ী উপাখ্যানের মতো। কী ভাবছেন? সত্যি বলছি। আমার জীবন কিন্তু কম গল্পে ভরা নয়। এই জীবনালেখ্য যেকোনও লেখকের কাছেই আদৃত হওয়ার মতো।

হাসছেন? সত্যি ইচ্ছে ছিল একে একে আপনাকে সব বলব। বয়স হয়েছে, ষাট ডিঙিয়েছি, কিন্তু স্মৃতির দেয়ালের এক ইঞ্চিতেও শ্যাওলা পড়েনি। পড়বে কী! আরও যেন ঝলমল করছে সব। আহা এ যেন “অতীত নিশি গেছে চলে, চির বিদায় বার্তা বলে, কোন আঁধারের গভীর তলে, রেখে স্মৃতিলেখা।”

আয়ু ফুরাবে তবু জীবনানন্দের স্মৃতিলেখা থাকবে। আসলে জীবনের যে গল্পগুলো নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরের সঙ্গে মিশে যায়, সেসব মনে রাখার জন্য বিশেষ কোনও কসরৎ করতে হয় না। এমনিতেই এরা চারদেয়াল ঘিরে থাকে।

কী বলেন? আপনার হয় না এমন? স্মৃতিরা জ্বালায় না? যেন বা বিনা নোটিসে গলা ডুবানো ভাদুরে বৃষ্টি। আমার সঙ্গে খুব হয় জানেন? কত ঘুমভাঙা সকালে কত স্মৃতি যে আমার বুকে পেরেক গাঁথে। মাঝরাতে চোখের পাতায় শিশির মাখে! আমার ঘুম হয় পলাতক ঘাসফড়িং, স্মৃতির বাঁকে লাফিয়ে চলে তিড়িংতিড়িং।

একটু কাব্যভাষা লিখলাম। আপনার মতো। সত্যি বলছি গতকাল রাতেও স্মৃতির ভারে ঘুমই হয়নি। ন্যাপথলিনের গন্ধমাখা স্মৃতির ওপর থেকে বিস্মৃতির আড়াল সরে গেছে। চোখের সামনে এসেছে ছোটকর্তার দুর্বিনীত মুখ, কঙ্কাপিসির হাতে বানানো পাতি গাঁদার মুকুট, পোল্লাকুড়ির পথঘাট, পটপটি, মহুয়া আর শটিফুল, বনমালতির ঝাড়, চৈত্রসংক্রান্তির মেলা, সুবোধ পালের টেপা পুতুল, মানিকের কাঁসা পিতল।

শুধু কাল কেন, প্রতিদিনই হয় এমন। স্মৃতিরা আসে সময়ে, অসময়ে।

এই স্মৃতিতে আসে রঞ্জনের বাবা, পরাগ, ভুবনকাকা, বীণা, কঙ্কাপিসি। সবাই। পোল্লাকুড়ি গ্রামে আমাদের সাত পুরুষের ভিটা, পঞ্চরত্ন মঠ, শিউলিতলা, দীঘির পাড়। সব। জানেন, আমার ঠাকুরদার স্মৃতিও উড়ে উড়ে আসে আমার কাছে। অথচ পোল্লাকুড়ি গ্রামের রায়বাড়ির ছোটকর্তাকে দেখিনি আমি। আমার জন্মের অনেক আগেই তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনাটি বলতে গেলে আমাকে বাবার স্মৃতির দ্বারস্থ হতে হয়।

