ফর্মেশনের হালহকিকত: আধুনিক ফুটবলের অন্দরমহল

ফর্মেশনের হালহকিকত: আধুনিক ফুটবলের অন্দরমহল | শৌভিক চক্রবর্তী

শৌভিক চক্রবর্তী

 



ক্রীড়াপ্রেমী, গদ্যকার

 

 

 

যত দিন এগিয়েছে, ফর্মেশন অনুযায়ী ফুটবলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তবে সবকিছুর মধ্যে দুটো ছক, ৪-১-৪-১ এবং ৩-৩-১-৩, এক অসাধারণ ট্রান্সফর্ম ফর্ম, যা আধুনিক কোচেদের মতে ফুটবলের টু অফ দি গ্রেটেস্ট ফর্মেশনস

 

দলগত খেলা আর ইন্ডিভিজুয়ালিটির মধ্যে ফারাক বিস্তর। ফর্মেশনের বাড়বাড়ন্তের যুগে রোনাল্ডিনহোর চার ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে বাঁক খেয়ে বেরিয়ে যাওয়া সুদৃশ্য হলেও, সেটা উত্তরাধুনিক যুগের ফুটবল কোচ, তথাকথিত ইওরোপীয় কোচেরা ঠিক চান না। তাই যত দিন এগিয়েছে, ফর্মেশন অনুযায়ী ফুটবলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। হারবার্ট চ্যাপম্যানের বৈপ্লবিক ২-৩-৫ ফর্মেশনকে মাথায় রেখে গুস্তাভ সেবেচ ওই একই ‘WM’ ছকে খেলিয়ে যে অপ্রতিরোধ্য হাঙ্গেরিকে প্রায় চ্যাম্পিয়ন করে দিচ্ছিলেন, তা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে আজকের ফুটবল। ধীরে ধীরে ছাপ ফেলেছে বিবিধ ফর্মেশন, যেমন ৪-২-৩-১, ৪-৪-২, ৩-৩-১-৩, ২-৩-৩-২, ৩-২-৩-২, ৩-৩-২-২, ৩-৪-৩, ৩-৫-২, ৪-৩-২-১, ৪-১-৪-১, ৪-৫-১, ৪-৩-৩, ৪-২-১-৩, ৪-২-৪, ৪-২-২-২, ৫-৩-১-১, ৫-৩-২, ৫-৪-১, ৫-১-২-১ এরকম। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ২০০৩-২০০৮ অবধি কার্লো আন্সেলোত্তির ৪-৩-২-১-এর ক্রিসমাস ফর্মেশন। যাকে সম্বল করে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে দুবার জিতেছেন তিনি। রিসেন্ট রিয়াল মাদ্রিদেও ২০২১-২২ সিজন এবং চলতি সিজনে তিনি খেলাচ্ছেন ৪-২-৩-১ ফর্মে। এবং বিশ্বের অধিকাংশ কোচই এই ফর্ম মেনেই খেলছেন। যেমন ২০২২-২৩-এর শুরু থেকে দুরন্ত ফর্মে থাকা আর্সেনাল অনেক বছর ধরে (মিকেল আর্তেতা কোচ হওয়ার পর থেকেই) এই ফর্মে খেলছে এবং এই মুহূর্তে দুর্দান্ত স্টার্টিং যাদের। কিন্তু মার্সেলো বিয়েলসা খেলাতেন ৩-৩-১-৩। ট্রানজিশনের সময়ে যেটা হয়ে যেত কখনও ৪-২-৩-১, কখনও ৩-৪-৩। এর কারণ স্পেসের ব্যবহার, মাল্টিফাংশানালিটির আদত ইউজ। লিডস ইউনাইটেডে এই ব্যবহার ফল দিয়েছিল অসাধারণ। বহু বছর পর লিডস প্রিমিয়ার লিগের মূলপর্বে চান্স পায়। আসলে মার্সেলো বিয়েলসা— এই মানুষটিকে নিয়ে আধুনিক ফুটবলে কৌতূহলের শেষ নেই। পেপ গুয়ার্দিওলার কথা অনুযায়ী— “If you want to learn football coaching, stay in Argentina for at least one year.” আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন এই মানুষটির কাছে যাও, গিয়ে শেখো। বিয়েলসাকে বলা হয় কোচেদের কোচ। কোথাও গিয়ে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন লোকটা। মানসিকতায়, টেকনিকে, চিন্তাধারায়। শেষতম ক্লাব লিডস ইউনাইটেড। এরপর শূন্যতা। ইদানিং হাওয়ায় ভাসছে বিয়েলসা কোচ হতে পারেন উরুগুয়ে ন্যাশনাল ফুটবল টিমের। যেখানে লোকটার এক গুরু কোচ ছিলেন বহুদিন ধরে। অস্কার তাবারেজের পর উরুগুয়ে ফুটবলে সাফল্য বলতে কিছুই নেই। কোপা আমেরিকা থেকে জঘন্য বিদায়ের পর একপ্রকার চাপা পড়ে গেছে বিশ্বে তাদের ফুটবল। তাই উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন মনে করছে, সেই খাদ থেকে টেনে তুলতে যদি কেউ পারেন, মার্সেলো বিয়েলসাই পারবেন।

