অমৃত না গরল

সত্যব্রত ঘোষ

 

আজাদি কা অমৃত মহোৎসব। হর ঘর তিরঙ্গায় তিরঙ্গা। দিকে দিকে এত বিপুল প্রচার। অথচ প্রাণে যে একেবারেই উৎসাহ নেই, তা কি শুধুমাত্রই ব্যক্তিগত এক সমস্যা?

জাতীয় পতাকার যে ‘তিরঙ্গা’ তাতে আছে গেরুয়া রং— যা ত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতীক; সাদা রং— যা সত্য ও শান্তির প্রতীক, সবুজ রং— যা বিশ্বাসের প্রতীক, তা শুধুই যেন রঙের সমাহার হয়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক মূল্যবোধের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে উত্তোলিত হবে, নীরবে আন্দোলিতও হবে। আর সাদার মাঝখানে যে নীল অশোকচক্র— যা ন্যায়, ধর্ম ও প্রগতির প্রতীক, তা হয়ে থাকবে যেন শুধু কথারই কথা।

স্বাধীনতা দিবসের ৭৫তম উদযাপনে স্বাধীনতাহীনতা প্রসঙ্গে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অমোঘ পংক্তিগুলিই কেন যে মনে আসছে, তা বোঝা দায়। আইরিশ লেখক কবি টমাস মুর তাঁর ‘From Life without Freedom’ কবিতায় যে সুরটি দার্ঢ্যের সঙ্গে উচ্চারণ করেছিলেন ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’-এর কবি বাংলা ভাষায় তার প্রতিধ্বনি তুলেছিলেন:

From life without freedom, say
who would not fly?
For one day of freedom, oh!
who would not die?

… ইত্যাদি।

“দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গসুখ-তায় হে/ স্বর্গসুখ তায়!” লিখে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৫৮ সালে বাঙালিদের উজ্জীবিত করলেও ১৯৪৭ সালে দেশ যখন সত্যিই স্বাধীনতা লাভ করে, বঙ্গভূমি এবং পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষ আরেকবার মর্মান্তিকভাবে উপলব্ধি করেন তাঁরা “কোটিকল্প দাস” ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, নেহেরু, জিন্নাহ সহ অবিভক্ত ভারতে বসবাসকারী নেতাদের চেয়েও ইংল্যান্ডের রানি ও প্রধানমন্ত্রীদের তখন ভারতকে “স্বাধীনতা” প্রদানের তড়িঘড়ি বেশি।

দ্বিজাতি-তত্ত্বকে সামনে রেখে ধর্মের জিগিরে যারা দেশ জুড়ে দাঙ্গা বাঁধিয়েছিলেন, ব্রিটিশরা কিন্তু তাঁদের মনোবাঞ্ছা পূরণে মনোযোগী হয়ে সিরিল র‍্যাডক্লিফ নামে এক ব্রিটিশ ব্যারিস্টারকে ভারতের মানচিত্রকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করবার এক অদ্ভুত দায়িত্ব দেয়। এই প্রসঙ্গে ১৯৬৬ সালে ব্রিটিশ কবি ডাবল্যু এইচ অডেন ‘Partition’ নামে যে তীব্র ঘৃণাভরা কবিতাটি লিখেছিলেন, তা উদ্ধার করলে বোঝা যাবে নিঃস্পৃহ হয়ে এই বীভৎস দায়িত্ব পালন করে কতটা ভয় পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার র‍্যাডক্লিফ:

Unbiased at least he was when he arrived on his mission,
Having never set eyes on this land he was called to partition
Between two peoples fanatically at odds,
With their different diets and incompatible gods.
‘Time,’ they had briefed him in London, ‘is short. It’s too late
For mutual reconciliation or rational debate:
The only solution now lies in separation.
The Viceroy thinks, as you will see from his letter,
That the less you are seen in his company the better,
So we’ve arranged to provide you with other accommodation.
We can give you four judges, two Moslem and two Hindu,
To consult with, but the final decision must rest with you.’

Shut up in a lonely mansion, with police night and day
Patrolling the gardens to keep assassins away,
He got down to work, to the task of settling the fate
Of millions. The maps at his disposal were out of date
And the Census Returns almost certainly incorrect,
But there was no time to check them, no time to inspect
Contested areas. The weather was frightfully hot,
And a bout of dysentery kept him constantly on the trot,
But in seven weeks it was done, the frontiers decided,
A continent for better or worse divided.