বাবা তখন যুবক। পড়াশুনা শেষ করে বাড়িতেই ছিলেন। ছোটকর্তা ব্যবসার কাজে আশুগঞ্জে গিয়েছিলেন। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তখন দাঙ্গা চলছে। পূর্ব পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই। ময়মনসিংহ জেলার গ্রামগুলোতেও তখন ভীষণ দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয়েছে। হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। লুটপাট হচ্ছে। গাড়িতে নিরীহ যাত্রীদের ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলা হচ্ছে। ভৈরব পুলের ওপরে আশুগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী ট্রেন থামিয়ে দাঙ্গাকারীরা ছুরিকাঘাত করে হিন্দু যাত্রীদের হত্যা করেছে। মেঘনা নদীতে কেটে ফেলে দিয়েছে মানুষ। এদের মধ্যে একজন মানুষ ছিলেন আমাদের বাড়ির ছোটকর্তা, আমার ঠাকুরদা। সহোদরের মৃত্যুর খবর শুনে বড়কর্তা অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। গ্রামের দাঙ্গায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে ছিলেন বড়কর্তা। তার প্রাণসংহার হওয়ার ভয়ই বেশি ছিল। কিন্তু সে যাত্রা তিনি প্রাণে বেঁচে যান। যেদিন বাড়িতে আগুন লাগে সেদিন আগেই খবর পেয়ে বাড়ির সদস্যরা ভয়ে বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে ছিল। প্রতিবেশী কিছু মুসলমান শুভাকাঙ্খীর কারণে রায়বাড়িতে লুটপাট হয়নি, বড়কর্তা, বাবাও প্রাণে বেঁচে যান। তবে বাড়িতে আগুন লেগে পুড়েছিল অনেককিছু।

এরপর আমাদের পৈতৃক ভিটায় দ্বিতীয়বারের মতো আগুন লেগেছিল একাত্তরে। পঞ্চাশের পর একাত্তর। সময়ের পরিভ্রমণ খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও এই আগুনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত রেখে গেছে সকলের ভেতরে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে স্বজনেরা। দেশ ছেড়েছে দ্বিতীয়বারের মতো। বাবাও দেশ ছেড়েছিলেন, ফিরেও এসেছিলেন ফেলে যাওয়া দগ্ধ ভিটাবাড়িতে। পুড়ে পুড়ে বাবা নিজে আরও খাঁটি হয়েছিলেন।

কোথা থেকে কোথায় চলে গেলাম বলেন! এই তো স্মৃতির খেলা। ঠেলতে ঠেলতে পঞ্চাশের দাঙ্গায় নিয়ে যায়, একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করায়, আবার ফিরিয়ে আনে বর্তমানে। মাঝেমাঝে মনে হয় অতীতস্মৃতিটুকুই সব। বর্তমানের চেয়েও দামী। আমার বাবাও তাই ভাবতেন জানেন। তাই সুযোগ পেলেই স্মৃতিবাক্সের ঝাঁপ খুলে দিতেন আমার আর দাদার সামনে। আমার দাদা অর্ণব মানে অনিন্দ্যর বাবা আর আমি তাই পোল্লাকুড়ির রায়বাড়ির সব অতীতই জানতাম। অদেখা মানুষগুলোকেও চিনতাম। এমনকি বাবার মুখে শুনে শুনে ছোটকর্তার একটা চেহারাও আঁকা হয়ে গিয়েছিল আমার চোখের সামনে।

আপনার লেখা উপন্যাস ‘সূর্যাহত’র অন্যতম চরিত্র নবীন কুণ্ডুর মতো দেখতে ছিলেন ছোটকর্তা। লম্বা গড়ন, মিশমিশে কালো রং। গভীর দৃষ্টি, যেন এক দৃষ্টিতে তাকালে পিঠের ওপাশটাও দেখে নেন। বাবা বলত, আয়নার সামনে দাঁড়ালে অবিকল আমি। তাই হয়তো আমার ওপরেই বেশি পড়ে রায়বাড়ির স্মৃতির আছর।

মাঝেমাঝে স্মৃতির ভারে এমনই হয়, নিজের এই ঘর নিজের কাছে অচেনা লাগে। মনে হয় আমি পোল্লাকুড়ির রায়বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছি, দাঙ্গায় হৈ-হৈ রৈ-রৈ এর ভেতরে খেই হারাচ্ছি, বৈঠকখানার গোপন বৈঠকের প্রতিবাদে ছোটকর্তার মতো উদ্ধত দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছি বড়কর্তাকে, পঞ্চরত্ন মঠের মাথার ওপরে উঁকি দেওয়া চাঁদটা ছুঁয়ে দেখছি, কঙ্কাপিসির হাতে ঘিয়ে ভাজা নিমপাতা খাচ্ছি, ব্রহ্মপুত্রের জলে পা ডুবাচ্ছি।

