নয়া তালিবানিস্তান এবং ভারতীয় মেয়েদের ‘আচ্ছে দিন’!

সরিতা আহমেদ

 



গল্পকার, গদ্যকার; পেশায় শিক্ষক

 

 

 

জওহরলাল নেহেরু তাঁর Discovery of India বইয়ে লিখেছিলেন,

“ভারতে ও তার বাইরে এমন স্থান খুব কমই আছে যেখানে এর পুরাতন স্মৃতিসৌধ, ভারতীয় সংস্কৃতি বিশেষত বৌদ্ধ যুগের এত চিহ্ন দেখা যায়— যেমন মেলে আফগানিস্তানে।”

সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছিলেন,

“যেদিন বৃহত্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে শিখব সেদিন জানব যে ভারতবর্ষ ও আফগানিস্তানকে পৃথক করে দেখা পরবর্তী যুগের কুসংস্কার।”

প্রথম শতাব্দীতে বৃহৎ ভারতের বহু ধর্মপ্রচারক চিন-তিব্বত-মধ্য এশিয়া হয়ে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালায় পাথর কেটে তৈরি করেছিলেন অসংখ্য গুম্ফা, পরে যেগুলি হয়ে উঠেছিল, ধর্ম-দর্শন-শিল্পকলার চর্চাকেন্দ্র। আধুনিক যুগে ‘আফিম চাষের ভরকেন্দ্র’ নামটাই তার সঠিক পরিচয় দেয় না— প্রাচীন ইতিহাস সাক্ষী বৌদ্ধ মঠ-গুম্ফা-শিলালিপি-মুদ্রা ও অসংখ্য পুরাকীর্তির আকরভূমি ছিল আফগানিস্তান।

অথচ মানুষের সুপ্রাচীন ইতিহাসের ধারক দেশটি আজ জ্বলছে। ধর্মের অন্ধকূপের আগুনে সে দেশের মানবজমিন জ্বলতে জ্বলতে একটু একটু করে ছাই হয়ে মিশে যাচ্ছে আইসিস-তালিবান অধ্যুষিত আফগানিস্তানের ধূসর আকাশে।

কুষাণ আমলে বামিয়ানে তৈরি ‘বামিয়ান বৌদ্ধমূর্তি’ পৃথিবীর দীর্ঘতম বৌদ্ধ মূর্তি হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছিল অন্যতম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে। তলিবানরা, পৃথিবীর অহঙ্কার সেই সুউচ্চ মূর্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছিল জেহাদের সঙ্গে সভ্যতা-সংস্কৃতির কোনও সম্পর্ক নেই।

যে আফগানিস্তানকে ছোটবেলায় বাঙালি চিনেছিল রবি ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’-র হাত ধরে— মরুপ্রান্তরের আখরোট-বাদাম-পেস্তার গন্ধ মাখা দেশ আজ বারুদের গন্ধ আর মানুষের রক্তের গন্ধে দূষিত। বছর কয়েক আগে যারা ছিল আইসিস, আজ তারাই তালিবানের সঙ্গে মিশে দখল নিয়েছে গান্ধারভূমির।

একদা সাংস্কৃতিক পীঠস্থান ভূখণ্ডে এখন রাত্রিচারী জঙ্গিদের অবাধ স্বাধীনতা।

শিল্প-স্থাপত্য-সাহিত্য-চারুকলার কথা না হয় বাদ দিলাম, কিন্তু একটা সুস্থ স্বাধীন এক মানবজমিন ছাড়া কি দেশ বাঁচে! আজ সেই মানবজমিন জ্বলে পুড়ে ছারখার।

এ বছরের ১৫ আগস্টে যখন ভারত উপভোগ করছে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী— ঠিক সেই তারিখেই আমাদের প্রতিবেশী দেশটিতে লেখা হল পরাধীনতার নয়া ইতিহাস। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি শুধু গদিই নয়, দেশ ছাড়লেন। মসনদে বসতে চলেছেন এক সন্ত্রাসী তালিবানি নেতা— মুল্লাহ আব্দুল ঘানি বরাদর। ধর্মের নামে মানুষ মারার হাতেখড়ি যাঁর ১৯৮০ সাল থেকেই। প্রথমে আফগান মুজাহিদিনের সক্রিয় সদস্য, পরে তালিবানের সংগঠনের মাথা। তাঁর কমান্ডারের হাতেই নাকি এখন দেশের নিরাপত্তা!

