পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ কেলেঙ্কারি: শেষের শুরু?

নন্দন রায়

 



প্রাক্তন প্রশাসক, প্রাবন্ধিক, লিটল ম্যাগের সঙ্গে যুক্ত

 

 

 

পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্যবিধাতৃ দেবী ‘করুণাময়ী’র করুণায় সল্টলেকের এই বিখ্যাত জংশনটি এখন ‘কেলেঙ্কারি মোড়’ নামে অভিহিত হচ্ছে। কারণ এই মোড়ের কাছেই স্কুল সার্ভিস কমিশন, প্রাইমারি স্কুল বোর্ড প্রভৃতি শিক্ষা বিষয়ক চাকরি বিক্রির কেন্দ্রীয় অফিসগুলি অবস্থিত, যেখান থেকে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের স্কুলের বিভিন্ন পদে নিযুক্তির জন্য নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্টে মামলার জেরে কোটি কোটি টাকার এই ব্যবসার গোপন কথা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। টাকার পাহাড় আবিষ্কৃত হয়েছে। কিছু নেতা-মন্ত্রী-শান্ত্রী এর ফলে এখন জেলের হাওয়া খাচ্ছেন, কেউ বা পলাতক। আর বছরের পর বছর মেধা তালিকায় অপেক্ষমান যাঁরা, তাঁদের অশ্রু ও বেদনার পাহাড় বিদীর্ণ করে বেরিয়ে আসা ক্ষোভ আর ক্রোধ তাঁদের টেনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে রাস্তায় রোদে-জলে পুড়ে-ভিজে বিনিদ্র রজনী পোহাতে। তাঁদের দাবী একটাই— হয় হকের পাওনা ন্যায্য চাকরি অথবা মৃত্যু।

আমাদের বাসস্থানটি এই এলাকার খুবই কাছে। তাই পরিচিত কাউকে আমাদের বাড়ির পথনির্দেশ দেওয়ার সময় আমরা অবধারিতভাবেই এই ‘মোড়’টির উল্লেখ করতাম। আজকাল করি না। এখন ওদিকের পথও মাড়াই না। কারণ চাকরি বিক্রির কেন্দ্রগুলির আশেপাশে ধরণায় বসে আছে রোগা রোগা ছেলে-মেয়েগুলো, রাতের পর রাত জেগে যাদের চোখগুলো রক্তবর্ণ, অনির্দেশ্য ভবিষ্যতের আশা আর আশঙ্কায় যাদের মেরুদণ্ড বেঁকে গিয়েছে। তাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে গেলে নিজেকে কেমন যেন বিবস্ত্র লাগে। এখন বরং ‘নয় নম্বর ট্যাঙ্ক’ ইত্যাদি কিছুটা ঘুরপথে আমাদের বাড়িতে আসার পথের সন্ধান দিই।

 

দুই.

দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পরে ভারতে যে দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক বিপ্লব শুরু হয়েছিল, দক্ষিণপন্থী শক্তিগুলির চক্রান্তের ফলে গোড়া থেকেই তার গতি ছিল শ্লথ। ১৯৬৭ সালের পরে এ রাজ্যে গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ন্যস্ত হল বামপন্থীদের স্কন্ধে। কিন্তু গত শতকের শেষ দশকে যখন নয়া-উদারবাদী কর্মসূচি অনুসরণ করে দেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক ফিনান্স পুঁজির বিচরণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হল, তখন এ রাজ্যে ক্ষমতাসীন বামপন্থীরা এই নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কীভাবে করা যাবে, সেই পথের সন্ধানে বিমূঢ় হয়ে পড়লেন। ঠিক এই প্রদোষকালে হাজির হল তৃণমূল দলটি। কয়েক বছর ইতিউতি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরে ২০০৬ সাল নাগাদ দলটির নেত্রী এক সম্ভাব্য সফল প্রতিবিপ্লব সম্পাদন করার চাবিকাঠি পেয়ে গেলেন।