আহা, ব্রহ্মপুত্র আমার! তোমার জলেই তো ডুবে আছে আমার শৈশবে-কৈশোরের সুখ, অ-সুখ; তোমার পাড়েই তো বসত করে আমার সকল পর, অ-পর! প্রিয় ব্রহ্মপুত্র ফেলে এসেছি!

বাবা বলত মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, ফুলেশ্বরী, সোমেশ্বরী, নরসুন্দা ছেড়ে যারা গঙ্গার পাড়ে নতুন করে ঘর বেঁধেছে, তাদের বুকে লুকিয়ে আছে ভিটে হারানোর বেদনা। যারা এ পাড়েই থেকে গেছে তাদের বুকে আছে পাড়ভাঙা ঢেউ। আর দুপাড়ের মানুষগুলোর চোখেই লুকিয়ে আছে স্বজন হারানোর জল। এই মানুষগুলোর চোখের জলে জলে, রক্তে রক্তে খুব মিল। সবার দেহের রক্তের রং যেমন লাল, তেমন সবার চোখের জলেই আছে লবণ।

বাবা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইত ব্রহ্মপুত্র তীরের মাটি। চোখের জলও তাই কম ঝরেনি তার। বাবার শত চেষ্টার পরও আমাদের ভিটেবাড়ি আর আমাদের থাকেনি। বেদখল হয়েছে বহু আগে। বাবা দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা করে কিছু জমিজিরাত রক্ষা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঠাকুরদার তৈরি বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। সেখানে বিশাল স্কুল নির্মিত হয়েছে। স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়েছে এতদিনে। কায়দা করে জনকল্যাণমূলক কাজে জমিটা ব্যবহার করাতেই হয়তো বাবা অধস্তন আদালতে মোকদ্দমায় ডিক্রি পায়নি। মোকদ্দমার আপিল চলছে। শুনেছি দেওয়ানি মোকদ্দমার রায় পেতে কয়েক প্রজন্ম লাগে। বাবা গত হবার পর দাদা আর আমিই পালা করে কোর্টকাছারি দৌড়েছি। আমার সময় তো ফুরিয়ে এল, এবার অনিন্দ্যের পালা।

রোগব্যাধি শরীরকে বেকায়দাভাবে কাবু করার আগে অনিন্দ্যের সঙ্গে একবার গিয়েছিলাম পোল্লাকুড়ির পুরনো জায়গাগুলোতে। সে যে কত বছর পর! ঠিকঠাক চিনতেই পারিনি।

আমাদের বাড়ি ঘিরে থাকা গাছগুলো এখন একটাও নেই, প্রবেশদ্বার ঢেকে ফেলা শিউলিগাছটাও কাটা পড়েছে। এই গাছটা ছিল বহু পুরোনো। গাছটা মরত না কখনও, গোড়ায় পড়া বীজ থেকে নতুন নতুন গাছ গজিয়েই চলত। কঙ্কাপিসিই বাড়ির সব গাছের যত্নআত্তির করত। রোজ সকালে পূজার ফুল তুলত। আমি তখন ছোট, সবে কামিজ ধরেছি। সারাক্ষণ কঙ্কাপিসির শরীর লেপটে থাকি। পিসির শরীরে মহুয়া ফুলের ঘ্রাণ। সব মনে আছে আমার। এমনকি পিসির ফুলের সাজিটা পর্যন্ত চোখের ভেতরে হুবহু আঁকা আছে। আর সেই ঘিয়ে ভাজা নিমপাতা, বেতের কচি ডগা ভর্তা! চৈত্রে ঠা ঠা পড়া রোদ পড়লে বাড়ির ছোট বড় সকলের জন্য বরাদ্দ হত এইসব তিতকুটে খাবার। অসুখবিসুখ নাকি ভিটেমুখো হয় না এতে। অমন গিন্নিবান্নি কঙ্কাপিসি মহুয়াফুলের দিনেই কেবল অচেনা হয়ে যেত।