কারা এই তালিবান? ‘পাশতো’ ভাষায় তালিবান শব্দের অর্থ ‘ছাত্রদল’। সোভিয়েত পরবর্তী যুদ্ধদীর্ণ আফগানিস্তানে ১৯৯৪ সালে কান্দাহারের ৫০ জন ছাত্র নিয়ে একটি দল তৈরি করে মুজাহিদিন কমান্ডার মোল্লা মহম্মদ ওমর। ওসামা বিন লাদেনের সমর্থনপুষ্ট, কট্টর শরিয়তি শাসনের দ্বারা দার-উল-ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা, চূড়ান্ত নৃশংস এই ছাত্রদলই সমরাস্ত্রে শিক্ষিত হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসার উদ্দেশে ১৯৯৬ সালে নাম নেয়— তালিবান।

একসময় যাদের নেপথ্যে মদত দিয়েছিল আমেরিকা ও সৌদি আরব, ২০২১ সালের তালিবানের পাশে শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছে পরমাণু শক্তিধর দুই রাষ্ট্র পাকিস্তান ও চিন। সাম্প্রতিক ফোর্বস তালিকায় তালিবান রয়েছে পঞ্চম ধনী জঙ্গিগোষ্ঠী হিসেবে। ২০১৯ সালে তালিবানের বার্ষিক আয় বেড়েছে ৪০০ শতাংশ।

তালিব মুখপাত্র সুহেল শাহিন বিবিসিকে বিবৃতি দিয়েছে, ২০২১ সালের নয়া তালিবানের হাতে নাকি ‘সামাজিক ন্যায়ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠিত হবে শরিয়তি আইনে, যেখানে নাগরিকের সুরক্ষা ও নারীর সুরক্ষা বজায় থাকবে। অথচ বাস্তব চিত্র সেকথা বলে না। ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা দখল’ করে আফগানিস্তানে যে ইসলামের ঝাণ্ডা হাতে ধর্মশান্তি রক্ষায় মসনদে বসল এই জঙ্গি সংগঠন, সেই দেশেরই মুসলিম নাগরিকরা আজ নির্বিচারে খুন হচ্ছেন। স্কুল-কলেজের বাইরে একে-৪৭ হাতে পাহারা দিচ্ছে জঙ্গিদল। হেরাটে মেয়েদের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা পড়েছে, মুখ-না-ঢাকা বা আঁটো পোশাক পরা আফগান মেয়েদের হত্যা করা হয়েছে। একাধিক মহিলাকে জোর করে তালেব যোদ্ধাদের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, বোরখায় ঢাকা নারীদের প্রকাশ্যে চাবুক মারা হচ্ছে জুতোর উপর গোড়ালি দেখা যাওয়ার কারণে, মহিলা সাংবাদিকরা কড়া নির্দেশ পেয়েছেন ‘কাজে না যাওয়ার’। মধ্যযুগীয় শাসনে কি আজও পাথর ছুঁড়ে হত্যা, অঙ্গচ্ছেদন, মুণ্ডচ্ছেদন ইত্যাদি চলতেই থাকবে? সে প্রশ্নে মৌনং সম্মতি তাদের। আফগান-মার্কিন সাহিত্যিক খালেদ হোসেইনি জানাচ্ছেন “আমার আফগান বোনেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

আসলে শরিয়তি শাসন আর মানবাধিকার— এই দুইয়ের মধ্যে চরম বিপ্রতীপ সম্পর্ক।

তালিবানের হাতে নারীস্বাধীনতা যে কী ভয়ঙ্কর প্রহসন— তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ— সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি নিজের প্রাণের বিনিময়ে প্রমাণ দিয়েছিলেন মুক্তমনা নারীরা তালিব যোদ্ধাদের চোখে আসলে কী! মেয়েদের শিক্ষার অধিকার তালিবানের কাছে কী, তার প্রমাণ ২০১২ সালে মাথায় গুলি খেয়ে দিয়েছেন মালালা ইউসুফজাই। একমাস আগেই সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি খুন হয়ে প্রমাণ দিয়েছেন বাকস্বাধীনতার প্রতিদান তালিবান কীভাবে দেয়।

গোটা কাবুলের বাতাস তীব্র বিষাক্ত। ১৫ আগস্টেই শেষতম বিমান উড়ে গেছে কাবুল বিমানবন্দর থেকে। ভাগ্যহত নাগরিকরা প্রাণভয়ে দেশ ছেড়েছেন আর হতভাগ্যরা তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে কোতল হয়েছেন প্রকাশ্য দিবালোকে। যাঁরা বেঁচে রয়েছেন আফগানভূমে তাঁরা দাড়ি ও বোরখার নিচে লুকাচ্ছেন। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে উড়ন্ত বিমানের চাকা থেকে খসে গেছেন কত মানুষ!

