নীল পাখি

মহুয়া সেন মুখোপাধ্যায় 

 

একটা টানেলের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে ট্রেন। কাচের ঠান্ডা জানলায় মাথা ঠেকিয়ে বসে সে। বন্ধ চোখের মধ্যেও ঝাপ্টা দিচ্ছে তীব্র আলো, পরক্ষণেই অন্ধকার। আলো। অন্ধকার। টানেলের পর টানেল। টানেলের থেকে বেরিয়ে স্টেশন। অন্ধকার টানেলের অনেক ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে শহর… অনেক অনেক মানুষ, বিল্ডিং, গাড়ি, যান্ত্রিক ঘোষণা হচ্ছে। কী বলছে? কী ভাষা বলছে? কান পেতে শোনার চেষ্টা করছে সে। কী নাম বলছে? কোন স্টেশনে নামতে হবে? কোন স্টেশনে যেতে হবে তাকে? কোন শহর বয়ে চলেছে অন্ধকার টানেলের ওপর দিয়ে?

একটা কীরকম দম আটকে আসার অনুভূতি। পেটের ভেতর একদম খালি খালি। গা গুলিয়ে উঠছে। বড্ড অস্বস্তি। সেটার মধ্যে দিয়েই পাতলা হতে হতে ভেঙে গেল ঘুমটা। একদম। সশব্দে। আচ্ছা, কোনও শব্দ না থাকলে কি সশব্দে ঘুম ভাঙতে পারে? অ্যালার্মের আওয়াজে ঘুম ভাঙত তার যে-কোনও সময়, পনেরো মিনিটের ঘুম, পাঁচ ঘন্টার ঘুম, দু রাত জেগে কাজ করার পর ন ঘন্টাতেও শেষ না হওয়া ঘুম। আর ঘুমের মধ্যে অ্যালার্ম। সশব্দ ঘুমভাঙা। প্রায় সারাজীবন। এখন ঘুম ভাঙা শব্দহীন। তাই ক্ষিদেটাকেই শব্দ মনে হচ্ছে।

ক্ষিদে। আসলে খুব ক্ষিদে পেয়েছে তার। ঘাড় কাত করে বাঁদিকের জানলায় টানা ব্লাইন্ডের মধ্যে দিয়ে আবছা আলো। সকাল হয়নি, না মেঘলা? পায়ের দিকের দেওয়ালে একটা টেবিল, তার ওপর ছড়ানো কয়েকটা সুপের্ ক্যান, ব্রেড, জ্যাম, ক্র্যাকার, আধখাওয়া দুটো চিপসের প্যাকেট, কেচাপ, গোটা তিনেক বিয়ারের ক্যান, প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া একটা সস্তা ভদকার বোতল। কাল সন্ধে ছটা থেকে ভদকা শুরু করেছিল, রাত্তিরে বোধহয় আর কিছু খাওয়া হয়নি। আস্তে আস্তে উঠে বসল বিছানায়। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। বিছানা থেকে নেমে বাথরুমের দিকে দু পা হেটে যেতে টলমল করছে মাথাটা। যেতে যেতে টেবিলের ডান কোণে পাশাপাশি দুটো টুনা ক্যানের একটার মধ্যে ক্যান-ওপেনারটা ঢোকানো। পাশে ক্র্যাকারের প্যাকেট খোলা। খাবে ভেবেছিল। খাওয়া হয়নি।

একেবারে স্নান করে বেরিয়ে দেওয়ালের মাঝখানে বড় ঘড়িটার দিকে তাকাল সে। ঘরের দেওয়ালের মাঝখানে একটা বিরাট ঘড়ি। বহু বহুবার সময় দেখেছে সে গত তিনদিনে। ঘড়ির কাঁটা বিশেষ তাড়াতাড়ি ঘোরেনি তার জন্য। গতকাল দুপুর তিনটে কুড়ির সময় ঘড়ি দেখেছিল সে। তার পর তিনটে সাতচল্লিশ। তারপর তিনটে পঞ্চাশ বাজা পর্যন্ত সেকেন্ডের কাঁটার দিকে তাকিয়ে মিনিট গুনেছে সে। পুরো তিন মিনিট। সেটা বুঝতে পেরে প্রতিজ্ঞা করেছিল এরপর বেশ খানিকক্ষণ লিখবে, অন্তত আধঘন্টা, তারপর বাড়িতে ঝাড়ু আছে কিনা খুঁজে দেখবে। একটা লিস্ট করবে কী কী কেনা দরকার, তিনদিন হয়ে গেল, এখনও সে বাসন ধোওয়ার সাবান কেনেনি। এগুলো ভাবল কিন্তু আবার ঘড়িতে চোখ গেল চারটে পাঁচে। তবে লিখতে বসে আধঘন্টা লিখেছিল সে। আগের সাতদিনে পরপর কী হয়েছিল। নভেম্বরের বিকেল ফুরিয়ে এল দ্রুত পায়ে। যখন জানলার কাঁচে শুধু নিজের প্রতিবিম্ব, সন্ধেটা যখন বুকের মধ্যে চেপে বসতে শুরু করল, তখন ভদকার বোতলের দিকে হাত…