কঙ্কাপিসির স্মৃতিটুকু ভোরের শিউলির মতো সজীব আজও। শুধু আমার কঙ্কাপিসি হারিয়ে গেছে। খুঁজে পাইনি এখনও। কঙ্কাপিসির গল্পটা শুনবেন? ওহ, তার আগে যে মহুয়াফুলের গল্প শুনতে হবে। মহুয়াগাছ দেখেছেন? অরণ্যবৃক্ষ মহুয়া?

দেখেছেন নিশ্চয়। আপনি তো লেখক, প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখেন বা কাছে না গিয়েও প্রকৃতিকে সাজান। জানি, আপনি প্রকৃতিরই সন্তান। আমিও কিন্তু প্রকৃতির কোলেই বড় হয়েছি। এখন প্রকৃতিকে ছেড়ে এসেছি। তবু প্রকৃতির সুবাস ঘিরে থাকে সর্বক্ষণ। মহুয়াফুলের সুবাসও। রোজ রাতে এই ঘরের জানালা খুললেই মহুয়ার বিবশ করা ঘ্রাণ পাই।

এই শহরে মহুয়াগাছ চোখে পড়েনি আজও। দোতলা এই ভাড়াবাড়ির জানালা দিয়ে তাকালে একটা ছাতা মাথার কাঠবাদামগাছ আর একটা দীর্ঘকায় জলপাইগাছ দেখা যায়। লাল, সবুজ জলপাইপাতায় চৈত্রের রোদ পড়ে ঝিলিক দিলেও আমি পোল্লাকুড়ির মহুয়াগাছটির কথা ভুলতে পারি না। ঐ গাছকে ভুলে গেলে যে কঙ্কাপিসিকেও ভুলে যেতে হয়।

আমাদের পোল্লাকুড়িতে বিশাল এক মহুয়াগাছ ছিল। বাড়ির কাছে সড়কের ধারে। শীতে নিরাভরণ গাছটার শাখাগুলো বসন্তের শুরুতেই কচি কচি পাতায় সেজে উঠত। পাতার নিচে তামাটে রংয়ের লম্বা সূচালো সব কলি দুলত। বাদুর আর চামচিকার দল মহুয়া ফুলের লোভে রাতভর হুটোপুটি করত। আশেপাশে বহুদূর পর্যন্ত হাওয়ার ঘ্রাণে ভীষণ মাদকতা থাকত। সবুজ-হলুদাভ ফুলগুলো ঝরে পড়ত আর সাদা থান পরা কঙ্কাপিসি ছটফট করত। ঘরকন্নার কাজ ভুলে গুনগুন করত,

মহুয়ায় মাতায় ঢোলক,
দোলে পলাশের নোলক।।
বাঁধে কেউ বাহুরও রাখি
আমি কী নিয়ে থাকি।।
মন দিল না বধূ…

মহুয়ার ফোটার দিন এলে কঙ্কাপিসির উদাস হবার কারণ জানতাম না। শুধু জানতাম পিসির মনে অনেক দুঃখ। বিয়ের পর মাস না ঘুরতেই কলেরা রোগে পিসির স্বামী মারা যায়। মহামারিতে উজাড় হয় শ্বশুরবাড়ি। বাবার বাড়িতে ঠাঁই নিলেও অসুরের দৃষ্টি সারাক্ষণই খুঁজে ফিরত পিসিকে। পিসির রূপের কথা না বললেই না। সাদা থান পরা মানুষটা ছিল জলে ডোবা এক পদ্ম। বিধবার অমনধারা রূপ লোকে সহ্য করবে কেন! কম লোক পিসির পিছনে লাগেনি। দিনে-রাতে এই রায়বাড়িতে শকুনের চোখ লেগেই ছিল। গায়ে পড়ে আবদুল কাদের এসেছিল বাবার কাছে, যুদ্ধের দিনে সোমত্ত কন্যা নাকি বাড়িতে রাখা নিরাপদ না। চাইলে রায়বাড়ির মেয়েরা নাকি তার বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারে।

