পৌলমী গুহ

পৌলমী গুহ | তিনটি কবিতা

তিনটি কবিতা

 

ব্যর্থ মানুষ যাদের জায়গা হয় না

১.

আমাদের চমৎকার ভেঙে পড়ে থাকে,
বড় চমৎকার লাগে।
গায়ে মাংসের তুলতুলে নরম আর
সারি সারি পাখনার ধড়ফড়
সব ধড়ফড় বন্দিশে মৃতদেহের ছোঁয়া।
আমাদের পতাকা নেই।
আমাদের পতাকা নেই।
পতাকার জায়গায় গহ্বর লিখে দিই?
মিছিলে হাঁটি না।
মিছিলে হাঁটি না।
জনগণ মিছিলে মাছি তাড়ায় আর
সার সার পতাকা কোটরাগত চোখ।
আমাদের দুঃখের সানাইয়ে স্রেফ কান্না
আর খবরে থাকে গতরাতে কেউ ফের
পিষে দিয়ে গেছে।
ধর্ম অথবা রাজনীতি অথবা দুটোতেই।

 

২.

রাতদিন পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়।
অদৃশ্য কাঁটাতার ঘিরে থাকে।
রমণে, স্বপনে, শয়নেও অদৃশ্য কাঁটাতার।

আমাদের মাংসের দাম ওঠে বাজারে।
চড়া দামে মাংস বেচে যারা,
খবরে ছয়লাপ হয় তাদের অতুলনীয় গাথা।

আমাদের মাংসগুলো পড়ে থাকে ভাগাড়ে।

 

৩.

আপাতত চুপ করে থাকি।
প্রতিবাদ পাশবালিশ আঁকড়ে ঘুমোয়।
আপাতত কবিতা স্থগিত।
প্রতিবাদ তেল মেখে স্নান করে।
আপাতত গুলি-বোমা নিত্য।
প্রতিবাদ ইলিশ কেনে বাজারে।
তারপর ফ্লাইওভার ধরে ফিরে আসে,
উইকেন্ডে ছুটি কাটাতে যায় বোলপুর।
গ্লাসে গ্লাসে ঠান্ডা হয় প্রতিবাদ।
কাল হবে। হয়তো।
আপাতত হিংসেয় বাঁচি।
পরে… আরও পরের অপেক্ষায়…

 

অমৃতের বরপুত্রেরা

আজকাল ভয়ে থাকে লোকে
পাছে তিল থেকে তাল হয়!
পাছে ধড় থেকে নেমে যায় গলা!

তাই মন্ত্র পড়ো জোরে।
শাঁখে ফুঁ পাড়ো জোরে আরও জোরে।

এত জোরে যে ঈশ্বরের আসন কেঁপে ওঠে
আর ভগবান নেমে আসেন মাটিতে।

 

অপরাধ নয়

১.

না না বেঁচে থাকায় অপরাধ পাইনি আমরা।
পেয়েছি সর্বনাশে।
মহা-আঁধারে আছাড় খেয়েও কবিতা লিখেছি,
গান গেয়ে ছবি এঁকে উড়িয়েছি ধ্বজা।
আদালতে ডিক্রি জারি করে প্রমাণ দিয়েছি,
এই বেশ ভাল আছি!
মর্গে যাওয়ার রাস্তায় ফুল ছিটিয়ে রেখেছি।
প্রতিবেশীর ধার শোধ করেছি দ্রুত।

তবু বারো হাত কাপড়ের তেরো হাত কাছাখানা,
খুলে দেওয়ার সাহস ছিল না।

 

২.

  • (প্রতিবাদ লেখার আগেই কলমের কালি ফুরিয়ে গেছিল।)

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4506 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...