রোমেল রহমান

সাতটি কবিতা

 

অন্নঋণ

কৃষকের কাছে আমার অন্নঋণ
কৃষকেরা পাক ফসলের সোনাদিন।

মাঠগুলো উঠে আসছে স্লোগান তুলে
ব্যারিকেড দিয়ে রুদ্ধ কোরো না ভুলে।
কল্লোল তুলে নদীগুলো রাস্তায়
ইনসাফ নিতে ঢেউয়ে ঢেউ গান গায়।
যেই হাতে মাটি চাষ হয়ে দেয় ধান
তারা পাক পুরো হৃদয়ের সম্মান।

কৃষকের কাছে আমার অন্নঋণ
কৃষকেরা পাক ফসলের সোনাদিন।

রাজপথে আজ নেমেছে অন্নদাতা
তারাই আমার আদিম পিতা-মাতা।
রাজা দেন আজ বণিকের ফরমান
ভুলে গেছে রাজা কৃষকের ভাত খান।

০২ ডিসেম্বর ২০২০

 

দ্রোহ

এরকম দিনে ভালোবাসাটাই ভয়ানক দ্রোহ
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে নিমগ্নতাই সবচে মধুর
অলিগলি পথে ভালোবাসাবাসি

এই তো তুফান

প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার হাত

এই তো আগুন

সব ছেড়ে দিয়ে নেমেছি উজানে মাধুরীর খোঁজে
ঝরে গেছে ফুল বন্ধুর ছায়া শত আশ্বাস
লোকে যাই বলে বলুক না হয় নিজের মতন
আমরা তো জানি আমরা কতটা গভীরে ডুবেছি

বুলেটের দিকে চুম্বন ছুঁড়ে বলেছি দারুণ
মৃত্যুর থেকে সুন্দর হবে আগামীর ভোর
প্রতিটা সকালে আকাশে উড়বে আমাদের গান
দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হবে শত চামেলি বকুল

এরকম দিনে ভালোবাসাটাই ভয়ানক দ্রোহ
প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার হাত

এই তো আগুন

৩ আগস্ট ২০১৬

 

উষ্ণতার চূড়ায় তাকিয়ে দেখছি ওম

তুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছ বাতাসের উল্টো আঁচড়ে
আমি উত্তরে হাওয়ার দাঁত নখ নিয়ে চেয়ে আছি তোমার ভেতর
লালা ঝরার শব্দে
শিরায় শিরায় তুমি টের পাচ্ছ
শীত এসে গেছে
তুলোর মধ্যে ডুবে যাবার উল্লাস

২৮ নভেম্বর ২০২০

 

গোলাপ

ভয়ানক হয়ে যাচ্ছে ভীষণ চারপাশ,
আর তুমি গোলাপ চাষের কথা শীতল আমেজ নিয়ে ভাবছ এখনও!
কাকে ছোঁবে নির্ভয়ে?
খুঁজে দেখো কেউ নেই কোথাও কোমল!
আমাকেও পুরোপুরি বিশ্বাস করা ভুল! (জানি আমি।)
আর তুমি গোলাপ চাষের তাগাদা দিচ্ছ রোজ?
আমিই তো ভরসা পাচ্ছি না চারদিক শুঁকে!
এরকম ভয়াবহ দিন আগে কখনও আসেনি।
অথচ তুমি বলছ,
‘গোলাপ তবুও ফুটবে!’

২০ নভেম্বর ২০২০

 

শরীরে নোনার অসুখ

রাষ্ট্রের কাছে আমাদের আর কোনও দাবি নেই।
রাষ্ট্র মানেই মুখ বেঁধে চোখ বেঁধে গুম!
রাষ্ট্রকে বদলানো যাবে না কখনও,
রাষ্ট্র শব্দের মধ্যেই আছে জবরদস্তি।
রাষ্ট্র মানেই মুখ বেঁধে চোখ বেঁধে গুম!
পুলিশ পুলিশ ঘ্রাণ আকাশে বাতাশে!
রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলা যাক?
এরচেয়ে উৎকৃষ্ট মোনাজাত আজ আর নেই!
রাষ্ট্রকে ভাঙলে আমরা পাব একখণ্ড মুক্ত জমিন,
সেইখানে ঈর্ষার বীজ বুনে ভালোবাসা আবাদ করবো পুনরায়!
রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলা ছাড়া আপাতত বিকল্প ইশতেহার নেই, শরীরে তার নোনার অসুখ!

৬ অক্টোবর ২০২০

 

মৌনতার ফসল

এভাবে নীরব থেকে খুব বেশি এগোবে না আর,
তারচেয়ে কয়েকটা হত্যা জরুরি।
আগুন দেওয়ার মতো সাহস জমেনি বলে আজ
এইসব ভয়ানক হিংস্র পিশাচ দিকেদিকে লাফ দেয় ডিগবাজি খায় সকাল বিকেল রাত;
মৌনতার ফসল ফলেছে, লজ্জা পেও না তুমি দায়ী!
তারচেয়ে খুন করো,
খুনির শিরোপা জিতে ফাঁসিতে লটকে পড়ো;
কিংবা হাজতবাস আজীবন মেনে নাও।
জরুরি এখন পিশাচ শিকার,
এর থেকে উপাদেয় পথ নেই আপাতত আর।
নিজেকে বাঁচাতে তুমি কয়েকটা জানোয়ার মারো,
নইলে মরতে তৈরি থাকো জঘন্যের হাতে,
দোহাই দিও না আর ধর্ষণ হয়ে গেছে আমাদের সবটুকু মাটি।
চুপ থাকবার কৌশলে সুসভ্য প্রতিবাদ আজ বিফল-বিকল,
পরাজয় মেনে মরে যাও নইলে কয়েকটা খুন করো।
নিজেকে বাঁচাতে আজ গণবিদ্রোহ চাই,
পিশাচের ঘাড় ভেঙে বেঁচে থাকা বাঁচাও এবার।।

৫ অক্টোবর ২০২০

 

বন্দিশালায় রেখেছ কাকে?

(কবি ভারাভারা রাও-এর জন্য)

কবিকে বন্দি করে লাভ নেই, কবি তো কবিতা হয়ে যায়!
পারলে কবিতাকে শিকল পরাও।
কিন্তু কোথায় সেই শিকল কিংবা গারদ যেটা কবিতাকে আটকাতে সক্ষম?
রাজা নিজেই তো কবিতার ভয়ে গুটিয়ে থাকেন,
কবিতা বাজেয়াপ্ত করে লাভ নেই কবি তো কবিতা হয়ে যান যখন তখন!
যদি পারো কবিতার পঙক্তিগুলোকে ঠেকাও চাবুক রাজা!

তুমি ভয় পাচ্ছ আমরা জানি।

১৯ জুন ২০২০

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2947 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...