এইসবের মধ্যে দুটো ছক নিয়ে একটু কথা বলি। সেটা হল ৪-১-৪-১ এবং ৩-৩-১-৩। আদতে এই ফর্মেশন দুটোই অসাধারণ ট্রান্সফর্ম ফর্ম, যা আধুনিক কোচেদের মতে ফুটবলের টু অফ দি গ্রেটেস্ট ফর্মেশনস। ইদানিং পেপ গুয়ার্দিওলা ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে কয়েকটা ম্যাচে স্টার্ট করিয়েছেন এই ফর্মে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? সেটারই একটু উত্তর খোঁজার তাগিদ। প্রথমে ৪-১-৪-১ এর উপর কিছুটা আলো ফেলার চেষ্টা করা যাক।

৪-১-৪-১ আদতে একটা অ্যাটাকিং ফর্মেশন, যেখানে স্পেসের একটা বড় ভূমিকা থাকে। উত্তরাধুনিক ফুটবলে যার ব্যবহার ইতোমধ্যেই প্রবাদে পরিণত। চারটে ব্যাক, যার মধ্যে দুটো সেন্টারব্যাক সহ দুই ফুলব্যাক। ডিফেন্সিভ আর মিডফিল্ড লাইনের মাঝে একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের বাস। তার সামনে দুজন বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার, দুধারে দুই উইঙ্গার এবং সামনে একজন স্ট্রাইকার বা ফুটবলের পরিভাষায় ‘নাম্বার ৯’। এই ফর্মেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যে প্লেয়ারের, সে হল ৬ নম্বর পজিশনে খেলা একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডিও। দলের আক্রমণের সময় যার কাজ হোল্ডিং, দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা ৭ এবং ১১-কে (উইঙ্গার) সুবিধেমতো লং বলে চালনা করা, অথবা সে সুযোগ না থাকলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অনেকটা হাইলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মিডফিল্ডার ৮ এবং ১০-কে (বক্স -টু-বক্স মিড) বল সাপ্লাই করা। সঙ্গে নিচ থেকে দুই ফুলব্যাক (২ ও ৩) ওভারল্যাপে উঠে এসে দুধারে ছড়িয়ে থাকা উইঙ্গারদের সঙ্গে জয়েন করে তৈরি করবে ত্রিভুজ, যার জন্য ৮ ও ১০ পেয়ে যাবে একটু হাফস্পেস। এবার তার মধ্যে ঢুকে ফাইনাল থার্ডে স্ট্রাইকারকে করবে ফাইনাল পাস!

ওপর থেকে দেখলে এর চেয়ে সুবিধেজনক কাজ আর হয় না। কিন্তু একটু তলিয়ে ভাবলে, বিস্তর ঝুঁকিপূর্ণ ফর্ম। ফুটবল তো একটা দল খেলতে আসেনি, মাঠের উল্টোদিকেও ১১টা যোদ্ধা দাঁড়িয়ে। সুতরাং ওই হার্ডল টপকানোর সলিউশন কোথায়? আবার উত্তরের খোঁজ!