The next day he sailed for England, where he quickly forgot
The case, as a good lawyer must. Return he would not,
Afraid, as he told his Club, that he might get shot.

ভবিষ্যতে বিপুল মন্থনে অমৃত নিষ্কাশিত হলেও হতে পারে। তবে গরল যে উঠছে, তাতে সন্দেহ নেই। সেই গরলে নীলকণ্ঠ হয়ে উঠছেন ভারত উপমহাদেশের তিন দেশের মানুষ। বাস্তুভিটা ত্যাগ করে শরণার্থী হিসেবে যে প্রজন্ম ভারতে আশ্রয় নেন, তাঁদের ক্ষত জীবদ্দশায় তো মেটেইনি, পরবর্তী প্রজন্মদের মনেও সেই আঘাত তীব্রভাবে ফিরে ফিরে আসে। তা নিয়ে চর্চার পরিবর্তে ‘লাল সিং চাড্ডা’-র একটি স্বগতোক্তিকে মোক্ষম বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। ছবিটি দর্শকগ্রাহ্য হচ্ছে কি হচ্ছে না তা এখনই বোঝা দুষ্কর। তবে তার চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা অতুল কুলকার্নির লেখা কথাটির আক্ষরিক না হলেও সারবস্তু এমনটাই: ধর্ম নিয়ে আলোচনা হলেই দেখছি ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়।

এবার যে তিরঙ্গা পতাকাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চিন থেকে পলিয়েস্টার আমদানি, সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কিন্তু ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটছে। অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধবতার প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে যে পলিয়েস্টার পতাকা দেশের প্রত্যেক বাড়িতে ওড়ানোর মহান ব্রত বর্তমান সরকার নিয়েছে, অমৃত মহোৎসবের অব্যহিত পরে অজ্ঞ জনতা যখন সেগুলি রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেবে, তা কুড়িয়ে সেই বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে রক্ষার প্রযুক্তিটুকুও কি সরকারের আছে? নেই। প্রসঙ্গ যখন উঠলই, একথাটিও উল্লেখ থাক, যে গত ৮ বছরে খাদি কাপড় যে হারে মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে, ডিসকাউন্ট দিয়েও তা অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের নাগালের বাইরে চলে গেছে। খাদি গ্রামোদ্যোগ বিভাগটি দিনে দিনে যতটা কর্পোরেট হয়ে উঠছে, তাতে এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত গ্রামবাসীরা আর্থিকভাবে গান্ধিজির ভাবনা অনুযায়ী কতটা স্বয়ংসম্পন্ন হচ্ছেন, তা গবেষণাসাপেক্ষ।

তবে এর চেয়েও যা কৌতূহলপ্রদ, তা হল বর্তমান সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিরা যে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তসমূহকে শিরোধার্য করে এসেছেন, সেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তিরঙ্গা পতাকাকে ‘স্বাধীন’ ভারতের পতাকা বলে স্বীকার করেনি। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও জাতীয় পতাকায় সবুজ রঙের উপস্থিতির জন্য হেডগেওয়ার, গোলওয়ারকরদের সেই কট্টর হিন্দুবাদী প্রতিষ্ঠানে সেই পতাকা উত্তোলিত হয়নি। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মোহন ভাগবত নাগপুরের প্রধান দপ্তরে সেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে যে বার্তা পৌঁছে দিতে চাইলেন, তা চিহ্ন-সর্বস্ব এক রাজনীতিকেই স্পষ্ট করে, দেশচালনার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখাকেই যা প্রাথমিক কর্তব্য বলে স্থির করে নিয়েছে।

চিহ্ন-সর্বস্ব, প্রচার-সর্বস্ব এক উদগ্র ক্ষমতানীতি প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠার ফলে ভারতের অধিকাংশ নেতা-নেত্রীরা দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাননি, ঘামাবেনও না। ভারতবর্ষের যত্রতত্র ইদানিং এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে এবং ঘটে চলেছে, যার থেকে এমনটা ভেবে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন যে গণতন্ত্র নিয়ে কারও বিশেষ মাথাব্যাথাও আছে। নির্বাচনের আগে তাঁদের প্রতিশ্রুতির বহর যতই বাড়ে, নির্বাচনে জেতার পর সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা মেটাতে আঞ্চলিক দলের পক্ষ থেকে যৎকিঞ্চিত উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রী তা ‘রেউড়ি’ (উত্তরপ্রদেশের এক ধরনের মিষ্টি) বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েন না। কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষদের কিছু দেওয়ার রীতিটিকে ‘খয়রাত’ বলে অবৈধ করা হবে কিনা তা নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতেও সম্প্রতি মামলা করা হয়েছে।

