তারান্তিনো, সিজন দুই — পঁচিশ

প্রিয়ক মিত্র

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

রডরিগেজের চেহারাজুড়ে মাংস আঁটসাঁট হয়ে থাকে। মনে হয়, চেহারাটা এই ফেটে যাবে যাবে। কোটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে বকলস দেওয়া শার্ট, শার্টের ভেতর থেকে ফেটে বেরতে চাইছে প্রবল ভুঁড়ি। চোখে অস্বাভাবিক লাল, টকটক করছে যেন। বহুদিনের ঘুম জমা, সঙ্গে চাপা, ব‍্যর্থ রাগ মিলে গেলে যা হয় আর কী।

সঙ্গে যেটা ঘোরে, সেটা আশ্চর্য কুমিরের মতো। সবসময় কালো পোশাকে মোড়া। চোখে ঘন কালো চশমা। রডরিগেজের দাবি, কোনও বিশেষ উপায়ে নাকি ও তার এই স‍্যাঙাতকে বনশাই করে ফেলেছে। অর্থাৎ, তার বয়স আর বাড়বে না। শাহিদ হেসেছে। সে জানে, এটা নেহাতই গুলগাপ্পি। বড়জোর পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর বয়স হবে লোকটার। কথা খুবই কম বলে। কিন্তু ওই কালো চশমার আড়ালে ওর চোখদুটোতে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটেছে। সেটা চশমার বাইরে থেকে মাঝেমধ্যে বোঝা যায়।

রডরিগেজ ঢুকেই বকবক করতে শুরু করে ওর স্বভাবসিদ্ধ ধমকানো-চমকানোর ভঙ্গিতে। প্রচণ্ড রেগে আছে, বোঝাই যায়। ইংরেজি এবং স্প‍্যানিশ মিশিয়ে বিকট গলায় রডরিগেজ যে অশ্রাব্য কথাগুলো বলে চলে, তার বাংলা করলে এমনটা দাঁড়ায়—

তোমার বন্ধু একটা গবেট, গণ্ডমূর্খ, ভণ্ড শুয়ার। ওর বোঝা উচিত, ওরকম বোকাপাঁঠা পুসি-খোর ক‍্যালানেকার্তিক আমি বহু দেখেছি। চাইলেই ওর কানদুটো কেটে আমার প্রাইভেট মিউজিয়ামে সাজিয়ে রাখতে পারতাম। ও একটা জ‍্যান্ত গনোরিয়া। ওকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারলেও আমার শান্তি হবে না। এত বড় শয়তান, আমাকে অপমান করে! বলে ভিনগ্রহের ব‍্যাপারটা ধাপ্পাবাজি! শোনো, অশৈলী বেজন্মার বাচ্চা, আমি রডরিগেজ, আমাকে ঠকানো সোজা নয়। দরকারে তোমাদের গোটা ল‍্যাবকে মাটিতে মিশিয়ে দেব। আমাকে খোঁজ দিতে হবে ইউএফও-র।

জেদি অবাধ্য ছোটলোক গাধাটাকে কে বোঝাবে, ইউএফও বলে আদতে কিস‍্যু নেই!

মহাকাশের অজানা কোণ থেকে ভেসে আসা সঙ্কেত রিসেপ্টরে ধরা পড়ছে, এমনটা প্রথমে শাহিদও ভেবেছিল। কিন্তু তার ভুল ভাঙল এক রাতে!

শোওয়ার সময় নেড়েচেড়ে দেখছিল সে তার পারিবারিক অভিজ্ঞানকে। স্মৃতি ছাড়া তখনও পর্যন্ত কোনও মূল্য নেই সেই হিরের তার কাছে।

হঠাৎ সে টের পেল, হিরেটার মধ্যে কিছু একটা ঘটছে।

কোনও একটা চিঁ চিঁ আওয়াজ ভেসে আসছে কি?

কানের কাছে হিরেটাকে নিয়ে এল শাহিদ।

তখনই ঘটল ঘটনাটা!

