আরও শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনের ধ্বনি— নো পাসারান

চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য

 




সাংবাদিক, কবি, প্রাবন্ধিক, লিটলম্যাগ কর্মী

 

 

 

 

পাঞ্জাবের বারনালার ঠিকরিওয়াল গ্রামের পাঞ্জাব রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার জগদীপ সিং (৩০) বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন বরযাত্রীদের নিয়ে। যাওয়ার পথেই পড়ে মেহঁকালান টোল প্লাজা। সেখানে ১১০ দিন ধরে ধর্নায় বসে আছেন কৃষকরা। জগদীপের বাবা একজন প্রাক্তন সেনা। এখন নিজের পাঁচ একর জমি চাষ করেন। কৃষক পরিবারের ছেলে জগদীপ ইঞ্জিনিয়ার হলেও তিনি জানেন মোদিরাজে কৃষকদের কী হাল! মানসিকভাবে আন্দোলনের সঙ্গেই তাই ছিলেন। বরযাত্রী সহ যাওয়ার পথে টোল প্লাজায় আন্দোলনকারীদের দেখে নিজের রুদ্ধ আবেগকে সংযত করতে পারলেন না। বসে পড়লেন ধর্নায়। প্রাণভরে স্লোগানে গলা মেলালেন। আনন্দে সবাইকে চা খাওয়ালেন। তারপর আন্দোলনের জন্য ১১,০০০ টাকা দান করে বললেন, “আমার হবু বউ কমলপ্রীতও আমার মতো একই মতামতের সমর্থক। ফেরার সময় ওকে নিয়ে আবার আসব।”

একটা ছেলে বিয়ে করতে যাওয়ার সময় তাঁর সমস্ত ধ্যানজ্ঞান থাকে হবু বউ। কতক্ষণে তাঁর মুখটা দেখতে পাবে। সেই অবস্থাতেও জগদীপ ভোলেনি কৃষকদের কথা। তাঁর এই সংহতি প্রকাশ কতটা আন্তরিক, সেটা তিনিই বুঝতে পারবেন, যার হৃদয় অনুভূতিপ্রবণ। নিহিত স্বার্থের পিছনে ছুটে চলা এক অন্ধ সরকার বা অপ্রত্যক্ষ আঁতাতে আইনের প্যাঁচপয়জারে দিনের আলোকে মসীকৃষ্ণ প্রমাণে তৎপর বিচারশালার পক্ষে এই অনুভূতিকে বোঝা অসম্ভব।

বিচারের দেবীর চোখ বাঁধা থাকে, একথা জানা। কিন্তু হাতের দাঁড়িপাল্লা যে একদিকে ঝুঁকে আছে, তা চক্ষুষ্মান সবাই দেখতে পায়। কোন অসহ্য জ্বালায় লক্ষাধিক কৃষক, অনেকে স্ত্রী, পুত্র, পরিবার-সহ, এই শীতে, সারা রাস্তা জলকামান, টিয়ার গ্যাস আর পুলিশের লাঠি খেতে খেতে দিল্লির দোরগোড়ায় এসে দেড় মাস ধরে বসে আছেন, তা বোঝার মতো হৃদয় নেই সরকার বা বিচারব্যবস্থার! কৃষকরা ‘তাঁদের ভালোর জন্য’ বানানো এই তিনটি আইন চান না। যে আইনগুলি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এবং সংসদে আলোচনার সুযোগ না দিয়ে চাপানো হয়েছে, তাঁর পংক্তির পর পংক্তির মাঝে অনুচ্চ স্বরে যে কথা লুকিয়ে আছে, তা মাটির গভীরে প্রাণের সন্ধান খুঁজে নিতে জানা কৃষকদের ধরে ফেলতে সময় লাগেনি। প্রশ্ন করছেন কৃষকরা, “আমাদের ভালোর জন্য হলে এতটা ঢাকঢাক গুরগুর কেন? কেনই বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে আনা হল না?”

কাকের স্বভাব হল, কোনও জিনিস লুকিয়ে রাখার সময় চোখ বন্ধ করে ফেলে ভাবে “কেউ দেখতে পায়নি’। কিছু মানুষেরও এমন স্বভাব আছে। কাককে কেউ বুদ্ধিমান বলে না। কিন্তু, দুর্ভাগ্যের হলেও সত্য, এমন মানুষদের একাংশ গণসমাজ বুদ্ধিমান ও দেশপ্রেমিক মনে করেন। তাঁদের ভোটে জেতান। কিন্তু মানুষকে বোকা ভাবার অভ্যাস তারা ছাড়তে পারেন না। যেমন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। মানুষকে বোকা ভাবায় হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নিজেরই জেলাতেই সভা করতে পারলেন না। আটকাল তারই দলকে ভোট দেওয়া কৃষকরা। কৃষকরা যে কোনও মন্ত্রী বা সরকারপক্ষের বিধায়কের গ্রামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দম্ভে ডাকলেন ‘কিসান মহাপঞ্চায়েত’। কৃষকরা আসবে না। তিনি পঞ্চায়েতের পয়সায় বিজেপি কর্মীদের আসার ব্যবস্থা করলেন। গাড়িতে এলে বাধা পাবেন, তাই হেলিকপ্টারে চড়লেন।