যে প্রতিবিপ্লবের ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দিদি রাজ্য জয় করলেন, তাতে সঙ্গত করেছিল অতি-বামপন্থী থেকে অতি-দক্ষিণপন্থী হরেক কিসিমের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিসমূহ, যাদের মিলের জায়গা একটাই— যেনতেন প্রকারে বামপন্থীদের শাসনের অবসান ঘটাতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রথমে সিঙ্গুর ও পরে নন্দীগ্রামে শুরু হল ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র লড়াই। সেসব কথা বহুকথিত এবং বহুশ্রুত। বস্তুত, নন্দীগ্রাম-পর্বের পরেই প্রতিবিপ্লবের বিজয় কার্যত সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি সম্পন্ন হল ২০১১ সালের নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে। সুতরাং এই কথা বলা যায় যে বামপন্থীদের ব্যর্থতার ফলেই প্রতিবিপ্লব সফল হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিবিপ্লবের সাফল্য লিবারেল বুর্জোয়াদেরও ব্যর্থতার ফল বটে, কারণ তারাও বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বদ্ধাবস্থা (statis) ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার কোনও পথের সন্ধান দেওয়ার বদলে প্রতিবিপ্লবেরই লেজুড়বৃত্তি করেছে।

নেত্রীর এই বিজয় সফল করার পেছনে এক বৃহৎ ভূমিকা পালন করেছে রাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলি এবং তথাকথিত বামপন্থী বলে পরিচিত বিদ্দ্বজ্জনেরা। এরাই বাংলার মানসজগতে প্রতিবিপ্লবের বৈধতা নির্মাণ করেছিল। এখনও পর্যন্ত বাঙালি-মানস এমন পক্ষাঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে আছে যে গোটা জাতটাই আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে দীন হীন পথের ভিখিরিতে পরিণত হয়েছে। এটাই প্রতিবিপ্লবের জোরের জায়গা।

 

তিন.

তৃণমূল দলের সামাজিক ভিত্তি হচ্ছে সমাজের লুম্পেন অংশ এবং মধ্যবিত্তরা। লুম্পেন কারা? এ বিষয়ে কার্ল মার্কস-এর ‘লুই বোনাপার্টের অষ্টাদশ ব্রুমেয়ার’ রচনাটিতে এক অনবদ্য বিশ্লেষণ রয়েছে:

যাদের জীবিকানির্বাহের উপায় সন্দেহজনক, সেইসব ভগ্নদশা লম্পটদের সঙ্গে, বুর্জোয়াশ্রেণির উচ্ছন্নে যাওয়া ও ভাগ্যান্বেষী আগাছাদের পাশাপাশি ছিল ভবঘুরের দল, জেলফেরত কয়েদি, ঠগ, জুয়াচোর, পকেটমার, ধোঁকাবাজ জুয়ারি, আড়কাঠি, বেশ্যালয়ের মালিক, ভিখারি, সংক্ষেপে ইতস্ততঃ উৎক্ষিপ্ত অনির্দিষ্ট ভাঙন ধরা জনতার সবটা। এর সভ্যরা সকলেই শ্রমরত জাতির খরচে নিজেদের কল্যাণসাধনের প্রয়োজনটা অনুভব করত।

‘বুর্জোয়াশ্রেণির উচ্ছন্নে যাওয়া ভাগ্যান্বেষী’ বলতে মার্কস যাদের বুঝিয়েছেন, আধুনিক পরিভাষায় তাদেরই বলা হয় তোষামুদে পুঁজি (crony capital), যারা হীনতম উপায়ে তোষামদপ্রিয় নেতা-নেত্রীদের উপঢৌকন দিয়ে বিপুল মুনাফা হাসিল করার ফিকির খোঁজে।

বোনাপার্ট [সমঝদার পাঠক এখানে বোনাপার্টের বদলে আমরা যাকে ইঙ্গিত করতে চাইছি, তার নামটা বসিয়ে নিতে পারেন— লেখক] একমাত্র এদের মধ্যেই তাঁর অন্বিষ্ট ব্যক্তিগত স্বার্থের একটি সমষ্টিগত রূপের সন্ধান পেলেন। তিনি সব শ্রেণি থেকে ঝড়তি-পড়তি নোংরা আবর্জনাস্তূপের মধ্যেই প্রত্যক্ষ করলেন সেই শ্রেণি একমাত্র যার ওপরে তিনি শর্তহীনভাবে নির্ভর করতে পারেন।… ঘাগী ধূর্ত এই ব্যক্তিটির দৃষ্টিতে জাতির জীবনের ইতিহাস এবং তার রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ হল ইতরতম অর্থে কৌতুক নাট্য মাত্র, এমন ছদ্মবেশী লীলা যেখানে খুব সচেতনভাবে বেছে নেওয়া সাজ-পোশাক, বক্তৃতা এবং নাটকীয় ভঙ্গিমার কাজ হল শুধু তাঁর নিচতম বদমাইশিকে আড়াল করা।

রাজ্য জয়ের সঙ্গে সঙ্গে হাতে এল রাজকোষের চাবিকাঠি। পদাতিক লুম্পেন বাহিনি এবং তাদের সর্দার মাফিয়ারা , নেত্রী যাদের নিজের হাতে বেছে নিয়েছেন, যখন সেই বিপুল ঐশ্বুর্যের ভাণ্ডার উপলব্ধি করতে পারল, তখন তারা বজ্রনির্ঘোষে সমস্বরে নেত্রীর জয়ধ্বনি করতে লাগল। টাকা সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। কী রাস্তা বানাতে, কী নিমাণে, কী একশো দিনের কাজে ,কী কন্ট্রাক্ট বিতরণে, কী সাইকেল বিতরণে এবং এমনকি চাকরি বিক্রিতেও।

 

চার.