হাত-পা স্তব্ধ হয়ে গেল শাহিদের। একটা তীব্র আওয়াজ ওর কানের পর্দা যেন চৌচির করে দিল নিমেষে। সঙ্গে ওর হাতে থাকা হিরেটা কাঁপতে লাগল তীব্র গতিতে।

শব্দের চেয়েও দ্রুত ওই হিরের ভেতর যাতায়াত করছে কিছু একটা। তার ফলে ওরকম একটা শক ওয়েভ তৈরি হচ্ছে‌। এইটুকু বুঝে গিয়েছিল শাহিদের বিজ্ঞানী মন।

সেদিনই ও বুঝেছিল, কেন ওর মনে হয়েছিল, সঙ্কেত খুব দূর থেকে আসছে না।

মৌলিনাথকে এসব কথা আর বোঝানো হল না। তার আগেই এই গোমুখ‍্যু শয়তানগুলো ওকে তুলে নিয়ে এল।

সরিৎকে সঙ্কেতের কথাটা বলেই বারোটা বাজিয়েছে শাহিদ। তাও ভাল হিরেটার কথা বলেনি। তাহলে ওটা লোপাট করতই এরা।

শাহিদের সেই রাতটার কথা মনে পড়ছে।

সরিৎ সেদিন খুব তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল ল‍্যাব থেকে। ওর হাবভাব কিছুতেই সুবিধের লাগছিল না শাহিদের। কিছু একটা লুকোচ্ছে যে সরিৎ, সেকথা বুঝতে অসুবিধে হয়নি শাহিদের সেদিন।

রডরিগেজের পোষা এই কুমিরটাকে তার আগেও দুদিন দেখেছিল শাহিদ। ল্যাবের উল্টোদিকে একটি গ‍্যাস স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছে, নজর রাখছে। এমন বেহুদার মতো নজরদারি করলে চোখ তো টানবেই।

সরিৎকেও দিনকয়েক খুবই সন্দেহজনক লেগেছিল শাহিদের। সেদিন রাতে সরিৎকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যেতে দেখে, এবং বাইরে একটা রহস্যময় কালো কাচ তোলা লিমুজিন ও তার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালোয় মোড়া গুপ্তচরটিকে দেখে শাহিদ বুঝেছিল, গোলমাল আছে। তাই তড়িঘড়ি সে চিঠিটা লেখে মৌলিনাথকে উদ্দেশ্য করে। আর লুকিয়ে ফেলে হিরেটা, ওই ল‍্যাবের ভেতরেই।

সে জানত, কী ঘটতে চলেছে, ল‍্যাব বন্ধ করে যখন বেরচ্ছে, তখন রাস্তাঘাট শুনশান, গভীর রাত। শুধু লিমুজিনটা দাঁড়িয়ে। ল‍্যাব থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ ঠায় তাকিয়ে থাকে সে, লিমুজিনটার ভেতরের কালো অন্ধকারে। শক্তির যে লাইনটা ওরা আওড়াত খুব এককালে, মনে পড়ে, ‘কালো গাড়ির ভেতর কালো গাড়ি’…

লিমুজিনটাও যেন ওর দিকে তাকিয়ে ছিল, শিকারির মতো, ওঁত পেতে।

শাহিদ আর অপেক্ষা করে না, সোজা এগিয়ে যায়, গিয়ে নিজেই উঠে পড়ে। ওর জন্য দরজা খুলে যায় বিস্মিত। যেন এত সহজে ও নিজেই ধরা দেবে, আশা করেনি ওরা। তাই লিমুজিনের ভেতর বন্দুক তাক করে ছিল দুজন কলম্বিয়ান সিকারিও বা হিটম‍্যান বা ভাড়াটে খুনি।

কালো পোশাক আর কালো চশমায় চোখ ঢাকা লোকটা কথা কম বলে। গাড়ি চালাচ্ছিল ওই-ই। ও ইঙ্গিত করে বাকিদের বন্দুক নামাতে বলল। শাহিদ উঠে বসল গাড়িতে।