কৃষকরা প্রতিবাদ জানাতে কাছাকাছি কোনও জায়গায় কালো পতাকা দেখানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। সভা পণ্ড করার কোনও কথাই ছিল না। কিন্তু দাম্ভিক সরকার কৃষকদের আসার পথে স্টিল ব্যারিকেড বসাল, কৃষকরা এগোতেই ছুঁড়ল জলকামান, টিয়ার গ্যাস। ক্ষুব্ধ কৃষকরা পুলিশের বাধা ভেঙে চাষের মাঠ দিয়ে পৌঁছল সভাস্থলে। তারপর যা হওয়ার, তাই হল। কৃষকদের ক্ষোভের দাপটে মঞ্চ ভেঙে তছনছ, চেয়ারগুলি টুকরো টুকরো হল। রোষের মুখে হেলিপ্যাড হয়ে গেল চষা মাঠ। হেলিকপ্টারে এসেও হাল দেখে মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যেতে বাধ্য হলেন। কোনও কৃষক সভায় শুনতে আসেননি। টাকা নেওয়া বিজেপি কর্মীরাও ক্ষোভের চেহারা দেখেই পিঠটান দিল।

কৃষকদের ক্ষোভে ইতিমধ্যে দিল্লি-মুখী ৫টি জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ। উত্তাল পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্র, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা। বাংলা থেকে কয়েকশো, কেরল থেকে সহস্ত্রাধিক কৃষক পৌঁছেছেন দিল্লিতে। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের হাজার হাজার কৃষক শাহজাহানপুরে, পালিওয়ালে রাজপথে বসে আছেন। আর, সুপ্রিম কোর্টে সরকারের আইনজীবী বলছেন, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে নাকি আন্দোলনের স্পর্শও নেই।

শুরুতে এই আন্দোলন ছিল শুধুই কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখন প্রাক্তন সেনারাও যোগ দেওয়ায় তার চেহারা ও চরিত্র বদলাতে শুরু করেছে। শ্রমিকরাও নানা জায়গায় কৃষক বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। “ঘর ঘর মোদি” স্লোগান দেওয়া এক প্রাক্তন সেনা গাজিপুর সীমান্তে বলেছেন, “তখন বলেছি ‘ঘর ঘর মোদি’, এখন ‘আপনে ঘর যাও মোদি’ বলছি।” ঘোষণা করলেন, “চারদিকের সীমান্তে দেশরক্ষা করছেন কৃষক ঘরের সন্তানরা। তারাও কৃষকদের আন্দোলনের পাশেই আছেন। প্রাক্তন সেনা, মজদুর, কিষাণ মিলে এক ঐতিহাসিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।”

এমনই আশঙ্কা করেছিলেন দেশের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় সামরিক অফিসার। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে তাঁরা বলেছিলেন, “সেনাবাহিনীর ৮০ শতাংশই কৃষক পরিবারের সন্তান। এই জৈব সম্পর্ককে অবহেলা করা দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। সমস্যা দ্রুত মেটান।” সমস্যা মেটাতে প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ, এ কথা বলা যাবে না। বরং, জোর গলায় বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে আগ্রহী নন। একদিকে মন্ত্রীদের দিয়ে বার বার আলোচনার নামে কৃষকদের সময় বরবাদ করে বোকা বানানোর কৌশল নিয়েছেন, অন্যদিকে এই দেড় মাসে অন্তত ২৫টি সভায় দাবি করেছেন, “কৃষি আইন কৃষকদের উন্নয়ন করবে।”

নন্দীগ্রামেও এমনই উন্নয়নের দাবি করেছিল তৎকালীন সরকার। সেই সময় অপর্ণা সেন একটা প্রশ্ন তুলেছিলেন, “আমাদের কিভাবে উন্নয়ন হবে, কিসে ভালো হবে, সেটা আমাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে?” আজ, সেই একই প্রশ্ন, কৃষকদের উন্নয়ন কিসে হবে, সেটা আদানি-আম্বানির পোষা বিজেপির কিছু নেতাই শুধু বোঝেন? কৃষকরা বোঝে না? ভোটের সময় ছাড়া সরকার কি কৃষকদের ‘অবোধ শিশু’ মনে করে? একজন প্রাক্তন সেনা প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়েছেন, “মোদি কতদিন চাষ করেছেন যে, আমাদের কিসে ভালো হবে তিনিই জানেন!”