এখন ব্যাগ থেকে জামাকাপড় বের করে পরে নিয়ে, দুটো ব্রেড বের করে জ্যাম লাগিয়ে, বিছানার ম্যাট্রেসের নীচ থেকে রুলটানা খাতাটা বার করল। পাউরুটিতে কামড় দিয়ে, গতকাল বিকেলের লেখা পাতাগুলো বের করল।

লিখে রাখতে হবে… সব লিখে রাখতে হবে মনে থাকতে থাকতে।

স্মরণশক্তি তার যথেষ্ট। তাছাড়া টিকে কেমিক্যাল, মেশিন, ইনস্ট্রুমেন্টগুলোর নাম দেওয়ার পর থেকে সেটা নিয়ে এত রিসার্চ করেছে, যে ওই নামগুলো, তার আলাদা করে মনে করতে হয় না। একটার পর একটা পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে দেখতে থাকে মোটামুটি যা যা মনে ছিল লিখে ফেলেছে কিনা। টিকের বলা কেমিক্যাল বা ইনস্ট্রুমেন্ট আর বাকি তথ্যগুলো নিয়ে সে রিসার্চ করছিল ডার্ক ওয়েবে। খুব ভালোভাবে সমস্ত তথ্য সুরক্ষিত। অন্তত সে তাই ভাবছিল। সব সুরক্ষিত। টিকের সোর্সে পাওয়া ল্যাবেরেটরি আর কারখানায় কাজ করা, যে মানুষগুলোর ইন্টারভিউ নিয়েছে তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় ফোন পর্যন্ত নিয়ে যায়নি… গন্তব্য কাগজে লিখে নিয়ে গেছে। সাধারণ রেকর্ডারে রেকর্ড করেছে। তবে ফোনে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব সংক্ষিপ্ত হলেও কথা হয়েছে।

কোথায় ভুলটা হল? কোথায়?

তার মুখে নিজের অজান্তে ফুটে উঠল হাসি।

পক্ষীরাজকে কি আটকানো যায়?

সে সাবধান থেকেছে সবসময়, কিন্তু গ্যারান্টি দিয়ে কি বলতে পারবে কখনও কোনও ভুল ইমেইল বা মেসেজ খোলেনি? কখন নিঃশব্দে ঘটে গেছে সংক্রমণ? পক্ষীরাজ এসে পৌঁছেছে হয়তো তার নয়, টিকের ফোনে… বা অন্য কারও। সবই তো জড়ানো ওই পক্ষীরাজের জালে। অতীব সূক্ষ্ম, কঠিন, দুর্ভেদ্য। আর ওই জালই তো যে কোনও মুহূর্তে শ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে তা কে না জানে? দুদিন টিকে কোনও যোগাযোগ করেনি। সম্পূর্ণ নিঃশব্দ। দুদিন অপেক্ষা করেছিল সে। দম বন্ধ করে। কোথাও একটা বড়রকমের গন্ডগোল হয়ে গেছে। তিনদিনের মাথায় খুব ভোরে গোছানো ব্যাকপ্যাক নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। অফিস যাওয়ার বদলে বাস স্টেশন। অন্য একটা ফোন তখনও তার কাছে ছিল…

তারপর থেকে কেটে গেছে ছাব্বিশ দিন। এটা তার চতুর্থ ডেরা। তিন নম্বর স্টেট। প্রথম বাড়িটা পাওয়ার ঠিক আগেই একটা এটিএম থেকে বেশি পরিমাণে ক্যাশ তুলে নিয়েছিল। তারপর একদিন রাত্রি তিনটে নাগাদ তার দোতলার জানলা থেকে উল্টোদিকের গলিতে পার্ক করে রাখা গাড়িগুলোর মধ্যে সে দেখে সিগারেটের ফুলকি। সত্যি ছিল, নাকি তার রাতজাগা মনের কষ্টকল্পনা? পরেরদিনই সে ওই বাড়িটা ছাড়ে। তার দ্বিতীয় ফোনটা ফেলে দেয়।

এটা তার তৃতীয় বাসস্থান।

আজকের পৃথিবীতে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কোনও মাধ্যম আর তার কাছে অবশিষ্ট নেই। সে সম্পূর্ণ একা।

নির্বাসিত।

***

 