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই দুর্দিনে যখন পাকিস্তানের ধর্মীয় জনসভায় প্রকাশ্যে আনন্দ উৎসব পালিত হচ্ছে, মিষ্টি বিতরণ চলছে, তখন খুব আশ্চর্যজনকভাবে চুপ করে আছে ভারতের মুসলিম ল বোর্ড, ধর্মীয় সংগঠনগুলো, এবং সর্বোপরি আমাদের ‘আচ্ছে দিন’-এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া রাষ্ট্রনেতারা। অদ্ভুতভাবে চুপ বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহলও।

হয়ত অনেকেই ভাবছেন, এ তো নিছক একটা দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা। এতে আমাদের কী বা যায় আসে! ভুলে গেলে চলবে না, এখনও প্রায় দেড়শো ভারতীয় আটকে রয়েছেন কাবুলের বিমানবন্দরে, গুরুদ্বারায়— যাদের মধ্যে চল্লিশজন বাঙালি।

মুজতবা আলীর সাহিত্য বা নেহেরুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বলে দেয়— আফগানিস্তান আর হিন্দোস্তানকে কিছুতেই আলাদা করে দেখা যায় না। আজকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যতই ভিন্ন হোক না কেন, এই দু দেশের সম্পর্ক ওতপ্রতভাবে যুক্ত থাকায় এক দেশের অস্থিরতা অন্যকেও স্থির থাকতে দেয় না। বিশেষত যেখানে মধ্যভাগে আছে পাকিস্তানের মত ‘জঙ্গিদের সেফ প্যাসেজ’।

ঠিক এইখানেই আমাদের ভয়। আমরা, হ্যাঁ, এই যারা আরবি নামের ধারক, তাদের ধর্মবিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, সেই মেয়েরা কিন্তু সত্যি ভয় পাচ্ছি যখন দেখছি আফগানিস্তানের তালিবান অভ্যুত্থান নিয়ে উল্লসিত হচ্ছে পাকিস্তানের একটা বড় অংশ এবং তাদের অন্ধ-অনুসারী কিছু ভারতীয়ও। সোশাল মিডিয়া, যা দেশের জনমতের নির্ভরযোগ্য গণদর্পণ— সেখানে তালিবান সমর্থকদের যা কিছু প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে তা নিতান্ত ছোট বিষয় নয়। ভয় শুধু তালেব সমর্থকদের নয়, ভয় ‘অন্যায় যে সহে’-ব্রিগেডের নীরব দর্শকদেরও। ভয় হচ্ছে এইজন্যই যে, পড়শির এমন বিপর্যয়ে দেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের কাছে দেশের চালকদের তরফে কোনও দায়িত্বশীল বার্তা আসছে না।

যে জাতি ‘ব্রাদারহুডে’র বড়াই করে তারা নিজের দেশের ‘ব্রাদারহুড’কে পারস্পরিক শান্তি বজায় রাখার বার্তা কেন দিচ্ছে না? যে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, দেওবন্দ মাদ্রাসার মত ‘কৌমের একতা রক্ষা’র হোতা— যারা কথায় কথায় নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার ফতোয়া দেয়— তারা আজ মুসলিমপ্রধান দেশের বিপর্যস্ত জনজীবন নিয়ে, তালিবানের হিংসাত্মক আগ্রাসন নিয়ে কেন চুপ? কোথায় গেল তাদের ‘শান্তির ধর্মের’ বার্তা! বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরাই বা এত নিশ্চুপ কিসের স্বার্থে?

ভয় হচ্ছে, কারণ আমরা দেখেছি এদেশের অভ্যন্তরীণ ‘তালিবান’রা এর আগে মালদার মেয়েদের খেলাধূলায় হাফপ্যান্টের বিরোধিতা করে নিষেধের ফতোয়া নামিয়েছে। দেওবন্দ মাদ্রাসা তো নারীবিদ্বেষী ফতোয়া দেওয়াটা ‘কালচারে’ পরিণত করেছে। আবার তাদেরই দোসর ‘হিন্দু রাষ্ট্রে’র নাড়া লাগানো গেরুয়া সন্ত্রাসীরা মেয়েদের সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতা কেড়ে ‘লাভ জেহাদের’ জুজু দেখিয়ে ‘অনার কিলিঙে’ প্রচ্ছন্ন মদত দিয়েছে। আসলে মৌলবাদীদের চেহারা তো দেশ-কাল-সময় ভেদে একইরকম।