বারনালার সেই জগদীপের প্রাক্তন সেনা। পাঞ্জাব, হরিয়ানার ঘরে ঘরে সেনা জওয়ান আর কৃষকের সহাবস্থান। কারও বাবা জওয়ান, কারও ভাই। প্রাক্তন সেনারা বলছেন, “এখনও পর্যন্ত মোদি একবারও আমাদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছেন না কেন? আদানি, আম্বানিদের থেকে জেনে আসা হয়নি?” নানা জায়গায় সেনারা ঘোষণা করছেন, “মোদিজি, আপনার আইন আপনি রাখুন, দেশের চাষি আদানি আম্বানির দাসখত লেখানোর আইন মানবে না। এতদিন ধর্মের নামে, জাতির নামে দেশকে ভাগ করে যা ইচ্ছে, তাই করেছেন। আপনারাই আসল টুকরে টুকরে গ্যাং। দাঙ্গা বাধিয়েছেন। আর পারবেন না। সেনা, কিসান, মজদুর একই লড়াই লড়তে নেমেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আরও অস্বস্তিকর প্রশ্ন বেশি উঠে আসছে। এক প্রাক্তন সেনা বলেছেন, “৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি করেও কেউ কেউ পেনশন পান না। আর সাংসদ, বিধায়ক হলেই পেনশন! এটা কেমন ন্যায়? গ্রামপ্রধান থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— মেয়াদ ফুরনোর আগে সবার সম্পত্তি বৃদ্ধির তদন্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পাঁচ ছয় মাস আগে চিঠি দিয়েছি। জবাব পাইনি। চারটি আইন তো ফেরাতেই হবে। তার পরে আরও অনেক কিছু আসবে।” তাঁরা ঘোষণা করছেন, “এটা কর্পোরেটের থেকে আজাদির লড়াই। এটা ব্যবস্থা বদলের লড়াই।”

এ হেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট ১২ জানুয়ারি তিনটি কৃষি আইনের রূপায়ণ স্থগিত রেখে একটি কমিটি গড়ছে। বিচারবিভাগীয় কমিটি। কমিটি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সুপ্রিম কোর্টকে সুপারিশ জানাবে। কিসের সুপারিশ? আইন সংশোধনে? কাদের বোঝাতে হবে? কমিটিতে বিজেপির চার “বিশেষ-অজ্ঞ”-এর কাছে? কৃষকদের আপত্তি থাকাই স্বাভাবিক। ন্যায়বিচার নয়, অন্যায় করেছে আদালত। এমন কমিটি সরকার গড়লেও মানুষ সমালোচনা করত। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট জেনে বুঝে এই চারজনকে দায়িত্ব দিয়ে বিচারের নামে প্রহসন করে বসেছে। সমগ্র দেশের কাছে, দেশবাসীর কাছে, সুপ্রিম কোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা খর্ব হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, প্রধান বিচারপতি পদের প্রতি মানুষের আস্থার অপব্যবহার হয়েছে।

যে ব্যক্তিরা এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন, তাঁদের উপরই সমীক্ষার ভার দেওয়া আর যাই হোক, ন্যায়বিচার নয়। কমিটি গড়ার উদ্দেশ্যই তাই। আট দফা বৈঠকে সরকার যে সংশোধন করতে তৈরি ছিল, সেগুলিই বড়জোর সুপারিশ করিয়ে সেই আইনকেই চালু রাখা। অর্থাৎ, রাজার ইচ্ছায় কাজী প্রজার মাথা কাটার জন্য কমিটি বসালেন। কৃষকরা এত অবোধ ভাবাটাই বড় ভুল।

যারা দেশকে অন্ন জুগিয়ে নিজেরা না খেয়ে থাকে, তারা অনেক কঠিন সত্যকে সহজে ধরতে পারে। তারা জানে, বেআইনিভাবে তৈরি আইনটাই আরও অনেক অন্যায়ের পথ খুলে দেবে। শুধু কৃষকের জীবনজীবিকা যাবে তাই নয়; দেশের গরিব মানুষ না খেয়ে মরবে। আবার আসবে কোম্পানির শাসন, নীলচাষের দিন, ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর। সেই আইনগুলির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আর্জি আছে অনেক দিন। সুপ্রিম কোর্ট কৃষকদের যন্ত্রণা বুঝলে সেগুলি এতদিনে নিশ্চয়ই শুনত। সরকারকে ‘সম্মানজনক পশ্চাদপসারণের পথ করে দেওয়ার চাইতেও সেটা ছিল জরুরি। এদিনও সুপ্রিম কোর্ট কোনও বিচার করেনি, মধ্যস্থতার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু, এই অবিশ্বাসী কমিটি গড়ার পর, সেই চ্যালেঞ্জের বিচার করার নৈতিক যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের থাকল কি?