৪-৪-২ ফর্মে চার ব্যাক আর চার মিডের মাঝের গ্যাপলাইনে অনেকটা ফাঁকা স্পেস তৈরি হয়। বিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাকের সময় ঠিকঠাক টাইমে ট্র্যাক ব্যাক না করলে সমূহ বিপদের আশঙ্কা, তাই ৪-১-৪-১ করে দিলে উপরে সেকেন্ড স্ট্রাইকারের পরিবর্তে নিচে একটা অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ মিডিও চলে আসায় ৪-৪-২ এর ফাঁকা জায়গা ভরাট হয়। এর দুটো উপকারিতা আছে। এক, হোল্ডিং সিডিএম থাকলে উপরের ৮ আর ১০ একটু দুধারে সরে ইনভার্টেড উইঙ্গারদের জায়গা দিতে পারে, যাতে কোনও অবস্থাতেই সাপ্লাই লাইন বন্ধ না হয়। দুই, আক্রমণের সময় ৪-৩-৩ হয়ে গেলে মাঝে প্রচুর পাস খেলার সুযোগ থাকে, বল হারানোর খুব একটা ভয় থাকে না এবং ফাইনাল থার্ডে হোল খুঁজে চকিতে গোলে শট নেওয়ার সুযোগ থাকে। যে কাজটা গত কয়েক বছর ধরেই পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যাঞ্চেস্টার সিটি করে আসছে। ডিফেন্সিভ মিডিওর কাজ যদিও আরও অনেক। গেম বিল্ড আপের সময় কিছুটা নিচে নেমে দুই সেন্টারব্যাককে দুধারে ছড়িয়ে দিয়ে একটা বড় জায়গা তৈরি করা, যাতে প্রতিপক্ষের প্রেসিং বন্ধ হয়, আবার ডিফেন্ডিংয়ের সময় একদম মাঝে ঢুকে প্রতিপক্ষের সেন্টার ফরোয়ার্ডকে সরাসরি ম্যান মার্ক করে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়াতেও সিডিএমের ভূমিকা থাকবে। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির রদ্রি, রিয়াল/ম্যান ইউনাইটেডে কাসেমিরো কিংবা আগেও পির্লো, বুস্কেটসকে দেখা গেছে এই কাজ করতে। কিন্তু এই ফর্মে কাজ আরেকটু কঠিন। নিজের পজিশনে একা হওয়াতে তাকে শুধু বল ইন্টারসেপ্ট করলেই হবে না, রীতিমতো ট্যাকলে স্ট্রং এবং পাসিং এবিলিটি জোরদার হতে হবে। অর্থাৎ এই ফর্মেশনের সবটাই নির্ভর করছে ৬ নম্বর পজিশনের ফুটবলারের উপর। সে হড়কালেই, খেলার মা গঙ্গা!

শুধু তাই নয়, এই ফর্মেশনে ২ সেন্টারব্যাককে বল পায়ে শক্তিশালী হতে হবে। সেন্টার হাফে প্রতিপক্ষের বাড়তি খেলোয়াড়ের কাছে বিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সাধারণত সেন্টারব্যাকরা নিজেরা বল নিয়ে সামনে না টেনে বরং ফাইনাল থার্ডে লং বল বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।

দুই ফুলব্যাকের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেন্টারপিচে নিউমেরিক্যাল সুপিরিওরিটি না পাওয়ায় প্রতিপক্ষের প্রেসিংয়ের সামনে সাধারণত ফুলব্যাকরাই ডিফেন্স থেকে অ্যাটাকে বল এগিয়ে নেওয়ার কাজ করে, অথবা ফাইনাল থার্ডে লং বল বাড়ানোর চেষ্টা করে। আক্রমণের সময় দুই ফুলব্যাক ওভারল্যাপ করে ফাইনাল থার্ডে ত্রিভুজ তৈরি করে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে। ৪-৩-৩ ফর্মেশনের সঙ্গে এই ফর্মেশনের মূল পার্থক্য হচ্ছে মিডফিল্ডারদের খেলায়। ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দুটো মিডফিল্ডার মিডফিল্ডের আশেপাশে অবস্থান করে মিডফিল্ডে  নিউমেরিক্যাল সুপিরিওরিটি বজায় রাখে। কিন্তু সেটাই পাল্টে যায় ৪-১-৪-১ ফর্মেশনে। এখানে দুই বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার সাধারণভাবে মিডে থাকে না, বদলে প্রতিপক্ষ বক্সের আশেপাশে থেকে বক্সের বাইরে ওভারলোড তৈরি করে ডিফেন্স থেকে উড়ে আসা লং বলটা‌ নিয়ে অ্যাটাকের চেষ্টা করে।