গাড়িটা এসে থামল একটা বহুতলের সামনে। বন্দুকধারীরা রয়ে গেল নিচে। লিফট বেয়ে উঠে একটা করিডরে এল শাহিদ আর কালো চশমা। আসলে করিডর ঠিক নয়, একটা বেশ পেল্লায় বৈঠকখানাই বলা চলে, পাশে কাচের দেওয়াল, ওপারে আলোঝলমলে ওয়াশিংটন।

সেই বৈঠকখানার একপাশে একটা স্বয়ংক্রিয় দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে একটা বোতাম টিপল কালো চশমা।

ঘ‍রঘর আওয়াজ করে কাঠের স্লাইডিং দরজাটা খুলল। সোজা দেখা যাচ্ছে একখানা দশাসই রাজকীয় টেবিল, যার ওপারে একটা সিংহাসন-সম কাঠের চেয়ারে বসে বিপুল চেহারার রডরিগেজ।

ঘরে ঢুকে চারপাশটা একঝলক দেখল শাহিদ। একটা বিশাল সেলারভর্তি দামি দামি মদ, একটা প্রয়োজনাতিরিক্ত বড় সোনার গ্লোব, একটা বইয়ের তাক, যেখানে আইনের বই, সেক্স জার্নাল থেকে শুরু করে লাইফস্টাইল ম‍্যাগাজিন— সব রয়েছে! তবে লক্ষণীয়, দুটো তাকজুড়ে মহাকাশবিজ্ঞান সংক্রান্ত অজস্র বইপত্র, একগুচ্ছ স্পেস সায়েন্সের জার্নাল, আবার বুজরুক দানিকেনেরও কয়েকপিস বই রয়েছে সেখানে, লক্ষ করল শাহিদ।

পাইপ কামড়ে উঠে দাঁড়াল রডরিগেজ। একগাল হেসে হাত বাড়াল শাহিদের দিকে।

–হোপ ইউ হ‍্যাভন্ট ফেসড এনি ডিফিকাল্টি কামিং হিয়ার, মিস্টার?

শাহিদের রসিকতা পাচ্ছে তখন।

ও-ও একগাল হেসে হাত মেলাল রডরিগেজের সঙ্গে। বলল— নো স‍্যার, ইওর হিটমেন রিয়েলি অ্যাবস্টেনড দেমসেলভস ফ্রম ফায়ারিং মি।

রডরিগেজ হো হো করে হেসে উঠল।

এরপর যে কথোপকথন হল, তা বাংলায় কতকটা এমন দাঁড়ায়:

রডরিগেজ: তুমি মোটেই এতটা বোকা নও, তোমাকে গুলি করতে যে চাইনি, তা তুমি খুব ভাল করেই জানো। আমার লোকজন ছিল শুধু সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য। তুমি বেগড়বাঁই করলে ওদের তোমাকে সবক শেখাতে হত। (শেষ কথাটা কেটে কেটে বলল রডরিগেজ)

শাহিদ: আমি বেগড়বাঁই করলে তোমার এই কালো চশমা পরা কুকুরটাই যথেষ্ট ছিল আমায় ঢিট করতে। এতগুলো লোক লাগল কেন? এত ভয় পাচ্ছ তুমি আমাকে?

রডরিগেজের ফরসা চোখমুখ লাল হয়ে উঠল মুহূর্তে। ছদ্ম ভদ্রতাটা তখনও বজায় রাখল সে। একটু হেসে বলল—

–বিজ্ঞানীদের কাছে অনেকরকম টোটকা থাকে। আফটার অল, পৃথিবীর সেরা অস্ত্রগুলো ওদেরই আবিষ্কার। তাছাড়া কোথা থেকে হঠাৎ প্রাণঘাতী লেজার আলো বের করবে, কোথা থেকে শক দিয়ে দেবে দুম করে…