বেরোতে হবে। একটা রুটিন তৈরি করে ফেলতে হবে। নয়তো সে পাগল হয়ে যাবে। এই কদিন সকালের এই সময়টাতে সে বেরিয়ে পড়ে। বাড়ির সামনের সাইডওয়াক দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলে কয়েকটা বাড়ি, একটু গরীব চেহারার। কয়েকটা ফাঁকা জমি, বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড়, গাছপালা। একটু পরে ডানদিকে একটা জায়গা দিয়ে সিঁড়ি নেমে গেছে ভাঙাচোরা চেহারার, নদীর ধার দিয়ে একটা রাস্তায়। এটা একটা পুরনো মিলটাউন। একটা নদী আছে, কিছুটা দূরে পুরনো ব্যারেজ। রাস্তাটা একটা ছোট জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে।

সেখানে একটা বেঞ্চ। অযত্নের। কেউ আসে না তেমন।

প্রত্যেকদিন দোকানে যাওয়ার বা আসবার পথে সে কিছুক্ষণ হাঁটে। তারপর বেঞ্চে বসে কিছুক্ষণ।

ওখানেই প্রথম দেখে পাখিটাকে। দুদিন আগে। নদীর ওপাশের গাছটাতে বসেছিল। এত সুন্দর একটা নীল রং। গলার কাছে একটা ময়ূরকণ্ঠী আভা। থেমে থেমে একটু ডাকছিল। মনে হয় একটু ভীতু। শিস দিতে পারে সে, ছোটবেলা থেকেই। তার ভাই আরও ভালো। পুরো গান শিস দিয়ে গেয়ে দিতে পারে। ভাইয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছে প্রায় দেড়মাস হয়ে গেল। মার্ সঙ্গেও। কী করছে ওরা? জানার কোনও উপায় নেই। কখন কোথায় কাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অন্ধকার গরাদের পিছনে চালান করে দেবে কে জানে। দিয়েছে কি?

জানার কোনও উপায় নেই।

ভাইটা তার বড় নরম… লাজুকমতো।

আর মা। মাকেও কি…

একটা তরল জ্বালাভরা স্রোত নেমে গেল মাথা থেকে বুকের দিকে।

পাখিটা কই? শিস দেওয়া পাখিটা?

আজ পাখিটা নেই তো; এদিক ওদিক তাকিয়ে খোঁজার চেষ্টা করল সে উল্টোদিকের ঘন পাতার আড়ালে, আতিপাতি করে… আর তখনই কানে এল শিসটা। মাথাটা ঘোরাতেই তার বেশ কাছাকাছি একটি গাছের নীচের দিকের ডালে দেখা যাচ্ছে পাখিটাকে।.

–নীলপাখি আপনার বেশ সাহস বেড়েছে। তাই না? আমাকে চিনতে পারছেন? বন্ধু হবেন?”

পাখিটা লাফাতে লাফাতে কয়েক হাত এগিয়ে এল।

সে শিস দিয়ে উঠল। পাখিটার কী মনে হল কে জানে, সেও ডেকে উঠল। আবার সে শিস দিল। থেমে থেমে। পাখিও। আস্তে আস্তে নরম হয়ে আসছে ঘাড়ের কাছে শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো। একটু একটু করে প্রশান্তি চুইয়ে চুইয়ে ঢুকছে ভেতরে।

পৃথিবীটা কি একটু সহনীয় হয়ে উঠল?

আচ্ছা একটু কফি খেলে কেমন হয়?

***

 

চার দিন কেটে গেছে আরও।

এতদিনে একটা রুটিন হল। অন্তত সকালে।

সন্ধের নিঃসঙ্গতা এখনও ভদকার গ্লাসে শেষ হয়। কিন্তু সকালে দুটো ব্লক পরের ছোট্ট কনভিনিয়েন্ট স্টোর থেকে টুকটাক জিনিস কিনে আর কফি কিনে সে এসে বসে বেঞ্চটাতে। পাখিটা ওপারে থাকলে উড়ে এপারে আসে। এপারে থাকলে আরও কাছে আসে। সে একেক দিন একটু বিস্কুটের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। আবার একেকদিন কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে নীল পাখির সঙ্গে গল্প করে। ভাইয়ের কথা, একসঙ্গে ভিডিওগেম খেলার কথা, তারা দুজনে আইস ফিশিং শিখেছিল মার কাছে থেকে। বরফ হয়ে যাওয়া লেকে বসে আইস ফিশিং, পারে এসে মায়ের  ফ্লাস্কে নিয়ে যাওয়া হট চকোলেট খাওয়া, গাড়ির হিট পুরো চালিয়ে দিয়ে। কখনও কখনও কলেজের কথা। প্রথম চাকরি। তার প্রথম ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট। যে বিপজ্জনক রাস্তায় সে পা রেখেছিল, জানত তো কী বিপদ অপেক্ষা করছে পথের শেষে। তাও কিছু মানুষ ঝুঁকি নেয়।