অর্থাৎ, দিস ফর্মেশন ইজ প্লেয়িং বাই উইং, অর নাথিং এলস।

বিল্ডআপের সময় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দুই সেন্টারব্যাকের মাঝে নেমে তাদের দুপাশে আরও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়। ফলে দুই ফুলব্যাক উপরে উঠে আক্রমণে সাহায্য করার সুযোগ পায়। দুটো বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার যতটা সম্ভব প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি চলে যায়, ফলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের পজিশনের উপর ভিত্তি করে দলের ফর্মেশনে ট্রানজিশন আসে, ফর্ম শিফট হয় ৩-২-৩-২ বা ২-৩-৩-২ এ। এবারে, সেন্টার এরিয়া দিয়ে আক্রমণে যাওয়া কিছুটা কঠিন, তাই আগেই বলা আছে যে এই ফর্মেশনে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় উইং এরিয়ায় একটা ছোট ট্রায়াঙ্গেল বানিয়ে সেখান থেকে দ্রুত ওয়ান-টু পাসের মাধ্যমে আক্রমণ সৃষ্টি করতে। ইদানিংয়ে যেটা করতে আমরা দেখছি ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, বার্সেলোনাকে। এসময় দুই ফুলব্যাক ওভারল্যাপ করে উপরে উঠে আসে। দুই সেন্টারব্যাক অথবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ডিফেন্সিভ থার্ড থেকে উইং বরাবর লং বল দিতে থাকে। তখন উইঙ্গার টাচলাইন ধরে পজিশন নেয়, ফুলব্যাকের সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে, অথবা টাচলাইন থেকে হাফস্পেস ধরে রান নেওয়া মিডফিল্ডার বরাবর একটা লো ক্রস করে।

আর, ডিফেন্ডিংয়ের সময় যদি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার যদি ঠিক টাইমমতো ট্র্যাকব্যাক করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে সেন্টারব্যাক তার ডিফেন্সিভ ফানেল থেকে বেরিয়ে উইঙ্গারের ডজকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, যাতে ইনসাইড কাট করে উইঙ্গার ভিতরে চলে না আসে। তখন ডিফেন্সিভ ফানেলের (ডিফেন্সিভ ফানেল হচ্ছে গোলপোস্টের মাঝখান থেকে দুপাশে কোণ করে একটা কাল্পনিক লাইন থাকে, যেটা মাঝমাঠের সাইডলাইন পর্যন্ত যায়। ডিফেন্সের সময় ডিফেন্ডাররা ডিফেন্সিভ ফানেলের মধ্যে থেকে অপোনেন্টের অ্যাটাক থামাবার চেষ্টা করে)। এবার ভেতরে যে স্পেস ক্রিয়েট হয় সেটা কভার করার জন্য ফুলব্যাক দ্রুত নিচে নেমে এসে সেন্টারব্যাকের পজিশনে চলে আসে। অর্থাৎ একটা জিনিস ক্লিয়ার— অ্যাটাক এবং ডিফেন্স, দুক্ষেত্রেই কার্যকর এই ৪-১-৪-১ ফর্ম।

