প্রীতম বসাক

একটি কাব্য গড়িয়ে নামছে জলের স্বভাবে

 

১.

শীত চলে গেলে যেভাবে গাছেদের জিভের স্বাদ ফিরে আসে তোমাকে আমি পুনরুদ্ধার করি নদীর সঙ্কলন থেকে। আর উড়ে আসে জলের কণ্ঠস্বর। একটা নিচু আলো ফেলে বুঝে নিতে চাই সকল ব্যথারা যথাক্রমে আছে কিনা! তুমি মনে করতে পারো না কীভাবে একদিন স্মৃতিতে ভ্রম ঢুকেছিল। একপ্রকার বেদনা আছে যাদের সাদাগুলো আমাদের কাছে বৃষ্টিভরা জিভের ন্যায় নরম। ঘুমিয়ে পরার আগে তুমি কি জেনেছ কেমন হয় নীরবের ভাষাচর্চা। মুখের খুব কাছেই ফুটে থাকে আরও একটি নতুন…

 

২.

পাখির আহারের ন্যায় একটি সকাল। পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর। আমিও ভাতের দুয়ারে দাঁড়িয়ে হাত পাতি সামান্যের কাছে। চালের গায়ের গন্ধ মেখে তোমাকে ডেকে উঠি। বলি সুপ্রসন্ন হও। এসো নিরাময় রাখো থালায়। সুখ ও দুঃখ ঢেলে দাও। ওই ফুটে উঠছে ক্ষুধার চোখ। অশ্রুরঙের আলো হচ্ছে। ওই খর আর কুটো নিয়ে ঘর গৃহমগ্ন হল। দৃষ্টি হল সন্তানের। দুধ স্ফীত হল। চুকচুক শব্দে ভরে উঠল জননী। একে আমি নিসর্গ বললাম।

 

৩.

যেন কিছুই জানে না এমন একটি দুপুর এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অপেক্ষা করে আছি কখন তার তরুলতা কেঁপে উঠবে। এই যে নির্জন নিয়ে বসে আছি সেখানে পৌঁছতে ফেলে এসেছি বহু নদীতর স্বাদ। বাক্য গঠনে এখন সরলতা রাখি। একটি স্মৃতিকথা সমগ্র করে যেতে চাই। সাদা দিয়ে বানানো। ফুল হয়ে ওঠার শব্দটুকুও যেন লিপিবদ্ধ হয়। গন্ধ থেকে যেন বুঝে নেওয়া যায় এই ঘরে একদিন আমি খুব ঘুমিয়ে পড়েছিলাম অন্ধকারে মাথা দিয়ে। তখনও স্নেহ লেগেছিল ঠোঁটে।

 

৪.

তারপর দুঃখের নিচে কলস পেতে দিই। জড়ো করি হারিয়ে যাওয়াদের। বিশেষত একজন মধুচাষি ডেকে এনে বসিয়ে রাখি পুঁথির ভেতর। ওই যে মৃদুস্বভাবের গাছটি তাকে বলা আছে দুঃখের পাশে মানাবে এমনভাবে যেন তোমাকে সাজিয়ে দেয়। সামান্য ব্যঞ্জনা কয়েক ফালি রোদ এবং কিছু উপমা আমি জমিয়ে রেখেছি নিয়তির বিনিময়ে। শোনো ভরে উঠছে কুম্ভ। শব্দ দৃঢ় হচ্ছে। দেখো একটি কাব্য গড়িয়ে নামছে জলের স্বভাবে! তাকে শস্যের গড়ন দাও।

 

৫.

পাখির অভ্যাস থেকে ফিরে আসি। ভারী বাক্যগুলো নামিয়ে রাখি পিঠ থেকে। ভিজিয়ে নিই দিনের অগোছালো। কিছুই বিদ্যা হল না জেনে বসে থাকি শূন্য হয়ে। তখনই মৃগ দৃশ্যমান হয়। লাফিয়ে লাফিয়ে গড়িয়ে যায় অভিকর্ষ। দেখি আধো আধো আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে আর জ্ঞ ধাতুর সাথে যুক্ত হচ্ছে মায়া। ভাবি এইবার তবে একটি পাঠশালা খুলে বসি। নিজেকেই শিখি। বলি, জেনো এভাবেই লেখা হয়। ব্রহ্ম জাগে। জন্ম নেয় সম্ভাবনা।

 

৬. 

তবু পুথিটি কাঁদে। অসবর্ণ শব্দের খোঁজে সে হেঁটে আসে সজল অবধি। একটি গাছের নিকটে কিছু দহন পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের হাতে তুলে নিতেই একে একে ফুটে ওঠে মানুষের জমানো পরিশ্রম। পুথিতে এবার লোক জড়ো হয়। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের খাতা খুলে দেখা যায় একটিও কবিতার পংক্তি আপডেট করেনি কেউ। ফলে বহু বর্ষাকাল খরচ না হয়ে পড়ে আছে। কবি ভাবেন তবে এইখান থেকেই শুরু হোক চর্যাপদ। লিখে রাখা যাক শস্যের রূপ রস গন্ধ স্পর্শ ও বাসনাখানি।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3495 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...