তাই তৃণমূল শাসনের ১১ বছরের ইতিহাস হল নিরবচ্ছিন্ন লুণ্ঠনের ইতিহাস। আজ যখন হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অনুসন্ধানের ফলে এই ব্যাপক লুণ্ঠনের ওপর থেকে আবরণ কিছুটা সরে গিয়েছে, তখন স্বর্গরাজ্যে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। এমন নয় যে এইসব লুঠতরাজ খুবই গোপনে সঙ্ঘটিত হয়েছে। কী চুরি করেনি তৃণমূলের পান্ডারা? বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা চুরির সঙ্গে সঙ্গে অভিনব উপায়ে চুরি হয়েছে গরিবের কাজের মজুরি, আবাস যোজনার বাড়ি, বার্ধক্য ভাতার খুদকুড়ো আর এখন সামনে এসেছে শিক্ষিত, যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছেলে-মেয়েদের চাকরি চুরির দেদার ঘটনা।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে যেসমস্ত বৃহৎ চুরির ঘটনা কেলেঙ্কারির রূপ পেয়েছে, যেমন সারদা-রোজভ্যালি সহ ডজন খানেক চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, নারদ স্টিং অপারেশনে উন্মোচিত নেতা-মন্ত্রীদের ঘুষ কেলেঙ্কারি অথবা ইদানিংকালের নিয়োগ কেলেঙ্কারি, সেগুলি সবই এসেছে বিচারব্যবস্থার সক্রিয়তার ফলেই। সুতরাং মনে হতে পারে একমাত্র বিচারব্যবস্থার সক্রিয়তাই এই রাজ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

বলাবাহুল্য এটি একটি অতি সরল ও ভ্রান্ত ধারণা। ২০১৪-১৫ সালে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি উন্মোচিত হয়েছিল। কয়েক লক্ষ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন, প্রায় একশত প্রতারিত গরিব মানুষ সর্বস্ব খুইয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন, প্রায় এক ডজন নেতা-মন্ত্রী কিছুদিন জেলে ছিলেন এবং বামপন্থীরা নির্বাচনী পরাজয়ের বিমূঢ়তা কাটিয়ে কিছুটা হলেও পথে নেমে কেলেঙ্কারির উৎসমুখ কালীঘাট পর্যন্ত তদন্ত প্রসারিত করার দাবী জানিয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত মানসে এই বিক্ষোভ কোনও ঢেউ তুলতে পারেনি। এবং কে না জানে যে জনসংখ্যার মাত্র ১৫-২০ শতাংশ হলেও এই বাংলায় মধ্যবিত্তরাই জনমতকে চালিত করে। একই জিনিস দেখা যায় যখন এরাজ্যে ঋণগ্রস্ত হয়ে অথবা ফসল মার খাওয়ার কারণে নেত্রীর এক দশকের শাসনে প্রায় হাজার খানেক কৃষিজীবী মানুষ আত্মঘাতী হতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষকের হাহাকার মধ্যবিত্তের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি— তার বিবেক পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছে। যখন রাজ্যে কাজ না পেয়ে গ্রাম উজাড় করে কাজের খোঁজে লক্ষ লক্ষ তরুণ ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয় এবং সেখানে অমানবিক পরিস্থিতিতে দাস-শ্রমিকের মতো দীর্ঘসময় কাজ করে নিজের ও পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে বাধ্য হয়, তখন মধ্যবিত্ত তৃপ্ত ভোজনের পরে উদ্গার তোলে। এখানেই উঠে আসে শ্রেণির প্রসঙ্গ। একমাত্র ব্যাপক সামাজিক আলোড়ন, যা মধ্যবিত্তের নিরুপদ্রব জীবনযাপনকে অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলে দেয়, তখনই কেবল সে জেগে ওঠে। তাই মধ্যবিত্তকে বিপ্লবের ‘দোলাচল-প্রবণ অনির্ভরশীল মিত্র’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