৪-১-৪-১

আধুনিক ফুটবল যত এগিয়েছে, দু ধরনের ফুটবল বিশ্বে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক, ধীর গতির বিল্ড আপ গেম এবং দুই, দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর গেম। খেয়াল করলে দেখা যাবে, ৪-১-৪-১ ফর্মেশন দু ধরনের খেলার জন্যই আইডিয়াল। যদিও যে কোনও ফর্মেশনকে বেস্ট বলার আগে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয়, কারণ প্রত্যেক কোচের আলাদা দর্শন, আলাদা ভাবনা, চিন্তাধারা। যেমন এখনকার অস্ট্রিয়ান কোচ র‌্যাফ র‌্যাংগ্নিক গেগান প্রেসিংয়ের ধারাকে সঙ্গী করে খেলাতেন ৪-২-২-২ ফর্মেশনে। প্রাক্তন চেলসি কোচ টুখেল খেলাতেন ৩-৪-৩-এ। কিন্তু ঠিকঠাক পজিশনে যদি অসাধারণ অসাধারণ খেলোয়াড় হাতে থেকে থাকে, তবে এর চেয়ে ভাল ফর্মেশন আর হতেই পারে না। বায়ার্নে জাভি মার্টিনেজ, বার্সেলোনায় বুস্কেটস বা রিয়াল মাদ্রিদে কাসেমিরো— তিনজনের পিক ফর্মই বলছে এ গল্প। আর দিন দিন কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর খেলার ধরনের যে হারে চাহিদা বেড়ে চলছে, তাতে এই ফর্মেশন যে আরও অনেক ব্যবহার হবে ভবিষ্যতে— এটা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু এর একটু অন্য দিকটা নিয়েও আলোচনায় আসা যাক। বিয়েলসা অন্য ধারার কোচ। বলা উচিত অন্য ধারার প্রবর্তক কোচ। লিডসে ৪-১-৪-১-এ খেলালেও যাঁর আসল পছন্দের ফর্মেশন ৩-৩-১-৩। লিডসে থাকাকালীন এই ফর্মেশনে খেলিয়েওছেন বেশ কিছু ম্যাচ। তবে ৪-১-৪-১-এর সমস্যা হল, শুরু করে এই ফর্মেশনে টানা নব্বই মিনিট খেলা কার্যত অসম্ভব। বিশেষ করে একটা দুর্ধর্ষ মাপের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না থাকলে ডুবতে হবে গোটা টিমকেই। এবার, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তো সবাই একরকম হন না, অনেকে অনেকরকম হন। ২০০০-পরবর্তী আধুনিক ফুটবলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা অনেক বেশি সুপিরিয়র। যেমন কাসেমিরোকে দেখা যায় ট্যাকলে, ইন্টারসেপশনে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। তুলনায় সের্জিও বুস্কেটস, এবং তার কিছু আগে আন্দ্রে পির্লো খেলা তৈরিতে এক্সপার্ট সিডিএম। এনগোলো কন্তেও সিডিএম হিসেবে চমৎকার হোল্ডার, পাসিং এবিলিটিও খুব খারাপ নয় কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খেলা ছড়াতে পারেন না। ক্লদিও ম্যাকালেলের নাম আসবে এই আলোচনায়। মানে, মোদ্দা কথা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা সবাই একরকম হন না, কিন্তু ৪-১-৪-১ এমন একটা ফর্মেশন যেখানে একটা সিডিএম কন্টিনিউ বল হোল্ড করে দুটো উইংয়ে লম্বা পাস খেলবে এবং একইরকম এবিলিটিতে ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচারকেও মেন্টেন করবে। এবং সেটা করবে টানা নব্বই মিনিট ধরে— এটা তো ইউটোপিয়া ছাড়া আর কিছু নয়, তাই না!

সেই জন্যেই, বিয়েলসা মন দিয়েছিলেন তার থেকে একটু সরে এসে তিন ব্যাক সিস্টেমে। যেখানে ফাস্ট ফুটবল থাকলেও, সিডিএমের ওপর ততটা ভরসা করতে হচ্ছে না। ভাল মানের সিডিএম, যে হোল্ড করে সামনের দশ নম্বরকে নিচে নামিয়ে বক্সে একটা ফানেল করে ডিফেন্ডারকে কাছে টানবে, ফলে দুটো উইংয়ে কিছুটা স্পেস ওপেন হবে। এটা করার জন্য নিয়মিত ট্রানজিশন জরুরি, কেউ ছোটা থামাতে পারবে না। কিন্তু ৩-৩-১-৩ আসলেই কি তাই? এর উপরে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।

মার্সেলো বিয়েলসা

প্রথমে দেখা যাক, ৩-৩-১-৩ ফর্মেশনটা প্রাথমিকভাবে কী কী ডিমান্ড করে:

  • ৩টে ব্যাক। যাদের ডি-বক্স থেকে সেন্টার সার্কেল পর্যন্ত খুব দ্রুত ট্রানজিশন হবে, তাতে একে অপরের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং বজায় থাকবে।
  • এই তিনটে ব্যাকের সামনে একটা সিডিএম থাকবে, যে ডিফেন্স লাইনের সামনের ওপেন স্পেসটায় ঘুরে বেড়াবে।
  • দুটো উইংব্যাক। যারা প্রায় উড়ে বেড়াবে গোটা টাচলাইন ধরে। স্পিড এবিলিটি প্রায় যন্ত্রের মতো হবে অর্থাৎ একটা সার্টেন সময়ে আক্রমণে উঠে যদি বল হারায়, ডিফেন্সিভ ফানেলে নেমে আসতে হবে খুব দ্রুত (সাইডব্যাক নয়, উইংব্যাক)।
  • ওয়াইডে ছড়িয়ে থাকবে দুজন উইঙ্গার। যারা কানেক্টর হিসেবে থাকবে দুটো উইংব্যাকের সঙ্গে, যে ফাঁকটায় অ্যাটাকের সময় ঢুকবে একজন সিডিএম ও একজন সেন্টার ব্যাক (১০ এবং ৮ পজিশন) এবং কিছুটা ফ্রি স্পেস পাবে একটা সেন্টার ফরোয়ার্ড। যে মাঝে মাঝেই অপোনেন্টের দুজন সেন্টার ব্যাককে নিয়ে নেমে আসে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে স্পেস খুলতে সাহায্য করবে।

