সমীর মজুমদার

পাঁচটি কবিতা

 

১.

যাত্রাপথ শেষ হলেও
থেকে যায় অবশিষ্ট
কিছু কোলাহল, সেসবও
থেমে গেলে যা থাকে
তা আসলে অপার জলরাশি
ছাড়া কিছু নয়, প্রবল নৈঃশব্দ্যও
থাকে, পিছনের কথা কিছুই
মনে পড়ে না আর,
নিজের কথা ফিরিয়ে
দেয় জল, নৈঃশব্দ্যকে সঙ্গী
তখন শুধুই আরও গভীর
জলের ভিতরে মিশে যেতে হয়।

 

২.

যে কোনও নতুনকে দেখলে, আমার কোনও
না কোনও পুরনোকে
মনে পড়ে, অর্থাৎ সামান্য
হলেও আনন্দ হারিয়ে
ফেলি, একধরনের ভয় নিয়ে
কাটাতে হয় বহু কাল,

আমি পরিষ্কার দেখেছি
প্রতিটি নতুনের গায়ে
লেগে থাকে তার গতজন্মের
বিষ-দাগ।

 

৩.

প্রণয় ও প্রণয়ন ছাড়া
যারা বেঁচে থাকতে
পারেন অনেক দিন,
তাদের দিকে তাকিয়ে
থাকি ভাবলেশহীন।

তাঁদের দলে মাঝেমধ্যে
মিশে যাই, তখন হুঁশ ফেরে,
ইশ, আমিও তেমন কিছুই
লিখিনি, তেমন কোনও
প্রেমও তো জোটেনি
এই ভাঙাচোরা জীবনে!

 

৪.

সাপের চোখের ভিতর দিয়ে দেখেছি, তুমি একটি বিষধর
পাখির চোখের ভিতর দিয়ে দেখেছি, তোমার সুতীব্র ঠোঁটে
লেগে আছে অপরাজিতার রেণু, বাঘের চোখের ভিতর দিয়ে দেখেছি,
তোমারও আছে প্রখর শ্বদন্ত, মাছের চোখের ভিতর দিয়ে দেখেছি,
তুমি অত্যন্ত লঘু ও সদা সন্তরণশীল, তোমার সমস্ত ক্রিয়ার
ভিতরে দেখেছি কোনও না কোনও অঘোষিত মৃত্যু,
আর, আমার মিথ্যা চোখের ভিতর দিয়ে দেখেছি, তোমার
অস্তিত্ব টিঁকে থাকে কারও না কারও চোখের ভিতরে শুধু।

 

৫.

হঠাৎ আগুন উড়ে এসে পড়ে বনে
বন পুড়ে যায়, পোড়ে বনের যত
প্রাণ, এ তো খুব স্বাভাবিক, বলার
মতো কী, তবু কেন যেন বললাম,
চারিদিকে শুধু ছাই আর ছাই, ঠিক
ততখানি ছায়া ঠিক ঘনিয়ে আসে
না, এই অবধি লেখার পর লিখনশৈলী
হারিয়ে পথে বসি, আর, আমাকে
ডিঙিয়ে চলে যায় শিয়াল অগণন।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3695 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...