শাহিদ এবার হেসে ওঠে হো হো করে।

–তুমি যা বলছ, সেসব বিজ্ঞানের কালোজাদু। আর অস্ত্র আবিষ্কার করা আর চালাতে জানার তো তফাত আছে। না হে, যা দেখছি, তোমার মতো ধনী ক্ষমতাবানরা কমবেশি সকলেই নির্বোধ।

রডরিগেজের চোখ জ্বলে উঠল। কালো চশমার চোখ দেখা যায় না, তবে তার মুখের বাকি অংশ রাগে ফুঁসছে, কোমরে হাত দিয়ে সে লম্বামুখো আগ্নেয়াস্ত্রটা বের করে এনেছে। একটা বিলিতি পিস্তলের মতো দেখতে অস্ত্র, বেশ পুরনো। ওটা দেখে বুঝল শাহিদ, সাধারণ গুলি ওটা থেকে বেরোয় না। একটা লেজার পয়েন্টার জাতীয় বিষয় বন্দুকটার সঙ্গে লাগানো, সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

রডরিগেজ হাত দেখিয়ে নিরস্ত করল লোকটাকে। বন্দুকটা নামাল কালো চশমা।

তারপর দাঁতে দাঁত ঘষে বলল— তোমার এই বেয়াদপিটা সহ‍্য করে নিলাম। তোমাদের ইন্ডিয়ানদের মুখ বড্ড বেশি খোলে যে, সেটা জানি ভালমতোই। কিন্তু তোমাকে আমার এখন লাগবে।

শাহিদ একদম ব‍্যাপারটা বোঝেনি যে, তা নয়। তবু একটু বোকা সেজেই বলল—

–আমাকে? কেন বলো তো!
–কারণটা তুমি ভালই জানো হারামজাদা! ন‍্যাকা সেজো না। ভিনগ্রহের যে সঙ্কেত তুমি পেয়েছ, তার উৎস খুঁজে বের করার কাজে আমি তোমাকে স্পনসর করব। তোমার সঙ্গে আরেকটা ইন্ডিয়ান আছে, সেটাকে বাতিল করো। তুমি যাবে স্পেস স্টেশনে, সমস্ত অবজার্ভেশন আমাকে জানাবে।

শাহিদ নিশ্চিত ভেবেছিল, আরেকটু চালাবে অভিনয়টা। কিন্তু ও এত মজা পাচ্ছিল এই পয়সাওলা গোমুখ‍্যুটার কথা শুনে, কোনও রাখঢাক না করে সেটা ও প্রকাশ করে ফেলল।

–সেই সঙ্কেতের উৎস জেনেই বা তুমি কী করবে?

রডরিগেজ এবার একটু সংযত ও গম্ভীর হল। বলল— দরকার আছে। তুমি ভালয় ভালয় রাজি হবে কি না বলো। নইলে তোমার মতো ত‍্যাঁদড় ইন্ডিয়ানকে কী করে সহব‍ৎ শিক্ষা দিতে হয়, তা আমার খুব ভাল করে জানা আছে।

শাহিদ এতক্ষণ গোটা বিষয়টা সহ‍্য করছিল। এবার ওর গা জ্বলে গেল‍। ওর কাকাকে চেনে এই অশিক্ষিত আমেরিকানটা? নেতাজির ফৌজে লড়ে আসা লোক ওর কাকা। ওর সামনে দাঁড়িয়ে এ ভারতীয়দের গাল পাড়ার সাহস দেখাবে, আর শাহিদ কিছু বলবে না?

শাহিদ এবার কেটে কেটে বলল— জানোয়ার, শোনো! যদি এমন কোনও সঙ্কেত সত্যি পাওয়া যায়, সেটা হবে বিজ্ঞানের সম্পদ‌‌‌। তোমার মতো বেনিয়াদের সেটার ওপর কোনও অধিকার থাকবে না‌। আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখছ তুমি। আমার আর সময় নষ্ট কোরো না। ধরে নিয়ে এসেছ, আমাকে ফেরত নিয়ে যাওয়া তোমারই কর্তব্য। কিন্তু সেই ভদ্রতা আশা করি না। আমি চললাম।

বলেই পিছন ফিরে শাহিদ বেরোতে যাচ্ছিল গটগট করে।

কী ভেবেছিল শাহিদ? এত সোজা হবে?