বোঝাই যাচ্ছে, হেভি ডিমান্ডিংয়ের এই ফর্মেশনে খেলাটা আসলে লুকিয়ে আছে চারটে প্লেয়ারের মধ্যে এবং দুটো উইংয়ে। অর্থাৎ, উইং ট্রানজিশন ভাল না হলে এই ফর্মেশনে বিসর্জনের ঘণ্টা বাজবে। এখানে কোন সিডিএম সবচেয়ে ভাল মানাবে? যে কাসেমিরোর মতো হবে। কিংবা এনগোলো কন্তে, জেনারো গাত্তুসো। যার কাজ অপোনেন্টের ১০ নম্বরের গায়ে সেঁটে থাকা, ফ্রি স্পেস খুলতে না দেওয়া। এইখানেই বিয়েলসা খেলেছিলেন একটা চমক। ৩-৩-১-৩-এর ডিফেন্সের দিকটা আগে দেখা যাক তাহলে।

৩-৩-১-৩ অনেক বেশিরকমের ফাস্ট ফুটবল দাবি করে। ধরা যাক, ৮ নম্বর পোজিশন থেকে বলটা নিয়ে এগোচ্ছে একজন সিডিএম। তিনি বল হারালেন, কিংবা পাস ইন্টারসেপ্ট হল— মানে কিছু করে তিনি বলটা জমা করেছেন অপোনেন্টের পায়ে। এবার? সিডিএম জমে যাবেন এতক্ষণ একটু নিচ থেকে অপারেট করা অপোনেন্টের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের গায়ে। একজন উইঙ্গার জয়েন করবেন তাকে, এবং উইংব্যাকদের একজন এসে জয়েন করবে ডিফেন্সিভ স্পেসে। ফলে ফর্মেশন কী দাঁড়াবে? ৪-২-২-২। ওয়াইড স্পেসে মুভ করা একজন ফ্রি মিডের পাসিং লাইন আটকানোর জন্যই দুটো ফ্রি স্পেসে দুটো প্লেয়ার জয়েন করবে। ফলে, অপোনেন্টের অ্যাটাকিং স্ট্রাকচার যেভাবে ব্যবহার হচ্ছিল, সেই চ্যানেলে ঘাটতি ধরবে। এবং সঙ্গে জারি থাকছে নিরন্তর প্রেসিং, এই ফর্মেশনে বল হারালে দাবি থাকছে কিছু করে আগে বলের দখল নেওয়া। অর্থাৎ ‘I play and I move’ স্ট্রাকচার থেকে সোজা ট্রানজিট করা হয়েছে গেগানপ্রেসিংয়ে। মার্সেলো বিয়েলসা এইখানেই আসল চালটা চেলেছিলেন। এই পর্যায়ে অপোনেন্ট যখন দিশাহারা, প্রেসিং অব্যাহত রেখে বলটা নিয়ে ৬ নম্বরের সিডিএম খেলা ছড়াচ্ছে তার পাশের একটু ওপরের ৮ নম্বরকে। ১০ ঢুকছে উইংয়ে আর বাঁদিক থেকে ৭ ঢুকবে খালি জায়গাটায়। চেলসিতে থাকাকালীন অনেক ম্যাচে থমাস টুখেল ঠিক এটাই করাতেন মেসন মাউন্ট আর এনগোলো কন্তেকে দিয়ে। রিস জেমস ঢুকত ডিফেন্সিভ ফানেলে।