কৃষকরা মধ্যস্থতা চায়ইনি একবারও। তারা শুরু থেকেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সম্মতি দিলেও কোনও মধ্যস্থর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাদের আন্দোলনে যোগ দেওয়া রুখতে রক্ত ঝরিয়েছে রাষ্ট্র, তারা কারও রক্ত ঝরায়নি। প্রধান বিচারপতিও সরকারের দিকে আঙুল তুলেই প্রশ্ন করেছেন, “কোনও রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটলে তার দায় নেবে কে? সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব আদালতের। রক্তপাত ঘটলে দায়ী থাকব আমরা প্রত্যেকেই। চাই না, আদালতের হাতে রক্তের দাগ লাগুক।” ঠিক কথা। কিন্তু, কৃষকদের যতটা রক্ত, যতগুলি প্রাণ আজ পর্যন্ত চলে গেছে, তার দায় কে নেবে? সংবিধান রক্ষার দায় যার, সংবিধানবহির্ভূত উপায়ে তৈরি আইনের বৈধতা বিচারে তাঁর এত দেরি কেন? লাখ লাখ কৃষকের সর্বনাশ করে যে রাষ্ট্র কর্পোরেটের আব্দার রাখতে চায়, নাগরিকদের করের টাকায় কেনা অস্ত্র সেই রাষ্ট্র কি ন্যায়সঙ্গত আধিকার দাবি করা নাগরিকদের উপরেই প্রয়োগ করতে পারে?

বিদ্যুৎ বিলকে আইনে যেদিন পরিণত না করার প্রতিশ্রুতি সরকার দিল, সেইদিনই সভার পরে কৃষক নেতা বলবীর সিং রাজেওয়াল বলেছিলেন, “এই প্রথমবার সরকারের হাবভাবে পরাজিতের মনোভাব। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন, সরকার একটা সম্মানজনক প্রস্থান পথ খুঁজছে।” সেই পথ যাতে সুপ্রিম কোর্টই দেয়, তারই জন্য ১১ জানুয়ারি নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হল সর্বোচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট আইন তিনটি সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন বিচার না করে, পথ করে দিতে আইনগুলির রূপায়ন স্থগিত রাখল। তারপর লোকদেখানো বিশ্বাসযোগ্যতাহীন বিচারবিভাগীয় কমিটির দায়রায় ঠেলে, আইনকে বাতিল না করে সংশোধনের পথ করে দিল। ‘দ্য অনারেবল এক্সিট রুট!’

কৃষির দেবতা বলরাম। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন এই ‘বলরামের চেলা’-র কথা। লিখেছেন, “ঘরের মুখে আর কি রে/ কোনওদিন সে যাবে ফিরে।/ যাবে না, যাবে না–/ দেয়াল যত সব গেল টুটে।” প্রধানমন্ত্রীও দেওয়াল ভাঙার কথা বলছেন, কৃষির উপর কর্পোরেটের দখলে বাধাস্বরূপ দেওয়ালের কথা। কৃষক আর প্রাক্তন সৈনিকরা বলছেন ব্যবস্থা বদলের পথে দেওয়ালগুলি ভাঙার কথা। এমনই অনেক দেওয়াল ভাঙতে ভাঙতে কৃষকরা দিল্লির চারপাশের পাঁচটি রাজপথে মানব দেওয়াল তুলে দিয়েছেন। তাদের গলায় গর্জে উঠছে “নো পাসারান।” পার পাবে না। সরকারকে হয় আইনগুলি প্রত্যাহার করতে হবে, নয়তো “আপনে ঘর যাও মোদি”। ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ সরকারকেই ক্ষমতা থেকে ফিরে যেতে হবে।

নো পাসারান ধ্বনি সম্বল করে কৃষকরা তাই পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত ‘কিসান সংকল্প দিবস’, ১৮ জানুয়ারি ‘মহিলা কিসান দিবস’, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে ‘আজাদ হিন্দ কিসান দিবস’ পালনের পর ২৬ জানুয়ারি দেশের কিসান প্রজারা, প্রয়োজনে ব্যারিকেড ভেঙে, রাজধানীর বুকে নিজস্ব প্রজাতান্ত্রিক কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রমাণ করবেন, অস্ত্র নয়, রাষ্ট্রক্ষমতা নয়, প্রজার শক্তিই শেষ কথা।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3088 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...