রডরিগেজকে কিছু বলতে হল না। ওর রাস্তা আটকে দাঁড়াল কালো চশমা, মূর্তিমান শয়তানের মতো।

একটা আলতো চাপ দিল ও শাহিদের কনুইতে।

শাহিদ টের পেল, সেটা একটা ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ।

মুহূর্তে জ্ঞান হারাল শাহিদ।

তারপর থেকে ওর ঠাঁই এই বাঙ্কারে। অখাদ্য খেতে দেওয়া, অকথ্য অত‍্যাচার, সব দাঁতে দাঁত চেপে সহ‍্য করেও মুখ খোলেনি শাহিদ।

মৌলিনাথের কথা বড্ড মনে পড়ে মাঝেমধ্যে। ও কি চিঠিটা থেকে কোনও ইঙ্গিত পেয়েছে? আর হিরেটা, সেটা খুঁজে পাবে তো ও।

কত রাজপথ জনপথ ঘুরেছি
মরুভূমি সাগরের সীমানায়
সাতদিশে পৃথিবীর বিস্ময়
তুমি তারও চেয়ে বেশি মনে হয়…

রাতে ল‍্যাবে হালকা জ‍্যোৎস্নার আলো এসে পড়ছিল। আজ আর বাড়ি যায়নি মৌলিনাথ। মনমেজাজ নিতান্তই খারাপ‌। জানলার ধারে বসে গুনগুন করছিল মৌলিনাথ। ইলা বসুর গান! কী যে প্রিয় ছিল ওর! ওর মনে পড়ছিল কলকাতার কথা, ওর কৈশোর, যৌবন, ওর কমিউনিস্ট পরিবারের কথা…

আর ভাবছিল ওর প্রেমিকা অ্যাঞ্জেলার কথা, বন্ধু শাহিদের কথা।

শাহিদ সত্যি যুদ্ধ করতে গেল? এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না মৌলিনাথের। এমন বোকামি করল কেন ও?

সাতপাঁচ ভাবার মাঝে হঠাৎই আওয়াজটা শুনতে পেল মৌলিনাথ।

ঝনঝন করে একটা আওয়াজ। ক্রমে তীব্রতা বাড়ছিল সেটার।

পাশাপাশি এটাও বুঝতে পারছিল মৌলিনাথ, ঘরে একটা অতিরিক্ত আলো টের পাওয়া যাচ্ছে।

হঠাৎ ওর চোখে পড়ল ল‍্যাবের এককোণে থাকা ঢাউস অ্যাকোয়ারিয়ামের ওপর।

ওই অ্যাকোয়ারিয়ামটায় মাছ আর নেই শাহিদ চলে যাওয়ার দিন থেকেই। একটু খটকা লেগেছিল মৌলিনাথের। কিন্তু সেটা নিয়ে আর মাথা ঘামানো হয়নি এত ঘটনার মাঝে।

ও লক্ষ করল, অ্যাকোয়ারিয়ামের নিচের নুড়িপাথরগুলো থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে আকাশি একটা আলো‌। আর শব্দের উৎসও যেন ওইখানেই। গোটা অ্যাকোয়ারিয়ামটা অসম্ভব কাঁপছে, খেয়াল করল ও।

কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে রইল মৌলিনাথ। তারপরেই ঝনঝনানি তুঙ্গে উঠল।

অ্যাকোয়ারিয়ামটা বিপুল বিস্ফোরণের শব্দে ফেটে চৌচির হল। কাচ, নুড়ি ছিটকে পড়ল চারদিকে অল্প আগুন লেগে গেল পাশের কয়েকটা কাগজে। তৎক্ষণাৎ সেই আগুন নেভাল মৌলিনাথ।

ঘরময় তখন আকাশি আলো।

 

(আবার আগামী সংখ্যায়)

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4046 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...