এবার অ্যাটাকিং পর্যায়টা দেখা যাক। ৩টে ব্যাকের সামনে ঘুরছে দুটো স্ট্রাইকার। ফলে, কিপার থেকে পাস যাচ্ছে উইংব্যাকের কাছে (তখন ৪-৩-৩)। লাইন কেটে যাওয়ায় দুজনের একজন স্ট্রাইকার যখন প্লেয়ারটাকে পুশ করতে যায়, একজন সিডিএম বলটা হোল্ড করে ছড়াচ্ছে উইংয়ে (রাইট উইংব্যাক)। ধীরে ধীরে শেপ নিয়েছে তখন ফর্মেশনটা। অর্থাৎ, প্লেয়িং বিল্ড-আপটা আসলে ছড়াল দুটো উইংয়েই, শুধু বাইপাস চ্যানেলটা কাটার জন্য রইলেন একজন সিডিএম এবং একজন সেন্টারব্যাক। এবার যখন উল্টোদিক থেকে প্রেস আসছে, উইংব্যাক কাট করে বলটা নিয়ে ঢুকছে মাঝের অ্যাডভান্স নাম্বার টেন পজিশনে, যখন উইঙ্গার শিফট করে গেছে অনেকটা ওয়াইডে। তখন কিন্তু ফর্মেশন আর ৩-৩-১-৩ নেই, হয়ে গেছে ২-৩-৫। মাঝে দুটো প্লেয়ারের মুভমেন্ট সম্পূর্ণ নির্ভর করছে উইং দিয়ে বিল্ড করা খেলাটার ওপর। এবং এর যাবতীয় কেন্দ্রে থাকছে একজন সেন্টার ফরোয়ার্ড (স্ট্রাইকার নয়), যিনি অ্যাডভান্স নাম্বার নাইন থেকে একটা সেন্টারব্যাককে সঙ্গে করে নিচে নেমে এসে আপফ্রন্টে স্পেসটা খুলেছেন। যেখান দিয়ে বলটা স্কোয়্যারে মুভ করাবেন ওই ওয়াইড স্পেসে থাকা উইঙ্গারটা। ইদানিংকালের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে এরিক টেন হ্যাগ স্যাঞ্চো আর রাশফোর্ডকে দিয়ে ঠিক এটাই করাতে চাইছেন যার ফলস্বরূপ ওপরে ব্যবহার করা হচ্ছে ওউট ওয়েঘর্স্টকে। লিভারপুলের অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে খানিকটা এই স্ট্রাকচারটা দায়ী। যেখানে ওপরের অ্যাডভান্স নাম্বার নাইনটায় থাকতেন রবার্তো ফিরমিনো। দুপাশে সানে আর সালাহ্ থাকায় মাঝের অ্যাডভান্স পজিশনটায় একটু খালি জায়গা পেতেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড এবং একটা থার্ডম্যান মুভ হিসেবে সঙ্গে পাশে লেগে থাকতেন ফ্যাবিনহো (বক্স মিডফিল্ডার)। অর্থাৎ ৮ আর ১০ যখন উপরে এসে টানছে প্রেস করতে থাকা অপোনেন্টের হাফব্যাককে, তখন একটা হাফস্পেসে মুভেবল পজিশনে বল পেয়ে কাট ইন করছেন উইঙ্গাররা। তাই, আধুনিক ফুটবলে সেন্টার ফরোয়ার্ড বা স্ট্রাইকারদের তুলনায় উইঙ্গারদের গোলস্কোরিং এবিলিটি বেশি (ব্যতিক্রম লেওয়ানডস্কি, আর্লিং হাল্যান্ড— এরা অনেক বেশি অ্যাডভান্স এবং আউট অ্যান্ড আউট নাম্বার নাইন)। দুক্ষেত্রেই এই ফর্মেশন দুটো ফ্ল্যাঙ্ককে কাজে লাগাচ্ছে। ফলে যে খাটনিটা একটা মিডফিল্ডারকে ৪-১-৪-১-এ খাটতে হচ্ছিল, সেটা অনেকটা অবসোলেট হয়ে গেল। বদলে খেলাটা দাঁড়িয়ে গেল উইংকে কেন্দ্র করে। মিডফিল্ডারদের হোল্ডিংয়ের সময় অপোনেন্টের প্রেস দেখছে সেটা দাঁড়িয়েছে ২ বাই ৩ পজিশনে। অথবা ৩ বাই ৪ টার্নওভারে। যেটা অনেক বেশি ওয়ালব্রেকিং পাস খেলতে সাহায্য করছে। এবং সঙ্গে থাকছে রোটেশনাল ম্যানমার্কিং, তাছাড়া ট্রানজিশনের ক্ষেত্রে ওভারল্যাপিং ইনভার্টেড উইংব্যাকরা কাট ইন করে ভেতরেও ঢুকছে। তাই এই ফর্মেশনে বল দখলের অর্থ এটা বলছে না যে অনেক বেশি পাস খেলে স্পেস খোঁজো। বদলে অনেক বেশি ট্রানজিট মুভমেন্টে ফাস্ট ফুটবল দাবি করছে। যে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারটা ৩টে প্লেয়ারের মাঝে অবস্থান করছে, সে ততটা ডিপে ঢুকছে না। বদলে বক্স টু বক্স পাসিং প্লেকে অ্যাডভান্স আউট পজিশনে নিয়ে যাচ্ছে এবং ডিফেন্সের সময় নিচে নেমে সিডিএমের সঙ্গে জুড়ে ডবল পিভট তৈরি করছে। বাংলার মাঠের ভাষায়, মাঠ বড় করছে। অনেক বেশি ওপেন স্পেস ক্রিয়েট করছে। ম্যাঞ্চেস্টারে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ কিংবা রিয়াল মাদ্রিদে টনি ক্রুজ যা করে থাকে। তাই ফর্মেশনটায় যা খেলা খেলছে, সবটাই উইং। অর্থাৎ, ৩-৩-১-৩ আটকানোর ফর্মেশন ক্রিয়েট করতে হলে এমন ফর্ম চাই যা উইংপ্লে আটকাবে। আর সেটা অবশ্যই ৪ ব্যাকের ফর্মেশন।