যদি নারদ কেলেঙ্কারির কথা তুলি, যেখানে নেতা-মন্ত্রীদের হাত পেতে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, সেখানে মনে হয় গত তিন দশকের নয়া উদারবাদের নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন ঘুষ নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডকে এমন প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দিয়ে ফেলেছে যে এটা যে অপরাধ সেই কথা সমাজ ভুলে গিয়েছে। আসলে বিচারব্যবস্থা যতই সক্রিয়তা দেখাক না কেন, এটা হচ্ছে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার উপরিকাঠামো মাত্র। বুর্জোয়া-স্বার্থের দাগিয়ে দেওয়া গণ্ডিকে অতিক্রম করার সাধ্য তার নেই। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে একমাত্র ব্যাপক গণ-আন্দোলনই। পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, তাই যদি হয়, তবে নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে এত হইচই কেন? এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই আমরা অবশেষে এই নিবন্ধের উপসংহারে উপনীত হচ্ছি।

 

পাঁচ.

২০ অক্টোবর মধ্যরাতে করুণাময়ী মোড়ের কাছে অনশনরত মেধাতালিকাভুক্ত চাকরি-প্রার্থীদের ধর্ণা-অবস্থানে উর্দিধারী গুন্ডারা যখন ঝাঁপিয়ে পড়ল চোদ্দতলার অঙ্গুলিহেলনে, তখনই বোঝা গিয়েছে উৎসবের খুশি খুশি মরশুমের অকাল পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে এক প্রবল ঝড় আসতে চলেছে— গত ১১ বছরের দুঃশাসনে সম্ভবত এই প্রথম এত বিরাট আকারে। অগ্নিমূল্য বাজার, নিরন্ন গ্রামবাংলায় কাজের হাহাকার, তদুপরি মধ্যবিত্তের নিজের ঘরের শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবার তাদের চামড়াতেও টান ধরিয়েছে। এ টান এমন মর্মভেদী যে সংবাদমাধ্যমও ‘দেবী বন্দনা’ স্থগিত রেখে কিছু অপ্রিয় বাক্যে শিরোনাম সাজাতে বাধ্য হয়েছে। ছাত্র নেতা আনিস খানের হত্যার এবং যাবতীয় অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে ইনসাফ চাইতে আসা গ্রাম-শহরের যৌবন যেমন মাত্র কিছুদিন আগেই ধর্মতলা চত্বর ভাসিয়ে দিয়েছিল, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তারা ঘরে ফিরে যায়নি। আরও একবার বহুবার তারা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের পোলিং বুথ পর্যন্ত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের তীব্র আওয়াজ তুলতে তৈরি হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বামপন্থায় নিবেদিতপ্রাণ যেসব অকুতোভয় তরুণ তরুণীরা উর্দিধারী ও উর্দিহীন গুন্ডাদের আক্রমণের মুখে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন যে এ বড় কঠিন লড়াই যেটা ২০২৩, ২০২৪ বা ২০২৫-এ শেষ হওয়ার নয়। গোটা পৃথিবীর কর্ণধাররা তাঁদের বিরুদ্ধে, গোটা দেশ তথা রাজ্যও।

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5413 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

4 Comments

  1. এই নীতিহীন দুঃশাসন যত দীর্ঘায়িত হবে, এই রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা ততই সুদূরপরাহত হবে। গণ-অভ্যুত্থান ছাড়া পরিত্রাণ কোথায়?

    • এই দু:শাসন এক ভয়ংক প্রতিবিপ্লব থে উতক্ষিপ্ত হয়েছে। অনুকুল জাতীয় ও আন্ত্ররজাতিক পরিস্থিতিতে তা আরও বৈধতা পেয়েছে। এর স্বাভাবিক পরিণতি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া। কারণ ফ্যাসিবাদ হচ্ছে সেই প্রতি বিপ্লবেরই সন্তান।তৃণমুলী দু;শাসনকে বামপন্থীরা যদি পরাজিত করতে পারে তবে তা হবে স্রোতের বিরুদ্ধে যাওয়া। নিবন্ধের শেষে এত কথা না বলেও আমি সেই আশংকাই প্রকাশ করেছি।

  2. ধন্যবাদ নন্দন রায়। এমন একটি জোরালো,রাখঢাকহীন প্রবন্ধ উপহার দেবার জন্য।
    হীরক সেনগুপ্ত

    • ধন্যবাদ। রাখঢাকের দিন শেষ। এখন চোখে চোখ রেখে কথা বলার সময়, কেন এমন হল সেটা গভীর ভাবে বিশ্লেষণের সময়।

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.