আমাদের আশঙ্কা, আফগানিস্তান ইস্যুতে প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অখণ্ড নীরবতা প্রমাণ করছে তালিবান আগ্রাসনের প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থনকে। সেটা দুর্ভাগ্যক্রমে উগ্র দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক শিবিরের হাত শক্ত করবে। ধর্মীয় মেরুকরণ আরও বাড়বে। আফগানি বোরখায় বন্দি মেয়েদের মতই শরিয়তের ‘রিভেঞ্জ থিওরি’ মনুবাদী ফতোয়ায় এদেশের মেয়েদের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। বিচ্ছিন্নতাবাদী দক্ষিণপন্থী নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে, পড়শি দেশের সংখ্যালঘু খুন অথবা দেশ ছাড়ার ঘটনায়, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাতে উগ্রবাদী রাষ্ট্রশক্তি বাড়তি ইন্ধন পাবে। ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানে মেয়েদের উপর নামতে পারে মৌলবাদী নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া! লোক ক্ষেপানো বক্তৃতার ফল কী হয় তা আমরা প্রতিবার ভোটের সময় দেখি— আর এ তো রীতিমত সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার সুবর্ণ সুযোগ! এভাবে কি শান্তিপ্রিয় নাগরিকের জান-মালের হিফাজত সত্যিই সম্ভব!

ইতিহাস সাক্ষী, রাষ্ট্র যখনই বিপদে পড়ে— আগ্রাসী থাবায় তখন সবচেয়ে আগে বলিপ্রাপ্ত হয় নারীরাই। নিজেদের কৌমের মেয়েদের শরীর-মনের উপর নিজেদের জাতির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তখন সবচেয়ে আগে গৃহবন্দি করা হয় মেয়েদেরই, জোর করে নিয়ন্ত্রিত করা হয় তাদের চলাফেরা। অন্ধ ধর্মীয় আনুগত্যের ফল আমরা দেখেছি অনার কিলিং-এর আকছার ঘটনায়।

মৌলবাদের যদি সত্যি কোনও ধর্ম না থাকে, তবে সঙ্ঘ এবং পার্সোনাল ল বোর্ড সহ সংখ্যালঘু সেলগুলোর নীরবতা মেয়েদের জন্য দুশ্চিন্তার আঁধি তো বটেই। একদিকে পাকিস্তানের সেফ প্যাসেজ ব্যবহার করে যেমন তালিবান এদেশে ঢুকে সৃষ্টি করতে পারে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, ঠিক তেমনি আরবি নামের মেয়েদের ওপর নামতে পারে এখানকার ‘নারী রক্ষা’য় নিয়োজিত মরাল পুলিশের নানাবিধ নিষেধের খাঁড়া— তার পছন্দ, অপছন্দ, পোশাকবিধি, চলন-গমন থেকে খাদ্যাভ্যাস অবধি সবেতেই।

ক্ষমতা দখলের পরে যেভাবে তালিবান ভারতীয় ট্যুইটার হ্যান্ডেলে হানা দিয়েছে, কান্দাহার ও হেরাটের ভারতের কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করেছে, কূটনৈতিক কাগজপত্র-ভিসা নথি বের করে লণ্ডভণ্ড করে তাণ্ডব চালিয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের বাইরে রাখা অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তাকাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলি নিজেদের কব্জায় নিয়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে ভারতের বিদেশনীতি ও কূটনীতিক সম্পর্কগুলো কি সুরক্ষিত থাকতে পারে! দিল্লির প্রতি তালিবান মুখপাত্র যতই নরম মনোভাবের কথা বলুক না কেন ভুললে তো চলবে না এখনও পাঠানভূমে আটকে আছে কয়েকশো নিরীহ ভারতবাসী। যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যুদ্ধোন্মাদরা, সেদেশে বন্দি ভারতীয়দের নিরাপত্তায় যদি সামান্যতম ত্রুটি ঘটে, তবে এদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালনে যে তীব্র হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে না— তেমন কথা কে বলতে পারে! প্রভাবশালী জননেতা হোক বা সচেতন বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী— এই অখণ্ড নীরবতা আমাদের ভাবাচ্ছে বৈ কি!

এই মুহূর্তে বিশ্বের বড় শক্তিগুলির চাপে যদি ‘দীর্ঘমেয়াদি সিজফায়ার’ না ঘোষিত হয়, আফগান শরণার্থী ও নারী-শিশুদের রক্ষা বিষয়ে একটা কড়া অবস্থান না নেওয়া হয়, ভারতের প্রগতিশীল মুসলিম সমাজ যদি বর্তমানে মৌনব্রত নেওয়া ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে তীব্র জনমত না গড়ে তোলে— তবে কিন্তু ভারত সহ উপমহাদেশের মেয়েদের আগামীদিনগুলো ভয়ঙ্কর উদ্বেগের। 

 

*১৭ ই আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য ও ঘটনাক্রমের ভিত্তিতে লিখিত।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3608 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...