সে দিনের কথা খুব মনে আছে আমার। বাবা গোপনে বর্ডার পার হবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মা থরথর করে কাঁপছেন আর কঙ্কাপিসি পোঁটলা বাঁধছেন। বাবা চাপাস্বরে তাড়া দিচ্ছেন, এত কিছু নেওয়া যাবে না, প্রাণটুকু নেয়াই কঠিন। পাশের গ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারি এসেছে। এ গাঁয়ে এল বলে। বাহাদুরকাকা চুপিচুপি বাহির দরজায় দাঁড়ালেন, ‘ভাই, সব বাঁধাছাদা হইছে? মিলিটারি ঢুইকা গেছে। আবদুল কাদের গেছে আগায় নিয়া আসতে। আমি সঙ্গে কয়েকজন নিয়া আসছি। এখনই বাইর হন। আপনাদের বর্ডার পযন্ত পৌঁছায় দিই।’

রাতের আঁধারে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়েছি। এ রাতের রূপ আমাদের অচেনা। দানব রাহু যেন চন্দ্রকে গ্রাস করতে বেরিয়েছে। তার ধূসরবর্ণ রথ টেনে চলেছে কৃষ্ণবর্ণ আট অশ্ব। তার সামনে সামনে আমরা ভীত খরগোশেরা ছুটছি। ছুটছি।

অকস্মাৎ চাঁদ অদৃশ্য হয়ে গেছে। পথ ফুরিয়ে গেছে। চাঁদের সঙ্গে সঙ্গে রাহু আমাদেরও গিলে ফেলেছে। চাপা কণ্ঠে কেউ ডাকছে, কঙ্কা কই, দেবী কই? বাবার কণ্ঠস্বর শুনতে পাইনি আমি। মায়ের মুঠোবন্দি হয়ে এরপর কতটা পথ ছুটেছি মনে নেই। হঠাৎ পেছনে চিৎকার, কোলাহল শুরু হলে, পিছু ফেরার উপায় ছিল না। এরপর আমরা যখন পিছু ফিরেছি তখন আর কঙ্কাপিসি নেই আমাদের সঙ্গে।

কঙ্কাপিসি নেই। হারিয়ে গেছে। আমরা দেশে ফিরেও পিসিকে খুঁজে পাইনি। খবর পেয়েছিলাম, বাহাদুরকাকার ছেলে আবদুল কাদের পিসিকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

এরপর পিসির জীবনের গল্পটা হয়তো ‘করুণাময়ী উপাখ্যান’ উপন্যাসের করুণা দেবীর মতোই হয়েছে। জানেন, করুণা দেবী ক্যাম্পে বন্দি থাকার সেই অধ্যায়টা কখনওই পড়ে শেষ করতে পারিনি আমি। অথচ একসময়ে উপন্যাসটি অসংখ্যবার পড়েছি আমি। এখনও অনেক সংলাপ হুবহু পাঠ করতে পারব। তবে অনেকদিন হল বইটি ধরি না। ধুলো জমেছে ‘করুণাময়ী উপাখ্যান’ এ। আসলে বয়স হয়েছে তো। স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবু মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমি কঙ্কাপিসিকে দেখতে পাই। মহুয়াফুলের ঘ্রাণ পাই।

অনেকক্ষণ লিখছি। এবার একটু হাঁপিয়ে উঠেছি। ঘরের কাজও পড়ে আছে। অনিন্দ্যের জন্য ঘি দিয়ে নিমপাতা ভাজব এখন। ছেলেটা ঝা ঝা রোদে অফিস করে এসে তক্ষুনি ভাত খেতে চাইবে। এসেই বলবে, বাইরে যা জ্যাম পিসি। এত মানুষ যে কোথায় ছোটে! বাধ্য হয়ে এদের পিছু পিছু আমাকেও ছুটতে হয়। ছোটাছুটি বন্ধ করলে তো পিছিয়ে পড়লে।