চিহ্ন-সর্বস্ব এক রাজনীতির বলপূর্বক প্রয়োগ সাধারণ মানুষদের জীবন কেমন বিপর্যস্ত করে তা কয়েক সপ্তাহ আগে মথুরার এক সাফাইকর্মীর ঘটনায় ইঙ্গিতবাহী হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের মতো তিনি সকালে আবর্জনা সাফ করে ঠেলাগাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী জনৈক উৎসাহী আবিষ্কার করেন যে ঠেলাগাড়িতে আবর্জনার ভিড়ে নরেন্দ্র মোদি এবং যোগী আদিত্যনাথের বাঁধানো ছবি রয়েছে। তিনি সাগ্রহে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেই ক্ষান্ত হন না। সাংবাদিকের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন সাফাইকর্মীটিকে। রাস্তায় পড়ে থাকা জঞ্জাল সাফ করাই যার কাজ, তিনি এই ছবিগুলির আবর্জনা হওয়া নিয়ে আর নতুন কি ব্যাখ্যা দেবেন? তাতে উৎসাহী ব্যক্তিটির উৎসাহে অবশ্য ভাটা পড়েনি। ছবিটি সমাজমাধ্যমে সম্প্রচারিত করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়। পরিণামে সাফাইকর্মীটিকে বরখাস্ত হতে হয়। প্রায় সাতদিন পর তাঁর পুনর্নিয়োগের সংবাদটুকু উল্লেখ করা হয় মাত্র। এই সাতদিন ধরে সাফাইকর্মীর দায়িত্ব বনাম নাগরিকের দায়িত্বের চাপানউতোর নিয়ে অনুক্ত যে প্রহসন চলে, তাতে কার বিশ্বাসযোগ্যতার কতটা হানি ঘটল, সে নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েই যায়।

মথুরার এই ঘটনাটি তুচ্ছ। ঘটনার ঘনঘটা তো লেগেই ছিল। এবং পরবর্তীকালে দেশ জুড়ে যে কাণ্ডকারখানা চলে আসছে, তা যেমন meme-নির্মাণে উর্বরতা প্রকট করেছে, তেমনই সাধারণ দেশবাসীর ভীতি ও বিভ্রান্তিকে পৌঁছে দিয়েছে এক চরম অবস্থায়। দেশের পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দলের বিধায়কদের দেখা গেল বন্যাপীড়িত অসমের রাজধানীতে। রাজকীয় আরামে বন্দি ছিলেন তাঁরা গৌহাটির সবচেয়ে দামী হোটেলে। সেখান থেকে গুজরাটের সুরাট শহর হয়ে যখন তাঁরা আবার মুম্বাইতে ফিরে এলেন, দেখা গেল ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী পরাজয়ের লজ্জায় পদত্যাগ করেছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ১৬ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু কে যে কোন দপ্তরের জন্য ভারপ্রাপ্ত, তা নিয়ে এখনও চলছে বচসা আর জল্পনা।

পশ্চিমবঙ্গে এসএসসি-সংক্রান্ত দুর্নীতি বিষয় উদ্ঘাটনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরটের সক্রিয়তায় দেশের অধিকাংশ সাধারণ নাগরিক যতটা চমক নিয়ে রাশি রাশি টাকার উদ্ধারপর্বগুলি বারবার দেখেছেন, বর্তমান রাজ্য সরকার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান বিষয়ে ততটাই সরব হয়েছেন। অথচ, যে মেধাবী তরুণ-তরুণীরা নিজেদের প্রাপ্য অধিকারটুকু আদায় করবার আশায় আর জেদে গত ৫২০ দিন ধরে বিক্ষোভ অবস্থানে শুধু নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাচ্ছেন, তা নিরসন করতে বিশেষ সক্রিয় নন। কারণটি অনুমেয়। কিন্তু ইতিমধ্যে, অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যারা শিক্ষক-শিক্ষিকা রূপে নিযুক্ত হয়ে বিদ্যালয়ের মাইনে ধ্বংস করছেন, তাঁদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থাহীনতা ক্রমশ প্রকট হয়ে শিক্ষার পরিবেশটিকে নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর-তে পরিণত। দেশের যারা ভাবী নাগরিক, তাদের মনে শিক্ষকদের প্রতি যে কটু মনোভাব তৈরি হচ্ছে, তা কি দেশের ন্যায় ও প্রগতির চিহ্ন বহন করবে?