আজ সকালে উঠে সে স্নান করে তৈরি হয়ে নিল। একটা ছোট্ট আফটারশেভ কিনেছিল আগের দিন, তার গন্ধটা আরও একটু চনমনে করে দিল সকালটা। কাল রাত্রে অনেকখানি লিখেছে সে। রিসার্চ করার উপায় নেই, কম্পিউটার নেই। টাইপ করার উপায় নেই, অনভ্যস্ত হাতে নোটবুকে লিখছে। কিন্তু আগে যা ছিল তার প্রিন্ট আউট আছে তার কাছে— সেগুলো দিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি হয়ে যাবে; তার বন্ধুরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্টটা পাবলিশ করবে বলে অপেক্ষা করছে। যদি সে পাঠাতে না পারে, তবুও লিখে রেখে যাবে।

আজ দোকানে কফির দাম দেওয়ার সময়ে চোখে পড়ল। সানফ্লাওয়ার সিড। তার মুখে একটা হাসি ফুটে উঠল। আজ ছাব্বিশ দিন পর সে নিজে থেকে আর একজন মানুষের দিকে তাকাল। কনভেনিয়েন্ট স্টোরের ক্যাশিয়ার অল্পবয়সি মেয়েটির দিকে। একেই বোধহয় দেখেছে সে বেশিরভাগ দিন। অন্তত গত সপ্তাহ থেকে।

–হ্যাল্লো কেমন আছ তুমি? সুপ্রভাত। কফির দামের সঙ্গে এই সানফ্লাওয়ার সিডের দাম যোগ করে নিও।

মেয়েটার চোখের নীচে কালি। ক্লান্ত নীল চোখ, ভালো করে তাকাল না তার দিকে।

কফির কাপটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে মুখে একটু হাসি এনে বলল—

–দিনটা ভালো কাটুক।

বেঞ্চে বসে প্রথমেই সানফ্লাওয়ার সিডের অর্ধেকটা ছড়িয়ে দিল আশেপাশে। কাছে আসবে তো পাখি? কই সে? ওই তো, কাছের গাছটাতেই…

মাঝখানের ডালে বসে ঘাড় বেঁকিয়ে তার কাণ্ড দেখছে। সকালে মুখে ফুটে ওঠা একটুখানি হাসি এখন নরম আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ল তার পুরো মুখে।

তারপর কফির কাপে একটা দীর্ঘ চুমুক।

তিন নম্বর চুমুকটা দিতে হয়নি, তার আগেই হাত থেকে খসে পড়ে গেল কফির কাপটা। চোখদুটো বিস্ফারিত, মণিগুলো ঠেলে বেরিয়ে আসছে। হাতটা একটু শূন্যে উঠল, খসে পড়ে গেল কফির কাপ, গলার শিরাগুলো ফুলে উঠল। ঠোঁটটা প্রায় বেগুনি হয়ে উঠল, দুপাশে ফেনা…

শরীরটা বেঞ্চ থেকে গড়িয়ে মাটিতে। চোখদুটো সম্পূর্ণ খোলা। ডাল থেকে নীল পাখি নেমে আসে তার খুব কাছে। তার বুকের ওপর। তার সবুজ প্রাণহীন চোখের দিকে নীল পাখির চোখ।

পাখির চোখের পিছনে চোখ— ক্যামেরার চোখ।

ক্যামেরার চোখ দিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে একটা ভিডিও প্যানেলের সামনে বসা একজন মানুষ। অনেক দূরে, একটা নির্জন ঘরে।

কয়েক মিনিট কেটে গেল।

আরও কিছুক্ষণ দেখল দূরের ঘরে বসা মানুষটা তার সামনে ভিডিও স্ক্রিনে, দেখল মৃত্যুটাকে।

তারপর হাত দিয়ে ব্লু টুথের মাইক্রোফোন ঠিক করতে করতে বলে উঠল,

–অপরেশন ব্লু বার্ড ইজ সাকসেসফুল সার। কনভেনিয়েন্ট স্টোর থেকে এজেন্ট ২৩, স্টোর ভিডিও করাপ্ট করে দিয়েছে; যাওয়ার পথে বেঞ্চ থেকে কফি কাপটা সরিয়ে ও আজই এই শহর থেকে বেরিয়ে যাবে। ওভার।

আর একবার দেখল মৃত চোখদুটোর দিকে। পাখির চোখ।

তাকিয়েই রইল।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেলফ ডেস্ট্রাকশন অফ দি ব্লু বার্ড কোডটাকে অ্যাক্টিভেট করতে করতে তার ক্লান্ত স্বর বিড়বিড় করে বলে উঠল—

–মানুষ তো— সেই বিশ্বাস করেই ফেলল।

 

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3909 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. দূদার্ন্ত। মেদহীন সিক্সপ্যাক থ্রিলার। অভিনন্দন দিদি। ভালোবাসা জেনো।

আপনার মতামত...