অনিন্দ্যের কথা শুনে আমার শ্রী প্রমথনাথ বিশীর ‘কেরী সাহেবের মুন্সী’ উপন্যাসের একটি কথা মনে পড়ে, ‘…যেখানে ভিড় বেশি, আসন স্বল্প, সেখানে সাধারণ নিয়ম খাটে না। অনেক সময়েই অশোভন ব্যস্ততায় চেয়ারে রুমাল বেঁধে আপন স্বত্ব চিহ্নিত করে রাখতে হয়।’ এই উক্তিটি যেই ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখা তা মনে পড়লে ভাবি, সত্যি সত্যি নিজের জায়গা করে নেওয়া বা অন্যকে নিজের করে নেওয়ার জন্য মাঝেমাঝে অশোভনভাবে হলেও আপন স্বত্ব চিহ্নিত করে রাখা জরুরি নয়তো ভিড়ের কারণে নিজের আরাধ্য বস্তুটি হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। সেই চিন্তাতেই হয়তো দেশের কোটি কোটি মানুষ এখন অশোভন ব্যস্ততায় মগ্ন আছে।

কিন্তু জানেন, নিজের ভাবনার বৈপরীত্য আমাকে বারবার ঘায়েল করে। আবার ভাবি, এই নিমগ্নতার আরেকটি রূপ কি স্বার্থপরতা নয়? যুগে যুগে মানুষ নিজের স্বার্থের কারণে কত কিছুই না করে। বিশেষ করে লেখকেরা যখন স্বার্থের কারণে আত্মমর্যাদা জলাঞ্জলি দেয় তখন বড় হতাশ হই। একজন লেখকের মেরুদণ্ডটা ভঙ্গুর লাগে তখন। ভাবি— এই শিরদাঁড়া নিয়ে কী করে লেখেন তিনি! কী করে লেখেন জীবনের বয়ান, দেখান আশার আলো, বিলান স্বপ্নের মাধুরী!

আপনার লেখা একটি প্রবন্ধে পড়েছিলাম, গাছের শেকড়ে যেমন পানি দিতে হয়, রস দিতে হয়, তেমনি সংস্কৃতির শেকড়েও পানি দেয়া চাই, রস দেয়া চাই। নয়তো সংস্কৃতির চর্চাই সেই রস দেওয়া। আর সংস্কৃতি চর্চা করতে হলে নিজেদের ইতিহাস বিস্মৃত হলে চলবে না। স্মৃতিলেখাই চিনিয়ে দেবে ইতিহাসের বেইমানদের।

আমি বিস্মৃত হইনি। হই কী করে? স্মৃতিলেখাই তো সম্বল আমার।

দেশের চিহ্নিত একজন যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে আজ আপনার হাসি হাসি মুখের ছবিটি যখন দেখেছি তখন থেকেই যেন স্মৃতিরা আরও সজোরে পেছনে টানছে। স্বস্তি পেতে আপনাকে চিঠি লিখতে বসেছি। যাই বলুন চিঠিযুগ পুরনো বৈভব নিয়ে থাকুক আর না থাকুক এই ফেসবুক জিনিসটা কিন্তু মন্দ না। এই ফেসবুকের কল্যাণেই তো জানতে পারলাম ছবিতে আপনার ডান পাশে দাঁড়ানো আবদুল কাদের আপনার পরবর্তী বইয়ের প্রকাশক।

আপনাকে লেখা ত্রিশটি চিঠি বন্দি আছে আলমারির ড্রয়ারে। কখনও পোস্ট করা হয়নি। এই একত্রিশতম চিঠিটিও হয়তো পোস্ট করা হবে না। আপনাকে ‘শ্রদ্ধাস্পদেষু’ সম্বোধন করে নতুন কোনও চিঠিও লেখা হবে না। তবু চাই ভালো থাকুন, শুদ্ধ থাকুন।

ইতি দেবদ্যুতি রায়

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3607 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...