টেলিভিশনের পর্দায় আমরা কয়েক দিন আগে ডাক্তার চন্দ্রনাথ অধিকারীকেও দেখলাম। চিকিৎসক হিসেবে যিনি ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। অতিরিক্ত পরিমাণে রাজনীতি-নির্ভর এক প্রশাসনের অংশ হিসেবে স্পষ্টতই স্বীয় কর্তব্যে ত্রুটি হয়েছে তাঁর। সাদা কাগজে সন্দেহভাজন অনুব্রত মণ্ডলের জন্য বিশ্রামের পরামর্শ লিখে দিয়েছিলেন তিনি। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার বাড়িতে রোগী পরীক্ষা করতে গিয়ে ভয় পেয়েছিলেন তিনি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে নেতার অনুরোধকেই আদেশ হিসেবে ভুল করেছেন তিনি। অসহায়তার শিকার ডাক্তার চন্দ্রনাথ অধিকারীকে দেখা গেল টিভি-তে। তাঁর সহকর্মী এবং ভাবী ডাক্তারদের তিনি মেরুদণ্ড সোজা রাখতে বলছেন। চাকরি বাঁচানোর জন্য পেশাদারি দক্ষতার চেয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশ্বস্ততার প্রমাণ যে দেশে নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়— তা সে জীবন সংক্রান্তই হোক বা আর্থিক— সেখানে মেরুদণ্ড সোজা রাখা আদৌ কি সম্ভব?

সম্প্রতি রবার্ট জেমেরিস্ক পরিচালিত ও টম হ্যাঙ্কস অভিনীত ‘ফরেস্ট গাম্প’ (১৯৯৪) ছবিটির ভারতীয়করণ হিসেবে ‘লাল সিং চাড্ডা’ মুক্তি পেয়েছে। পঙ্গুও যে পর্বতলঙ্ঘনে সমর্থ তা বোঝানোর জন্য ছবির মূল চরিত্রকে পাঞ্জাবের ‘অপারেশন ব্লু স্টার’, ইন্দিরা গান্ধির হত্যা, দিল্লির শিখনিধন, মুম্বাইয়ের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, কার্গিল যুদ্ধ জয় প্রভৃতি ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার অংশ করে পর্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রযোজক-অভিনেতা আমির খান। কিন্তু মুক্তির বেশ আগে থেকেই নানা মহল থেকে ছবিটির প্রদর্শন বয়কট করা নিয়ে যে সর্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক প্রচার চলেছে, তা স্বাধীনতার অমৃত নয়, গরলেরই নামান্তর।

ছবিটি দেখে তার সমালোচনা চললে আমরা উল্টোটাই বুঝতাম। কিন্তু যে দমনমূলক পরিবেশে আমরা নিত্যদিন নিজেদের নিরাপত্তাহীন হিসেবে আবিষ্কার করছি, তাই কি স্বাধীনতার ৭৫তম বছরে আমাদের মূল প্রাপ্তি? কারণ, এই ভয়ের বিস্তৃতি একই সঙ্গে এত গভীর এবং বিস্তৃত যে সৌখিন বুদবুদ বা গজদন্ত মিনারেও তা ব্যাপ্ত। আমির খানের মতো গণ্যমান্যরাও আকুল প্রার্থনা করছেন— প্রেক্ষাগৃহে এসে অন্তত ছবিটি দেখে যান। অনেকে অবশ্য মনে করছেন এটিও অভিনেতা আমির খানের প্রচার কৌশল। হয়তো বাস্তবে তাই ঘটেছে। কিন্তু ভারতের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসকে যে দেশবাসী উদযাপন করছেন, তাঁদের অধিকাংশই নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখবার জন্য অস্বাভাবিক এক অবস্থাকে ‘স্বাভাবিক’ ভেবে নিতে শিখে গেছেন। এটা তো অস্বীকার করা যায় না।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3960 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...