৩-৩-১-৩

এখন তাহলে প্রশ্ন হল, ৩-৩-১-৩ আধুনিক ফুটবলে কতটা প্রসিদ্ধ? খুব জরুরি কিছু? এই সিস্টেমের সাফল্য কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে উইংয়ের ওপরেই। গোটা খেলাটা হচ্ছে টাচলাইনকেন্দ্রিক। ফলে, প্লেয়ারদের অনেক বেশি পজিশন রোটেট করতে হচ্ছে। মোশননির্ভর ফুটবল, পজিশনলেস ফুটবল আধুনিক স্ট্রাকচারে ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছেই। এখন সবাই প্রেসিংকে কী করে জোরদার করা যায় সেদিকে কনসেনট্রেট করছে। তা বলে কি রিস্ক নেই? বিপদ নেই? অবশ্যই আছে। যে কোনও ফর্মেশনেরই খারাপ-ভাল দিক থাকে। যেমন এখানে উইং ফেল করলে চাপ বাড়বে মাঝমাঠে। পিভট সমস্যায় পড়বে। ৪ বাই ৪ টার্নওভারে উইং এসে জুড়লে সিস্টেমটা ধসে পড়বে। ফলে বাকি ম্যাচে শুধু ডিফেন্স করে কাটানো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আবার অ্যাটাকিং মিডের চ্যানেল বন্ধ করে দিলেও একই ফল হবে। তখন উইঙ্গার বাধ্য হবে অ্যাডভান্স পজিশনটায় জয়েন করতে। ওয়াইড স্পেসটাই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বাধ্য হয়ে খেলতে হবে মাঝখান থেকে।

তবু, এই ফর্মেশন এই সিস্টেম-সর্বস্ব ফুটবলে সোনার মতো। প্রত্যেকটা জোনকে আলাদা-আলাদাভাবে অ্যানালাইস করলে, জোন ১৩ আর ১৫-এর কাজটা ঠিকঠাক উতরে গেলে অপোনেন্টের ডি-বক্সে জোন ১১ আর ১৪ জাঁকিয়ে বসবে (যদি একটা মাঠকে হরাইজন্টালি ৫ ভাগে ভাগ করা যায় তবে মাঠটায় ১৫টা জোন হয়)। ফলে খেলাটা আরও সুদৃশ্য হবে। অত্যধিক ফাস্ট মুভ-সর্বস্ব ফুটবলেও সুন্দর ফুটবল দেখতে এর মতো আদর্শ ফর্মেশন আর খুব একটা নেই। মার্সেলো বিয়েলসা কি রিক্রিয়েট করবেন এটা, যদি উরুগুয়ের কোচ হয়ে আসেন? ফাকুন্দো পেলিস্ত্রি আছে, ভালভার্দে আছে, ডারউইন নুনেজ, বেন্টাকুর, কোটস, জোনাথন রড্রিগেজ আছে। যারা এই মূহূর্তে ইউরোপের ফাস্ট ফুটবল মুভমেন্টের সঙ্গে অনেকটা পরিচিত এবং মানানসইও। কাজেই বিয়েলসার কি খুব অসুবিধে হবে? দেখা যাক!

সময়। সময় আসল কথা বলে সবসময়। বিয়েলসা অবশ্য নিজেই একটা সময়।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4710 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...